আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১ম স্থান অধিকারি মোঃ মাহিনুজ্জামান মাহিন -এর লেখা

“ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব” নাম: মোঃ মাহিনুজ্জামান মাহিন স্কুলের নামঃ জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় গাংনী, মেহেরপুর। শ্রেণিঃ দশম রোলঃ ০১ “ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব” ভূমিকাঃ “বাঁচতে হলে যেমন আছে মৌলিক চাহিদা” তেমনি ক্যারিয়ারে সফল হতে প্রয়োজন “সংস্কৃতির ব্যপকতা” সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই আলোকিত মানুষ গড়া সম্ভব। আমাদের শেকড় সংস্কৃতি ছাড়া দেশের ইতিহাস পরিপূর্ণতা দাবি করতে পারে না। তাই অকৃত্রিম ও সকল ইতিহাসের মাতা আবহমান গ্রাম- বাংলার সংস্কৃতিকে জানা প্রয়োজন। প্রত্যেক এর ক্যারিয়ারে জয় পেতে হলে অবশ্যই সংস্কৃতি চর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জীবনবোধ থেকে ক্যারিয়ার ও সংস্কৃতির সংজ্ঞাঃ শালম স্কযার্টজ বলেছেন ” সংস্কৃতি মাঝে একটি সমাজের মানুষের মধ্যে প্রচলিত অর্থ, বিশ্বাস, অনুশীলন, প্রতীক,মান এবং মূল্যবোধের একটি সমৃদ্ধ জটিল “। অন্যকথাই সংস্কৃতি হলো সেই জটিল সামগ্রিকতা যাতে অন্তর্গত আছে জ্ঞান, বিশ্বাস, নৈতিকতা, শিল্প, আইন, রাজনীতি এবং সমাজের একজন সদস্য হিসেবে মানুষের দ্বারা অর্জিত সামর্থ্য শব্দটি এসেছে ” মারাঠা ” থেকে। জীবনোপায় বা ক্যারিয়ার বাংলা শব্দটি ইংরেজি ” Career” নামেই অধিক পরিচিত। জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে গৃহীত এই কোন না কোন পথটিই ঐ ব্যাক্তির জীবনোপায় বা Career (ক্যারিয়ার) বলে। সংস্কৃতির চর্চাঃ একটি দেশের ভবিষ্যৎ হলো সে দেশের তরুণ সমাজ একে নষ্ট করার অপকৌশল হলো উৎসাহিত করে বাস্তবে তা প্রয়োগ করা। সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে পারস্পরিক বিনিময় করার মাধ্যমে নতুন নতুন উপাদান সংগ্রহ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। তরুণরা চঞ্চল, তারা চায় সদা নতুনত্বের সাথেই চলতে। সংস্কৃতি মূলত একটি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। একটা জীবনবোধ বিনির্মানের কৌশল এ সংস্কৃতির দর্পণে তাকালে কোনো সমাজের মানুষের জীবনচরণ স্পষ্ট দেখা যায়। আধুনিক জীবন গঠনে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্বঃ বর্তমান যুগ আধুনিক যুগ, এ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। মানুষের বেঁচে থাকা, তার সমাজচেতনা, বিশ্বাস, ভাবনা, মূল্যবোধ ইত্যাদিসহ তার সামগ্রিক জীবনচেতনা প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতির মধ্য, এর মধ্য দিয়েই ব্যক্তি মানুষ অন্যদের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে। একটি আধুনিক ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ জাতি গঠনে যা নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, সংস্কৃতি শুধু বেঁচে থাকা নয় বরং আধুনিক জীবন গঠনে সাহায্যে করে। মানুষের বাস্তবতা সবসময় সংস্কৃতিযুক্ত ক্যারিয়ার নির্ভরঃ বাংলার নর আর নারী মিলি তবে গড়িয়াছে ক্যারিয়ার সেই সবই হলো বাংলায় আজ সংস্কৃতিতে পরিণত শতবছর আগে রুশ দেশে যে বিপ্লব হয়েছিলো সেটি সাংস্কৃতিকভাবে তুলে ধরা খুবই প্রয়োজনীয়। আমাদের জীবন এখন সংস্কৃতিনির্ভর হয়ে উঠেছে। সংস্কৃতির মধ্যে আমাদের আত্মপরিচয় আছে, জীবনাচার আছে, আচার-ব্যবহার আছে, সংস্কৃতিতে রয়েছে সবকিছু, রয়েছে আমাদের ক্যারিয়ার ও বাস্তবতা। ইতিহাস ও আধুনিকতায় সংস্কৃতিঃ ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে যে ঘটনায় শুধু সংস্কৃতি চর্চা করে মানুষ তার ক্যারিয়ারে সফল হয়েছে। এমনকি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচেছে। ঝড়ে জাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে রবিনশন ক্রুশো সাঁতরে গিয়ে উঠেছিলেন এক নির্জন দ্বীপে। তার কাছে কিছুই ছিল না, কিন্তু ভেতরে ছিল পুঁজিবাদী সংস্কৃতি। নির্জন দ্বীপে ২৩ বছর টিকে থেকেছেন, ফসলের চাষ করেছেন, ছাগলের খামার তৈরি করেছেন, তোতা পাখির সাথে কথা বলেছেন, অপেক্ষা করেছেন। সংস্কৃতির চর্চা না থাকলে সে মারা যেত, আধুনিকতায় এজন্য সংস্কৃতি দরকার। ক্যারিয়ারের সাথে সংস্কৃতি চর্চার সম্পর্কঃ বর্তমান যুগে আমরা যদি ক্যারিয়ারেসফল হতে চাই সংস্কৃতি চর্চার তাহলে বিকল্প নাই। কারণ সংস্কৃতির মাধ্যমে সকল বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে ধীরে ধীরে আমরা সাফল্য অর্জন করি। আমাদের ক্যারিয়ারের সাথে সংস্কৃতি চর্চা এজন্যই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল কৃষিপ্রধান দেশের শতকরা ৭০ জন লোকই ক্ষেতখামারে জীবিকা চালায়। তারা তাদের নিজ নিজ ক্যারিয়ার গঠনে সংস্কৃতি চর্চা করে এবং প্রয়োগ করে তারপর সাফল্য পায়, এদিক দিয়েই ক্যারিয়ারের সাথে সংস্কৃতি চর্চার সম্পর্ক। পারিবারিক জীবন থেকে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া পযর্ন্ত সংস্কৃতিচর্চার প্রভাবঃ সংস্কৃতি চর্চার প্রথম ধাপই হলো পরিবার। পরিবারের কাছ থেকেই মানুষ আনুষ্টানিকভাবে তার মাতৃভাষা ও নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কৃতি চর্চা করলেই কেবল ক্যারিয়ারে সফল হওয়া যাবে। যার প্রভাব পরিবার থেকে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া পযর্ন্ত রয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে স্মার্ট ক্যারিয়ারে সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজনীয়তাঃ “স্মার্ট দেশের স্মার্ট নাগরিক চাই ক্যারিয়ারে সফলতা বাড়ছে গুরুত্ব বাড়ছে চাহিদা তাই প্রয়োজন সংস্কৃতির চর্চা” আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ। স্মার্ট দেশ হয়ে গড়ে উঠতে আমাদের প্রয়োজন মানবসম্পদ। মানবসম্পদ সম্পূর্ণ করতে আবার প্রয়োজন প্রত্যেকের ক্যারিয়ারে সাফল্য। ক্যরিয়ারে সফল হতে হলে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের অবশ্যই শিক্ষাপ্রতিষ্টানে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তবেই স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে ক্যারিয়ারে সফল হতে পারব। ক্যরিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্বঃ একটি দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো সে দেশের আগামী প্রজন্ম। এই প্রক্ষাপটে আমাদের দেশের আগামী প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক মূলধারায় আনা প্রয়োজন। মানবজীবনের প্রত্যেকটি ধাপে সংস্কৃত চর্চা করলেই কেবলমাত্র ক্যারিয়ারে সফল হতে পারব। এজন্য ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃত চর্চার গুরুত্বের প্রতি প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। প্রত্যেক মানবজীবনের ধাপে ক্যারিয়ারে সংস্কৃতির প্রভাবঃ আমাদের মানবজীবনের প্রত্যেক ধাপে ধাপে সংস্কৃতির চর্চা রাখতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন কারিকুলামে এই চর্চার অনেক গুরুত্ব রয়েছে । প্রত্যেকটি বিষয়ে এখন সংস্কৃতি চলে এসেছে। যার ফলে আমরা যদি এর চর্চা করতে পারি তাহলেই কিন্তু ক্যারিয়ারে সফল হতে পারব। বিভিন্ন দেশের মানুষের ক্যারিয়ারকে সফল করতে সংস্কৃতির অবদানঃ উন্নত দেশ জাপান, সিঙ্গাপুর, সুইডেন প্রভৃতি দেশের মানুষদের মতে তারা সংস্কৃতি চর্চা করেছে বলেই আজ তারা সফল। আর যারা এর চর্চা করেনি তারা সাফল্য পাননি। প্রত্যেক উন্নত দেশের মানুষের ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার পেছনে রয়েছে সংস্কৃতি চর্চা তেমনি আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে মাথা উচু করে দাঁড় করাতে সংস্কৃতি চর্চা জরুরি।তাই বলা যায় যে, ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব অনেক। উপসংহারঃ প্রবাদে আছে, “Time and Tide wait for none”অথাৎ “সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না”। আমাদের দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে সময় যেমন যাচ্ছে, তেমনি ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চাও সময় ও স্রোতের মতোই চলে যাচ্ছে। সংস্কৃতিবিহীন ক্যারিয়ার এখন মাঝিবিহীন নৌকার মতো। তাই প্রদত্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। “ক্যারিয়ারে সফল হলে যেখানেই যাবেন সংস্কৃতি চর্চার জন্য স্বীকৃতি পাবেন”।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২৪ উপলক্ষে গুরুকুলের আয়োজনে আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ফলাফল

গত ১৭ মার্চ ২০২৪, মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতা। এবারের বিষয় ছিল: “ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব”। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও সাংস্কৃতিক বোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্বনামধন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পুরস্কার ও মূল্যায়ন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, তথ্যনিষ্ঠতা এবং লিখন শৈলী বিচার করে সেরা তিনজনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। বিজয়ীদের মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা যাদের মেধা ও শ্রম এই প্রতিযোগিতাকে সফল করেছে, সেই সকল কৃতি শিক্ষার্থীদের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম নিচে প্রকাশ করা হলো: মিম খাতুন (কুষ্টিয়া হাই স্কুল) বিথী মুন্নি (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) ইশরাত জাহান মাহি (কুষ্টিয়া হাই স্কুল) জান্নাত আরা তন্নি (কুষ্টিয়া হাই স্কুল) কামরুন নাহার বুশরা (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) তাসিন আহাম্মেদ (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) কনক জাহান (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) মাইশা খাতুন (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) সুমাইয়া আক্তার (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) আমেনা শোভা (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) ইলমা খাতুন (আমলাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়) কবিতা খাতুন (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) মাহিনুজ্জামান মাহিন (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) প্রতিযোগিতা শেষে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন: “বঙ্গবন্ধু শিশুদের ভালোবাসতেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন সাংস্কৃতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক মুক্তি অপূর্ণ। আমরা গুরুকুলের পক্ষ থেকে সেই আদর্শকেই ধারণ করি। আজ যারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, তারাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবন ও ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই।” আয়োজনে: গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক গুরুকুল প্রতি বছরই জাতীয় দিবসসমূহকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এবারের আয়োজনে স্থানীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে #TeamSufiFaruq এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল গুরুকুল সাংস্কৃতিক কমিটি। সকল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীকে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হচ্ছে।
ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রম প্রবিধান-২০২২
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রণীত ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রম প্রবিধান-২০২২ প্রকাশ করা হয়েছে। আগের তুলনায় প্রধান পরিবর্তনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: এই প্রবিধানটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন-২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ২৮ এর ক্ষমতাবলে প্রণয়ন করা হয়েছে । এটি ০৪ (চার) বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের জন্য প্রযোজ্য, যা মোট ০৮ (আট) টি পর্বে (Semester) সম্পন্ন হয় । প্রবিধানটি ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর করা হয়েছে । এই শিক্ষাক্রমের প্রধান লক্ষ্য হলো শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও কোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে দক্ষ করে তোলা । প্রধান পরিবর্তন ও বৈশিষ্ট্যসমূহ পূর্ববর্তী প্রবিধানগুলোর তুলনায় ২০২২ প্রবিধানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে: ক্রেডিট বিন্যাস: মোট ক্রেডিট ১৫০-১৬০ এর মধ্যে নির্ধারিত করা হয়েছে । এর মধ্যে কোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের জন্য ৫৮-৬০% এবং সোশ্যাল স্কিলের জন্য ১০-১৫% ক্রেডিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে । শিখন ঘণ্টার অনুপাত: তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অংশের শ্রেণীকক্ষের মোট শিখন ঘণ্টার অনুপাত ৪০:৬০ নির্ধারণ করা হয়েছে । GPA ওয়েটেজ (Weightage): চূড়ান্ত ফলাফল বা CGPA নির্ধারণে প্রতিটি পর্বের GPA-এর গুরুত্ব (Weightage) সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে: ১ম ও ২য় পর্ব: ৫% করে । ৩য় ও ৪র্থ পর্ব: ১০% করে । ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্ব: ২০% করে । ৮ম পর্ব (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং): ১০% । ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং: ৮ম পর্বের মোট ১৬ সপ্তাহের মধ্যে ১২ সপ্তাহ সংশ্লিষ্ট শিল্প কারখানায় এবং ৪ সপ্তাহ স্ব স্ব ইনস্টিটিউটে সম্পন্ন করতে হবে । এটি ১২ ক্রেডিটের একটি ব্যবহারিক বিষয় হিসেবে গণ্য হবে । পাস নম্বর ও গ্রেডিং: তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় অংশে পৃথকভাবে ন্যূনতম ৪০% নম্বর (D গ্রেড) পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে । তবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম C+ গ্রেড বা ৫০% নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক । উপস্থিতির হার: পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম ৮০% ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান সর্বোচ্চ ১০% অনুপস্থিতি মওকুফ করতে পারেন । রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ: ১ম পর্বে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের মেয়াদ হবে ৮ শিক্ষাবর্ষ । বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে, তবে এই সুযোগ মাত্র একবারই পাওয়া যাবে । ভর্তির সুযোগ: এইচএসসি (বিজ্ঞান) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ৩য় পর্বে এবং এইচএসসি (ভোকেশনাল) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস্টার পদ্ধতিতে ৪র্থ পর্বে সরাসরি ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন । মানোন্নয়ন পরীক্ষা: CGPA প্রাপ্তির পর কোনো শিক্ষার্থী চাইলে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্বের পঠিত বিষয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ০৬টি তাত্ত্বিক বিষয়ে একবার মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন । প্রবিধানটি ডাউনলোড করুন : ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবিধান-২০২২
পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (১৯৬৪): সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত ও পর্যালোচনা
পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (১৯৬৪): সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত ও পর্যালোচনা – সজীব কুমার বণিক ও খালেদা চৌধুরী । The aim of this paper is to explore the interrelationship between the East Pakistan riot of 1964 and the growth of Bengali nationalism. The 1964 East Pakistan riot refers to the massacre of Bengali Hindus and some of the cases Bengali Muslims by the Pakistani Bihari in the wake of and alleged theft of what was believed to be the profhet’s hair from the Hazratbal shrine in Jammu and Kashmir. But the main effect of this riot is the growth of Bengali nationalism which led the East Pakistan to the liberation war of 1971. The language movement of 1952 of the then East Bengal can be depicted as the rising period of language based on Bengali nationalism against the Muslim religion based Pakistani nationalism. This Bengali nationalism had been flourished by the mass uprising of Bengali people against the Pakistani Bihari massacre and ethnic cleansing of Bengali Hindus in 1964. Progressive minded Bengali Political leaders, Journalists, Cultural Activists such as Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, Ataur Rahman Khan, Tofazzal Hossain, Abdus Samad, Sufia Kamal and so on stood against the Bihari rioters. Students and general people of East Pakistan did the same. This all created a sense of Bengali nationalism, on the basis of this nationalism Bangladesh becomes independent in 1971. বাংলাদেশ পৃথিবীতে সম্ভবতঃ একমাত্র দেশ যা দু’বার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। ১৯৪৭ সালে প্রথম ব্রিটিশ ভারত থেকে স্বাধীনতার পর যে অবিভক্ত পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল তাকে পুনরায় বিভক্ত করে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ভাগ্য বিপর্যয়ের পর বাংলা প্রায় দুই শতাব্দীব্যাপী ব্রিটিশ পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হয়। এই দুইশত বছরের ব্রিটিশপনিবেশিকঔ শাসনের অধীনে বাংলা কেবল অর্থনৈতিকভাবে শোষিত বা নিপীড়িত হয়েছে তাই নয় ব্রিটিশরা তাদের ভাগ কর ও শাসন কর নামক কূটনীতির দ্বারা বাংলার আবহমান কাল ধরে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সেদ্ধহার্দ্যকে বিনষ্ট করে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন এলিট শ্রেণিপূর্বতন ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং পূর্ব পাকিস্তানকে একটি উপনিবেশ হিসেবে বিবেচনা করে শাসন পরিচালনা করে। আর এখানে যাতে বাঙালিদের মধ্যে কখনো জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটতে না পারে এবং দীর্ঘদিন এ অঞ্চলকে যাতে শাসন ও শোষণ করা যায় সেজন্য বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক ঐক্য বিনষ্ট করার লক্ষ্যে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূচনা ঘটায়। মূলত ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি তথা পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে বিভিন্ন সময় -দাহাঙ্গামা সংঘটিত হতে থাকে। এর মধ্যে ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সরকারেরউস্কানিতে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয় বলে ধারণা করা হয়। ১/ আরও মনে করা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আইয়ুব খান অত্যন্ত কেদ্ধশলী পন্থায় প্রদেশের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে গভর্ণর মোনায়েম খানের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানেই ঘটেছিল। ২/ প্রকৃতপক্ষে ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয় তা দাঙ্গার ব্যাপকতা ও প্রসারতার কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ দাঙ্গা প্রথমে হিন্দু-মুসলমান, পরে বাঙালি-বিহারিতে রুপান্তরিত হয়।৩ এ দাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যালঘু বাঙালি হিন্দু সাম্প্রদায় যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসময় পার্শ্ববর্তী ভারতেদেশ শরণার্থী হিসেবে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং ১৯৬৪ সালের পর হিন্দুদের দেশত্যাগ অব্যাহত থাকে। ১৯৬৪ সালে যে ঘটনার পরিপে‘ক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয় তার উৎস পূর্ব পাকিস্তান নয় বরং ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর। তৎকালীন করাচি হতে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক‘“DAWN”’ পত্রিকাতে ১৯৬৪ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাঙ্গার উৎস সম্পর্কে কিছুটা তথ্য পাওয়া যায়। প্রথম দাঙ্গার সূত্রপাত হয় ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তর্গত হজরতবাল মসজিদে সংরক্ষিত হযরত মুহাম্মদ (স.) এর পবিত্র কেশ অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনার পরিপে‘ক্ষিতে ভারতে বিশেষ করে পশ্চিম বাংলার কলকাতার পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তানেও সরকারি মদদে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। ‘ “DAWN”’ পত্রিকাতে প্রকাশিত সংবাদ হতে জানা যায় যে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতানুযায়ী ১৯৬৩ সালের-২৭২৬ ডিসেম্বর রাতে হজরতবাল সজিদম হতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর পবিত্র কেশ চুরি হয়। কিন্তু‘“DAWN”’ পত্রিকার ভাষ্য মতে, এ চুল চুরি হয় পূর্ববর্তী -রাত্রি৫টার৩মধ্যে। ২৬-২৭ ডিসেম্বর রাতে চুরি হওয়া অসম্ভব কেননা সেদিন বৃহস্পতিবার রাত হওয়ায় অসংখ্য ভক্তরা সজিদম প্রাঙ্গনে সমবেত ছিল। কিন্তু এটি পূর্ববর্তী রাতে চুরি করা খুবই সহজ। প্রত্যক্ষদর্শী এক গোয়ালার সাক্ষ্য ঐ রাতে অনুযায়ী ৭ জন দুর্বৃত্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়িতে মসজিদে আসে এবং মহানবীর চুল অপসারনের পর তারা গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের মধ্যে কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাধারন সম্পাদক বখশী আব্দুর রশীদ উপস্থিত ছিল। যখন এই পবিত্র স্মৃতি চুরি হবার সংবাদ বাইরে ছড়িয়ে পড়ে তখন হাজার হাজার মুসলমান এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। ২৮ ডিসেম্বর কাশ্মীরে প্রায় ২ লক্ষ জনতা হাতে কালো ও সবুজ রংয়ের পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা যখন লাল চকের [ Lal Chowk ] দিকে অগ্রসর হচ্ছিল তখন নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা ধেয় এবং গুলিবর্ষণ করে। ফলে মুহূর্তেরমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ পর্যায়ে কাশ্মীরের স্টেট কংগ্রেস এর সভাপতি শফি কোরেশী, পলিটিক্যাল কনফারেন্স এর সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন কারা এবং গণভোট ফ্রন্টের মোজাহিদ ঘটনাস্থলে পেদ্ধঁছে বিক্ষোভকারীদের শান্ততে হও জামিয়া মসজিদে চলে যেতে রাজি করাতে সক্ষম হয়। এসময় হঠাৎ করেই ন্যাশনাল কনফারেন্স এর সেক্রেটারী বখশী আব্দুর রশীদ ও শ্রীনগর ন্যাশনাল কনফারেন্স এর সভাপতি আম্মা সূফী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় বখশী আব্দুর রশীদ চিৎকার করে জনতার উদ্দেশ্য বলেন যে, ’তোমরা চিৎকার চেঁচামেচি কেন করছো? তোমাদের বাড়িতে কি খাবারের অভাব পড়েছে। চলে যাও। এটা তোমাদের চিন্তার বিষয় না। খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব। যেভাবে এটা অদৃশ্য হয়ে গেছে সেভাবেই এটার পুনরাবির্র্ভাব ঘটবে। “বখশী রশীদের এই উদ্ধত আচরণ জনতাকে আরও বিক্ষুব্ধ করে তুলে ও তারা রশীদকে ধাওয়া করার পাশাপাশি ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। এসময় আরেকটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, আব্দুর রশীদ পালিয়ে কোথি বাগ(Kothi Bagh) পুলিশ স্টেশনে লুকিয়ে আছে। এসময় জনতা পুলিশ স্টেশন ঘেরাও করলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে এবং এতে ৩ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হয়। এ ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দলীয় নেতাদেরফতারগ্রেকরে। ফলে শ্রীনগর ও অন্যান্য শহরে ব্যাপক বিক্ষোভের সূচনা হয়।৪ এদিকে ১৯৬৪ সালের ৪ জানুয়ারি কাশ্মীরের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শামসুদ্দীন ঘোষণা করেন যে, হজরতবাল হতে অপহৃত রসুলুল্লাহর পবিত্র কেশ উদ্ধার করা গিয়েছে।৫ কিন্তু তা সত্বেও জনরোষ সম্পূর্ণ প্রশমিত হয়নি এবং অনেকে এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।৬ ভারতের শ্রীনগরে অবস্থিত হজরতবাল মসজিদ থেকে মুহম্মদের পবিত্র স্মৃতি অপহরণে বিষয় নিয়ে যখন জম্মু ও কাশ্মীরে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলমান তখন পূর্ব পাকিস্তানেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এসময় পূর্ব পাকিস্তান ইসলামিক বোর্ডের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল হাই পূর্ব পাকিস্তানে ওহিন্দুঅ-মুসলিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা
আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০১৭ [ International Youth Day 2017 ] শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজ
শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারুণ্য (Youth Building Peace)- শিরোনামে সময়োযোগী ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০১৭ উদযাপিত হচ্ছে। ইতিহাসের মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শান্তিপূর্ণ বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি কী হবে না ঠিক করে দেন ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কারো সাথে শত্রুতা নয়। এই অসাধারণ অঙ্গিকার থেকেই আমরা জাতির জনকের শান্তির প্রতি একনিষ্ঠ আগ্রহের ও অবিচলতার পরিচয় পাই। তরুণ বয়সেও জাতির জনকের রাজনৈতিক আদর্শে সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা, বর্ণবাদবিরোধিতা, বর্ণবাদবিরোধিতা ও শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার পরিচয় পাওয়া যায় যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০১৭ সালের আন্তর্জাতিক যুব দিবসের প্রতিপাদ্যের সাথে আমাদের রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি যা জাতির জনকের দেখানো স্বপ্ন তার সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো দিক নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ বিশ্ব শাস্তি সমুন্নত রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যুব দিবসের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতার একটি বিশেষ দিক হচ্ছে জাতি সংঘের শান্তি কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের শক্তিশালী উপস্থিতি। এ যাবৎকালে জাতিসংঘের শান্তি মিশনগুলোর মধ্যে ৭০টির মধ্যে ৫৪টিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ, বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ১,৪১,৭২৬ জন সেনা সদস্য বিশ্ব শান্তি রক্ষার কাজে জাতিসংঘ মিশনে গিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ব শান্তি রক্ষার কাজে নিয়োজিত জাতিসংঘের মিশনে অবদান রাখার তালিকায় বাংলাদেশ ৪র্থ বৃহত্তম কন্টিনজেন্ট প্রেরণকারী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। যুব দিবস ২০১৭ এর পটভূমি : ৯ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত ২২৫০ নং প্রস্তাবে এটি স্বীকার করে নেয়া হয় যে তারুণ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে ও উত্তরোত্তর তা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই সিদ্ধান্তে আরো বলা হয় যে নিরাপত্তা ও শান্তি রাখতে ও উত্তরোত্তর তা বৃদ্ধি করতে যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয় তার পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে অংশগ্রহণ, সুরক্ষা, নিবারণ, অংশীদারিত্ব ও বিচ্ছিন্নকরণ এবং পুনর্বাসন। এই প্রস্তাবে সকল সদস্য রাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানানো হয় যেন তারুণ্যকে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সাথে আরো জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করা হয় এবং বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে তারণ্যকে শান্তি প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। বিশ্বায়নের এই সময়ে নিরাপত্তা পরিষদের এই সিদ্ধান্তটি একটি মাইলফলক কেননা আমরা দেখছি বস্তুগত উৎকর্ষ সাধন করতে গিয়ে আমরা শাস্তিকে অন্যান্য ধারণার মত গুরুত্ব দেইনি এবং এখানে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ হিসেবে তারুণ্যের অবদানকে স্বীকার করিনি। এই স্বীকৃতি তাই ঐতিহাসিক ২২৫০ নং প্রস্তাবকে উদ্ধৃত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ২০১৬ সালে আরো একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ যেখানে জাতিসংঘের ‘পিস বিল্ডিং’ কাঠামোর পুনর্বিবেচনা প্রসঙ্গে তারুণ্যের ভূমিকাটিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিরাপত্তা পরিষদে নেয়া ২২৮২ নং প্রস্তাবে বলা হয় সংঘাত নিবারণ ও সমাধানে তারুণ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে যা টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সফল পিস বিল্ডিং ও পিস-কিপিং প্রচেষ্টার কেন্দ্রে। এই প্রস্তাবেও সকল সদস্য রাষ্ট্রের কাছে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আবেদন জানানো হয়। শান্তির ধারণাঃ পজিটিভ ও নেগেটিভ পিস : মানব সভ্যতার ইতিহাসে যেসব মানবীয় গুণাবলীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এদের মধ্যে শাস্তি অন্যতম। তবে অন্যান্য মানবসৃষ্ট ধারণার মতই এই ধারণাটিরও একটি সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞায় একমত হওয়া দুস্কর। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে শান্তির ধারণা বিভিন্ন। বোঝাপড়ার বৈচিত্রতার কারণে শাস্তির ধারণাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠী বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে। সাদামাটাভাবে বলতে গেলে শাস্তি হলো অনৈক্য, সহিংসতা ও যুদ্ধের অনুপস্থিতি হিসেবে দেখলে তা খুবই সংকীর্ণ হয়। অ্যালবার্ট আইন্সটাইন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “শাস্তি শুধু যুদ্ধের অনুপস্থিতিই নয় বরং ন্যায়বিচার, আইন, শৃঙ্খলার উপস্থিতি, অল্প কথায় বললে সরকারের অস্তিত্ব থাকাটাই শান্তি”। শুধু যুদ্ধের অনুপস্থিতিতিই শাস্তি নয়, শাস্তির ধারণা আরো বৃহৎ সর্বব্যাপী ও বহুমাত্রিক। প্রসঙ্গত শান্তির ধারণা দুভাবে দেখা হয়, পজিটিভ পিস ও নেগেটিভ পিস। এই শব্দদ্বয়ের ধারণা প্রথমে দেন শাস্তি গবেষণার অন্যতম পুরোধা ইয়োহান গালটুং ১৯৬৪ সালে জার্নাল অব পিস রিসোর্সের প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে। পজিটিভ ও নেগেটিভ পিসের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি ১৯৫০ এর দশকের সময়ে তৈরি হয় যখন শান্তি-গবেষণার বিষয়টি কেন্দ্রীয় মনোযোগ ছিল সরাসরি সহিংসতার দিকে, বা আক্রমণ এবং যুদ্ধের মত ধারণার দিকে বেশি। শাস্তি গবেষণার বিষ্ণুটি তখন উত্তর আমেরিকানদের দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত ছিল। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গালটুং ১৯৬০ এর দশকে শান্তি ও সহিং সতার ধারণাকে বিস্তৃত করেন এবং এদের সাথে পরোক্ষ বা কাঠামোগত সহিংসতার কথা যুক্ত করেন। গালটুং এর এই অবদান তখনকার শান্তির ধারণা বলতে যা বুঝানো হতো তাকে ভিন্নভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করে দেয়। সহিংসতার এই পরিবর্ধিত সংজ্ঞার ফলে মুদ্রার অপর পিঠে আমরা শান্তির পরিবর্ধিত সংজ্ঞা পাই। গালটুং এর মতে নেগেটিভ পিস হলো, “সহিংসতার বা যুদ্ধের অনুপস্থিতি”, এবং পজিটিভ পিস হলো “মানব সমাজের সংহতি”। শান্তি ও সংঘর্ষ গবেষণায় মাহাত্মা গান্ধির অবদানও উল্লেখযোগ্য। গান্ধির মতে সত্য ও স্থায়ী শান্তি তখনই আসবে যখন সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। গান্ধির শান্তি ও অহিংসতার সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে ন্যায় বিচার, উন্নয়ন ও পরিবেশের। ১৯০৯ সালে লেখা গান্ধির থেকে জানা যায় উন্নয়নের আধুনিক মডেলগুলো সহজাতভাবে সহিংস। শান্তির ধারণায় গান্ধির অবদান সবচেয়ে বেশি অহিংস ধারণার উপর বিস্তৃত কাজের কারণে এবং সর্বপ্রথম অহিংস নীতিকে ব্যক্তিকেন্দ্রকতা থেকে সমাজ কেন্দ্রিকতা ও রাজনৈতিক দর্শনে উঠিয়ে নিয়ে আসার জন্য। গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০১৭ মতে পজিটিভ পিসের স্তরসমূহ নিম্নরূপঃ উন্নত মানব সম্পদ গঠন প্রতিবেশির সাথে সুসম্পর্ক অন্যের অধিকারকে সম্মান করা দুর্নীতির মাত্রা কমিয়ে আনা তথ্যের অবাদ প্রবাহ ব্যবসার উন্নত পরিবেশ কার্যকরি সরকারের উপস্থিতি সম্পদের সুষম বণ্টন পজিটিভ পিসের ধারনাটি যুদ্ধ, সংঘাত, অন্যায়ের মূল কারণগুলো দূল করার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত এবং এর সাথে সাথে সচেতনভাবে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার প্রত্যয়ের সাথে সম্পর্কিত যেখানে এই প্রতিশ্রুতিগুলো প্রতিফলিত হয়। পজিটিভ পিস সকল সজিব সত্তার সাথে সংযোগের কথা বলে। শাস্তি তখনই আসবে যখন মানুষ তাদের মধ্যে বিরাজমান সংঘাতকে অহিংস উপায়ে সমাধান করার এবং একসাথে কাজ করে তাদের সম্মিলিত জীবণযাত্রার মান বৃদ্ধি করার পথ তৈরি করবে। এই লক্ষ্যে তারুণ্যের শক্তি সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কেন শান্তি অপরিহার্য : শাস্তি সহজাত, এটি একটি স্বাভাবিক অবস্থাকে প্রকাশ করে, সংঘাত নয়। শাস্তি তাই অপরিহার্য, তবে এটি অর্জন করা দুস্কর। তিনটি কারণে শান্তি অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা যায়। প্রথমত, আমরা জানি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত আজকাল নিজ নিজ সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, এগুলোর সুদূরপ্রসারী ও গভীর প্রভাব অন্য অঞ্চলেও পড়ে। উন্নত বিশ্ব সম্প্রতি যে শরণার্থী সমস্যার সম্মুখীন তার মূলে রয়েছে শরণার্থীদের নিজ ভূমে যুদ্ধ, সহিংস সংঘাত ও অনিরাপত্তা। জাতিসংঘের ইউএন এইচসিআর এর অনুমান মতে ২২.৫ মিলিয়ন মানুষ আজ শরণার্থী যাদের অর্ধেকের বয়স ১৮ বছরের নীচে। শুধু মানবিক নয় যুদ্ধ, সহিংস সংঘাতের আর্থিক ক্ষতিটিও পর্বতসম গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে ১৪.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বায় হয়েছে যুদ্ধের কারণে সামরিক খাতে, যা বিশ্বের মোট জিডিপির ১২.৬ শতাংশ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই আফগানিস্তান, ইরাকের যুদ্ধে ৪.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ যুদ্ধ, সহিংসত সংঘাতে মূলে রয়েছে অসাম্য, অন্যায় ও বঞ্চনা। অক্সফোভের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের আটজন শীর্ষ ধনীর কাছে যতটুকু সম্পদ রয়েছে তা বিশ্বের
গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের নবীন শিক্ষার্থীর বক্তব্য : স্বপ্নের পথে নতুন যাত্রা

গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের মাহেন্দ্রক্ষণে একজন নবীন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একটি বক্তব্য পরবর্তি শিক্ষার্থীদের জণ্য আপলোড করে রাখা হলো: গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের নবীন শিক্ষার্থীর বক্তব্য সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন। আজ আমরা যারা নবীন হিসেবে গুরুকুলের এই পবিত্র আঙিনায় পা রেখেছি, আমাদের বরণ করে নেওয়ার যে উষ্ণ ও আন্তরিক আয়োজন আপনারা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। একই সাথে আজ আমাদের সেই বড় ভাই-বোনদের বিদায় অনুষ্ঠান, যারা এই চেনা প্রাঙ্গণে দীর্ঘ সময় পথ চলে আজ বৃহত্তর জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছেন। আপনাদের সবার সামনে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত গর্বিত বোধ করছি। সুধীজন, আমরা যারা আজ নতুন হিসেবে এখানে যুক্ত হলাম, আমাদের সামনে রয়েছে এক অবারিত সুযোগ। গুরুকুল কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি আধুনিক জ্ঞানপীঠ। আমাদের ক্যাম্পাস, অডিটোরিয়াম, ল্যাব ও গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের যে বিশাল ডিজিটাল ভাণ্ডার এবং কারিগরি শিক্ষার সুযোগ রয়েছে, আমাদের লক্ষ্য থাকবে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আমরা হতে চাই আধুনিক, দক্ষ এবং অনুসন্ধিৎসু—যারা কেবল ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়, বরং বিশ্বকে জয় করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে। প্রিয় বিদায়ী বড় ভাই ও বোনেরা, আপনাদের বিদায় বেলায় আমাদের মন কিছুটা ভারাক্রান্ত হলেও, আপনাদের ফেলে যাওয়া স্মৃতি আর সাফল্য আমাদের সাহস জোগাবে। আপনারা যেভাবে এই ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখেছেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আপনাদের সেই ধারাকে আমরা আরও গর্বের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাব। আপনারা কর্মজীবনের যে নতুন পৃথিবীতে পা রাখছেন, সেখানে আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সফল হোক, এই কামনাই করি। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, আপনাদের প্রতি আমাদের বিনীত প্রত্যাশা যে, আপনারা আমাদের কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পৃথিবীর জন্য একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। আমরা গুরুকুলের বাইরে থেকে সবসময়ই শুনে এসেছি যে, এখানে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিতর্ক, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা কিংবা স্কাউটিংয়ের মতো কার্যক্রমগুলোর মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী জীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করে এবং মানসিকভাবে সুগঠিত হয়ে ওঠে। তাই আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনারা যেন নিয়মিতভাবে এই সৃজনশীল কার্যক্রমগুলো পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, যাতে আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি এবং জীবনমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাই। আপনারা আমাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকলে আমরা বিশ্বাস করি, গুরুকুলের প্রতিটি শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনের যেকোনো লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার শক্তি লাভ করবে। শ্রদ্ধেয় উপস্থিতি, বক্তৃতার এই পর্যায়ে আমি আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর স্যার সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। এই প্রতিষ্ঠানে আসার আগে থেকেই স্যারের সম্পর্কে আমরা অনেক শুনেছি। তাঁর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও গঠনমূলক লেখালেখি সম্পর্কে জেনেছি। বিশেষ করে স্যারের ভিডিওগুলো দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাঁর জীবনদর্শন এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য তাঁর দিকনির্দেশনা আমাদের মতো নবীনদের মনে এক গভীর কৌতূহল ও শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করেছে। আমাদের স্বপ্ন ও প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে যে, আগামী দিনগুলোতে আমাদের এই ক্যাম্পাস জীবনে আমরা স্যারের মূল্যবান সান্নিধ্য পাবো এবং তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে সরাসরি শিক্ষা নিয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। উপসংহার: পরিশেষে বলতে চাই, আজ আমাদের স্বপ্নের ডানা মেলার দিন। আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দের হাত ধরে আমরা যেন এই গুরুকুলের আলোকবর্তিকা হয়ে আগামীর বাংলাদেশকে আরও সুন্দর করে গড়তে পারি। আমাদের যাত্রা যেন হয় ন্যায়, সত্য এবং সুন্দরের পথে। ধন্যবাদ জানাই সবাইকে এই চমৎকার আয়োজনের জন্য এবং আমাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য। জয় বাংলা, জয় গুরুকুল, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। আরও দেখুন: গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী শিক্ষার্থীর বক্তব্য: স্মৃতি অম্লান, যাত্রা অনন্ত
গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী শিক্ষার্থীর বক্তব্য: স্মৃতি অম্লান, যাত্রা অনন্ত

গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের মাহেন্দ্রক্ষণে একজন বিদায়ী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একটি বক্তব্য পরবর্তি শিক্ষার্থীদের জণ্য আপলোড করে রাখা হলো: নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী শিক্ষার্থীর বক্তব্য সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের দিনটি আমাদের জন্য এক মিশ্র অনুভূতির। একদিকে আমাদের ছোট ভাই-বোনদের বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে আমাদের বিদায়ের করুণ সুর। বিদায় মানেই শেষ নয়, বরং বিদায় হলো এক নতুন দিগন্তের পথে যাত্রার শুরু। তবুও, এই ক্যাম্পাস, এই প্রিয় মুখগুলো আর এই চেনা আঙিনা ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তটি অত্যন্ত ভারী হয়ে উঠেছে। সুধীজন, আজ থেকে কয়েক বছর আগে আমরা যখন ঠিক আপনাদের মতো নবীন হিসেবে এই গুরুকুলের দুয়ারে পা রেখেছিলাম, তখন আমাদের চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন আর মনে ছিল এক অজানা শঙ্কা। কিন্তু গুরুকুল আমাদের কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি পরিবার হিসেবে আগলে রেখেছে। এখানকার শিক্ষকরা আমাদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেননি, বরং শিখিয়েছেন কীভাবে একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়। প্রিয় নবীন বন্ধু ও ছোট ভাই-বোনেরা, আজ আপনাদের যাত্রা শুরু হলো। আপনারা এমন এক প্রতিষ্ঠানে এসেছেন যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি আর নৈতিক শিক্ষার এক অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারকে আপনারা কাজে লাগাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মনে রাখবেন, সময় অত্যন্ত মূল্যবান। প্রতিটি দিনকে কাজে লাগান, কৌতূহলী হোন এবং অজানাকে জানার নেশায় মত্ত থাকুন। আজ আমরা যে জায়গাটি আপনাদের জন্য খালি করে যাচ্ছি, আপনারা আপনাদের মেধা আর সৃজনশীলতা দিয়ে সেই জায়গাটি আরও উজ্জ্বল করে তুলবেন। প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ ও গুরুকুল কর্তৃপক্ষ, আপনাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমাদের ভুলগুলোকে আপনারা পরম মমতায় শুধরে দিয়েছেন। জীবনের কঠিন পিচ্ছিল পথে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয়, সেই দীক্ষা আমরা আপনাদের কাছ থেকেই পেয়েছি। আজ আমরা যেটুকু অর্জন করেছি, তার সিংহভাগই আপনাদের ত্যাগ আর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। আপনাদের শেখানো আদর্শকে আমরা আমাদের হৃদয়ে লালন করব সারাজীবন। সুধীজন, আজ বিদায় বেলায় আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর স্যারের প্রতিটি আদর্শিক শিক্ষা বারবার মনে পড়ছে। তাঁর সান্নিধ্যে আমরা জীবনের যে গূঢ় সত্যগুলো জেনেছি, তা আমাদের আজীবন পথ দেখাবে। স্যার সবসময় আমাদের হৃদয়ের পরিশুদ্ধির কথা বলতেন। তিনি বলতেন— “কাপড়ে নয়, সব অসুন্দর, অসত্য, নীচতা থেকে মনের হিজাব করো।” অর্থাৎ বাইরের আবরণের চেয়ে ভেতরের পবিত্রতা আর নৈতিকতাকে তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতেন। তিনি আমাদের মহান মানুষদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে গিয়ে বলতেন— “বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়।” স্যারের এই কথাগুলো আজ আমাদের চেতনায় প্রদীপের মতো জ্বলছে। তাঁর আরও কত কথা, কত স্মৃতি আজ এই বিদায়ক্ষণে মনের মধ্যে বায়োস্কোপের মতো একে একে সরে যাচ্ছে। বিদায়ের এই ক্ষণে, সাফল্য মানে কেবল একটি ভালো চাকরি বা অনেক অর্থ উপার্জন নয়; সাফল্য মানে হলো নিজের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমাজের অন্ধকার দূর করা। আমরা যখন এই চত্বর থেকে কর্মজীবনের বিশাল পৃথিবীতে পা রাখছি, তখন আমাদের অঙ্গীকার হলো—আমরা যেখানেই যাই না কেন, গুরুকুলের মান সমুন্নত রাখব। আমরা যেন আর্তমানবতার সেবায় এবং দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করতে পারি, সেই আশীর্বাদ প্রার্থী। শেষ করতে ইচ্ছে করছে না, তবুও শেষ করতে হবে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে চাই— “যেতে নাহি দিব, হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।” সময় বয়ে যাবে, আমরা হয়তো ব্যক্তিগত জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ব, কিন্তু গুরুকুলের প্রতিটি ধূলিকণা আর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে অম্লান থাকবে। প্রিয় নবীন বন্ধুদের জন্য রইল অফুরন্ত শুভকামনা আর আমাদের জন্য রইল এক বুক স্মৃতি। ভালো থেকো গুরুকুল, ভালো থাকুন প্রিয় শিক্ষকমণ্ডলী। ধন্যবাদ জানাই সবাইকে এই সুন্দর আয়োজনের জন্য। জয় গুরুকুল, জয় গুরুকুল, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। আরও দেখুন: গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের নবীন শিক্ষার্থীর বক্তব্য : স্বপ্নের পথে নতুন যাত্রা
অমিয়ভূষণ তাঁতী বউ: রূপান্তরিত স্বাধীন সত্তা – সোহানা মাহবুব
অমিয়ভূষণ তাঁতী বউ: রূপান্তরিত স্বাধীন সত্তা – সোহানা মাহবুব Abstract : In his short story ‘Tantibou’, Amiyabhushon Majumdar has depicted the tale of a flourishing liberated soul of an enslaved woman. Love induced sexual desire incites ecstasy, and a deep thirst for life. On the other hand, loveless sex generates perversion and deformity. The author has attempted to impose this theme on the lives of a weaver and an enslaved woman. The subservient-exhausted-dying woman has been woken up with the love of the weaver, his desire for offspring and his affectionate touches; a sense of soul-searching has risen in her. Finally, she has found herself and redemption by walking through the path of darkness. The newfound self-consciousness has given her redemption and transformed her as a liberated soul. This story apprehends how an enslaved woman becomes a weaver’s wife, and finally transforms into an independent entity. This essay attempts to critically understand the construction of different phases of this metamorphosis. [ অমিয়ভূষণ তাঁতী বউ: রূপান্তরিত স্বাধীন সত্তা – সোহানা মাহবুব ] অমিয়ভূষণের কথাসাহিত্যে নারী অমিত শক্তির আধার। তাঁর কাছে ”নারীই জীবন, পুরুষ তার means to an end…’|(১) – তাঁতীবউ গল্পেও অমিয়ভূষণ এমন এক নারীকে এঁকেছেন, যার প্রবল আত্মশক্তি এক পরাধীন অকিঞ্চনসত্তা থেকে তাকে স্বাধীন-শুদ্ধ সত্তায় রূপান্তরিত করেছে। আলোচ্য প্রবন্ধে এই নারী, গল্পে যার নাম ”তাঁতীবউ, তার রূপান্তরিত সত্তার স্বরূপ উন্মোচনই অন্বিষ্ট হয়ে উঠেছে। নরনারীর সম্পর্ক রূপায়ণে অমিয়ভূষণ মজুমদার যৌনতাকে অপরিহার্য মনে করেন। তবে সেই যৌনতাকে হতে হবে প্লবলভাবে জীবনীশক্তির আধার। আদিম প্রাণশক্তিই (লাইফ ফোর্স) তাঁর কাছে যৌনতার মূল উপাদান। তিনি মনে করেন, যৌনতা তখনই শক্তি হয়ে উঠবে, যখন তার ভেতর থাকবে পরিশুদ্ধ প্রেম। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন: …আমাদের দেশের লেখকরা যা বলে, ইউরোপেও অনেকে বলে যে love is conjunction of body. আসলে love হচ্ছে light, that is extracted from the body. দুটো শরীরের ঘর্ষণে যে আলো দেখা যায়, সেটাই মানুষের আবিষ্কার,that is love তাই সে আলোর সন্ধান যখন করব তখন আমার চিত্ত যদি প্রেমে উদ্ভাসিত না হয়, তবে কি হবে! …এটা যদি দুটো মানুষ যখন পাশাপাশি আসে …যারা মহাপুরুষ নয়, …তাদের মধ্যে, দুটো বিন্দুর মধ্যে যেমন আর্কল্যাম্পের আলো, আলো জন্মায়। তাতে কাম থাকবেই তা কিন্তু হীরকদ্যুতি স্বর্ণালঙ্কারে পান। অমিয়ভূষণের তাঁতীবউ গল্পেও লেখক এমনই এক যৌনজীবনেরযে কথা বলতে চেয়েছেন। যৌনতা যেখানে প্রেম ও জীবনীশক্তি হিসেবে কাজ করেছে, এ গল্পে সেখানে ফুল ফুটেছে; আবার যেখানে যৌনতা ধর্ষণের নামান্তর সেখানে ফুলের বদলে জেগে উঠেছে বিকলাঙ্গতা আর কদর্যতার অন্ধকার। [ অমিয়ভূষণ তাঁতী বউ: রূপান্তরিত স্বাধীন সত্তা – সোহানা মাহবুব ] ‘তাহলে ধরে নেওয়া যেতে পারে-পুরুষটি যতবেলা ইভের অ্যাডাম, ততবেলা সম্পর্কের সুতো ছাড়তে তিনি যাকে বলে অমায়িক নাম্বার ওয়ান অর্থাৎ এই ফাঁকে তোমরা যা কিছু করো না বাপু, বাধা দিতে আমার বয়েই গেছে।…তবে পুরুষসঙ্গীটি যদি ইভের অ্যাডাম হওয়ার পরিবর্তে ইভটিজার হয়ে ওঠে, তাহলেই তিনি কৃপাণহস্ত। তখন তুমি যে-ই হও না কেন…তোমাকে ধর্ষক নামেই ডাকহবে।৩ অমিয়ভূষণের এই যৌনতাবোধ তাঁর কথাসাহিত্যের মূল সুর। আলোচ্য প্রবন্ধে আমরা অমিয়ভূষণের তাঁতীবউ গল্পে গোকূল আর তাঁতীবউয়ের মধ্যকার সম্পর্ক-সূত্র ব্যাখ্যায় এবং তাঁতী বউয়ের হয়ে ওঠার ক্ষেত্র নির্মাণে এই জীবনেচ্ছাজাগানিয়া যৌনতার প্রভাব অনুধাবন করতে সচেষ্ট হব। অমিয়ভূষণের তাঁতীবউ গল্পটি ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে ”পূর্বাশ্রার আষাঢ় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। তাঁতী এবং তার ক্রীতদাসীর মধ্যে ক্রমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের অন্তর্বুননকেদ্ধশল- আলো অন্ধকারের রঙে বিশ্লেষিত হয়েছে এ গল্পে। এখানে অমিয়ভূষণ এমন এক যুগের কথা বলছেন, যা অন্ধকার আর আলোর আকাক্সক্ষাহীন মিলনের যুগ, যে যুগ মানবসত্তাকে দাসে পরিণত হওয়া কতগুলো হাত-পা-চেতনা বাঁধা কাঠামো বিকিকিনির যুগ। এরকমই এক বন্ধ্যা সময়ের গল্প বলতে চেয়েছেন অমিয়ভূষণ, যার কেন্দ্রাতিগ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এক ক্রীতদাসী আর তার সত্ত¡াধিকারী তাঁতীর মধ্যকার সম্পর্কের টানাপড়েন। [ অমিয়ভূষণ তাঁতী বউ: রূপান্তরিত স্বাধীন সত্তা – সোহানা মাহবুব ] অভিমন্যু বসাকের পুত্র গোকুল তšদবয়নের কেদ্ধশল নিরয়েইক্ত জন্মেছিল। পিতাকে বচকানা কাপড় আর ঠেঁটির পরিবর্তে মসলিন-বয়নে অতিক্রম করতে পারাটাই ছিলো তার কৃতিত্ব আর সৃজনশীলতার প্রকাশ। কিšদ তখনও পর্যন্ত সেটি পরিণত শিল্পবোধের অভাবে সেরা হয়ে উঠতে পারেনি। অর্থাৎ সৃজনে যে শৈল্পিকতা প্রয়োজন, যে জীবনীশক্তি প্রয়োজন, সেটি গোকুলের ভেতর জন্মেনি তখনও। তার তৈরি মসলিন আর মাকড়শার জাল তখনও অভিন্নই প্রায়। লেখকের ভাষায়: গঞ্ছে পাঠাবার মতো সরেস জিনিস তার তাঁতে উৎরাত না, বিশেষ করে ফুলের কাজগুলোতে সোনার আঁশ খাটাতে সে পারতো না, কাজেই রাত্রিতে ঘুমিয়ে পড়ার আগে কয়েকটি মুহূর্ত ছাড়া বড়ো বেশি কারো চোখেপড়ত না তার কারিগরি; বড়োজোর সকালে কোনো স্বামী দেখতে পেতো রাত্রির শুকনো মালাগাছির সঙ্গে বিছানায় পড়ে আছে মাকড়সার শাদা জালির মতো কী একটা। গোকুল এভাবেই মসলিনের খেয়ালে জড়িয়ে গেলো। ইদিলশাহী পরগণার হাটে মসলিন বিক্রির পর হাটের বিশেষ এক ভিড়াক্রান্ত দিক তার কেদ্ধতূহলবাড়িয়ে তোলে। জমিদার-উজির-লাঠিয়াল-পাইক-পেয়াদা-সিপাইদের প্রবল ভিড় জানান দেয় ”এদিকে বাঁদী-বান্দার দোকান। টাকা দিয়ে বান্দা পাওয়া যেতো জোয়ান, বুদ্ধিমান, কেদ্ধশলী, পাঠান, মোবলা, খোজা, হিন্দু যার যে রকম চাই। বাঁদীও পাওয়া যেতো মুলতানি, গুজরাটি, আফগানি, শাদা, গোলাপি, শ্যামলা, কখনও বসরা থেকেও আসত।…আনারকলি, নুরজাহাঁ এসব দোকানের বেসাত্রি।৫ অন্ধকার এক কাল তার ক্ষতচিহ্নসমেত এভাবেই গল্পে উঠে আসে। মসলিন আর ক্রীতদাস চিহ্নিত করে দেয় একইসঙ্গে একটি বিশেষ কালের ইতিবাচকতা ও নেতিবাচকতাকে। [ অমিয়ভূষণ তাঁতী বউ: রূপান্তরিত স্বাধীন সত্তা – সোহানা মাহবুব ] প্রাচীন ও মধ্যযুগে ভারতে যে দাসপ্রথা প্রচলিতাে, ছিতার বিবরণ মেলে শিলালিপি, পুরাণ, রামায়ণ-মহাভারত-বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ এবং অন্য সাহিত্যের উল্লেখ থেকে। প্রথম দিকে, দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ”দাস শব্দের অর্থে লাছিদাতা। আর্য ভাষাভাষীর হরপ্পা সভ্যতার মানুষদের সাধারণভাবে ঐ নামে অভিহিত করতো। পরবর্তীকালে বিজিত হরপ্পা অধিবাসীদের তারা দাস (অধীন) হিসাবে ব্যবহার করতো। তখন থেকেই দাস শব্দটির অর্থ পাল্টে গিয়ে সম্পূর্ণ অধীনতা বোঝান হয়েছে। বিজিত মহিলাদের অধীনভাবে ব্যবহার করলেও আর্য ভাষাভাষীদের সন্তানধারণ করা তাদের অন্যতম কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মধ্যযুগে সুলতান, আমীর ওমরাহ, রাজা বা অভিজাতদেরওীতদাসক্র থাকত’।৬ এরকমই এক ক্রীতদাসী এ গল্পের তাঁতীবউ। পঞ্চদশ শতকের শেষ বা ষোড়শ শতকের ঘটনাই এ গল্পের কালপট বলে অনুমান করে নেয়া যেতে পারে। ১৮৩৩ খ্রি. পর্যন্ত ভারতবর্ষে দাসপ্রথার প্রচলন এবংমধু সাধু ্ররখাঁনেদ্ধবাণিজ্যের সঙ্গে সঙ্গে দাসব্যবসাও ছিল ষোড়শ শতকেÑএক সাক্ষাৎকারে অমিয়ভূষণের এমন মন্তব্যের বরাতে এ গল্পের সময়কাল ষোড়শ শতকের আগে-পরে বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। সেই কালের রূপাবয়ব নির্মাণে লেখক এখানে মসলিন-দাসব্যবসা আর সামন্ত শোষকের মতো কালচিহ্নায়ক উপাদান ব্যবহার করেছেন। মেলার শেষদিন কেদ্ধতূহলবশত পায়ে পায়ে গোকুল বাঁদী বিকিকিনির দোকানে গেলে বিক্রেতার ওঁচা-ভাঙা মাল-উচ্ছি¡ষ্ট এক বাঁদী তার কপালে জোটে। যে খেয়ালের বশে গোকুল মসলিন বয়নে জড়িয়েছিল, ঠিক সেই একই ধরনের খেয়ালেই মসলিন-বিক্রির টাকায় সে সাতপাঁচ না ভেবে একটি ”মেয়ে নয়, মেয়ের কাঠামো যেন্র৭ কিনে নিলো। [ অমিয়ভূষণ তাঁতী বউ: রূপান্তরিত স্বাধীন সত্তা – সোহানা মাহবুব ] মূল গল্পের শুরু এখান থেকেই। বাঁদী ক্রয়ের পর নিজের ওপরেই ক্ষিপ্ত গোকুল একবারই সেই মাংসহীন হাড়সর্বস্ব কাঠামোর দিকে তাকিয়ে