ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

 

ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ইলেকট্রিক্যাল সেক্টরে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠির সংখ্যা, বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ও প্রযূক্তিবিদের মানসম্মত সংখ্যা বাড়িয়ে বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও এখাতে বিশ্বায়নের মিছিলে সামিল হওয়ার প্রয়াসে সাসেগ-গুরুকুল শিক্ষা পরিবারে ডিপ্লোমা-ইন-ইলেকট্রিক্যাল-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের(বাকাশিবো) অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কর্মক্ষেত্রে এই কোর্সটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাসেগ-গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার গুরুকুলে এই কোর্সটি পরিচালিত হচ্ছে।

 

কোর্সের উদ্দেশ্য :
খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ শতাব্দীর এর আগে বিদ্যুৎ সমন্ধে মানুষের ধারণা ছিল না বললেই চলে। তার পরেই ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের গৃহচিকিৎসক ড. ইউলিয়াম গিলবার্ট ইলেকট্রিসিটি উদ্ভাবন করেন। বিশ্বের আধুনিকায়নের ও ব্যবহার কার্য দক্ষতার সহিত সম্পন্ন করার একমাত্র পন্থা বিদ্যুৎ। সকল আধুনিক যন্ত্র পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ অপরিসীম। বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য একমাত্র পন্থা হল বিদ্যুৎকে স্বয়ংসম্পূর্ন করা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশে ২০২১ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার হার ৪ খেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যেই সাসেগ-গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের “কুষ্টিয়া গুরুকুল” এ ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট হিসাব করলে দেখা যায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি যেটি আমরা প্রকাশিত চাকুরীর বিভিন্ন সার্কুলার গুলো লক্ষ্য করলেই দেখতে পাই। তাই এই চাহিদা পূরণের মাধ্যমে নিজেকে ও দেশের উন্নতির স্বার্থে শিক্ষাথীদেরকে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সটি এখানে পড়ানো হয়।

 

কর্মক্ষেত্র:

একমাত্র ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারগণের সকল ক্ষেত্রে পেশার সুযোগ রয়েছে।সেগুলো হলো:- পাওয়ার প্ল্যান্ট, পিডিবি,পল্লী বিদ্যুৎ,পিজিসিবি,ওজোপাডিকোলি,গ্রীড সাবস্টেশন,ডেসকো, ওয়াসা,পানি উন্নয়ন বোর্ড, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রিনিক্স পন্য সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ, সরকারী ও বেসরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট সমূহ, সিটি কর্পোরেশন,পৌরসভা, ভোকেশনাল স্কুল, টিটিসি, টিএসসি, সৌর বিদ্যুৎ,পরমানু গবেষনা কেন্দ্র, বাণিজ্যিক ব্যাংক, শিল্প-কারখানা, গার্মেন্টস ইন্ডাষ্ট্রি ইত্যাদি সহ আরো অনেক সরকারী/ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে চাকুরীর সুবিধা রয়েছে।

 

ভর্তির যোগ্যতা :
প্রার্থীকে সর্বোচ্চ ৮ বছর আগে এস.এস.সি/দাখিল/ উন্মুক্ত (বাউবি) সমমানের পরীক্ষায় যেকোনো বিভাগ থেকে নূন্যতম জি.পি.এ ২.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

 

 

কোর্স স্ট্রাকচার :
শুরুতে এই কোর্সটির মেয়াদ ছিল ৩ বছর। বর্তমানে এই কোর্সটি আরও আধুনিক করা হয়েছে এবং ৪ বছর মেয়াদে উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে কোর্স স্ট্রাকচার:
– তিন বছর ৬ মাস একাডেমিক কোর্স (৬ মাস মেয়াদী ৭টি সেমিস্টার)।
– বাকী ৬ মাস ইন্টার্নশীপ কোর্স ( ট্রেড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে)।
অর্থাৎ ৪বছরে মোট ৮টি সেমিস্টার পড়ানো হয়। টোটাল ক্রেডিট ১৬৩।
টোটাল সাবজেক্ট = ৫০টি
টোটাল মার্ক = ৮১৫০

 

কোর্স কারিকুলাম:
ডিপ্লোমা-ইন-ইলেকট্রিক্যাল-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের শিক্ষার্থীরা দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের নানামুখী ব্যবহার ও পরিমাপণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা পায়।এছাড়া বিদ্যুত বিল তৈরী,হাউজ ওয়্যারিং,এস্টিমেটিং,ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি জেনারেট,ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যুতবিধি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা দেয়া হয়।
তাত্তি¡ক ক্লাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ব্যবহারিক ক্লাস গ্রহণ করা হয় যাতে শিক্ষার্থীরা কর্মমুখী জ্ঞানলাভ ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয় যাতে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

 

উচ্চ শিক্ষার সুযোগ:
ডিপ্লোমা-ইন-ইলেকট্রিক্যাল-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সটি সম্পন্ন করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য রয়েছে বাংলাদেশের সনামধন্য সরকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (ডুয়েট)। এছাড়াও রয়েছে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) এবং বেসরকারী ইউনিভার্সিটি থেকে মাত্র ৩ বৎসরে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ।

 

এই কোর্সে গুরুকুল এর বিশেষত্ব:
* বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা পাঠদান।
* সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত টেকনোলজি ভিত্তিক ল্যাব সুবিধা।
* নিয়মিত ব্যবহারিক ক্লাস গ্রহণ।
* মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ ক্লাস।
* শতভাগ ক্লাসের নিশ্চয়তা।
* মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশীপের ব্যবস্থা।
* নিয়মিত অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ ও মত বিনিময় সভা।
* টেকনোলজি ভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের ব্যবস্থা।
* এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কোর্স ফিতে সর্বোচ ৫০% ছাড়।
* মেয়েদের জন্য কোর্স ফিতে সর্বোচ্চ ৩০% ছাড়।
* শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর প্রয়োজন হয় না।
* ক্লাসের পড়া ক্লাসেই সম্পন্ন করা হয়।
* দূর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা।
* সরকারী ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নির ব্যবস্থা করা।
* তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দান।
* জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পালন।
* বিভিন্ন প্রকার এক্সট্রা কারিকুলাম যেমন: খেলাধূলা,নাচ-গান,বিতর্ক প্রতিযোগিতা,রোভার স্কাউট,ভাষার ব্যবহার,কম্পিউটার,স্বাস্থ্য প্রভৃতি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

 

শিক্ষার্থীর বক্তব্য:

ভালো চাকুরী পাওয়া শিক্ষার্থীর মেসেজ: আমি মো: মোজাফফর রহমান। সাসেগ-গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের অন্তগর্ত কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট এর ২০১০-১১ সেশনের ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমি ওখানে থেকে পাশ করে বেরোনার পরপরই একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ংুসঢ়যড়হুতে কর্মরত আছি। আমি বলব কারিগরি শিক্ষাই নিজেকে সমৃদ্ধ করতে কিই, আই, এস, আই এর বিকল্প নাই কেননা এখানে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটির বিশেষ সুযোগ রয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীর মেধার সঠিক বিকাশে সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরীতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

 

বিভাগীয় প্রধানের বক্তব্য:
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের মাইন্ড সেটের পরিবর্তন অপরিহার্য। প্রথাগত প্রচলিত ধারনা হলো কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা শুধুমাত্র অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু এ ধারণা বস্তুনিষ্ঠ নয়। কারিগরি বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষন ব্যবস্থা আমাদের সৃজনশীল দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এক কার্যকর পদ্ধতি যা গ্রহণ করে আমরা দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হতে পারি। বদলে দিতে পারি আমাদের ক্যারিয়ার ভাবনা। আমরা হতে পারি দেশের ও বিশ্ব শ্রম বাজারের একজন সফল ও সম্ভাবনাময় নাগরিক।

 

রাশনা শারমিন
বিভাগীয় প্রধান ও  ইন্সট্রাক্টর (ইলেকট্রিক্যাল)
মোবাইল নং : ০১৮৭৮-০৪৪১৭৪

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।