গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি বিষয়ক নীতিমালা ২০১৮

গুরুকুল বিশ্বাস করে—শিক্ষার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কেবল বইকেন্দ্রিক জ্ঞান নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ মানুষ গঠন। একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র, মানসিকতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের পাশাপাশি তার দেহ ও মনের সুস্থতা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে গুরুকুলের শিক্ষা-দর্শনে খেলাধুলা ও শারীরিক অনুশীলনকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, দলগত চেতনা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলে। একই সঙ্গে এটি তাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখে এবং মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গুরুকুল নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন করে এবং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি বিষয়ক এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে যেন ক্রীড়া কার্যক্রমগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল, ফলপ্রসূ ও স্থায়িত্বশীল করা যায়। এর মাধ্যমে গুরুকুলের প্রতিটি শিক্ষার্থী পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা অর্জন করবে। ১. কমিটির গঠন গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি নিম্নোক্ত কাঠামোয় ১ (এক) বছরের জন্য গঠিত হবে: সভাপতি: ১ জন সহ-সভাপতি: ২ জন সমন্বয়কারী: ১ জন সদস্য: ৩ জন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে বা পরে বিদ্যমান কমিটি নতুন সদস্যদের প্রস্তাব গুরুকুল ট্রাস্টের নিকট উপস্থাপন করবে। ট্রাস্টের পক্ষে গুরুকুল প্রমুখের কার্যালয় যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করবে। আমন্ত্রিত সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করলে কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে।   ২. কমিটির কার্যক্রম গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি গুরুকুল পরিবারের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সোসাইটি, সেবা ইউনিট ও অন্যান্য ইউনিটের ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করবে। এর প্রধান দায়িত্বসমূহ হলো: ১। বার্ষিক ক্রীড়া বিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন।২। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য ত্রৈমাসিক সভা আয়োজন।৩। বাজেট অনুমোদন, ব্যয়ের নিরীক্ষণ ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।৪। গুরুকুলের অভ্যন্তরে ক্রীড়া বিষয়ক অবদানের জন্য বার্ষিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন।৫। কুষ্টিয়া জেলা বা জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া বিষয়ে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন।   ৩. সভাপতির দায়িত্ব ১। ত্রৈমাসিক ও বিশেষ সভার আহ্বান।২। সভায় সভাপতিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব প্রদান।৩। কমিটির কার্যক্রম প্রত্যাশা অনুযায়ী সক্রিয় রাখতে সদস্যদের দিকনির্দেশনা প্রদান।৪। বাজেট অনুমোদন ও খরচ নিরীক্ষণ।৫। উপকমিটি গঠন ও পরিচালনা।৬। ক্রীড়া সম্পর্কিত সব অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন।   ৪. সহ-সভাপতির দায়িত্ব ১। সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন।২। কমিটির কার্যক্রম সক্রিয় রাখতে সদস্যদের অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা প্রদান।   ৫. সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ১। সকল ইউনিটের সাথে পরামর্শক্রমে বার্ষিক ক্রীড়া পরিকল্পনার খসড়া তৈরি ও সভায় উপস্থাপন।২। সভাপতির অনুমোদনক্রমে সভা আহ্বান এবং কার্যবিবরণী প্রস্তুত ও সংরক্ষণ।৩। কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা।৪। বাজেটের খসড়া প্রস্তুত ও অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়নে তত্ত্বাবধান।৫। ইউনিটগুলোর কার্যক্রম ও হিসাব বিবরণী সভায় উপস্থাপন।৬। উপকমিটিগুলোর কাজ তদারকি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা।৭। কমিটির দাপ্তরিক কার্যাদি সম্পাদন ও দলিলাদি সংরক্ষণ।   ৬. সদস্যদের দায়িত্ব ১। কমিটির সকল কার্যক্রমে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান।২। সভাপতির অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন।   গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি হলো গুরুকুল পরিবারের ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা ও বিকাশের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই নীতিমালা অনুসরণ করে কমিটি গুরুকুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে শারীরিক সুস্থতা, দলগত চেতনা, নেতৃত্ব ও ক্রীড়া সংস্কৃতি বিকাশে অবদান রাখবে। কমিটির তালিকা: ১. গুরুকুল ক্রিড়া বিষয়ক কমিটি ২০১৯-২০২০।

গুরুকুলে বৃত্তির কোটা ব্যবস্থা

Mir Mosharraf Hossain Campus Kushtia Gurukul, Gurukul Bangladesh

সমতা, সুযোগের বিস্তার এবং শিক্ষা সবার জন্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুকুল চালু করেছে বিশেষ বৃত্তির কোটা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পী, খেলোয়াড়, হরিজন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, এতিম, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, ভূমিহীন শ্রমজীবী, শিক্ষক পরিবার এবং গুরুকুল কর্মী পরিবারের সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট হারে বৃত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও ছাত্রীদের জন্য আলাদা সুবিধা এবং সরকার অনুমোদিত STEP বৃত্তি কার্যক্রমও চালু রয়েছে। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ১. শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ: আর্থিক অসচ্ছলতা কিংবা সামাজিক অবস্থান যাতে কোনও শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করে, সে জন্য এই কোটা চালু করা হয়েছে।২. সমাজের বিশেষ গোষ্ঠীর উন্নয়ন: শিল্পী, খেলোয়াড়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, হরিজন, এতিম ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সহায়তা প্রদান।৩. মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক পরিবারের সম্মাননা: মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও শিক্ষক পরিবারের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি সুবিধা রাখা।৪. নারীর ক্ষমতায়ন: মেয়েদের শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ কোটা নির্ধারণ।৫. দক্ষতা উন্নয়ন: বৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চর্চা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি।৬. নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা: ভর্তির সময় প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান এবং অসত্য তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ। ১/ শিল্পী কোটা বৃত্তির ধরন: ১০০% বৃত্তি যোগ্যতা: নিয়মিত শিল্পীরা এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর পুরো কোর্স ফি (১০০%) বৃত্তি থেকে আসবে। শিক্ষার্থীকে কোনও কোর্স ফি প্রদান করতে হবে না। প্রতিটি ট্রেডে বৃত্তি সংখ্যা (৫ জন) ১ জন সংগীত শিল্পী (গায়ক) ১ জন সংগীত শিল্পী (বাদক) ১ জন নৃত্য শিল্পী ১ জন অভিনয় শিল্পী ১ জন চিত্রকলা শিল্পী   শর্তাবলি গুরুকুলের ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ভর্তি হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত চর্চায় অংশগ্রহণ না করলে বৃত্তির সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে।   ‍‍‍ শিল্পী পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধা সঙ্গীত, নৃত্য, অভিনয়, চিত্রকলা সহ স্বীকৃত শিল্পকলায় পরিচিত শিল্পীদের সন্তানরা ৬০% বৃত্তি পাবে। কবি ও সাহিত্যিক পরিবারের সন্তানরাও এই কোটার অন্তর্ভুক্ত।   ২. খেলোয়াড় কোটা: বৃত্তির ধরন: ১০০% বৃত্তি যোগ্যতা: নিয়মিত খেলোয়াড়রা এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর পুরো কোর্স ফি (১০০%) বৃত্তি থেকে আসবে। শিক্ষার্থীকে কোনও কোর্স ফি প্রদান করতে হবে না। প্রতিটি ট্রেডে বৃত্তি সংখ্যা (৩ জন) ১ জন লাঠিয়াল ১ জন ফুটবলার ১ জন ক্রিকেটার শর্তাবলি গুরুকুলের ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ভর্তি হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত চর্চায় অংশগ্রহণ না করলে বৃত্তির সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। ‍‍ খেলোয়াড় পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধা স্বীকৃত খেলোয়াড়দের সন্তানরা ৬০% বৃত্তি পাবে। অর্থাৎ এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কোর্স ফি-এর ৬০% বৃত্তি থেকে আসবে, এবং শিক্ষার্থীকে মাত্র ৪০% কোর্স ফি প্রদান করতে হবে।   ৩. হরিজন কোটা: বৃত্তির ধরন: ১০০% বৃত্তি যোগ্যতা: হরিজন/দলিত পরিবারের সদস্যরা এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর পুরো কোর্স ফি (১০০%) বৃত্তি থেকে আসবে। শিক্ষার্থীকে কোনও কোর্স ফি প্রদান করতে হবে না। আসন সংখ্যা একই ট্রেডে সর্বোচ্চ ৫ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পাবেন। শর্তাবলি এই বৃত্তি শুধুমাত্র হরিজন/দলিত পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। ভর্তির সময় সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। অসত্য তথ্য প্রদান করলে বৃত্তির সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হবে।   ৪. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়: বৃত্তির ধরন: ১০০% বৃত্তি যোগ্যতা: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত পরিবারের সদস্যরা এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর পুরো কোর্স ফি (১০০%) বৃত্তি থেকে আসবে। শিক্ষার্থীকে কোনও কোর্স ফি প্রদান করতে হবে না। শর্তাবলি এই বৃত্তি শুধুমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। ভর্তির সময় প্রমাণপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র/স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন/সম্পর্কিত সরকারি নথি) জমা দিতে হবে। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি নিশ্চিত করা হবে। অসত্য তথ্য প্রদান করলে বৃত্তির সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হবে।   ৫. এতিম শিক্ষার্থী : বৃত্তির ধরন: ৮০% থেকে ১০০% বৃত্তি যোগ্যতা: এতিমখানার শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকহীন শিক্ষার্থী সুবিধাসমূহ এতিমখানার শিক্ষার্থী: কোর্স ফি-এর ৮০% বৃত্তি প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থীকে মাত্র ২০% কোর্স ফি প্রদান করতে হবে। অভিভাবক ও বাড়িঘরহীন শিক্ষার্থী: কোর্স ফি-এর ১০০% বৃত্তি প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থীকে কোনও কোর্স ফি প্রদান করতে হবে না। অতিরিক্তভাবে গুরুকুল প্রমুখ বিশেষ বৃত্তির আওতায় জীবনধারণের খরচ (খাদ্য, বস্ত্র ও আবাসন) বহন করা হবে। শর্তাবলি ভর্তি আবেদনকালে সরকারি/অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। অসত্য তথ্য প্রদান করলে বৃত্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হবে। বৃত্তি প্রাপ্তির বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী নিশ্চিত করা হবে।   ৬. প্রতিবন্ধী: ৭০% থেকে ১০০% বৃত্তি সচ্ছল পরিবারের প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য (বধির ও অন্ধ ব্যতীত) জন্য ৭০% বৃত্তি। অর্থাৎ এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কোর্স ফিসের ৭০% বৃত্তি থেকে আসবে, শিক্ষার্থী মাত্র ৩০% কোর্স ফি দিয়ে পড়তে পারবে।   সহায় সম্বলহীন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য ১০০% বৃত্তি। অর্থাৎ এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কোর্স ফিসের ১০০% বৃত্তি থেকে আসবে, তাকে কোন কোর্স ফিস দিতে হবে না। ভর্তির সময় প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।   ৭. মুক্তিযোদ্ধা: ৬০% থেকে ১০০% বৃত্তির কোটা সনদধারী মুক্তিযোদ্ধা সন্তান/নাতি (মেয়ের ছেলে-মেয়ে/ছেলের ছেলে-মেয়ে)-এর জন্য ৬০% বৃত্তি। অর্থাৎ এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কোর্স ফিসের ৬০% বৃত্তি থেকে আসবে, শিক্ষার্থী মাত্র ৪০% কোর্স ফি দিয়ে পড়তে পারবে।   সহায় সম্বলহীন (শুধুমাত্র সরকারি ভাতার উপরে নির্ভরশীল) সনদধারী মুক্তিযোদ্ধা সন্তান/নাতি (মেয়ের ছেলে-মেয়ে/ছেলের ছেলে-মেয়ে)-এর জন্য ১০০% বৃত্তি।   অর্থাৎ এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কোর্স ফিসের ১০০% বৃত্তি থেকে আসবে, তাকে কোন কোর্স ফিস দিতে হবে না।   সহায় সম্বলহীন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান/নাতি (মেয়ের ছেলে-মেয়ে/ছেলের ছেলে-মেয়ে)-এর জন্য ১০০% বৃত্তি। অর্থাৎ এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কোর্স ফিসের ১০০% বৃত্তি থেকে আসবে, তাকে কোন কোর্স ফিস দিতে হবে না।   ভর্তির সময় প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। ভর্তির সময় মুক্তিযোদ্ধার মূল সনদ সাথে আনতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা সনদের ফটোকপি এবং শিক্ষার্থীর নাম ও মুক্তিযোদ্ধার সাথে সম্পর্ক উল্লেখ করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রত্যয়ন-পত্র জমা দিতে হবে।   ৮. ভূমিহীন- কৃষি শ্রমিক, ভ্যান-রিকশাচালক ও মৎস্যজীবী: ৫০% বৃত্তির কোটা ভূমিহীন- কৃষি শ্রমিক, ভ্যান-রিকশাচালক ও মৎস্যজীবীর সন্তানের জন্য ৫০% বৃত্তি। অর্থাৎ এমন শিক্ষার্থীরা মাত্র ৫০% কোর্স ফি দিয়ে পড়তে পারবে। ভর্তির সময় চেয়ারম্যান প্রত্যয়ন-পত্র জমা দিতে হবে।   ৯. শিক্ষক পরিবার: ৫০% বৃত্তি যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মী পরিবারের সদস্য (পৌষ্য) ক্ষেত্রে কোর্স ফিতে ৩০% বৃত্তি। অর্থাৎ এমন শিক্ষার্থীরা মাত্র ৭০% কোর্স ফি দিয়ে পড়তে পারবে। ভর্তির সময় অভিভাবকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়ন-পত্র জমা দিতে হবে।   ১০. শিক্ষার্থীর পরিবার: ২৫% থেকে ৩০% বৃত্তির কোটা একই পিতা/মাতার ২ সন্তান ভর্তি হলে প্রতিজন তার কোর্স ফি তে ২৫% বৃত্তির কোটা। একই পিতা/মাতার ৩ সন্তান ভর্তি হলে প্রতিজন তার কোর্স ফি তে ৩০% বৃত্তি পাবে। ভর্তির সময় প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।   ১১. গুরুকুল কর্মীর পরিবার: ৬০% বৃত্তির কোটা গুরুকুল পরিবারের যে কোন কর্মীর (স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন, ভায়ের ছেলে-মেয়ে, বোনের ছেলে-মেয়ে) এর

গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা

গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা

গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক জীবন দর্শনের আলোকে আমাদের প্রতিটি ক্যাম্পাস হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির এক নিরাপদ স্থান। এই লক্ষ্য অর্জনে নিচের নীতিমালাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক: ১. গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষা কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পরিচয় বা ধর্মীয় প্র্যাকটিস নিয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল প্রদর্শন করা যাবে না। কেউ যদি তাঁর ধর্মীয় বিষয়গুলো জানাতে না চান, তবে তা জানার জন্য কোনো ধরনের চাপ দেওয়া যাবে না। কেউ যদি নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রাখতে চান, তবে সেই অধিকার তাঁর রয়েছে। জোরপূর্বক কারও ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা পরিচয় জানার চেষ্টা করা নীতিমালার পরিপন্থী। ২. ধর্মীয় চর্চায় জবরদস্তিহীন পরিবেশ কাউকে কোনো ধর্মীয় রীতি বা বিধান পালন করার জন্য অথবা পালন না করার জন্য কোনো ধরনের জোরাজুরি বা চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। ধর্মীয় বিশ্বাস ও পালন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং গুরুকুল এর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। ৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান পালন গুরুকুল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন বা পালন করবে না। তবে শিক্ষার্থীরা যদি নিজ উদ্যোগে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে চান, তবে তাঁরা তা করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হলরুম বরাদ্দ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গুরুকুলের শিক্ষক বা কর্মীবৃন্দ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে যোগ দিতে পারেন। তবে বাইরে থেকে কোনো ধর্মীয় অতিথি আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ৪. অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা কোনো ধর্ম, ধর্মীয় রীতি-রেওয়াজ বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে খাটো করে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বা ব্যঙ্গ করে কোনো ধরনের বক্তব্য, বিবৃতি বা কৌতুক করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর শিক্ষা অনুযায়ী— “কাপড়ে নয়, সব অসুন্দর, অসত্য, নীচতা থেকে মনের হিজাব করো।” ক্যাম্পাসের ধর্মীয় চর্চার মূল লক্ষ্য হবে নৈতিক চরিত্র গঠন। মহৎ ব্যক্তিদের আদর্শ চর্চার মাধ্যমে নিজেদের জীবন আলোকিত করাই হবে প্রধান আধ্যাত্মিক লক্ষ্য। ৫. উগ্রবাদ ও উস্কানি প্রতিরোধ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের ধর্মীয় উস্কানি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ক্যাম্পাসের শান্তি ও শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ বা প্রচারণা চালানো যাবে না। ৬. অভিযোগ দায়ের ও শৃঙ্খলা রক্ষা এই নীতিমালার যেকোনো পয়েন্ট কেউ অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি (শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মী) সরাসরি গুরুকুল শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি বা গুরুকুল প্রমুখ বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। ৭. শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যদি কোনো ব্যক্তি এই নীতিমালা অমান্য করেন বা ধর্মীয় উগ্রতা ছড়ান এবং তা যদি কর্তৃপক্ষ মনে করেন প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার পরিপন্থী, তবে গুরুকুল কর্তৃপক্ষ নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করে: শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে: ছাত্রত্ব বাতিল ও স্থায়ী বহিষ্কার। শিক্ষক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে: চাকরি থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ফৌজদারি বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। গুরুকুলের দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতির মূল সারমর্ম হলো— ধর্ম যেন মানুষকে বিভক্ত না করে বরং মানবিকতার বন্ধনে আবদ্ধ করে। আমাদের লক্ষ্য এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা যারা নিজ নিজ ধর্মে নিষ্ঠাবান হবে এবং একই সাথে সব মানুষের প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত থাকবে। “সত্য ও সুন্দরের পথে চলাই হোক আমাদের পরম ধর্ম।”