গুরুকুল কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা-কারিকুলার বিষয়গুলোর সাথে পরিচয় করিয়েছেন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর । গুরুকুল বাংলাদেশ

গুরুকুল কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা-কারিকুলার গুরুকুলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই কোর্সগুলোর মাধ্যমে, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের অতি প্রয়োজনীয় বিষয়সমুহ (অথচ একাডেমীতে যা পড়ানো হয় না), শেখাতে চাই। সেই শেখানো বিষয়টি শুধুমাত্র পড়ানো বা দেখানো নয়। সেটা শেখানো হয় শিক্ষার্থীদের একটি এক্সারসাইজ ও অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে নিয়ে গিয়ে। সেই সিলেবাসে এমন সব প্রশিক্ষণ এবং অনুশীলন থাকে, যেটা শিক্ষার্থীকে নানা রকম বাস্তব অভিজ্ঞার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবে। কোর্সগেুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের, একজন পূর্ণ মানুষ হবার যে দীর্ঘ যাত্রা, সেই যাত্রার প্রস্তুতির জন্য তৈরি করে দেয়া হয়। এক কথায় বললে শিখতে শেখানো হয়, জানতে শেখানো হয়, দেখতে শেখানো হয়। কাটানো হয় শেখার ভয়।

 

যেমন ধরুন শিক্ষার্থীকে শোনার-বোঝার-বলার সব জড়তা কাটানোর চেষ্টা করা হয়। শেখানো হয় বিভিন্ন স্থান, কাল ও পাত্রের সাথে হাটা-চলা-কথা বলা। শিক্ষার্থীকে সাবলীল করা হয় অপরিচিত জনের সাথে দেখা করতে, কথা শুরু করতে, একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে, কোন বিশেষ তথ্য সংগ্রহ করতে, মত বিনিময় করতে। নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয় যেন সেই শিক্ষার্থী তার জীবনে নতুন কোন ক্ষেত্রে গিয়ে অসহায় বোধ না করে। শিক্ষার্থীকে শেখানো হয় উপস্থাপনা। উপস্থাপনা হতে অফিসের প্রেজেন্টেশন বিষয়ে বা হতে পারে, বা যেকোনো সভায় কোন রিপোর্ট উপস্থাপন বিষয়েও হতে পারে। শিক্ষার্থীকে দক্ষ করার চেষ্টা করা হয় অনুসন্ধান বিষয়ে। শেখানো নিজের আশেপাশে, বাজারে অনুসন্ধানের পাশাপাশি হয় সাইবার জগতে অনুসন্ধান। ইংরেজি প্রধান ভাষা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় কিছুটা দুর্বলতা থাকে। তাই বাংলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার জড়তা কাটানোর বিভিন্ন ধরনের প্রাকটিক্যাল উদ্যোগ নেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে শেখানো হয়। সবসময় উৎসাহ দেয়া হয় এবং শেখানো হয় ‘কিভাবে শিখতে হবে”। এটা গুরুকুলের প্রধানতম উদ্যোগ। কারণ সারা জীবন বিভিন্ন প্রয়োজনে শিক্ষার্থীকে শিখতে হবে। শিক্ষার্থী সেটা নিজে এবং দ্রুত সময়ে যেন শিখে নিতে পারে সেভাবে প্রস্তুত করা চেষ্টা করা হয়। প্রযুক্তি বা যেকোনো কারণে পেশাদারী জীবনে সংকট এলে নিজ যোগ্যতায় নতুন করে শিখে নিয়ে উৎরে যেতে পারে। অভ্যস্ত করা হয় – শুনতে, বলতে, লিখতে মনোযোগী হতে। সভা পরিচালনা সহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান পরিচালনা শেখানো হয়। মিশতে শেখানো হয় অপরিচিত ও অপছন্দের মানুষদের সাথে। পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও দর্শনের দরজা। রীতিমতো পরিকল্পনা করে কাটানো হয় সব রকমের ভয়, প্রেজুডিস এবং ইগো। আর সারা জীবনের জন্য তৈরি করিয়ে দেয়া হয় মেন্টর বা জীবনের পরামর্শক।

 

আপাতত শুনতে খুব বিশেষ হয়ত মনে না হচ্ছে না, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের দীর্ঘ গবেষণা বলে- এগুলোর বেশিরভাগ আমরা ঠিকমতো পারি না। জীবন ও পেশায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হেরে যাবার কারণ এগুলোই। আর আমরা কোন ভাবেই চাইনা যে আমাদের কোন জীবনে কোন পর্যায়ে হেরে যাক বা হেরে যাওয়াকে মেনে নিক।

 

একটি ভিডিও সিরিজে গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর গুরুকুল কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা-কারিকুলার এর এই বিষয়গুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ভিডিওগুলো রয়েছে গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের ইনডেক্স চ্যানেলে।

নিচে সংযুক্ত প্লেলিস্ট বা ভিডিওগুলো দেখুন।