গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

বজ্রপাত থেকে বাঁচবেন যেভাবে?

বজ্রপাত

প্রকৃতির এক বিধ্বংসী রূপ হলো বজ্রপাত। বজ্রপাত বর্তমানে বাংলাদেশে অন্যতম একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসচেতনতার অভাব এর অন্যতম কারণ।  প্রতি বছর বাংলাদেশে শত শত মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ কৃষক ও খোলা মাঠে কাজ করা শ্রমিক। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এই মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হলে আমাদের এর বৈজ্ঞানিক আচরণ বুঝতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমরা আমাদের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য এই বিষয়ে একটি বিশেষ নির্দেশনা প্রস্তত করেছি। বজ্রপাত থেকে বাঁচবেন যেভাবে     ১. মেঘের ডাক শুনলে যা করবেন (প্রাথমিক সতর্কতা) বজ্রপাত শুরু হওয়ার আগে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়া এবং গুড় গুড় শব্দ হওয়া একটি বড় সংকেত। ৩০-৩০ নিয়ম অনুসরণ করুন: আকাশ মেঘলা থাকলে এবং মেঘের ডাক শোনার পর যদি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিজলি চমকাতে দেখেন, তবে বুঝবেন আপনি ঝুঁকির মধ্যে আছেন। দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যান। আবার শেষবার মেঘ ডাকার পর অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের বাইরে বের হবেন না। খোলা মাঠ পরিহার করুন: আপনি যদি খোলা মাঠে থাকেন, তবে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে কক্ষনো আশ্রয় নেবেন না।   ২. বাড়ির ভেতরে থাকাকালীন সতর্কতা বাড়ির ভেতর থাকলেই আপনি পুরোপুরি নিরাপদ—এমনটি ভাবা ভুল। বজ্রপাতের সময় বাড়ির ভেতরেও কিছু নিয়ম মানতে হয়: বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন: বজ্রপাতের সময় ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার বা এসি-র মতো দামি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্লাগ খুলে রাখুন। ধাতব বস্তু স্পর্শ করবেন না: জানালার গ্রিল, পানির কল, ধাতব পাইপ বা সিঁড়ির রেলিং স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। বজ্রপাত বাড়ির ওপর পড়লে বিদ্যুৎ এই ধাতব পথ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। পানির ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: বজ্রপাতের সময় গোসল করা, হাত-মুখ ধোয়া বা বাসন মাজা এড়িয়ে চলুন। পানির পাইপলাইনের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে। ল্যান্ডফোন ব্যবহার করবেন না: কর্ডলেস বা মোবাইল ফোন ব্যবহারে ঝুঁকি কম থাকলেও ল্যান্ডফোন বা তারযুক্ত ফোন ব্যবহার করবেন না। ৩. খোলা মাঠে বা বাইরে থাকাকালীন যা করবেন যদি এমন জায়গায় থাকেন যেখানে আশেপাশে কোনো পাকা দালান নেই, তবে নিচের নিয়মগুলো আপনার জীবন বাঁচাতে পারে: নিচু হয়ে বসুন (Lightning Crouch): যদি আশেপাশে কোনো আশ্রয় না থাকে, তবে খোলা মাঠে মাটির ওপর শুয়ে পড়বেন না। বরং দুই পা একসাথে করে গোড়ালি উঁচু করে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে নিচু হয়ে বসুন এবং কান দুই হাত দিয়ে চেপে ধরুন। এতে শরীরের আয়তন কম থাকবে এবং বিদ্যুৎ সরাসরি মাটিতে চলে যাওয়ার পথ পাবে। উঁচু গাছ থেকে দূরে থাকুন: বড় এবং একাকী গাছ বজ্রপাতকে বেশি আকর্ষণ করে। তাই গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া আত্মঘাতী হতে পারে। জলাশয় থেকে দূরে থাকুন: আপনি যদি নৌকা বা পানিতে থাকেন, তবে দ্রুত তীরে ফিরে আসুন। পানি বিদ্যুতের সুপরিবাহী। গ্রুপে থাকলে আলাদা হয়ে যান: আপনারা যদি একসাথে অনেকজন থাকেন, তবে অন্তত ৫০-১০০ ফুট দূরে দূরে সরে যান। এতে একজনের ওপর বজ্রপাত হলে অন্যরা নিরাপদ থাকতে পারবে বা সাহায্য করতে পারবে। ৪. গাড়িতে থাকাকালীন সুরক্ষা বজ্রপাতের সময় আপনি যদি গাড়িতে থাকেন, তবে গাড়ির ভেতরেই থাকা নিরাপদ। তবে কিছু শর্ত আছে: গাড়ির জানালা পুরোপুরি বন্ধ রাখুন। গাড়ির কোনো ধাতব অংশ বা বডি স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাত চলাকালীন গাড়ি কোনো বড় গাছের নিচে বা উঁচু বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে পার্ক করবেন না।     ৫. দালান বা ভবন নির্মাণে সতর্কতা বজ্রপাত থেকে স্থায়ী সুরক্ষার জন্য প্রতিটি দালানে ‘লাইটেনিং অ্যারেস্টার’ বা বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এটি বজ্রপাতের বিদ্যুৎকে সরাসরি মাটিতে (Earthing) নিয়ে যায়, ফলে ভবনের ভেতরে থাকা মানুষ ও আসবাবপত্র নিরাপদ থাকে। আধুনিক ভবন নির্মাণের সময় যেমন ‘লাইটেনিং অ্যারেস্টার’ বা বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা জরুরি, তেমনি প্রাকৃতিকভাবে বাঁচার জন্য বাড়ির চারপাশে তাল, নারিকেল ও সুপারি গাছ লাগানো প্রয়োজন। এই উঁচু গাছগুলো বজ্রপাতকে নিজের শরীরে ধারণ করে বিদ্যুৎ মাটিতে পৌঁছে দেয়, ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমে আসে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি তাল গাছ রোপণ করা মানে একটি জীবন রক্ষাকারী ঢাল তৈরি করা। বজ্রপাত নিরোধক গাছ: তাল, নারকেল, সুপারি বা খেজুরের মতো উঁচু গাছগুলো প্রকৃতির নিজস্ব ‘লাইটেনিং অ্যারেস্টার’ হিসেবে কাজ করে। এই গাছগুলো উঁচু হওয়ায় এবং প্রচুর পরিমাণে কার্বন ও পানি থাকায় বজ্রপাতকে নিজের দিকে টেনে নেয় এবং বিদ্যুৎ সরাসরি মাটিতে পৌঁছে দেয়। ফলে আশেপাশে থাকা বাড়িঘর ও মানুষ বড় ধরণের বিপদ থেকে রক্ষা পায়। একে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সুরক্ষা পদ্ধতিও বলা হয়। বাড়ির চারপাশে বনায়ন: বাড়ির আশেপাশে একটু দূরত্ব বজায় রেখে বড় গাছ লাগানো হলে তা একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, গাছ যেন শোবার ঘরের একেবারে গা ঘেঁষে না থাকে, কারণ বজ্রপাতে গাছ ভেঙে পড়ার ঝুঁকিও থাকে। পরিবেশগত ভারসাম্য: তাল গাছ বজ্রপাত থেকে নিজে মরে গিয়ে মানুষকে বাঁচায়। তাই আধুনিক পদ্ধতিতে লাইটেনিং রড বসানোর পাশাপাশি বেশি করে তাল ও নারিকেল গাছ রোপণ করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য হওয়া উচিত। ৬. কেউ বজ্রাহত হলে কী করবেন? বজ্রাহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে আপনার শক লাগবে না, কারণ বজ্রপাতের বিদ্যুৎ সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে মাটিতে চলে যায়। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন বা হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করুন। প্রয়োজনে সিপিআর (CPR) প্রদান করুন। শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। বজ্রপাত একটি অনিয়ন্ত্রিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তবে সচেতনতাই এর থেকে বাঁচার একমাত্র ঢাল। মেঘের গর্জন শুনলে অবহেলা না করে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া এবং অন্যদেরও সতর্ক করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। নিজে সচেতন থাকুন, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।

নাট্যজন জামালউদ্দিন হোসেনের জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য

জামালউদ্দিন হোসেন

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, মঞ্চ ও টেলিভিশনের অগ্রণী শিল্পী, পরিচালক এবং সংগঠক জামালউদ্দিন হোসেন ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর কানাডার ক্যালগেরির রকভিউ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১০ অক্টোবর। আজ, তাঁর জন্মদিনে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক (GCLN) শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে এক মহান শিল্পসাধককে, যিনি সারাজীবন শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। চট্টগ্রাম কলেজ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল হায়াৎ। কিন্তু প্রকৌশল বিদ্যার সীমা ছাড়িয়ে তাঁর মন টানত নাট্যমঞ্চের আলো-অন্ধকারে, শিল্পের নন্দনতত্ত্বে। ১৯৭৫ সালে তিনি যোগ দেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে, বাংলাদেশের আধুনিক নাট্য আন্দোলনের অন্যতম প্রবর্তক সংগঠনে। পরবর্তী দুই দশকে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি হয়ে ওঠেন নাট্যচর্চার এক উজ্জ্বল মুখ। ১৯৯৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের নাট্যদল নাগরিক নাট্যাঙ্গন এনসেম্বল, যার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আজীবন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বেতার টেলিভিশন শিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক। তার নির্দেশিত অসংখ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘রাজা রাণী’, ‘চাঁদ বনিকের পালা’, ‘আমি নই’, ‘বিবিসাহেব’ ও ‘জুগলবন্দী’। এসব নাটক শুধু দর্শকের হৃদয় জয় করেনি, বরং বাংলাদেশের নাট্যজীবনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। নাট্যকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে তিনি অর্জন করেন বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক। এই সম্মাননা তাঁর দীর্ঘ শিল্পযাত্রার প্রতি জাতির শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৭৫ সালে সহশিল্পী ও অভিনেত্রী রওশন আরা হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দুজনেই নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের শিল্পী ছিলেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁদের যৌথ শিল্পজীবন। তাঁদের একমাত্র সন্তান তাফসিন হোসেন তপু বর্তমানে কানাডার ক্যালগেরির মাউন্ট রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। জামালউদ্দিন হোসেন ছিলেন সেই বিরল শিল্পী, যিনি অভিনয়, নির্দেশনা, সংগঠন এবং নাট্যদর্শনে এক অনন্য ভারসাম্য তৈরি করতে পেরেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নাটক শুধুমাত্র বিনোদন নয়— এটি সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁর প্রতিটি কাজেই প্রতিফলিত হয়েছে এই বিশ্বাস, এই দায়বদ্ধতা। আজ, তাঁর জন্মদিনে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক (GCLN) গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এই মহৎ নাট্যজনকে। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি এবং বিশ্বাস করি, তাঁর কর্ম ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে চিরকাল।

গুরুকুলে ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে ২০২৪ উদযাপন

ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে ২০২৪

“আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ: অর্থনৈতিক শক্তি এবং সেবার প্রভাব”—এই বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাসে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে ২০২৪’। আধুনিক নার্সিং পরিষেবার অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের ২০৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নার্সিং পেশার গুরুত্ব এবং মানবিক সেবার আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। দিবসের প্রেক্ষাপট ও ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। ১৮৫৩ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় তিনি আহত সৈনিকদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। গভীর রাতে হাতে ল্যাম্প বা প্রদীপ নিয়ে তিনি রোগীদের সেবা করতেন বলে তিনি বিশ্বজুড়ে ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ হিসেবে অমর হয়ে আছেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ সেবাই নার্সিংকে একটি বিজ্ঞানসম্মত ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নার্সিং পেশার বিকাশে নাইটিঙ্গেলের অবদান পেশাদার শিক্ষা: ১৮৬০ সালে লন্ডনে ‘নাইটিঙ্গেল ট্রেনিং স্কুল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি নার্সিং শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। পরিসংখ্যান ও স্যানিটেশন: নাইটিঙ্গেল কেবল একজন সেবিকাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ পরিসংখ্যানবিদ। তিনি তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, চিকিৎসার চেয়ে অপরিচ্ছন্নতা ও সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর হার বেশি। তাঁর এই তত্ত্বই আধুনিক হাসপাতালের স্যানিটেশন ব্যবস্থায় বিপ্লব আনে।     গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের বিশেষ আয়োজন দিবসটি উপলক্ষে গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়: র‍্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ: সকালে ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালি শেষে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। বিশেষ শপথ গ্রহণ: নার্সিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার জন্য ঐতিহাসিক ‘নাইটিঙ্গেল প্লেজ’ বা শপথ পাঠ করেন। আলোচনা সভা: সভায় বক্তারা আইসিএন (ICN) কর্তৃক এই দিবসটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ইতিহাস এবং বর্তমান বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে নার্সদের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন।     প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের দর্শন গুরুকুল বিশ্বাস করে যে, একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজে নার্সদের ভূমিকা অনন্য। ধর্ম, বর্ণ, জাত বা আর্থিক অবস্থার ঊর্ধ্বে উঠে একজন নার্স যেভাবে প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন, তা গুরুকুলের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের স্বপ্নের সাথে একাত্ম। সেবার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মৈত্রী ও সম্প্রীতি বজায় রাখার এই দর্শনই আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “নার্সিং কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি শিল্প ও সাধনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বিপুল সংখ্যক দক্ষ নার্স প্রয়োজন। গুরুকুল সেই দক্ষ ও মানবিক নার্সিং জনবল গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” “নার্সিং একটি শিল্প; এবং এটি যদি শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তবে এর জন্য প্রয়োজন নিবিড় সাধনা এবং প্রস্তুতি—ঠিক যেমনটি প্রয়োজন একজন চিত্রশিল্পী বা ভাস্করের জন্য।” — ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে ২০২৪: বিশেষ গ্যালারি      

গুরুকুল নার্সিং ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ফুড ফেয়ার আয়োজন

গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ফুড ফেয়ার আয়োজন

তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ‘ফুড ফেয়ার’ বা খাদ্য মেলা। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মেলায় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দেশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি আধুনিক রন্ধনশৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা গেছে এই আয়োজনে।     মেলার শুভ উদ্বোধন সকালে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের কেবল রান্নার কৌশল শেখায় না, বরং দলগত কাজ (Team Work), নেতৃত্ব এবং উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করে।     শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও স্টলসমূহ মেলায় ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বৈচিত্র্যময় স্টল সাজিয়ে বসে। প্রতিটি স্টলের নামকরণ এবং সাজসজ্জায় ছিল নতুনত্বের ছাপ। মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি করা খাবারের মধ্যে ছিল: ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি: ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা ও নকশি পিঠা। দেশীয় মিষ্টান্ন: হাতে তৈরি পায়েস, ফিরনি ও বিভিন্ন ধরণের নাড়ু। বিকেলের নাস্তা: চটপটি, ফুচকা, ঝালমুড়ি এবং ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস। আধুনিক খাবার: পাস্তা, স্যান্ডউইচ ও বিভিন্ন ধরণের ফ্রুট জুস।     উদ্যোক্তা হওয়ার হাতেখড়ি শিক্ষার্থীরা নিজেরাই মেলার বাজেট তৈরি করা থেকে শুরু করে বাজার করা, রান্না এবং বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক চিন্তাধারা এবং ক্রেতা সামলানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। অনেক স্টলেই ‘লাইভ কুকিং’ এর ব্যবস্থা ছিল, যা দর্শনার্থীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে।     শিক্ষক ও অভিভাবকদের মিলনমেলা মেলার আকর্ষণ কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; গুরুকুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। তারা শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি করা খাবারের স্বাদ নেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন। অতিথিরা বলেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরে এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এবং মানসিক প্রশান্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।     শ্রেষ্ঠ স্টল ও পুরস্কার বিতরণ মেলার শেষে খাবারের গুণগত মান, পরিবেশনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্টল সাজসজ্জার ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি স্টলকে পুরস্কৃত করা হয়। বিচারকদের রায়ে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।     গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের এই ফুড ফেয়ার কেবল একটি মেলা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দময় শিক্ষার দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, গুরুকুলের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতিতেও সমান পারদর্শী।

নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে আপক্ষামান তালিকার আবেদন

নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে আপক্ষামান তালিকার আবেদন

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট’-সহ সংশ্লিষ্ট নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি’ কোর্সে শূন্য আসনে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যারা ভর্তি পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়েও আসন সংকটের কারণে অপেক্ষমাণ তালিকায় (Waiting List) ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। স্মারক নং: জিএনআই/প্রশা/২০২৪/ভর্তি-০৮ তারিখ: মে ১৩, ২০২৪ (হালনাগাদ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫) বিজ্ঞপ্তির মূল বিষয়বস্তু: বাংলাদেশ নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে যে সকল আসন শূন্য রয়েছে, সেগুলোতে মেধা ও পছন্দের ক্রমানুসারে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও শর্তাবলী: ১. আবেদনকারী: কেবলমাত্র ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ২. মেধা ও অগ্রাধিকার: আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে জাতীয় মেধা তালিকা এবং শিক্ষার্থীর পছন্দের ক্রমানুসারে (Choice List) স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ম্যানুয়ালি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ৩. গুরুকুল নার্সিং আপডেট: গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউটে যে সকল আসন শূন্য রয়েছে, সেখানে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ তালিকার শিক্ষার্থীদের দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেন গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট আপনার প্রথম পছন্দ? গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের আওতাধীন এই ইনস্টিটিউটটি একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত। এখানে শিক্ষার্থীরা পাবেন: আধুনিক ল্যাবরেটরি ও পর্যাপ্ত প্রাকটিক্যাল শিক্ষার ব্যবস্থা। অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক মণ্ডলী। নিরাপদ ও ছাত্রীবান্ধব ক্যাম্পাস পরিবেশ। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসের সুযোগ।   জরুরি নির্দেশনা: অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় মূল নথিপত্র (এসএসসি ও এইচএসসি’র মার্কশিট, সনদপত্র এবং প্রবেশপত্র) নিয়ে সরাসরি গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট, কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে অথবা প্রশাসনিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। যোগাযোগ: ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য কল করুন: 01701229621, 01701229622,  01877731344, 01877731345 আদেশক্রমে, প্রশাসন বিভাগ গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস

আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১ম স্থান অধিকারি মোঃ মাহিনুজ্জামান মাহিন -এর লেখা

মাহিন আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১ম স্থান অধিকারি মোঃ মাহিনুজ্জামান মাহিন -এর লেখা

“ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব” নাম: মোঃ মাহিনুজ্জামান মাহিন স্কুলের নামঃ জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় গাংনী, মেহেরপুর। শ্রেণিঃ দশম   রোলঃ ০১   “ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব” ভূমিকাঃ “বাঁচতে হলে যেমন আছে মৌলিক চাহিদা” তেমনি ক্যারিয়ারে সফল হতে প্রয়োজন “সংস্কৃতির ব্যপকতা” সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই আলোকিত মানুষ গড়া সম্ভব। আমাদের শেকড় সংস্কৃতি ছাড়া দেশের ইতিহাস পরিপূর্ণতা দাবি করতে পারে না। তাই অকৃত্রিম ও সকল ইতিহাসের মাতা আবহমান গ্রাম- বাংলার সংস্কৃতিকে জানা প্রয়োজন। প্রত্যেক এর ক্যারিয়ারে জয় পেতে হলে অবশ্যই সংস্কৃতি চর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে।   জীবনবোধ থেকে ক্যারিয়ার ও সংস্কৃতির সংজ্ঞাঃ  শালম স্কযার্টজ বলেছেন ” সংস্কৃতি মাঝে একটি সমাজের  মানুষের মধ্যে প্রচলিত অর্থ, বিশ্বাস, অনুশীলন, প্রতীক,মান এবং মূল্যবোধের একটি সমৃদ্ধ জটিল “। অন্যকথাই সংস্কৃতি হলো সেই জটিল সামগ্রিকতা যাতে অন্তর্গত আছে জ্ঞান, বিশ্বাস, নৈতিকতা, শিল্প, আইন, রাজনীতি এবং সমাজের একজন সদস্য হিসেবে মানুষের দ্বারা অর্জিত সামর্থ্য শব্দটি এসেছে ” মারাঠা ” থেকে। জীবনোপায় বা ক্যারিয়ার বাংলা শব্দটি ইংরেজি ” Career” নামেই অধিক পরিচিত। জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে গৃহীত এই কোন না কোন পথটিই ঐ ব্যাক্তির জীবনোপায় বা  Career (ক্যারিয়ার) বলে।   সংস্কৃতির চর্চাঃ একটি দেশের ভবিষ্যৎ হলো সে দেশের তরুণ সমাজ একে নষ্ট করার অপকৌশল হলো উৎসাহিত করে বাস্তবে তা প্রয়োগ করা। সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে পারস্পরিক বিনিময় করার মাধ্যমে  নতুন নতুন উপাদান সংগ্রহ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। তরুণরা চঞ্চল, তারা চায় সদা নতুনত্বের সাথেই চলতে। সংস্কৃতি মূলত একটি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। একটা জীবনবোধ বিনির্মানের কৌশল এ সংস্কৃতির দর্পণে তাকালে কোনো সমাজের মানুষের জীবনচরণ স্পষ্ট দেখা যায়।   আধুনিক জীবন গঠনে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্বঃ বর্তমান যুগ আধুনিক যুগ, এ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। মানুষের বেঁচে থাকা, তার সমাজচেতনা, বিশ্বাস, ভাবনা, মূল্যবোধ ইত্যাদিসহ তার সামগ্রিক জীবনচেতনা প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতির মধ্য, এর মধ্য দিয়েই ব্যক্তি মানুষ অন্যদের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে। একটি আধুনিক ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ জাতি গঠনে যা নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, সংস্কৃতি শুধু বেঁচে থাকা নয় বরং আধুনিক জীবন গঠনে সাহায্যে করে।   মানুষের বাস্তবতা সবসময় সংস্কৃতিযুক্ত ক্যারিয়ার নির্ভরঃ বাংলার নর আর নারী মিলি তবে গড়িয়াছে ক্যারিয়ার সেই সবই হলো বাংলায় আজ সংস্কৃতিতে পরিণত শতবছর আগে রুশ দেশে যে বিপ্লব হয়েছিলো সেটি সাংস্কৃতিকভাবে তুলে ধরা খুবই প্রয়োজনীয়। আমাদের জীবন এখন সংস্কৃতিনির্ভর হয়ে উঠেছে। সংস্কৃতির মধ্যে আমাদের আত্মপরিচয় আছে, জীবনাচার আছে, আচার-ব্যবহার আছে, সংস্কৃতিতে রয়েছে সবকিছু, রয়েছে আমাদের ক্যারিয়ার ও বাস্তবতা।   ইতিহাস ও আধুনিকতায় সংস্কৃতিঃ  ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে যে ঘটনায় শুধু সংস্কৃতি চর্চা করে মানুষ তার ক্যারিয়ারে সফল হয়েছে। এমনকি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচেছে। ঝড়ে জাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে রবিনশন ক্রুশো সাঁতরে গিয়ে উঠেছিলেন এক নির্জন দ্বীপে। তার কাছে কিছুই ছিল না, কিন্তু ভেতরে ছিল পুঁজিবাদী সংস্কৃতি। নির্জন দ্বীপে ২৩ বছর টিকে থেকেছেন, ফসলের চাষ করেছেন, ছাগলের খামার তৈরি করেছেন, তোতা পাখির সাথে কথা বলেছেন, অপেক্ষা করেছেন। সংস্কৃতির চর্চা না থাকলে সে মারা যেত, আধুনিকতায় এজন্য সংস্কৃতি দরকার।   ক্যারিয়ারের সাথে সংস্কৃতি চর্চার সম্পর্কঃ বর্তমান যুগে আমরা যদি ক্যারিয়ারেসফল হতে চাই সংস্কৃতি চর্চার তাহলে বিকল্প নাই। কারণ সংস্কৃতির মাধ্যমে সকল বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে ধীরে ধীরে আমরা সাফল্য অর্জন করি। আমাদের ক্যারিয়ারের সাথে সংস্কৃতি চর্চা এজন্যই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল কৃষিপ্রধান দেশের শতকরা ৭০ জন লোকই ক্ষেতখামারে জীবিকা চালায়। তারা তাদের নিজ নিজ ক্যারিয়ার গঠনে সংস্কৃতি চর্চা করে এবং প্রয়োগ করে তারপর সাফল্য পায়, এদিক দিয়েই ক্যারিয়ারের সাথে সংস্কৃতি চর্চার সম্পর্ক।   পারিবারিক জীবন থেকে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া পযর্ন্ত সংস্কৃতিচর্চার প্রভাবঃ  সংস্কৃতি চর্চার প্রথম ধাপই হলো পরিবার। পরিবারের কাছ থেকেই মানুষ আনুষ্টানিকভাবে তার মাতৃভাষা ও নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কৃতি চর্চা করলেই কেবল ক্যারিয়ারে সফল হওয়া যাবে। যার প্রভাব পরিবার থেকে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া পযর্ন্ত রয়েছে।   স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে স্মার্ট ক্যারিয়ারে সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজনীয়তাঃ “স্মার্ট দেশের স্মার্ট নাগরিক চাই ক্যারিয়ারে সফলতা বাড়ছে গুরুত্ব বাড়ছে চাহিদা তাই প্রয়োজন সংস্কৃতির চর্চা” আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ। স্মার্ট দেশ হয়ে গড়ে উঠতে আমাদের প্রয়োজন মানবসম্পদ। মানবসম্পদ সম্পূর্ণ করতে আবার প্রয়োজন প্রত্যেকের ক্যারিয়ারে সাফল্য। ক্যরিয়ারে সফল হতে হলে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের অবশ্যই শিক্ষাপ্রতিষ্টানে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তবেই স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে ক্যারিয়ারে সফল হতে পারব।   ক্যরিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্বঃ একটি দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো সে দেশের আগামী প্রজন্ম। এই প্রক্ষাপটে আমাদের দেশের আগামী প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক মূলধারায় আনা প্রয়োজন। মানবজীবনের প্রত্যেকটি ধাপে সংস্কৃত চর্চা করলেই কেবলমাত্র ক্যারিয়ারে সফল হতে পারব। এজন্য ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃত চর্চার গুরুত্বের প্রতি প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক।   প্রত্যেক মানবজীবনের ধাপে ক্যারিয়ারে সংস্কৃতির প্রভাবঃ আমাদের মানবজীবনের প্রত্যেক ধাপে ধাপে সংস্কৃতির চর্চা রাখতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন কারিকুলামে এই চর্চার অনেক গুরুত্ব রয়েছে । প্রত্যেকটি বিষয়ে এখন সংস্কৃতি চলে এসেছে। যার ফলে আমরা যদি এর চর্চা করতে পারি তাহলেই কিন্তু ক্যারিয়ারে সফল হতে পারব।   বিভিন্ন দেশের মানুষের ক্যারিয়ারকে সফল করতে সংস্কৃতির অবদানঃ  উন্নত দেশ জাপান, সিঙ্গাপুর, সুইডেন প্রভৃতি দেশের মানুষদের মতে তারা সংস্কৃতি চর্চা করেছে বলেই আজ তারা সফল। আর যারা এর চর্চা করেনি তারা সাফল্য পাননি। প্রত্যেক উন্নত দেশের মানুষের ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার পেছনে রয়েছে সংস্কৃতি চর্চা তেমনি আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে মাথা উচু করে দাঁড় করাতে সংস্কৃতি চর্চা জরুরি।তাই বলা যায় যে, ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব অনেক। উপসংহারঃ  প্রবাদে আছে, “Time and Tide wait for none”অথাৎ “সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না”। আমাদের দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে সময় যেমন যাচ্ছে, তেমনি ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চাও সময় ও স্রোতের মতোই চলে যাচ্ছে। সংস্কৃতিবিহীন ক্যারিয়ার এখন মাঝিবিহীন নৌকার মতো। তাই প্রদত্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। “ক্যারিয়ারে সফল হলে যেখানেই যাবেন সংস্কৃতি চর্চার জন্য স্বীকৃতি পাবেন”।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২৪ উপলক্ষে গুরুকুলের আয়োজনে আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ফলাফল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২৪ উপলক্ষে গুরুকুলের আয়োজনে আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ফলাফল

গত ১৭ মার্চ ২০২৪, মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতা। এবারের বিষয় ছিল: “ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব”। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও সাংস্কৃতিক বোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্বনামধন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পুরস্কার ও মূল্যায়ন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, তথ্যনিষ্ঠতা এবং লিখন শৈলী বিচার করে সেরা তিনজনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। বিজয়ীদের মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা যাদের মেধা ও শ্রম এই প্রতিযোগিতাকে সফল করেছে, সেই সকল কৃতি শিক্ষার্থীদের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম নিচে প্রকাশ করা হলো:   মিম খাতুন (কুষ্টিয়া হাই স্কুল) বিথী মুন্নি (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) ইশরাত জাহান মাহি (কুষ্টিয়া হাই স্কুল) জান্নাত আরা তন্নি (কুষ্টিয়া হাই স্কুল) কামরুন নাহার বুশরা (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) তাসিন আহাম্মেদ (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) কনক জাহান (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) মাইশা খাতুন (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) সুমাইয়া আক্তার (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) আমেনা শোভা (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) ইলমা খাতুন (আমলাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়) কবিতা খাতুন (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) মাহিনুজ্জামান মাহিন (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়)   প্রতিযোগিতা শেষে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন: “বঙ্গবন্ধু শিশুদের ভালোবাসতেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন সাংস্কৃতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক মুক্তি অপূর্ণ। আমরা গুরুকুলের পক্ষ থেকে সেই আদর্শকেই ধারণ করি। আজ যারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, তারাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবন ও ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই।” আয়োজনে: গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক গুরুকুল প্রতি বছরই জাতীয় দিবসসমূহকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এবারের আয়োজনে স্থানীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে #TeamSufiFaruq এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল গুরুকুল সাংস্কৃতিক কমিটি। সকল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীকে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হচ্ছে।

গুরুকুল আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৪-এ কম্পিউটারের দাপুটে জয়

আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন কম্পিউটার বিভাগ

উৎসবমুখর পরিবেশ আর টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো গুরুকুল স্পোর্টস ক্লাব আয়োজিত ‘আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৪’। টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনালে সিভিল বিভাগকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কম্পিউটার বিভাগ। মাঠজুড়ে ব্যাটে-বলের লড়াই আর গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের গগনবিদারী উল্লাসে মুখরিত ছিল পুরো টুর্নামেন্ট। আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৪   টুর্নামেন্টের চালচিত্র এবারের আসরে গুরুকুলের মোট ৬টি শক্তিশালী টেকনোলজি অংশগ্রহণ করে: ইলেকট্রিক্যাল সিভিল কম্পিউটার টেক্সটাইল মেকানিক্যাল নার্সিং প্রতিযোগিতামূলক গ্রুপ পর্ব ও সেমিফাইনাল শেষে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ফাইনালে মুখোমুখি হয় কম্পিউটার ও সিভিল বিভাগ। চূড়ান্ত লড়াইয়ে সিভিল বিভাগকে টেক্কা দিয়ে শিরোপা জয় করে নেয় কম্পিউটার বিভাগের অদম্য তরুণরা।   ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও পুরস্কারের তালিকা টুর্নামেন্ট জুড়ে অনন্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতে নিয়েছেন যারা: ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট: সাদাত রহমান (কম্পিউটার ৮ম পর্ব)। তাঁর ধারাবাহিক অলরাউন্ড নৈপুণ্য কম্পিউটার বিভাগকে শিরোপার পথে এগিয়ে নেয়। ম্যান অব দ্য ফাইনাল: আল-আমিন হিমেল (কম্পিউটার ৮ম পর্ব)। ফাইনাল ম্যাচে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং দলের জয় নিশ্চিত করে। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক: আল-আমিন হিমেল (কম্পিউটার ৮ম পর্ব)। সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক (যৌথভাবে): মোঃ সোহান হোসেন (সিভিল ৩য় পর্ব) ও মোঃ জয় আহমেদ (কম্পিউটার ৩য় পর্ব)। অতিথি ও আয়োজকবৃন্দ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জনাব মোহাঃ রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের সহকারী পরিচালক তানভির মেহেদী। এছাড়াও গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন। স্পোর্টস ক্লাবের লক্ষ্য গুরুকুল স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের কেবল পড়াশোনায় নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্ব ও দলগত কাজ করার মানসিকতা (Teamwork) গড়ে তোলে।

বাংলাদেশি নার্সিং শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানিতে চাকরির লক্ষ্যে B2 লেভেল জার্মান শেখার রোডম্যাপ

বাংলাদেশি নার্সিং শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানিতে চাকরি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের নার্সিং পেশাজীবীদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এখানে যোগ্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সঙ্গে রয়েছে ভালো বেতন, আধুনিক কর্মপরিবেশ এবং চমৎকার ক্যারিয়ারের সুযোগ। তবে, জার্মান স্বাস্থ্যসেবায় কাজ শুরু করার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হয়—জার্মান ভাষায় দক্ষতা। জার্মানিতে কাজ করতে ইচ্ছুক নার্সিং শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা শেখা শুধু কাগজপত্রের শর্ত নয়, বরং এটি পেশাগতভাবে অপরিহার্য। রোগীর সঙ্গে কথা বলা, সঠিকভাবে নথি তৈরি করা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দলগতভাবে কাজ করা—সবকিছুতেই ভাষা দক্ষতা জরুরি। জার্মান সরকার বিদেশি প্রশিক্ষিত নার্সদের জন্য CEFR মান অনুযায়ী অন্তত B2 লেভেল ভাষা দক্ষতা বাধ্যতামূলক করেছে, বিশেষ করে চিকিৎসা-সংক্রান্ত জার্মান দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই লেখায় জার্মানিতে চাকরি করতে ইচ্ছুক নার্সিং শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে এবং এরপর ধাপে ধাপে একটি রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে যা বিশেষভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি। এখানে শুরু থেকে (A1 লেভেল) উন্নত স্তর (B2 লেভেল) পর্যন্ত শেখার ধাপ, প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, আনুমানিক খরচ এবং সহজে জার্মান স্বাস্থ্যখাতে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু বাস্তব টিপস দেওয়া হয়েছে।   ধাপ ১: শর্ত বুঝে নেওয়া ভাষা প্রশিক্ষণ শুরু করার আগে নার্সিং শিক্ষার্থীদের স্পষ্টভাবে জানতে হবে— লক্ষ্য লেভেল: B2 CEFR (Common European Framework of Reference for Languages)। সার্টিফিকেট স্বীকৃতি: অবশ্যই অনুমোদিত পরীক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে (Goethe‑Institut, telc, TestDaF, ÖSD)। বিশেষায়ন: স্বাস্থ্যসেবামূলক ভাষা দক্ষতার জন্য telc Deutsch B2 Pflege সবচেয়ে ভালো। কর্তৃপক্ষের শর্ত: জার্মানিতে নিবন্ধিত নার্স হিসেবে কাজ করতে Berufsanerkennung (পেশাগত স্বীকৃতি) পেতে প্রয়োজন।   ধাপ ২: সময়সূচি সংক্ষেপে যাদের জার্মান ভাষার কোনো পূর্ব জ্ঞান নেই, তাদের জন্য সাধারণ প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা— পর্যায় লেভেল সময়কাল মূল বিষয় ফলাফল পর্যায় ১ A1 ২–৩ মাস বেসিক ব্যাকরণ, দৈনন্দিন শব্দভাণ্ডার, অভিবাদন, সংখ্যা, ছোট বাক্য নিজেকে পরিচয় দিতে, সাধারণ প্রশ্ন করতে ও সহজ উত্তর বুঝতে পারবেন পর্যায় ২ A2 ২–৩ মাস শব্দভাণ্ডার বাড়ানো, বেসিক কর্মক্ষেত্রের সংলাপ, ব্যাকরণ উন্নতি সাধারণ কাজ সামলাতে ও দৈনন্দিন পরিস্থিতিতে কথা বলতে পারবেন পর্যায় ৩ B1 ৩–৪ মাস মাঝারি স্তরের যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবার সাথে সম্পর্কিত বাক্য, লিখিত কাজ ঘটনা বর্ণনা, পরিচিত বিষয় আলোচনা, সহজ রিপোর্ট লেখা পর্যায় ৪ B2 ৪–৬ মাস উন্নত কর্মক্ষেত্রের যোগাযোগ, মেডিকেল জার্মান, নথি লেখা, রোলপ্লে জটিল মেডিকেল আলোচনা বুঝতে, বিস্তারিত রিপোর্ট লিখতে, আত্মবিশ্বাসের সাথে রোগী ও সহকর্মীদের সাথে কথা বলতে পারবেন মোট A1–B2 ১২–১৬ মাস সাধারণ + মেডিকেল জার্মান B2 সার্টিফিকেট পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা অর্জন করবেন   ধাপ ৩: প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ পথ অপশন ১: বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ (শুরুর ধাপ) Goethe‑Institut Bangladesh (ঢাকা): A1 থেকে B2 পর্যন্ত অফিসিয়াল জার্মান কোর্স। ওয়েবসাইট: https://www.goethe.de/ins/bd জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট): অনেক প্রাইভেট ইনস্টিটিউটে A1–B1 পর্যন্ত কোর্স হয়, যেমন Mentors’, Berlitz, Language Pro। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম: Deutsche Welle (অডিও/ভিডিও সহ ফ্রি জার্মান কোর্স) Lingoda (পেইড অনলাইন ইন্টারঅ্যাক্টিভ ক্লাস) italki (নেটিভ টিউটরের সাথে এক-এক সেশন) টিপস: জার্মানিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশেই A1–B1 শেষ করলে খরচ অনেক কম হবে।   অপশন ২: জার্মানিতে প্রশিক্ষণ (শেষ ধাপ) যদি বাজেট থাকে, তবে বাংলাদেশে A1–B1 শেষ করে জার্মানিতে গিয়ে B2 এবং মেডিকেল জার্মান শেখা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠান: telc অনুমোদিত ভাষা স্কুল Volkshochschule (VHS) কমিউনিটি কলেজ প্রাইভেট নার্সিং ল্যাঙ্গুয়েজ একাডেমি যেখানে Pflege‑সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ হয়   ধাপ ৪: বিশেষায়িত মেডিকেল জার্মান প্রশিক্ষণ B1 লেভেল শেষ হলে নার্সিং‑সংক্রান্ত বিশেষ ভাষা শেখা শুরু করুন— অ্যানাটমি ও ফিজিওলজি শব্দভাণ্ডার রোগী ভর্তি ও ছাড়পত্র সম্পর্কিত আলাপ রোগীর নথি ও শিফট রিপোর্ট লেখা জরুরি অবস্থায় যোগাযোগ প্রেসক্রিপশন ও ডাক্তারদের নোট বোঝা পছন্দের পরীক্ষা: telc Deutsch B2 Pflege   ধাপ ৫: আনুমানিক খরচ (বাংলাদেশ রুট) আইটেম আনুমানিক খরচ (BDT) A1–A2 কোর্স (Goethe/Private) ৩৫,০০০–৫০,০০০ প্রতি লেভেল B1 কোর্স ৪০,০০০–৬০,০০০ B2 কোর্স ৪৫,০০০–৬৫,০০০ পরীক্ষা ফি (telc/Goethe B2) ১৫,০০০–২০,০০০ মেডিকেল জার্মান বিশেষায়ন ২০,০০০–৪০,০০০ মোট ১,৫৫,০০০–২,৩৫,০০০ (প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন/অফলাইন অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হতে পারে)   ধাপ ৬: চূড়ান্ত সার্টিফিকেট ও আবেদন স্বীকৃত B2 পরীক্ষা দিন (বিশেষ করে telc Deutsch B2 Pflege)। সার্টিফিকেট ও নার্সিং যোগ্যতার কাগজপত্র German Landesprüfungsamt-এ জমা দিয়ে Berufsanerkennung (পেশাগত স্বীকৃতি) নিন। হাসপাতাল রিক্রুটমেন্ট প্রোগ্রাম, জার্মান নার্সিং এজেন্সি বা সরাসরি আবেদন করে চাকরি নিশ্চিত করুন।   ধাপ ৭: সফলতার জন্য অতিরিক্ত টিপস দৈনিক অনুশীলন: অন্তত ২ ঘণ্টা পড়াশোনা ও বন্ধুদের সাথে জার্মান ভাষায় কথা বলুন। ভাষার মধ্যে ডুবে থাকা: জার্মান টিভি শো (Tagesschau, Deutsch lernen mit Nachrichten) দেখুন, জার্মান পডকাস্ট শুনুন, ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ জার্মান গ্রুপে যোগ দিন। মক টেস্ট: নিয়মিত telc বা Goethe পরীক্ষার নমুনা প্রশ্ন সমাধান করুন। সংস্কৃতি শেখা: জার্মান স্বাস্থ্যসেবার সংস্কৃতি, সময়নিষ্ঠা ও কর্মক্ষেত্রের আচরণবিধি শিখুন।   বাংলাদেশি নার্সিং শিক্ষার্থীদের জন্য B2 লেভেলের জার্মান শেখা শুধু নিয়ম মেনে চাকরির যোগ্যতা অর্জনের জন্য নয়—এটি একটি স্থায়ী, ভালো বেতনের ক্যারিয়ারের দরজা খোলে। বাংলাদেশে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করে ধীরে ধীরে উন্নত ও মেডিকেল জার্মান শেখা এবং শেষ পর্যন্ত B2 সার্টিফিকেট অর্জন করলে পেশাগত স্বীকৃতি ও জার্মান স্বাস্থ্যখাতে চাকরি পাওয়া অনেক সহজ হয়।

নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান ২০২৪

নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান ২০২৪

গর্ব, আনন্দ ও আবেগঘন পরিবেশে গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, শনিবার গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো “নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান ২০২৪”। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান ২০২৪ অতিথিবৃন্দের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— গুরুকুল সিওও আজিজা আহমেদ গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল মো: মতিয়ার রহমান কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ স্মৃতি কণা হালদার টি.এস.বি. ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ-এর পরিচালক মো: সাকবার আলী এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং ১ম পর্বের শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করা হয়। অপরদিকে ৮ম পর্বের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত বেস্ট বয় ও বেস্ট গার্ল-কে ট্রফি প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে নার্সিং ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্যাপ পরিধান, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং শপথ বাক্য পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়, যা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বক্তব্য বক্তব্য রাখেন— টি.এস.বি. ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ-এর পরিচালক মো: সাকবার আলী কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ স্মৃতি কণা হালদার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ প্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন— গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর গুরুকুল সিওও আজিজা আহমেদ সহকারী পরিচালক তানভির মেহেদী প্রিন্সিপাল মো: মতিয়ার রহমান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গুরুকুল কালচারাল ক্লাব এবং ব্যান্ড “হিডেন” এর আয়োজনে পরিবেশিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন নৃত্য, সংগীত, নাটিকা ও কবিতা আবৃত্তি, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। গুরুকুলের এই আয়োজন শুধু নবীনদের প্রাণবন্ত সূচনা ও বিদায়ীদের আবেগঘন বিদায়ই নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একতা, প্রেরণা ও সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আরও দেখুন: গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী শিক্ষার্থীর বক্তব্য: স্মৃতি অম্লান, যাত্রা অনন্ত গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের নবীন শিক্ষার্থীর বক্তব্য : স্বপ্নের পথে নতুন যাত্রা ফটো গ্যালারী:               ফটো গ্যালারী: