বাঙালি জাতির সহস্রাব্দের ইতিহাসে ধ্রুবতারার মতো অসংখ্য মহান ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটেছে। কেউ আমাদের দিয়েছেন রাজনৈতিক স্বাধীনতা, কেউ দিয়েছেন সাংস্কৃতিক মুক্তি, আবার কেউ দিয়েছেন আত্মপরিচয়ের অধিকার। তাঁদের অসামান্য ত্যাগ আর কর্মে গড়ে উঠেছে আজকের বাংলাদেশ। সাধারণত ইতিহাসের বড় বড় নামগুলো তাঁদের বিশাল সব কীর্তির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকেন, কিন্তু আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক মর্মন্তুদ অথচ অম্লান অধ্যায় জুড়ে আছেন এমন একজন, যাঁর জীবনের ব্যাপ্তি ছিল মাত্র এগারো বসন্তের। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র, আমাদের পরম আদরের ছোট্ট সোনামণি শেখ রাসেল।
শেখ রাসেল কেবল একটি নাম নয়; শেখ রাসেল একটি হারানো শৈশবের নাম, একটি অপূর্ণ স্বপ্নের নাম এবং ঘাতকের নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে এক চিরন্তন প্রতিবাদী স্তব্ধতা। বঙ্গবন্ধু পরিবারের উজ্জ্বল এই সদস্যের জীবনপ্রদীপ মাত্র এগারো বছরে নিভে গেলেও, তাঁর সেই স্বল্পস্থায়ী জীবন বাঙালির জাতীয় মানসকে এক গভীর মমত্ববোধে আবিষ্ট করে রেখেছে। আজ তিনি কেবল বঙ্গবন্ধুর পুত্র নন, বরং বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে তিনি হয়ে উঠেছেন এক চিরকালীন বন্ধু এবং প্রতিটি শিশুর আদর্শ।
- শেখ রাসেলের শুভ জন্মলগ্ন: ধন্য হলো বাংলার মাটি
- নামকরণ ও দর্শনের মিতালী: কেন তিনি ‘রাসেল’?
- রাসেলের রঙিন শৈশব ও কারাজীবনের স্মৃতি
- ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও রাসেলের ছাত্রজীবন
- মানবিকতা ও প্রাণিকুলের প্রতি ভালোবাসা
- ১৫ই আগস্ট: এক দেবশিশুর রক্তে রঞ্জিত ইতিহাস
- কেন শেখ রাসেল আমাদের শাশ্বত বন্ধু?
- অবিনশ্বর রাসেল ও আগামীর বাংলাদেশ
শেখ রাসেলের শুভ জন্মলগ্ন: ধন্য হলো বাংলার মাটি
১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর। বাংলার প্রকৃতি তখন হেমন্তের সোনালী আভায় সেজেছে। মাঠে মাঠে নতুন ধানের গন্ধে মাতোয়ারা বাতাস। ঠিক এমনই এক স্নিগ্ধ লগ্নে ঢাকার ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কের সেই বাড়িতে আলোর ঝিলিক ছড়িয়ে জন্ম নিলেন শেখ রাসেল। রাসেলের জন্মক্ষণটি ছিল আনন্দ আর উত্তোজনায় ভরপুর। বাড়ির বড় বোন শেখ হাসিনার ঘরের পাশে যখন রাসেলের কান্নার শব্দ শোনা গেল, তখন পুরো বাড়িতে আনন্দের জোয়ার বয়ে গিয়েছিল।
জাতির পিতা তখন রাজনৈতিক ব্যস্ততা আর বাঙালির অধিকার আদায়ে দিনরাত এক করছেন, তবুও কনিষ্ঠ পুত্রের আগমনে তিনি হয়েছিলেন আবেগাপ্লুত। বড় বোন শেখ হাসিনা পরম মমতায় নিজের ওড়না দিয়ে ভাইয়ের ভেজা মাথা মুছে দিয়েছিলেন। শৈশবে রাসেল ছিলেন বেশ স্বাস্থ্যবান এবং অসম্ভব চটপটে। তাঁর সেই মায়াবী চেহারার হাসিতে ৩২ নম্বরের বিষণ্ণ রাজনৈতিক আবহও যেন মুহূর্তে আনন্দময় হয়ে উঠত। রাসেলের জন্ম যেন শুধু একটি পরিবারের আনন্দ ছিল না, তা ছিল আগামীর এক অমিত সম্ভাবনার উদয়।
নামকরণ ও দর্শনের মিতালী: কেন তিনি ‘রাসেল’?
শেখ রাসেলের নামকরণের পেছনে লুকিয়ে আছে বিশ্ববিখ্যাত এক দর্শন এবং বঙ্গবন্ধুর উদার আন্তর্জাতিকতাবোধের পরিচয়। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির মুক্তি নিয়ে ভাবতেন না, তিনি ভাবতেন সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ নোবেল বিজয়ী দার্শনিক ও গণিতবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলের (Bertrand Russell) একনিষ্ঠ ভক্ত।
বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন বিশ্বশান্তির এক মহান দূত। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে পৃথিবী যখন পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কায় থরথর করে কাঁপছিল, তখন তিনি যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল তাঁর সন্তানও যেন বিশ্বশান্তির আদর্শে বড় হয়, যেন তার হৃদয়ে থাকে মানবতার প্রতি গভীর ভালোবাসা। এই মহান দার্শনিকের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁর আদর্শকে ধারণ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই বঙ্গবন্ধু নিজের কনিষ্ঠ পুত্রের নাম রেখেছিলেন ‘শেখ রাসেল’। নামের সার্থকতা অনুযায়ী রাসেলের আচরণেও ছোটবেলা থেকেই সেই মানবিক গুণাবলি ও শান্তিকামী মনোভাব লক্ষ্য করা যেত।
রাসেলের রঙিন শৈশব ও কারাজীবনের স্মৃতি
শেখ রাসেলের শৈশব আর দশটা সাধারণ শিশুর মতো সহজ ও স্বাভাবিক ছিল না। তাঁর জন্ম এমন এক সময়ে, যখন বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। ফলে জন্মের পর থেকেই রাসেল পিতাকে খুব কাছে পাননি। রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধুকে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটাতে হয়েছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। ছোট্ট রাসেলের কাছে ‘বাবা’ শব্দটি ছিল এক রহস্যময় অনুভূতির মতো।
শৈশবে রাসেল যখন তাঁর বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে কারাগারে বঙ্গবন্ধুকে দেখতে যেতেন, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হতো। মাত্র দুই বছর বয়সে রাসেল তাঁর আপাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তোমার বাবাকে কি আমি বাবা বলে ডাকতে পারি?” এই একটি বাক্যই বলে দেয়, পিতৃত্বের স্নেহ থেকে তিনি কতটা বঞ্চিত ছিলেন। রাসেল যখন একটু বড় হলেন, তখন তিনি বুঝতে শুরু করেন যে তাঁর বাবা সাধারণ কেউ নন। তবুও বাবার অভাব তাঁকে পীড়া দিত। কারাগারে বঙ্গবন্ধুকে দেখে যখন ফেরার সময় হতো, রাসেল কিছুতেই বাবাকে ছেড়ে আসতে চাইতেন না। তখন তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বোঝানো হতো যে, জেলখানাই তাঁর বাবার বাড়ি, সেখানেই বাবা থাকেন। এই বিষণ্ণ বাস্তবতা নিয়েই বেড়ে উঠেছেন আমাদের রাসেল।
ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও রাসেলের ছাত্রজীবন
রাসেলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজে। ১৯৭৫ সালে যখন তিনি শাহাদাত বরণ করেন, তখন তিনি চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। স্কুলের শিক্ষকদের কাছে রাসেল ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও বিনয়ী এক ছাত্র। যদিও তিনি রাষ্ট্রপতির পুত্র ছিলেন, কিন্তু তাঁর চালচলনে কোনো রাজকীয় অহংকার ছিল না।
তিনি সাধারণ ছাত্রদের মতোই সবার সঙ্গে মিশতেন। তাঁর সহপাঠীরা আজও মনে করেন, রাসেল ছিলেন ক্লাসের সবচেয়ে চটপটে এবং বুদ্ধিমান ছেলে। তাঁর স্কুল ব্যাগটি কাঁধে নিয়ে যখন তিনি করিডোর দিয়ে হেঁটে যেতেন, তখন এক অন্যরকম আভিজাত্য ফুটে উঠত তাঁর চোখেমুখে। স্কুলে যাতায়াতের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল খুব একটা পছন্দ করতেন না; বরং সুযোগ পেলেই তাঁর প্রিয় বাইসাইকেলটি চালিয়ে স্কুলে যেতে চাইতেন। এই সাধারণ জীবনযাপনের শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন তাঁর মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কাছ থেকে।
মানবিকতা ও প্রাণিকুলের প্রতি ভালোবাসা
রাসেলের হৃদয়ে ছিল এক অতলান্ত ভালোবাসা। কেবল মানুষের প্রতি নয়, পশুপাখির প্রতিও তাঁর ছিল অগাধ মায়া। বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়িতে ‘টমি’ নামে একটি কুকুর ছিল। টমি ছিল রাসেলের খেলার সঙ্গী। কথিত আছে, একদিন খেলার সময় টমি জোরে ঘেউ ঘেউ করে ডাকলে রাসেল কেঁদে ফেলে তাঁর মেজো আপা শেখ রেহানার কাছে নালিশ করেছিলেন যে, টমি তাঁকে বকেছে! এই সরলতা ও নির্ভেজাল অনুভুতিই ছিল রাসেলের অলঙ্কার।
মাছ ধরার প্রতিও তাঁর দারুণ নেশা ছিল। তবে তাঁর মাছ ধরা ছিল এক বিচিত্র খেলা। তিনি বরশি দিয়ে মাছ ধরতেন ঠিকই, কিন্তু মাছের কষ্ট দেখে পরক্ষণেই আবার সেগুলোকে পুকুরের পানিতে ছেড়ে দিতেন। এই যে অন্যের কষ্ট অনুভব করার শক্তি, তা তিনি ছোটবেলা থেকেই ধারণ করেছিলেন। বাড়ির কাজের লোক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবার সঙ্গে তিনি সমানভাবে মিশতেন এবং সবাইকে সম্মান করতেন। তাঁর এই মানবিক গুণাবলি প্রমাণ করে যে, বেঁচে থাকলে তিনি হতেন এদেশের মানুষের এক পরম আশ্রয়স্থল।
১৫ই আগস্ট: এক দেবশিশুর রক্তে রঞ্জিত ইতিহাস
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট—বাঙালি জাতির ললাটে এক কলঙ্কিত মহাকাব্য। সেই কালরাত্রিতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কটি হয়ে উঠেছিল এক মৃত্যুপুরী। একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা ও ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তি যখন কামানের গোলা আর ট্যাংকের গর্জনে পুরো এলাকা থরথর করে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল, তখন শিশু রাসেলের মনেও ছিল এক অজানা আতঙ্ক। ঘাতকরা যখন একের পর এক পরিবারের সদস্যদের নিথর দেহ মেঝেতে লুটিয়ে দিচ্ছিল, রাসেল তখন ভয়ে জবুথবু হয়ে ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত কর্মচারী মহিতুল ইসলামের বয়ান অনুযায়ী, ছোট্ট রাসেল দৌড়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ওরা কি আমাকেও মেরে ফেলবে?” ঘাতকরা যখন তাঁকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল, রাসেল তখন বারংবার তাঁর মায়ের কাছে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন। নিষ্ঠুর ঘাতকদল মরণপণ এই আকুতি শোনেনি; বরং মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার ছলনা করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির ভেতরে। সেখানে বঙ্গমাতার রক্তমাখা লাশের পাশেই মাত্র এগারো বছরের এই দেবশিশুকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়। রাসেলের রক্তে সেদিন ভিজে গিয়েছিল বাংলার মাটি। যে শিশুটি যুদ্ধের ভয়াবহতা বুঝতে শেখেনি, তাকেও রাজনীতির নিষ্ঠুর শিকার হতে হলো। এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির ভবিষ্যৎ ও মানবিকতার ওপর এক বর্বর আঘাত।
কেন শেখ রাসেল আমাদের শাশ্বত বন্ধু?
শেখ রাসেল কেন আমাদের বন্ধু—এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে তাঁর প্রতিদিনের যাপনে। রাসেল ছিলেন মূলত আমাদের সবার হারানো শৈশবের এক মূর্ত প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি বাঙালি শিশু যখন প্রথম সাইকেল চালানো শেখে, তখন সে রাসেলের সেই প্রিয় বাইসাইকেলের গল্পে নিজেকে খুঁজে পায়। যখন কোনো শিশু পুকুর পাড়ে মাছ ধরার নেশায় মত্ত হয়, তখন রাসেলের সেই মায়াবী স্মৃতি আমাদের চোখে ভাসে।
রাসেল আমাদের বন্ধু হওয়ার কারণ:
- সাধারণ জীবনযাপন: রাষ্ট্রপতির সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে কোনো বিলাসিতা ছিল না। তিনি আমাদের মতোই সাধারণ জীবন ভালোবাসতেন।
- সহমর্মিতা: রাসেলের পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা এবং বন্ধুদের প্রতি টান প্রতিটি প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়।
- সাহস ও সরলতা: শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর মায়ের প্রতি টান এবং সাহসের সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা আমাদের জীবনের কঠিন সময়ে শক্তি জোগায়।
তিনি আজ বেঁচে নেই সত্যি, কিন্তু বাংলার প্রতিটি শিশুর নির্ভীক চোখে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাঠ্যবইয়ে এবং প্রতিটি খেলার মাঠে রাসেল বেঁচে আছেন একজন চিরকালীন খেলার সাথী ও বন্ধু হিসেবে।
অবিনশ্বর রাসেল ও আগামীর বাংলাদেশ
শেখ রাসেল কেবল বাঙালির ইতিহাসের একটি শোকাতুর নাম নয়, তিনি একটি আদর্শের প্রতীক। যে জাতি নিজের ইতিহাসকে ভুলে যায়, তারা কখনও সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। শেখ রাসেলের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে বর্তমানে বাংলাদেশে গঠন করা হয়েছে ‘শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ’, যা নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে কাজ করছে। রাসেলের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্রীড়া চক্র ও স্কেটিং স্টেডিয়াম। প্রতি বছর ১৮ই অক্টোবর পালিত হয় ‘শেখ রাসেল দিবস’, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—আর কোনো শিশু যেন রাসেলের মতো অকালে ঝরে না পড়ে।
শেখ রাসেল আজ বাঙালির হৃদয়ে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলছেন। তাঁর স্মৃতি আমাদের শিখিয়ে যায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়তে। যুতকাল বাঙালির অস্তিত্ব থাকবে, বাঙালি ভাষা থাকবে, ততদিন রাসেল থাকবেন আমাদের গল্পের নায়ক হয়ে। তেরো নদী আর সাত সমুদ্রের ওপারেও যদি কোনোদিন আমাদের শৈশবকে খুঁজতে হয়, তবে আমরা সেখানে আমাদের প্রিয় বন্ধু শেখ রাসেলকেই খুঁজে পাব।