নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান ২০২৪

গর্ব, আনন্দ ও আবেগঘন পরিবেশে গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, শনিবার গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো “নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান ২০২৪”। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান ২০২৪ অতিথিবৃন্দের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— গুরুকুল সিওও আজিজা আহমেদ গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল মো: মতিয়ার রহমান কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ স্মৃতি কণা হালদার টি.এস.বি. ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ-এর পরিচালক মো: সাকবার আলী এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং ১ম পর্বের শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করা হয়। অপরদিকে ৮ম পর্বের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত বেস্ট বয় ও বেস্ট গার্ল-কে ট্রফি প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে নার্সিং ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্যাপ পরিধান, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং শপথ বাক্য পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়, যা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বক্তব্য বক্তব্য রাখেন— টি.এস.বি. ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ-এর পরিচালক মো: সাকবার আলী কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ স্মৃতি কণা হালদার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ প্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন— গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর গুরুকুল সিওও আজিজা আহমেদ সহকারী পরিচালক তানভির মেহেদী প্রিন্সিপাল মো: মতিয়ার রহমান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গুরুকুল কালচারাল ক্লাব এবং ব্যান্ড “হিডেন” এর আয়োজনে পরিবেশিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন নৃত্য, সংগীত, নাটিকা ও কবিতা আবৃত্তি, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। গুরুকুলের এই আয়োজন শুধু নবীনদের প্রাণবন্ত সূচনা ও বিদায়ীদের আবেগঘন বিদায়ই নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একতা, প্রেরণা ও সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আরও দেখুন: গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী শিক্ষার্থীর বক্তব্য: স্মৃতি অম্লান, যাত্রা অনন্ত গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের নবীন শিক্ষার্থীর বক্তব্য : স্বপ্নের পথে নতুন যাত্রা ফটো গ্যালারী: ফটো গ্যালারী:
গুরুকুল আন্ত টেকনোলজি স্কিল কম্পিটিশন ২০২৩

কুষ্টিয়া: কারিগরি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে গুরুকুল ইনোভেশন ক্লাব-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘আন্তঃটেকনোলজি স্কিল কম্পিটিশন ২০২৩’। প্রযুক্তির সাথে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের তৈরি আধুনিক সব প্রজেক্টে মুখরিত ছিল পুরো আয়োজন। প্রতিযোগিতায় গুরুকুলের বিভিন্ন ট্রেডের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও কারিগরি দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। সম্মানিত অতিথি চ্যাম্পিয়ন টিম (Project Name: Animational Advertisement) ফার্স্ট রানার-আপ (Project Name:Transmission line & fault detection) সেকেন্ড রানার-আপ (Project Name: Earthquake Resistant building) প্রতিযোগিতার চালচিত্র ও অংশগ্রহণ এবারের প্রতিযোগিতায় গুরুকুলের সকল ট্রেড থেকে মোট ১৪টি দক্ষ টিম পৃথক পৃথক প্রজেক্ট নিয়ে অংশগ্রহণ করে। তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন সমসাময়িক সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান প্রজেক্টগুলোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। সম্মানিত অতিথির মূল্যায়ন অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল বিভাগের চিফ ইন্সট্রাক্টর মোঃ শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রতিটি দলের স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রজেক্টগুলোর কারিগরি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন: “তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি এই ধরণের বাস্তবমুখী প্রজেক্ট শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের কর্মক্ষেত্রের জন্য যোগ্য করে তোলে।” তিনি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য প্রতিটি টিমকে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরামর্শ প্রদান করেন। বিজয়ীদের তালিকা ও প্রজেক্টের নাম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় বিচারকদের রায়ে বিজয়ীরা হলো: চ্যাম্পিয়ন: প্রজেক্ট ‘Animational Advertisement’ টিম। (আধুনিক বিজ্ঞাপনের ডিজিটাল রূপান্তরে তাদের উদ্ভাবনটি সেরা বিবেচিত হয়)। ফার্স্ট রানার-আপ: প্রজেক্ট ‘Transmission Line & Fault Detection’ টিম। (বিদ্যুৎ লাইনের ত্রুটি নিরসনে কার্যকর কারিগরি সমাধান)। সেকেন্ড রানার-আপ: প্রজেক্ট ‘Earthquake Resistant Building’ টিম। (ভূমিকম্প সহনীয় স্থাপনা নির্মাণের মডেল)। পুরস্কার ও সনদ বিতরণী প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের জন্য ছিল বিশেষ অনুপ্রেরণা। অনুষ্ঠানে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের শিক্ষকবৃন্দ, ইনোভেশন ক্লাবের সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যান্য কিছু মুহুর্ত্ব…… গুরুকুল ইনোভেশন ক্লাবের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এবং নতুন কিছু সৃষ্টির প্রেরণা যুগিয়েছে। দক্ষ ও কর্মমুখী প্রজন্ম গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নিয়ে গুরুকুল কাজ করছে, এই স্কিল কম্পিটিশন ছিল তারই এক সফল প্রতিফলন।
বিএসএমএমইউতে ১৬ জুলাই মাস্টার্সে নার্সিংয়ে ভর্তি শুরু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এবং অধিভুক্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভ্যান্স নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে(এনআইএএনইআর) জুলাই ২০২৩ মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন নার্সিং (এমএসএন) কোর্সে ভর্তি শুরু হবে ১৬ জুলাই থেকে। ভর্তিপ্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। বিএসএমএমইউতে ১৬ জুলাই মাস্টার্সে নার্সিংয়ে ভর্তি শুরু বিএসএমএমইউর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমএসএন কোর্সের অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ইল্ডার হেলথ নার্সিং, উইমেন্স হেলথ অ্যান্ড মিডওয়াইফারি নার্সিং, চাইল্ড হেলথ নার্সিং (সিএইচএন), মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সাইকিয়াট্রিক নার্সিং (এমএইচপিএন), কমিউনিটি হেলথ নার্সিং (কম.এইচএন), নার্সিং ম্যানেজমেন্ট (এনএম), কার্ডিওথোরাসিক নার্সিং (সিটিএন), ইনটেনসিভ কেয়ার নার্সিং (আইসিএন), অর্থোপেডিক অ্যান্ড ট্রমা নার্সিং (ওটিএন), ন্যাপরো-ইউরোলজি নার্সিং (এনইউএন), অফথালমোলজিক নার্সিং (ওএন) ও নিউরোসায়েন্স নার্সিংয়ে (এনএন) ভর্তির জন্য সরকারি, বিএসএমএমইউ (সরকারি কোটায় নির্বাচিত) ও বেসরকারি নার্স প্রার্থীর নামের তালিকা প্রকাশ করা হলো। বেসরকারি প্রার্থীদের ১৬ জুলাই থেকে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কোর্সে ভর্তির কার্যক্রম চলবে। সব বিষয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কোর্স ফি, টিউশন ফি এবং রেজিস্ট্রেশন ফি–সংক্রান্ত তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শাখা থেকে জানা যাবে। মূল মাইগ্রেশন সনদসহ নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি সেট করে ভর্তির সময় সব প্রার্থীকে জমা দিতে হবে। ১. নির্বাচিত তালিকায় প্রার্থীর নামসংবলিত অংশ থেকে প্রার্থীর নামসংবলিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের তালিকা সংগ্রহপূর্বক জমা দিতে হবে। ২. ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের অনুলিপি। ৩. দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ৪. শিক্ষাগত যোগ্যতার সব মূল সনদের অনুলিপি। ৫. বিএসসির (ইন নার্সিং/মিডওয়াইফাই) মূল সনদের অনুলিপি। ৬. জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি। ৭. বিএনএমসি কর্তৃক প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশনের মূল সনদের অনুলিপি। ৮. মূল মাইগ্রেশন সনদের অনুলিপি। ৯. মূল মাইগ্রেশন সনদ (প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণের জন্য)। মূল মাইগ্রেশন সনদ, ছবি ও অন্যান্য সনদের এক সেট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেরণ করতে হবে। সব প্রার্থীকে ভর্তির পূর্বে মূল মাইগ্রেশনের স্ক্যান কপি নিজের কাছে ই-রেজিস্ট্রেশনের জন্য সংরক্ষণ করার বিষয়টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অবহিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। জুলাই ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত সব প্রার্থীকে আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন ২০২৪ তারিখের মধ্যে অনলাইনে ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এ–সংক্রান্ত নিয়মাবলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট লিংকে পাওয়া যাবে। মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন নার্সিং (এমএসএন) কোর্সের উল্লিখিত বিষয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আগামী ১ জুলাই শুরু হবে বিধায় ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো। সূত্র : প্রথম আলো
গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ এর বার্ষিক তাঁবুবাস দীক্ষা ও মহাতাঁবু জলসা, ২০১৯

‘সেবা’ ও ‘শৃঙ্খলার’ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক গড়ার প্রত্যয়ে কুষ্টিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ-এর দুই দিনব্যাপী বার্ষিক প্রশিক্ষণ, তাঁবুবাস, দীক্ষা ও মহাতাঁবু জলসা। নবীন সহচরদের রোভার স্কাউটিংয়ের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ক্যাম্প ফায়ার ও মহাতাঁবু জলসার আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে গুরুকুল প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে প্রথাগত ঐতিহ্য মেনে বর্ণিল ‘ক্যাম্প ফায়ার’ বা অগ্নি-প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। অন্ধকারের বিনাশ ও আলোর আগমনের প্রতীক হিসেবে এই আগুন জ্বালিয়ে রোভাররা তাদের প্রশিক্ষণের হাতেখড়ি নেন। সমাপনী দিনে গুরুকুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গুরুকুলের উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মাসুম। অতিথিদের বক্তব্য: সমাজ গঠনে স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা রোভার স্কাউটিংয়ের একঝাঁক অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। কুষ্টিয়া মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও জেলা রোভার কমিশনার মীর মোশাররফ হোসেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জেলা রোভার সম্পাদক এ.কে.এম সামসুল হক এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জুবায়ের হাসান চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন: “একজন শিক্ষার্থীকে কেবল পুথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একজন প্রকৃত রোভার স্কাউট মাদক, জঙ্গিবাদ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে নিজেকে দূরে রেখে সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। গুরুকুল ৩টি ইউনিটের মাধ্যমে এই সেবা কার্যক্রম যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।” অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক সোহাগ আহমেদ। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন রোভার সদস্য কৌশিক আহমেদ। সাংস্কৃতিক প্রতিভা ও কলাকৌশল প্রদর্শন দীক্ষা ও প্রশিক্ষণের কঠোর নিয়মাবলির মাঝেও রোভারদের সৃজনশীলতা ফুটে ওঠে ‘মহাতাঁবু জলসা’র মঞ্চে। দুই দিনের কঠোর পরিশ্রমের ক্লান্তি ভুলে রোভার সদস্যরা নাটক, দেশাত্মবোধক নৃত্য, সংগীত এবং স্কাউটিংয়ের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রদর্শনের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এটি কেবল আনন্দ অনুষ্ঠান ছিল না, বরং রোভারদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের একটি অনন্য মাধ্যম ছিল। প্রশিক্ষণ ও দীক্ষা প্রদান বার্ষিক এই প্রশিক্ষণে রোভারিংয়ের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন ও কারিগরি দিক পরিচালনা করেন জেলা রোভার সম্পাদক এ.কে.এম সামসুল হক। তাকে সহায়তা করেন সিনিয়র রোভারমেট তন্ময় বিশ্বাস শুভ, রুবেল, অর্ণব, মেহেদী, সেতু, ইমরান, রানা সরকার, সাগর ও ফাহিম। অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে (শুক্রবার সকালে) এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে গুরুকুলের ৩টি ইউনিটের মোট ৫০ জন নবীন রোভার সহচরকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কাউট ব্যাজ ও স্কার্ফ পরিয়ে দীক্ষা প্রদান করা হয়। দীক্ষা প্রদান করেন উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মাসুম। এর মাধ্যমেই নবীন এই সদস্যরা রোভার আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে দেশ সেবার শপথ গ্রহণ করেন। দীক্ষা গ্রহণ শেষে নবীন রোভারদের চোখে-মুখে ছিল দেশ গড়ার প্রত্যয়। গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের এই বার্ষিক আয়োজন কুষ্টিয়া অঞ্চলের স্কাউটিং আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
গুরুকুল নার্সিং বার্ষিক প্রীতিভোজ ২০১৯ সম্পন্ন

উৎসব, উদ্দীপনা আর সাংস্কৃতিক আবহের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো কুষ্টিয়া গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট-এর বার্ষিক প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০১৯। গতানুগতিক শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৃজনশীলতা ছড়িয়ে দিতে গুরুকুল বাংলাদেশ-এর এই বর্ণিল আয়োজন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে। উদ্বোধনী মুহূর্ত: দেশপ্রেমের সুরে সূচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেশাত্মবোধক গান গেয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন দেশবরেণ্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। দেশপ্রেমের এই সুর শিক্ষার্থীদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী ঐশী রহমান। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের গৌরব বৃদ্ধি করেন: মোঃ জিয়াউল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ এবং চেয়ারম্যান, কয়া ইউনিয়ন পরিষদ। ড. আমানুর আমান, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক। খন্দকার ইকবাল মাহামুদ, চেয়ারম্যান, ক্রীড়া বিভাগ, গুরুকুল। মোঃ শাহিন সরকার, চেয়ারম্যান, সাংস্কৃতিক বিভাগ, গুরুকুল। রাকিবুজ্জামান তানিম, সহকারী পরিচালক, গুরুকুল। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই উৎসবে যোগ দেন। সাংস্কৃতিক ও আনন্দ আয়োজন বার্ষিক এই প্রীতিভোজকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় বৈচিত্র্যময় সব ইভেন্ট। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণগুলো ছিল: ফ্যাশন শো ও র্যাম্প শো: শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় মুগ্ধ হন অতিথিরা। ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা: আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় জনপ্রিয় ‘বালিশ খেলা’। লটারি ড্র: কুপন ড্র এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটিতে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করে। অভিনয় ও সঙ্গীত: অনুষ্ঠানের শেষাংশে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত অসাধারণ অভিনয় প্রদর্শনী এবং দেশাত্মবোধক গান পুরো আয়োজনকে এক জাঁকজমকপূর্ণ রূপ দান করে। গুরুকুল দর্শন ও শিক্ষার পরিবেশ বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট কেবল দক্ষ নার্স তৈরি করে না, বরং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশেও সমান গুরুত্ব দেয়। এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্লান্তি দূর করে তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে সাহায্য করে। আলোকচিত্রে উৎসবের মুহূর্তসমূহ: দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী মুহূর্ত। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় ফ্যাশন শো। সঙ্গীতানুষ্ঠানে শিল্পীদের সুরের মূর্ছনা। মনোজ্ঞ এই আয়োজনটি প্রীতিভোজের মাধ্যমে শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে এক স্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থাকবে। কারিগরি ও নার্সিং শিক্ষার পাশাপাশি সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চায় গুরুকুল বাংলাদেশ যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই অনুষ্ঠানটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জনসংযোগ ও মিডিয়া বিভাগ, গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট (গুরুকুল বাংলাদেশ)।
রোভার স্কাউট এর প্রতিষ্ঠাতা বিপির জন্মদিন ও স্কাউটিং এর শতবার্ষিকী পালন

বিশ্ব স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল (বিপি)-এর জন্মদিন ও বিশ্ব স্কাউটিংয়ের গৌরবময় পথচলার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা রোভার স্কাউট ও গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্কাউটিংয়ের আদর্শ ও সেবার মন্ত্র নতুনভাবে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিপির জন্মদিন ও স্কাউটিংয়ের তাৎপর্য স্কাউটিংয়ের জনক রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ ব্যাডেন পাওয়েল (বিপি) ১৮৫৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর হাত ধরেই ১৯০৭ সালে ব্রাউন সি দ্বীপে ২০ জন কিশোর নিয়ে শুরু হয়েছিল স্কাউটিং, যা আজ বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রোভার স্কাউটিং হলো স্কাউট আন্দোলনের উচ্চতর শাখা, যেখানে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ‘সেবা’র (Service) মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়। বর্ণাঢ্য র্যালি ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস থেকে একটি সুবিশাল র্যালির মাধ্যমে। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ চত্বরে পৌঁছালে সেখানে জেলা রোভারের অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে এক মহামিলন মেলায় পরিণত হয়। শত শত রোভার সদস্যের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও স্কাউট স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কুষ্টিয়ার রাজপথ। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। আলোচনা সভা ও কেক কাটা র্যালি পরবর্তী আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তারা স্কাউটিংয়ের ইতিহাস ও বর্তমান বিশ্বে এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কুষ্টিয়া জেলা রোভার স্কাউটের সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক একেএম সামসুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন: “বিপি আমাদের শিখিয়েছেন ‘সদাই প্রস্তুত’ থাকতে। রোভার স্কাউটিং কেবল একটি আন্দোলন নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। একজন রোভার সবসময় নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে এবং নিঃস্বার্থভাবে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে।” গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি এস.এম. শামীম রানা বলেন, স্কাউটিংয়ের শতবর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও নেতিবাচকতা থেকে দূরে রেখে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। সম্মানিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন: এম. এ. মাসুম, সম্পাদক, গুরুকুল রোভার স্কাউট। রাসনা শারমিন, ইউনিট লিডার, গুরুকুল গার্ল-ইন রোভার। মাসুদুর রহমান, ইউনিট লিডার, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ। ড. নূরুন্নাহার, ইউনিট লিডার, গার্ল-ইন রোভার। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কুষ্টিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রোভার সদস্যরা এই উৎসবে সংহতি প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ কুয়াতুল ইসলাম আলিয়া মাদ্রাসা কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রোভারিংয়ের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নবীন রোভাররা বিপির জন্মদিন ও স্কাউটিংয়ের শতবর্ষ পূর্তিতে নতুন করে ‘বিপি শপথ’ স্মরণ করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগেও স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে চারিত্রিক গঠন ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন অত্যন্ত জরুরি। এই কর্মসূচি কুষ্টিয়ার তরুণদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির এক অনন্য ক্ষেত্র হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। আরও দেখুন: কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে গুরুকুল রোভার স্কাউটের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ
কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে গুরুকুল রোভার স্কাউটের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসক এবং জেলা রোভারের সভাপতি জনাব জহির রায়হানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ। গতকাল বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। নেতৃত্বের উপস্থিতিতে হার্দিক শুভেচ্ছা গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি শামীম রানা এবং গুরুকুল গার্ল-ইন-রোভারের সম্পাদক মাধবী আইরিনের নেতৃত্বে রোভার ও গার্ল-ইন-রোভারের একটি প্রতিনিধি দল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। এসময় নবাগত জেলা প্রশাসককে কুষ্টিয়ায় তাঁর নতুন কর্মস্থলে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। গুরুকুল প্রমুখের বার্তা ও আমন্ত্রণ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রতিনিধি দলটি গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রমুখ, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা জেলা প্রশাসকের নিকট পৌঁছে দেন। একই সাথে জেলা প্রশাসককে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বিভিন্ন ক্যাম্পাস ও কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণের ইতিবাচক সাড়া জনাব জহির রায়হান অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই দাওয়াত গ্রহণ করেন। তিনি জানান যে, সুবিধাজনক সময়ে তিনি গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের আওতাধীন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন করবেন, যার মধ্যে রয়েছে: ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন: কারিগরি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট: প্রকৌশল ও কারিগরি গবেষণার বিশেষ ক্ষেত্র। মেডিকেল সেকশন: স্পেশালাইজড ম্যাটস (MATS) ও গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট। স্কাউটিং ও সামাজিক উন্নয়নে অঙ্গীকার গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ একটি বহুত্ববাদী ও শৃঙ্খলিত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। নবাগত জেলা প্রশাসকের এই ইতিবাচক সাড়া কুষ্টিয়ার শিক্ষা ও স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় রোভার স্কাউট সদস্যদের সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান এবং গুরুকুলের শিক্ষা কার্যক্রমের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। পরিশেষে, রোভার নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে একটি সমৃদ্ধ ও সমৃদ্ধশালী কুষ্টিয়া গড়ে তোলার লক্ষে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
কুষ্টিয়া গুরুকুলের আন্তঃটেকনোলজি বিজয় দিবস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০১৫ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ক্রীড়া ও ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনে কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে ‘আন্তঃটেকনোলজি বিজয় দিবস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট–২০১৫’। কুষ্টিয়া গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলাধুলার প্রসার এবং বিজয়ের চেতনাকে ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বিজয়ের উল্লাস গতকাল সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং নিশান মোড় সংলগ্ন একতা মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে এই টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী শহিদ মো. কবির এবং বাসার ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক আপন বাশার। উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি শরীর চর্চা ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। পূর্ববর্তী আসরের পুরস্কার বিতরণী টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে একটি বিশেষ পর্বে ‘আন্তঃটেকনোলজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট–২০১৪’-এর সফল সমাপনী শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক নৃপেন কুমার সাহা-এর সভাপতিত্বে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাসেগ–গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের প্রশাসনিক পরিচালক মনির হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ অলংকৃত করেন কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাত আলী। উপস্থিত সম্মানিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বিভিন্ন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: তানভীর মেহেদী, প্রধান সমন্বয়কারী। ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন, একাডেমিক ইনচার্জ (ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ)। মন্টু বাইন, একাডেমিক ইনচার্জ (মেডিকেল বিভাগ)। শামীম রানা, লিগ্যাল ও মিডিয়া সমন্বয়কারী। রফিকুল ইসলাম, প্রমোশন বিভাগ প্রধান। প্রথম দিনের খেলার ফলাফল: মাঠের লড়াই উদ্বোধনী দিনে মোট তিনটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে টেকনোলজিগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা গেছে: ১. প্রথম ম্যাচ: সিভিল টেকনোলজি বনাম মেডিকেল ইনস্টিটিউট। এই ম্যাচে সিভিল টেকনোলজি দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ২৪ রানে জয়লাভ করে। ২. দ্বিতীয় ম্যাচ: গার্মেন্টস ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং টেকনোলজি বনাম মেকানিক্যাল টেকনোলজি। এই ম্যাচে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে মেকানিক্যালকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নেয় গার্মেন্টস টেকনোলজি। ৩. তৃতীয় ম্যাচ: টেক্সটাইল টেকনোলজি বনাম কম্পিউটার টেকনোলজি। দিনের শেষ ম্যাচে টেক্সটাইল টেকনোলজি ৮ উইকেটে কম্পিউটার টেকনোলজিকে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নেয়। খেলা পরিচালনা ও কারিগরি সহযোগিতা মাঠে দক্ষ আম্পায়ারিং ও খেলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আরএস বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মতিন ও আতিকুল ইসলাম, টেক্সটাইল টেকনোলজির শিক্ষক মিরাজ আলী এবং মেডিকেল টেকনোলজির শিক্ষক আলমগীর হোসেন। টুর্নামেন্টের সার্বিক সফলতায় নিরলস কাজ করছেন বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ। তাদের মধ্যে ছিলেন জান্নাতুল নাঈম (টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস), সেজাউর রহমান (ইলেকট্রিক্যাল), চঞ্চল আলী (কম্পিউটার), আব্দুল খালেক (মেকানিক্যাল) এবং পূর্ণিমা রানী (সিভিল)। বিজয় দিবসেই ফাইনাল মহারণ প্রথম দিনের খেলা শেষে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক নৃপেন কুমার সাহা অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করেন যে, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ইভেন্ট অর্থাৎ ফাইনাল ম্যাচটি আগামী ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবসে অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির আমেজে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হবে। আরও দেখুন: ৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস: শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে খেলার শক্তি