গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক জীবন দর্শনের আলোকে আমাদের প্রতিটি ক্যাম্পাস হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির এক নিরাপদ স্থান। এই লক্ষ্য অর্জনে নিচের নীতিমালাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক:
১. গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষা
কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পরিচয় বা ধর্মীয় প্র্যাকটিস নিয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল প্রদর্শন করা যাবে না। কেউ যদি তাঁর ধর্মীয় বিষয়গুলো জানাতে না চান, তবে তা জানার জন্য কোনো ধরনের চাপ দেওয়া যাবে না।
কেউ যদি নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রাখতে চান, তবে সেই অধিকার তাঁর রয়েছে। জোরপূর্বক কারও ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা পরিচয় জানার চেষ্টা করা নীতিমালার পরিপন্থী।
২. ধর্মীয় চর্চায় জবরদস্তিহীন পরিবেশ
কাউকে কোনো ধর্মীয় রীতি বা বিধান পালন করার জন্য অথবা পালন না করার জন্য কোনো ধরনের জোরাজুরি বা চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। ধর্মীয় বিশ্বাস ও পালন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং গুরুকুল এর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান পালন
গুরুকুল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন বা পালন করবে না।
তবে শিক্ষার্থীরা যদি নিজ উদ্যোগে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে চান, তবে তাঁরা তা করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হলরুম বরাদ্দ নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গুরুকুলের শিক্ষক বা কর্মীবৃন্দ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে যোগ দিতে পারেন।
তবে বাইরে থেকে কোনো ধর্মীয় অতিথি আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
৪. অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা
কোনো ধর্ম, ধর্মীয় রীতি-রেওয়াজ বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে খাটো করে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বা ব্যঙ্গ করে কোনো ধরনের বক্তব্য, বিবৃতি বা কৌতুক করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর শিক্ষা অনুযায়ী— “কাপড়ে নয়, সব অসুন্দর, অসত্য, নীচতা থেকে মনের হিজাব করো।” ক্যাম্পাসের ধর্মীয় চর্চার মূল লক্ষ্য হবে নৈতিক চরিত্র গঠন।
মহৎ ব্যক্তিদের আদর্শ চর্চার মাধ্যমে নিজেদের জীবন আলোকিত করাই হবে প্রধান আধ্যাত্মিক লক্ষ্য।
৫. উগ্রবাদ ও উস্কানি প্রতিরোধ
ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের ধর্মীয় উস্কানি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ক্যাম্পাসের শান্তি ও শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ বা প্রচারণা চালানো যাবে না।
৬. অভিযোগ দায়ের ও শৃঙ্খলা রক্ষা
এই নীতিমালার যেকোনো পয়েন্ট কেউ অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি (শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মী) সরাসরি গুরুকুল শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি বা গুরুকুল প্রমুখ বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।
৭. শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
যদি কোনো ব্যক্তি এই নীতিমালা অমান্য করেন বা ধর্মীয় উগ্রতা ছড়ান এবং তা যদি কর্তৃপক্ষ মনে করেন প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার পরিপন্থী, তবে গুরুকুল কর্তৃপক্ষ নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করে:
- শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে: ছাত্রত্ব বাতিল ও স্থায়ী বহিষ্কার।
- শিক্ষক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে: চাকরি থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি।
- অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ফৌজদারি বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
গুরুকুলের দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতির মূল সারমর্ম হলো— ধর্ম যেন মানুষকে বিভক্ত না করে বরং মানবিকতার বন্ধনে আবদ্ধ করে। আমাদের লক্ষ্য এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা যারা নিজ নিজ ধর্মে নিষ্ঠাবান হবে এবং একই সাথে সব মানুষের প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত থাকবে।
“সত্য ও সুন্দরের পথে চলাই হোক আমাদের পরম ধর্ম।”