ঐতিহ্যের জয়গান ও শেকড়ের টানে: কুষ্টিয়া গুরুকুলে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৫
জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আবাহনে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক-এ উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪২৫। আনন্দ, উল্লাস আর বাঙালিয়ানা ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে গুরুকুল ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছিল এক টুকরো লাল-সবুজের বাংলাদেশে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নববর্ষের এই উৎসব এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপ নেয়। প্রভাতী সুর ও শুভ সূচনা ভোরের নতুন সূর্য উঁকি দিতেই গুরুকুল প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত ও এসো হে বৈশাখ গানের সুরে। নতুন বছরের শান্তিময় আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈশাখী আয়োজনের সূচনা করা হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রঙিন পাঞ্জাবি ও শাড়িতে সজ্জিত হয়ে ক্যাম্পাসে সমবেত হন। রাজপথে মঙ্গল শোভাযাত্রা সকাল ৮টায় কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ: হাতে আঁকা রঙিন আলপনা, বিশাল আকৃতির মুখোশ, এবং লোকজ প্রতীক নিয়ে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি কুষ্টিয়া শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। যাত্রাপথ: দেশীয় বাদ্যের তালে তালে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে গুরুকুল মীর মশাররফ হোসেন ক্যাম্পাসে এসে সমাপ্ত হয়, যা ছিল উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসব ও সাংস্কৃতিক আসর শোভাযাত্রা পরবর্তী অংশে মীর মশাররফ হোসেন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী সব আয়োজন: গ্রামীণ খেলাধুলা: হাড়িভাঙা, মোরগ লড়াইসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলায় মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল বৈচিত্র্যময় বৈশাখী সঙ্গীত আসর, কবিতা আবৃত্তি এবং দলীয় নৃত্য। সবার অংশগ্রহণ: গুরুকুলের মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০০-রও বেশি শিক্ষার্থী এবং সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রেরণা অনুষ্ঠানে গুরুকুল প্রমুখ, দেশবরেণ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদ-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত সবার মাঝে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করাই গুরুকুলের শিক্ষার মূল ভিত্তি।
গুরুকুলে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৪

ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া গুরুকুলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪২৪। দিনব্যাপী এই উৎসবমুখর আয়োজনে অংশ নেন গুরুকুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কুষ্টিয়া শহরের অসংখ্য সাধারণ মানুষ। দিনের সূচনা ভোরবেলা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর বর্ষবরণ সঙ্গীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে গুরুকুল প্রাঙ্গণ। মঙ্গল শোভাযাত্রা সকাল ৮টায় প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বৈশাখী পোশাকে, রঙিন ব্যানার, মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী আলপনায় সজ্জিত হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। উৎসব শেষে শোভাযাত্রা গুরুকুল প্রশাসনিক ভবনে এসে মিলিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শোভাযাত্রা শেষে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে শুরু হয় নানাবিধ আয়োজন: গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ফ্যাশন শো নাটিকা বৈশাখী সঙ্গীত আসর প্রতিটি পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অতিথি ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর ও চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদ-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত সবার সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন: গুরুকুলের লিগ্যাল এন্ড এডমিন ইনচার্জ শামীম রানা সেলস অপারেশন ও পাবলিসিটি এন্ড চ্যানেল ডিপার্টমেন্ট প্রধান তানভির মেহেদী এবং উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উমাইয়া মল্লিক অংশগ্রহণ নববর্ষ বরণের এই উৎসবমুখর আয়োজনে গুরুকুলের মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়া গুরুকুলের বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৪ শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছিল ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের এক মিলনমেলা। দিনব্যাপী এ আয়োজনে নববর্ষের আবহে সবাই মেতে ওঠে নতুন দিনের প্রত্যাশা ও আশায়।