অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়কে জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

আজ ১ মার্চ—বাংলা ইতিহাসচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও সমাজসংস্কারক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়–এর জন্মদিন। এই মহামানবের জন্মদিনে “গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক”-এর পক্ষ থেকে আমরা জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন কেবল একজন ইতিহাসবিদ নন—তিনি ছিলেন একটি যুগের বিবেক। যিনি সত্য ও যুক্তির আলোয় উপনিবেশিক ইতিহাসের বিকৃত ভাষ্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের নির্মিত মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ানের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি গবেষণা, প্রমাণ ও যুক্তির মাধ্যমে বাংলার ইতিহাসকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। তাঁর “সিরাজদ্দৌলা” গ্রন্থ আজও সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসচর্চার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন বর্তমান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে, মামার বাড়িতে। কুষ্টিয়ার মানুষ হিসেবে আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি—এই মহৎ মনীষীর শৈশব ও শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ এই মাটিতেই গড়ে উঠেছিল। এখান থেকেই তাঁর জ্ঞানপিপাসা, সাহিত্যপ্রেম ও ইতিহাসচেতনার বীজ রোপিত হয়। কুষ্টিয়ার সন্তান হিসেবে তাঁর অবদান আমাদের জন্য গর্ব, অনুপ্রেরণা ও দায়িত্বের বার্তা।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বুঝেছিলেন—নিজস্ব ইতিহাস না জানলে জাতি আত্মপরিচয় হারায়। তাই তিনি সাহিত্য ও প্রত্নতত্ত্ব—এই দুই উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বাংলার প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস নতুন করে নির্মাণ করেন। বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটিবরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলেন, যা আজও বাংলা গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র।

তিনি শুধু ইতিহাসবিদই নন—তিনি ছিলেন সমাজসংস্কারক, শিক্ষাব্রতী, শিল্পপৃষ্ঠপোষক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রপথিক। রাজশাহী পৌরসভার কমিশনার হিসেবে তিনি নাগরিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা, শিল্প, নাটক, চিত্রকলা ও ক্রীড়াক্ষেত্রেও তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে আধুনিক বাংলা লেখকদের শীর্ষস্থানীয় বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন—এ এক বিরল সম্মান। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হলে সাহস, অধ্যবসায় ও গভীর অধ্যয়ন অপরিহার্য।

আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা নতুন প্রজন্মকে আহ্বান জানাই—অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইতিহাস, সাহিত্য ও জ্ঞানের আলোয় নিজেদের গড়ে তুলতে।

গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক বিশ্বাস করে—এই মহান চিন্তাবিদের আদর্শ আমাদের বাঙালি পরিচয়ের শক্ত ভিত গড়ে তুলবে।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়—
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়।