প্রয়াণ দিবসে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়কে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

আজ ১০ ফেব্রুয়ারি—বাংলা ইতিহাসচর্চার এক অনন্য পথপ্রদর্শক, সমাজসংস্কারক ও বাঙালি মননের এক উজ্জ্বল দীপ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়–এর প্রয়াণ দিবস। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি সেই মহান মানুষটিকে, যিনি সত্য ও যুক্তির শক্তিতে উপনিবেশিক ইতিহাসের বিকৃত ভাষ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং বাঙালির অতীতকে মর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন জ্ঞানের এক নিরলস সাধক। ইতিহাস তাঁর কাছে ছিল কেবল অতীতের কাহিনি নয়—বরং জাতির আত্মচেতনাকে জাগ্রত করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের রচিত পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনার বিরুদ্ধে তিনি যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ “সিরাজদ্দৌলা” শুধু একটি ইতিহাসগ্রন্থ নয়—এটি বাঙালির আত্মমর্যাদার দলিল। একইভাবে অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর গবেষণা সাহসিকতার সাথে সত্যের পক্ষে কথা বলার এক বিরল দৃষ্টান্ত।

বর্তমান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম—এই তথ্য আমাদের কুষ্টিয়ার মানুষদের জন্য এক অসীম গর্বের বিষয়। এই মাটির সন্তান হয়ে তিনি সমগ্র বাংলার ইতিহাসকে আলোকিত করেছেন। তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের শিকড় এই জনপদে প্রোথিত—যা আমাদের জন্য দায়িত্বের বার্তা বহন করে, যেন আমরা তাঁর আদর্শকে বহন করি আগামীর পথে।

বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি ও বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যে গবেষণাধারা সূচনা করেছিলেন, তা আজও বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বচর্চার অন্যতম ভিত্তি। তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে বাংলার গৌরবময় অতীত উদ্ধারে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

তিনি কেবল ইতিহাসবিদ ছিলেন না—তিনি ছিলেন সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সাধক। সাহিত্য, নাটক, শিল্পকলা, শিক্ষা, নাগরিক উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় ভূমিকা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী সমাজের প্রতিটি স্তরে আলোর পথ দেখান।

আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে এই আহ্বান জানাই—অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের মতো সাহসী, সত্যনিষ্ঠ ও মানবিক হয়ে উঠতে। ইতিহাসকে জানতে, সত্যকে ভালোবাসতে এবং সংস্কৃতিকে ধারণ করতে।

গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে এই মহান মনীষীকে—যিনি আমাদের শিখিয়েছেন, জ্ঞানই জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি।

চিরস্মরণীয়—
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়।