বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রণীত ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রম প্রবিধান-২০২২ প্রকাশ করা হয়েছে। আগের তুলনায় প্রধান পরিবর্তনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
এই প্রবিধানটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন-২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ২৮ এর ক্ষমতাবলে প্রণয়ন করা হয়েছে । এটি ০৪ (চার) বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের জন্য প্রযোজ্য, যা মোট ০৮ (আট) টি পর্বে (Semester) সম্পন্ন হয় । প্রবিধানটি ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর করা হয়েছে । এই শিক্ষাক্রমের প্রধান লক্ষ্য হলো শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও কোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে দক্ষ করে তোলা ।
প্রধান পরিবর্তন ও বৈশিষ্ট্যসমূহ
পূর্ববর্তী প্রবিধানগুলোর তুলনায় ২০২২ প্রবিধানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে:
ক্রেডিট বিন্যাস:
মোট ক্রেডিট ১৫০-১৬০ এর মধ্যে নির্ধারিত করা হয়েছে । এর মধ্যে কোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের জন্য ৫৮-৬০% এবং সোশ্যাল স্কিলের জন্য ১০-১৫% ক্রেডিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ।
শিখন ঘণ্টার অনুপাত:
তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অংশের শ্রেণীকক্ষের মোট শিখন ঘণ্টার অনুপাত ৪০:৬০ নির্ধারণ করা হয়েছে ।
GPA ওয়েটেজ (Weightage):
চূড়ান্ত ফলাফল বা CGPA নির্ধারণে প্রতিটি পর্বের GPA-এর গুরুত্ব (Weightage) সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে:
- ১ম ও ২য় পর্ব: ৫% করে ।
- ৩য় ও ৪র্থ পর্ব: ১০% করে ।
- ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্ব: ২০% করে ।
- ৮ম পর্ব (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং): ১০% ।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং:
৮ম পর্বের মোট ১৬ সপ্তাহের মধ্যে ১২ সপ্তাহ সংশ্লিষ্ট শিল্প কারখানায় এবং ৪ সপ্তাহ স্ব স্ব ইনস্টিটিউটে সম্পন্ন করতে হবে । এটি ১২ ক্রেডিটের একটি ব্যবহারিক বিষয় হিসেবে গণ্য হবে ।
পাস নম্বর ও গ্রেডিং:
তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় অংশে পৃথকভাবে ন্যূনতম ৪০% নম্বর (D গ্রেড) পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে । তবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম C+ গ্রেড বা ৫০% নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক ।
উপস্থিতির হার:
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম ৮০% ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান সর্বোচ্চ ১০% অনুপস্থিতি মওকুফ করতে পারেন ।
রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ:
১ম পর্বে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের মেয়াদ হবে ৮ শিক্ষাবর্ষ । বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে, তবে এই সুযোগ মাত্র একবারই পাওয়া যাবে ।
ভর্তির সুযোগ:
এইচএসসি (বিজ্ঞান) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ৩য় পর্বে এবং এইচএসসি (ভোকেশনাল) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস্টার পদ্ধতিতে ৪র্থ পর্বে সরাসরি ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন ।
মানোন্নয়ন পরীক্ষা:
CGPA প্রাপ্তির পর কোনো শিক্ষার্থী চাইলে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্বের পঠিত বিষয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ০৬টি তাত্ত্বিক বিষয়ে একবার মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন ।
প্রবিধানটি ডাউনলোড করুন : ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবিধান-২০২২