গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০, কুষ্টিয়া গুরুকুল [ International Mother Language Day 2020, Kushtia Gurukul ]

IMG 0478 আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০, কুষ্টিয়া গুরুকুল [ International Mother Language Day 2020, Kushtia Gurukul ]

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০ পালিত হয়েছে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাসে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০ উপলক্ষে, গুরুকুল ট্রাস্ট এর কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস এ [কুষ্টিয়া গুরুকুল] , পালিত হল দিব্যাপি কর্মসূচি। ”দাপ্তরিক সব কাজ আমরা বাংলায়​ করি, আপনি?” এই স্লোগানকে সামনে রেখে, গুরুকুল উদযাপন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, জনাব ইমতিয়াজ খান এর নেতৃত্বে কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে আয়োজিত হয় দীর্ঘ র‍্যালী। কুষ্টিয়া গুরুকুল এর ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন ও মেডিকেল সেকশনের প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক- কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ নিয়ে র‍্যালি শুরু হয়। প্রতি বছর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে সর্ব বৃহৎ র‍্যালি নিয়ে অংশগ্রহণ করে গুরুকুল। গুরুকুলের বৃহৎ র‍্যালি কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস (কালিশংকরপুর) থেকে শুরু হয়ে, কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে, কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের একাংশ, শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাবৃন্দ প্রতিষ্ঠানে প্রত্যাবর্তন করেন। উক্ত র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের সহকারী পরিচালক জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম, গুরুকুল উপাধ্যক্ষ জনাব এম এ মাসুম, এছাড়াও সকল ট্রেড প্রধানসহ গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। আমরা একমাত্র জাতী যারা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিয়েছি। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, আমাদের অগ্রজ – সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহ সহ নাম না জানা অনেকে বাঙ্গালী বীর। অসংখ্য ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগন, জেল হাজত ভোগ করেন, নির্যাতিত হন। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই আন্দোলনের সমর্থনে জেলে অনশন করেন। তাদের সকলের মহান ত্যাগের বিনিময়েই আমাদের বাংলা ভাষার উপরে আমাদের অধিকার অর্জিত হয়েছে। র‍্যালি ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে, দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাতৃভাষা দিবস নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে, গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর ভিডিও মাধ্যমে বক্তৃতা করেন। সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন “আমরা একমাত্র জাতী যারা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিয়েছি। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, আমাদের অগ্রজ – সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহ সহ নাম না জানা অনেকে বাঙ্গালী বীর। অসংখ্য ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগন, জেল হাজত ভোগ করেন, নির্যাতিত হন। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই আন্দোলনের সমর্থনে জেলে অনশন করেন। তাদের সকলের মহান ত্যাগের বিনিময়েই আমাদের বাংলা ভাষার উপরে আমাদের অধিকার অর্জিত হয়েছে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, আমরা দীর্ঘদিন এই দিনটিকে “শহীদ দিবস” ও “ভাষা দিবস” হিসেবে পালন করে এসেছি। তবে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর, জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো, ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এর পর থেকে এই দিনটি বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন হয়েছে। তখন থেকে আমরা এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করি। তাই এই দিনটি এখন শোকের নয়, বরং উদযাপনের। সারা পৃথিবীর সকল মাতৃভাষার জয়গান গাইবার। আজ সারা বিশ্ব একযোগে সেভাবেই পালন করছে এই দিনটিকে। আজকের দিনটিতে আমরা আমাদের সেই বীর পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, তাদের ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। পাশাপাশি আমরা উদযাপন করি বাংলা ভাষা সহ পৃথিবীর সকল মাতৃভাষা ও সেই ভাষা থেকে উৎসারিত সব ধরনের শিল্প। জয় বাংলা”। সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম দিবসটির তাৎপর্য ও ইতিহাস তুলে ধরে আলোচনা করেন। আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি। উল্লেখ্য যে, কুষ্টিয়া ছাড়াও কুমারখালী গুরুকুল, খোকসা গুরুকুল, রাজবাড়ি গুরুকুল সহ ঢাকা গুরুকুল দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক হতে শিক্ষার্থীদের জন্য বক্তৃতা শেখবার জন্য কিছু ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। নিচে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বক্তৃতার লিংক দেয়া হল :     আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বক্তৃতা:  

স্বাধীনতা দিবসের মার্চ পাস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে কুষ্টিয়া গুরুকুল

২৬ মার্চ, ২০১৯ – মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য মার্চ পাস্ট ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান।     গুরুকুলের অংশগ্রহণ এ আয়োজনে অংশ নেয় গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ এবং গুরুকুল গার্ল-ইন রোভার ইউনিট। সুসজ্জিত পোশাক, নিখুঁত শৃঙ্খলা এবং সুনিপুণ কায়দায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা দর্শক ও বিচারকদের মন জয় করে নেয়। ফলাফলে কলেজ গ্রুপে গুরুকুল রোভার স্কাউট মার্চ পাস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং গুরুকুল দলের প্রশংসা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— গুরুকুলের সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাসুম গুরুকুল রোভার সম্পাদক সোহাগ আহমেদ রোভার স্কাউটের সকল সদস্য   মার্চ পাস্টের তাৎপর্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, শৃঙ্খলা ও দলগত সমন্বয় রক্ষায় মার্চ পাস্টের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনীতে মার্চ পাস্টকে মৌলিক প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একইভাবে স্কাউট কার্যক্রমেও অতিথিদের সম্মান প্রদর্শন ও দলগত শৃঙ্খলা প্রদর্শনের জন্য মার্চ পাস্টের প্রচলন রয়েছে। গুরুকুল সবসময় শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞানেই নয়, বরং শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও দলগত নেতৃত্বের গুণাবলিতেও গড়ে তুলতে কাজ করে আসছে। স্বাধীনতা দিবসের মার্চ পাস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন প্রমাণ করে যে গুরুকুল শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষায় নয়, বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও জাতীয় চেতনায় সমানভাবে সমৃদ্ধ।

গুরুকুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৮ পালন । গুরুকুল বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-International Mother Language Day

বাংলা ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে কুষ্টিয়া, ঢাকা, রাজবাড়ি ও কুমারখালীসহ দেশের সকল গুরুকুল ক্যাম্পাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৮।     প্রভাতফেরি ও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি কুষ্টিয়া গুরুকুল আয়োজিত কর্মসূচিতে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল বিভাগের প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। ভোরবেলা সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রভাতফেরি বের হয়। শোভাযাত্রাটি কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক অতিক্রম করে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।   একুশের মূল প্রতিপাদ্য গুরুকুল প্রমুখ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর প্রতিষ্ঠিত গুরুকুল সবসময় বাংলা ভাষার ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়।এইবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়:“আমরা দাপ্তরিক সব কাজ বাংলায় করি – আপনি?” এই স্লোগানকে সামনে রেখে গুরুকুল নার্সিং ও প্যাথলজি ট্রেড প্রধান মিশাকাতুর রহমান এবং একাডেমিক ইনচার্জ শামীম রানার নেতৃত্বে উদযাপন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— ইনচার্জ ফাইন্যান্স রুহুল আমিন ইনচার্জ কমার্শিয়াল রফিকুল ইসলাম সিনিয়র ট্রেড প্রধান রাসনা শারমিন এম. এ. মাসুম, হাবিবুর রহমান, তামান্না আফরোজ উদযাপন কমিটির সদস্য ও কম্পিউটার ট্রেড প্রধান রাকিবুল ইসলাম টেক্সটাইল জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হোসাইন বিন হাফিজ ইলেকট্রনিক্স জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর সোহাগ আহমেদ সিভিল জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর জান্নাতুল তাসনিম শোভা এছাড়া গুরুকুলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সকলে মিলিত হয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। গুরুকুলের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, একুশ শুধু স্মরণ নয় বরং এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক—সবার অংশগ্রহণে দিনটি পরিণত হয় শ্রদ্ধা, ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক অনন্য উদযাপনে।

যুক্তি-তর্কে ভাষার মর্যাদা: গুরুকুলে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা

গুরুকুল এর আয়োজনে, মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের অংশ হিসাবে গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করছেন অতিথিবৃন্দ।

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৭ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব (GDC)-এর আয়োজনে কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসে এক প্রাণবন্ত ও যুক্তি-নির্ভর বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলনই মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে”—এমনই এক সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে বিতার্কিকদের বাগযুদ্ধে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ।   বিচারকমণ্ডলী ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট গবেষক ও বিতার্কিক, দৈনিক কুষ্টিয়া ও কুষ্টিয়া টাইমস্-এর সম্পাদক এবং দি ডেইলি স্টার-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ড. আমানুর আমান। প্রধান আলোচক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রযুক্তিবিদ এবং গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। বিচারক প্যানেলে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ডিবেটিং সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী ইসতিয়াক হোসেন ইমন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন: প্রভাষক আলী হোসেন, বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজ। শামীম রানা, ইনচার্জ (লিগ্যাল অ্যান্ড এডমিন), গুরুকুল। খোন্দকার রুহুল আমিন, ইনচার্জ (ফাইন্যান্স), গুরুকুল। রাশনা শারমিন, মডারেটর, গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব। সালাউদ্দিন কাদের, আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন কমিটি।     যুক্তি-তর্কের লড়াই ও ফল ঘোষণা ছায়া সংসদীয় পদ্ধতিতে আয়োজিত এই বিতর্কে ‘পক্ষ’ দল হিসেবে অংশগ্রহণ করে গুরুকুল মেডিকেল সেকশন এবং ‘বিপক্ষ’ দল হিসেবে লড়াই করে গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং দাপ্তরিক ও ব্যবহারিক সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উভয় দল তথ্যসমৃদ্ধ ও শাণিত যুক্তি উপস্থাপন করে। যুক্তি-তর্কের লড়াই শেষে বিচারকদের সূক্ষ্ম মূল্যায়নে গুরুকুল মেডিকেল সেকশন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ল্যাঙ্গুয়েজ ও ম্যাথ ক্লাবের নবদিগন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপ্তি লগ্নে গুরুকুলের একাডেমিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত ক্লাব— ‘গুরুকুল ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’ ও ‘গুরুকুল ম্যাথ ক্লাব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং ড. আমানুর আমান ফিতা কেটে ক্লাব দুটির যাত্রা শুরু করেন। এ সময় ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের সমন্বয়কারী শর্মিলা আক্তার ও শামীমা পারভিন এবং ম্যাথ ক্লাবের সমন্বয়কারী এম এম মাসুম উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভাষা ও গণিতে আরও পারদর্শী হয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। প্রধান অতিথির ভিশন ও মূল্যায়ন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বক্তব্যে বলেন: “ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা নিবেদন হলো মাতৃভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করা। আমাদের এই ডিবেটিং ক্লাব শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী হতে শেখাবে, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব তাদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াবে এবং ম্যাথ ক্লাব তাদের যৌক্তিক চিন্তার ভিত্তি মজবুত করবে।”     একুশের চেতনায় উজ্জীবিত এই অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তি আর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপনের এই প্রয়াস শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি মমত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করেছে।