যুব উন্নয়নে ক্রীড়ার ভূমিকা – ডা: মো: আমিনুল ইসলাম

সারাবিশ্বের কাছে দ্রুত উন্নয়নশীল বাংলাদেশের পরিচিতি এখন লক্ষ্যনীয়। এই অর্জনের অন্যতম অংশীদার বাংলাদেশের। ক্রীড়াঙ্গন। বাংলাদেশ অধিকাংশ MDG সহ অন্যান্য সূচক অর্জনের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। বর্তমানে আমাদের দেশ SDG অর্জনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যা অর্জনের জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মনীতি। সুতরাং এটি অর্জনের জন্য যুব ও ক্রীড়ার উন্নয়ন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্রীড়ার মধ্যদিয়ে প্রশিক্ষিত যুব সমাজকে সুসংঘটিত ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের মধ্যদিয়ে যুবকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশলাভ করার পাশাপাশি তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সৃষ্টি, আত্নবিশ্বাস প্রতিষ্ঠাসহ আত্ননির্ভরশীল করে গড়ে তোলা যায়। ফলে পরিবার, সমাজ তথা দেশের আপামর জনসাধারণের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নে সুস্থ যুব সমাজ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্রীড়া কি?

শুধুমাত্র শারীরিক কসরতই ক্রীড়া নয়। সুনিদিষ্ট, সুনির্ধারিত, নিয়মনীতি সম্বলিত, কৌশলপূর্ণ শারীরিক কার্যক্রমকেই ক্রীড়া বলা হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে নিছক আনন্দ লাভ নয় বরঞ্চ পরিকল্পনামাফিক সুনির্ধারিত কার্যক্রম‍ই ক্রীড়া। মূলত ক্রীড়া হচ্ছে সংগঠিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিনোদনধর্মী এবং দক্ষতাসূচক শারীরিক কার্যকলাপ প্রদর্শনের উত্তম ক্ষেত্র।

যুব কি?

যুব শব্দটি অতি পরিচিত হলেও এর কোন বৈশ্বিক সংজ্ঞা পাওয়া যায় না। তদুপরি প্রথাগতভাবে আমরা বলতে পারি, শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়কালই হল যুব সময়। African Youth Forum, UNESCO, UN এর ভাষ্যমতে ১৫-২৪ বত্সর বয়স্ক কুসংস্কারবিহীন ব্যক্তি যুব বা যুবক। Sub-Sahara African-দের মতে ১৫-৩০/৩৫ বৎসর বয়স্ক ব্যাক্তি হল যুবক। Youth Dictionary এর সংজ্ঞা অনুযায়ী সেইসব ব্যক্তিবর্গ যুবক বা খুব যারা এখনও পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক সময়ে পদার্পণ করেনি। Cambridge English সংজ্ঞা অনুযায়ী যুব হচ্ছে তারা যারা মনে করে তারা তরুণ এবং তরুণ থাকতে চান। সর্বোপরি বাংলাদেশের যুবনীতি মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়স্ক নাগরিক যুবক হিসেবে সংজ্ঞায়িত।

যুবকদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে ক্রীড়া :
প্রতিনিয়ত ক্যামিকেলযুক্ত খাবার গ্রহনের ফলে আমাদের স্বাস্থ্য ক্রমান্বয়ে হুমকির মুখে সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়া নম কমিউনিকেবল ডিজিজ(NCD) যথা: ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি মরনব্যাধি আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তাই যুবকদের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন না হলে প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে টিকে থাকা অসম্ভব। মানুষের সু-স্বাস্থ্য গঠনে ক্রীড়া অর্থনী ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্রীড়ার মাধ্যমে যেসব শারীরিক উন্নয়ন হয় তার অন্যতম হলঃ শারীরিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অধিক পরিশ্রম করার ক্ষমতা তৈরি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, বিষণ্ণতা, হতাশা ইত্যাদি রোগ হতে মুক্তি ইত্যাদি।

শিক্ষা উন্নয়নে ক্রীড়া :
একটা দেশের মান নির্ভর করে সেদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। প্রবাদ আছে যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। জাতিকে উন্নত করতে যেমন শিক্ষার বিকল্প নেই তেমনি শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের প্রয়োজন। সুস্থ বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হল ক্রীড়া। এ বিবেচনা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন আঙ্গিকে ক্রীড়াকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ২০১২ সালে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা’ নামক একটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল যা শিক্ষার্থীকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে এ বিষয়টি শিক্ষা কারিকলাম থেকে বাদ দেয়ায় ক্রীড়া ক্ষেত্রে অংশ গ্রহণ অনেকাংশে কমে গিয়েছে। স্কুল পর্যায় হতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচী, প্রশিক্ষণ প্রভৃতির ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্য হতে হতাশা, মাদক গ্রহণ, জঙ্গিবাদ, কর্মবিমুখতা ইত্যাদি দূরীভূত করা সম্ভব হবে। ক্রীড়া সুস্থ দেহ সুস্থ মন, জ্ঞানার্জনে মনোনিবেশসহ উন্নত ও আলোকিত মানুষ সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

সামাজিক উন্নয়নে ক্রীড়া :
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিজয় নয় সংগ্রাম, সমাজকে সর্বদা সংগ্রামের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। সমাজের কারিগররা যদি দুর্বল বা সংগ্রামে ভীত হয় তবে সমাজ সমানে অগ্রসর হতে পারেনা। সমাজকে উন্নয়নের দিকে অগ্রসর করার পূর্ব শর্ত হল সমাজকর্মীদের সুস্থ, সুশিক্ষিত ও শক্তিশালী করা। তাই ব্যরন পিয়ারে দ্যা কুবার্তে বলেছিলেন।”খেলাধুলা না করিলে নিছক বিদ্যানুশীলন জীবনের উদ্যম, শক্তি ও কর্মক্ষমতার অপচয় করিবে”।

ক্রীড়া যুবকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বোধ তৈরি, নেতৃত্বদানের গুণাবলী, মানুষের মধ্যে আন্তঃ সম্পর্ক তৈরি, অধিক পরিশ্রমী করা, পরাজয়ে ধৈর্য্য ধারণ ও জয়ে আতৃবিশ্বাসী হওয়া, জাতি, ধর্ম,ও বর্ণগত বৈষম্যবিহীন সমাজ বিনির্মাণ, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে উৎসাহিত ও সময় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্রীড়া :
বর্তমান বিশ্বে বহুল প্রচলিত একটি কথা হল “প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব।”। প্রত্যেকটা দেশ এ প্রতিযোগিতায় নিজেদেরকে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। এ প্রতিযোগিতার মূল বিষয় হল অর্থনৈতিকভাবে দেশকে সমৃদ্ধ করা। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে গতিশীল করার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে যুব সমাজ। আর যুব সমাজকে এ জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করতে পারে একমাত্র ক্রীড়া। এছাড়া বর্তমান বিশ্বে বহু উন্নত দেশের যুবকরা ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে। স্বল্প সময়ে অধিক বৈধ অর্থ উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হল ক্রীড়া। এ বিষয়টি এখন সকলের কাছে স্পষ্ট ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবলার, টেনিস খেলোয়াড়সহ সারা বিশ্বের অনেক অপরিচিত ইভেন্টের খেলোয়াড়ও এখন আর্থিকভাবে সাবলম্বী। দেশের অনেক খেলোয়াড় এখন রীতিমত ধনী। সুতরাং অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে ক্রীড়া। ক্রীড়ার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বাড়লে উপার্জনশীলতা বৃদ্ধি পায়, চিকিৎসা ব্যয় কমে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় ও অধিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।

মনস্তাত্বিক উন্নয়নে ক্রীড়া :
যুবকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি কাজ করে তা হল সিদ্ধান্তহীনতা। যে কোন কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে যুবকরা এ জটিলতার সম্মুখীন হয়। গবেষণায় দেখা যায় যে, ২০-৪০ বছর বয়সী একটি সুস্থ মস্তিস্কে প্রতি সেকেন্ডে ৫০টি সিদ্ধান্ত প্রবেশ ও বাহির হতে পারে। কিন্তু যুবক যদি ক্রীড়ার সাথে সম্পৃক্ত হয় তবে ক্রীড়া তাকে সব দুঃশ্চিন্তা থেকে দূর করে একটি লক্ষ্যের দিকে মনকে স্থির করে। এতে যুবকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনেকাংশে সহযোগিতা করে এবং নিন্দিষ্ট কাজের প্রতি বিশেষ একাগ্রতা তৈরী করে। ক্রীড়ায় অংশ নেওয়ার ফলে যুবকদের মধ্যে যেসব ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায় তমধ্যে মানসিক চাপ নেয়ার মত ক্ষমতা তৈরী, কোন বিশেষ বিষয়ের প্রতি একাগ্রতা সৃষ্টি, দুশ্চিন্তা মুক্ত হওয়া, হতাশা দূর হওয়া ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি অন্যতম।

বাংলাদেশে ক্রীড়ার বর্তমান অবস্থা:
বাংলাদেশে ক্রীড়া উন্নয়নে যে সব প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে তাদের মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া পরিদপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ও বঙ্গবন্ধু ক্রীড়া সেবী ফাউন্ডেশন।

ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় অবস্থিত জেলা ক্রীড়া অফিস ও ৬টি বিভাগীয় পর্যায়ে স্থাপিত শারীরিক শিক্ষার মাধ্যমে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন জেলা ক্রীড়া অফিসারের অন্যতম দায়িত্ব। ৬টি শারীরিক শিক্ষা কলেজের মাধ্যমে ১০০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে বিপিএড এবং ১০০জন ছাত্র-ছাত্রীকে এমপিএড কোর্সের মাধ্যমে ডিগ্রী প্রদান করা হয়।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ৩৫টি ফেডারেশন ও ১৪টি এসোসিয়েশন রয়েছে যারা বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে। বিভিন্ন ক্রীড়ার আয়োজন করে থাকেন। দেশে বর্তমানে ৮টি ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ৫টি বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ৬২টি জেলা স্টেডিয়াম, ৭টি ইনডোর স্টেডিয়াম, ২টি ফুটবল স্টেডিয়াম, ২০টি সুইমিং পুল ও ৬টি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স রয়েছে। এছাড়াও সম্প্রতি সরকার ৪৯০টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন যার অনেকগুলোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বিকেএসপি’র সাভারের মুল কেন্দ্র এবং ৫টি আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের গ্রাজুয়েশন ডিগ্রীসহ ১৭টি খেলাধুলার উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল খেলোয়াড় ও সংগঠকগণকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ অলম্পিক এসোসিয়েশনের মাধ্যমে ক্রীড়ার মুল আদর্শ ও মূল্যবোধ জনগনের মধ্যে তুলে ধরা হয়।

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে মুল জাতীয় বাজেটের মাত্র ০৩১১ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ছিল যার এক-তৃতীয়াংশ ক্রীড়া বাজেট।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জসমূহ :
ক্রীড়া একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম হলেও বর্তমানে এ সেক্টরটি সেভাবে উন্নতি করতে পারেনি এবং অনেকাংশেই অবহেলিত। শুধুমাত্র ক্রিকেট বাংলাদেশে আশানুরুপ সাফল্য দেখালেও অন্যান্য ক্ষেত্রে সেভাবে সাফল্য পাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন। তাদের মতামতের প্রেক্ষিতে এবং বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, ক্রীড়ার অনুন্নয়নের বহুবিধ কারণ রয়েছে। তার মধ্যে কতিপয় সমস্য হলো: বাজেট অপ্রতুলতা, পর্যাপ্ত মাঠ ও অবকাঠামোর অভাব, দক্ষ জনবলের অভাব, দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব, উন্নত প্রশিক্ষণের অভাব, শিক্ষা কারিকলামে শারী রিক শিক্ষা বিষয়টি না থাকা, অভিভাবকদের ক্রীড়ার প্রতি অনাগ্রহ, ধর্মীয় অনুশাসন, পর্যাপ্ত ক্রীড়া সরঞ্জামের অভাব, ক্রীড়া সরঞ্জাম Tax Free না হওয়া, ক্রীড়া পেশায় আর্থিক নিরাপত্তার অভাব ইন্টারনেট, টিভি এবং অন্যান্য ডিভাইসের প্রতি যুবকদের আসক্তি।

যুব ও ক্রীড়ার উন্নয়নে ভবিষ্যত করণীয় :
উন্নয়নের মূল লক্ষ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিবেচ্য বিষয় হল উন্নয়নে বাধা প্রদান করে এমন বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে তা প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বাংলাদেশের জনগনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ যুব সমাজ। এ যুব সমাজের একটি বড় অংশ তাদের কার্যক্রম দ্বারা দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। একই সাথে কিছু যুবক বিভিন্ন প্রকার ধংসাত্বক যেমন মাদক, ধুমপান, জঙ্গীবাদের মত অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। সব স্তরের যুব সমাজকে দেশের উন্নয়নে এবং এ যুবকদের প্রত্যেক কে স্বনির্ভর ও কর্মক্ষমতা সম্পন্ন মানুষরূপে পরিণত করার ক্ষেত্রে ক্রীড়াঙ্গন কে সমৃদ্ধ করা একটি অন্যতম উপায়। আর ক্রীড়াঙ্গন সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো হল: বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি বাড়ানো, ক্রীড়া কর্মসূচি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, শিক্ষার সাথে ক্রীড়া সংযোগ বাড়ানো, পর্যঅপ্ত পরিমাণ ক্রীড়া সামগ্রী তৃণমূলে বিতরণের ব্যবস্থা করা, দক্ষ প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা, মাঠ এবং অবকাঠামো বর্তমানে যা আছে তার ব্যবহার যোগ্য করা এবং আরও ক্ষেত্র তৈরি করা, ক্রীড়া পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করা ইত্যাদি।

উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায় যুব সমাজ খেলাধুলা সহ সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে চায় । কিন্তু তাদের জন্য আমরা উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারছিনা। দিন দিন খেলার মাঠকে আমরা সংকুচিত করে ফেলছি। ছোট হয়ে যাচ্ছে স্কুল ও কলেজের মাঠ। শহরের স্কুলগুলোতে মাঠ নেই বললেই চলে। যার ফলে অবসর সময়টা যুবকরা আসক্ত হচ্ছে নানা অপকর্মে । শারীরিক অসুস্থতার সাথে দিনিদিন বেড়েই চলছে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত যুবকের সংখ্যাও। মাদক, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, পারিবারিক অনুশাসন এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাবে তরুনরা জড়িয়ে পড়ছে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। ক্রীড়াঙ্গনে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং যুব সমাজকে ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ করানোর মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় থেকে দেশকে রক্ষা সম্ভব ।

ডা: মো: আমিনুল ইসলাম
পরিচালক (যুগ্মসচিব), ক্রীড়া পরিদপ্তর, ঢাকা।