স্বাধীনতা দিবসের মার্চ পাস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে কুষ্টিয়া গুরুকুল
২৬ মার্চ, ২০১৯ – মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য মার্চ পাস্ট ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান। গুরুকুলের অংশগ্রহণ এ আয়োজনে অংশ নেয় গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ এবং গুরুকুল গার্ল-ইন রোভার ইউনিট। সুসজ্জিত পোশাক, নিখুঁত শৃঙ্খলা এবং সুনিপুণ কায়দায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা দর্শক ও বিচারকদের মন জয় করে নেয়। ফলাফলে কলেজ গ্রুপে গুরুকুল রোভার স্কাউট মার্চ পাস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং গুরুকুল দলের প্রশংসা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— গুরুকুলের সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাসুম গুরুকুল রোভার সম্পাদক সোহাগ আহমেদ রোভার স্কাউটের সকল সদস্য মার্চ পাস্টের তাৎপর্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, শৃঙ্খলা ও দলগত সমন্বয় রক্ষায় মার্চ পাস্টের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনীতে মার্চ পাস্টকে মৌলিক প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একইভাবে স্কাউট কার্যক্রমেও অতিথিদের সম্মান প্রদর্শন ও দলগত শৃঙ্খলা প্রদর্শনের জন্য মার্চ পাস্টের প্রচলন রয়েছে। গুরুকুল সবসময় শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞানেই নয়, বরং শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও দলগত নেতৃত্বের গুণাবলিতেও গড়ে তুলতে কাজ করে আসছে। স্বাধীনতা দিবসের মার্চ পাস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন প্রমাণ করে যে গুরুকুল শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষায় নয়, বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও জাতীয় চেতনায় সমানভাবে সমৃদ্ধ।
গুরুকুলে জাতীয় গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভা

গুরুকুলে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বেলা ২ টায় কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস হল রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে, গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন ও মেডিকেল সেকশনের শিক্ষার্থী, শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন গুরুকুল প্রমুখ, তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে এখনও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, আমাদের স্বাধীনতার দুশমনরা শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে । আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের বাঙালী জাতির ইতিহাস নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণ, অসংখ্য মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে বাংলার মানুষ, ছাত্র শিক্ষক জনতা প্রাণ দিয়ে হলেও সে স্বাধীনতা রক্ষা করবে আলোচনা সভায় গণিত শিক্ষক সাদিয়া ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গুরুকুল লিগ্যাল এন্ড এডমিন শামীম রানা, টেক্সটাইল ট্রেড প্রধান সালাউদ্দিন আহমেদ, ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড প্রধান রাশনা শারমিন, সিভিল ট্রেড প্রধান সৈকত হোসেন, কম্পিউটার ট্রেড প্রধান বিথি খাতুন, মেকানিক্যাল ট্রেড প্রধান তামান্না আফরোজ, জিডিপিএম ট্রেড প্রধান হাসিবুল ইসলাম, ফার্মেসী ট্রেড প্রধান আব্দুল আলীম ও আর এস ট্রেড প্রধান এম এ মাসুম ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক তানিয়া আফরোজ ও শিক্ষার্থী অর্ণব মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক শর্মিলা আক্তার জাতীয় গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভা শেষে গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ-এর আয়োজনে আর্থ আওয়ার -২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে, জনসচেতনতা সৃষ্টিতে, গুরুকুল কুষ্টিয়া লালন সাঁই ক্যাম্পাসের সামনে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর ও গ্রুপ সভাপতি শামীম রানা, সম্পাদক বিথী খাতুন,ইনচার্জ ফাইনান্স খোন্দকার রুহুল আমিন সহ, গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ, গুরুকুল গার্ল ইন রোভার, গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন ও মেডিকেল সেকশনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
যুক্তি-তর্কে ভাষার মর্যাদা: গুরুকুলে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৭ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব (GDC)-এর আয়োজনে কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসে এক প্রাণবন্ত ও যুক্তি-নির্ভর বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলনই মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে”—এমনই এক সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে বিতার্কিকদের বাগযুদ্ধে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। বিচারকমণ্ডলী ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট গবেষক ও বিতার্কিক, দৈনিক কুষ্টিয়া ও কুষ্টিয়া টাইমস্-এর সম্পাদক এবং দি ডেইলি স্টার-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ড. আমানুর আমান। প্রধান আলোচক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রযুক্তিবিদ এবং গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। বিচারক প্যানেলে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ডিবেটিং সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী ইসতিয়াক হোসেন ইমন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন: প্রভাষক আলী হোসেন, বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজ। শামীম রানা, ইনচার্জ (লিগ্যাল অ্যান্ড এডমিন), গুরুকুল। খোন্দকার রুহুল আমিন, ইনচার্জ (ফাইন্যান্স), গুরুকুল। রাশনা শারমিন, মডারেটর, গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব। সালাউদ্দিন কাদের, আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন কমিটি। যুক্তি-তর্কের লড়াই ও ফল ঘোষণা ছায়া সংসদীয় পদ্ধতিতে আয়োজিত এই বিতর্কে ‘পক্ষ’ দল হিসেবে অংশগ্রহণ করে গুরুকুল মেডিকেল সেকশন এবং ‘বিপক্ষ’ দল হিসেবে লড়াই করে গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং দাপ্তরিক ও ব্যবহারিক সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উভয় দল তথ্যসমৃদ্ধ ও শাণিত যুক্তি উপস্থাপন করে। যুক্তি-তর্কের লড়াই শেষে বিচারকদের সূক্ষ্ম মূল্যায়নে গুরুকুল মেডিকেল সেকশন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ল্যাঙ্গুয়েজ ও ম্যাথ ক্লাবের নবদিগন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপ্তি লগ্নে গুরুকুলের একাডেমিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত ক্লাব— ‘গুরুকুল ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’ ও ‘গুরুকুল ম্যাথ ক্লাব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং ড. আমানুর আমান ফিতা কেটে ক্লাব দুটির যাত্রা শুরু করেন। এ সময় ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের সমন্বয়কারী শর্মিলা আক্তার ও শামীমা পারভিন এবং ম্যাথ ক্লাবের সমন্বয়কারী এম এম মাসুম উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভাষা ও গণিতে আরও পারদর্শী হয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। প্রধান অতিথির ভিশন ও মূল্যায়ন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বক্তব্যে বলেন: “ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা নিবেদন হলো মাতৃভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করা। আমাদের এই ডিবেটিং ক্লাব শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী হতে শেখাবে, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব তাদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াবে এবং ম্যাথ ক্লাব তাদের যৌক্তিক চিন্তার ভিত্তি মজবুত করবে।” একুশের চেতনায় উজ্জীবিত এই অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তি আর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপনের এই প্রয়াস শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি মমত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে গুরুকুল রোভার স্কাউটের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসক এবং জেলা রোভারের সভাপতি জনাব জহির রায়হানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ। গতকাল বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। নেতৃত্বের উপস্থিতিতে হার্দিক শুভেচ্ছা গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি শামীম রানা এবং গুরুকুল গার্ল-ইন-রোভারের সম্পাদক মাধবী আইরিনের নেতৃত্বে রোভার ও গার্ল-ইন-রোভারের একটি প্রতিনিধি দল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। এসময় নবাগত জেলা প্রশাসককে কুষ্টিয়ায় তাঁর নতুন কর্মস্থলে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। গুরুকুল প্রমুখের বার্তা ও আমন্ত্রণ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রতিনিধি দলটি গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রমুখ, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা জেলা প্রশাসকের নিকট পৌঁছে দেন। একই সাথে জেলা প্রশাসককে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বিভিন্ন ক্যাম্পাস ও কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণের ইতিবাচক সাড়া জনাব জহির রায়হান অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই দাওয়াত গ্রহণ করেন। তিনি জানান যে, সুবিধাজনক সময়ে তিনি গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের আওতাধীন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন করবেন, যার মধ্যে রয়েছে: ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন: কারিগরি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট: প্রকৌশল ও কারিগরি গবেষণার বিশেষ ক্ষেত্র। মেডিকেল সেকশন: স্পেশালাইজড ম্যাটস (MATS) ও গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট। স্কাউটিং ও সামাজিক উন্নয়নে অঙ্গীকার গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ একটি বহুত্ববাদী ও শৃঙ্খলিত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। নবাগত জেলা প্রশাসকের এই ইতিবাচক সাড়া কুষ্টিয়ার শিক্ষা ও স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় রোভার স্কাউট সদস্যদের সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান এবং গুরুকুলের শিক্ষা কার্যক্রমের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। পরিশেষে, রোভার নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে একটি সমৃদ্ধ ও সমৃদ্ধশালী কুষ্টিয়া গড়ে তোলার লক্ষে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
গুরুকুলের উদ্যোগে কুমারখালী-খোকসায় শুরু হলো দক্ষ প্রযুক্তি পেশাজীবী তৈরির কার্যক্রম

কুমারখালী-খোকসা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা। গুরুকুলের সৌজন্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো “দক্ষ প্রযুক্তি পেশাজীবী তৈরির প্রকল্প”, যা বিশেষভাবে কুমারখালী ও খোকসার তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর বিশেষ প্রকল্প “প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্প, কুমারখালী-খোকসা”-এর আওতায়। সাংগঠনিক সহযোগিতা প্রদান করছে কুমারখালী-খোকসা শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিষদ। প্রকল্পের লক্ষ্য প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো— আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল স্কিলে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলা। প্রযুক্তি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানে সরাসরি যুক্ত হওয়ার উপযোগী করে তোলা। প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির সুযোগ বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— গুরুকুল প্রমুখ জনাব সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর গুরুকুল আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ল্যাবের প্রযুক্তি শাখার প্রধান আল এমরান তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষক সহকারী অধ্যাপক আল-মামুন সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের লিগ্যাল বিভাগের প্রধান শামিম রানা এবং গুরুকুল কুমারখালী সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম। সম্ভাবনার দিগন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে কুমারখালী-খোকসার শত শত শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে প্রযুক্তি-দক্ষ হয়ে উঠবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তারা সরাসরি সুযোগ পাবে। এতে শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে কর্মক্ষম ও প্রযুক্তিনির্ভর করে “ডিজিটাল বাংলাদেশ”-এর স্বপ্নপূরণে ভূমিকা রাখবে।
গুরুকুল বিজয় দিবস আন্তঃটেকনোলজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০১৬ এর উদ্বোধন

কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী গুরুকুল বিজয় দিবস আন্তঃটেকনোলজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট–২০১৬। শনিবার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ খেলার মাঠে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বদরুদ্দোজা। অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়া শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার নওয়াব আলী সহকারী রেজিস্ট্রার গোলাম আজম বিশ্বাস ক্রীড়া ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. এ. এস. এম. মুসা কবীর কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিশান আলী প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন— “ক্রীড়া আমাদের দেয় সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমেই আমরা একটি সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে পারি। ক্রিকেট আজ বাংলাদেশের গৌরব, যা বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতির মুখ উজ্জ্বল করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার খেলাধুলার উন্নয়নে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছেন। মহান বিজয়ের মাসে গুরুকুলের এই আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকা উচিত।” উদ্বোধনী দিনের খেলাগুলো উদ্বোধনী দিনে মোট তিনটি রোমাঞ্চকর খেলা অনুষ্ঠিত হয়— টেক্সটাইল টেকনোলজি জিডিপিএম টেকনোলজিকে ৫৩ রানে পরাজিত করে। সিভিল টেকনোলজি দুই উইকেটে জয়ী হয় কম্পিউটার টেকনোলজির বিপক্ষে। দিনের শেষ খেলায় ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি মেকানিক্যাল টেকনোলজিকে ২৭ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। বিশেষ আকর্ষণ টুর্নামেন্টের শেষ দিনে গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন এবং গুরুকুল মেডিকেল সেকশনের মেয়েদের দুটি দল অংশ নেবে। এই অংশগ্রহণকে আয়োজকরা টুর্নামেন্টের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আয়োজক ও সহযোগিতা এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন— টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, সিভিল টেকনোলজি প্রধান সৈকত হোসেন যুগ্ম আহ্বায়ক, আর এস ট্রেড প্রধান আব্দুল্লাহ আল মাসুম সিভিল টেকনোলজি শিক্ষক ইমরান মাহমুদ আরএস ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শর্মিলা আক্তার ও শামীমা পারভিন আরএস কেমিস্ট্রি শিক্ষক কায়েস উদ্দিন প্যাথলজি বিভাগের শিক্ষক মিশকাতুর রহমান টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষক সালাউদ্দিন আহমেদ আহ্বান গুরুকুলের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন— “তিন দিনব্যাপী গুরুকুল বিজয় দিবস আন্তঃটেকনোলজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সকলের জন্য উন্মুক্ত। আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি মাঠে এসে তরুণদের এই প্রাণবন্ত খেলায় অংশ নিতে।”
উগ্রবাদ ও চরমপন্থা রুখতে ছাত্র-শিক্ষক সচেতনতার বিকল্প নেই: কুষ্টিয়া গুরুকুলে সেমিনার অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়া: সমসাময়িক বিশ্ব ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে উগ্রবাদ ও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক-এর পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর (শনিবার) গুরুকুলের লালন সাঁই ক্যাম্পাসের সেমিনার হলে “Countering Radicalization and Extremism: Role of Students & Teachers” শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় ও তাত্ত্বিক অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে প্রধান আলোচক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন: “আমি ইসলামের ইতিহাসের ছাত্র এবং পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে পড়াশোনা করেছি। কোনো ধর্মই সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোরআন ও মুসলিম মনীষীদের সিদ্ধান্তের অপব্যাখ্যা দিয়ে তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করছে। ১৯ শতকে রোপিত এই বিষবৃক্ষের ফল আজ ২০ শতককে ভোগ করতে হচ্ছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, একজন জঙ্গিবাদী শুধু নিজেকেই ধ্বংস করে না, বরং তার পুরো পরিবারকে আজীবনের জন্য অভিশপ্ত জীবন দিয়ে যায়। মূল প্রবন্ধ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রতিকার সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স-এর পরিচালক এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ। তিনি তাঁর প্রবন্ধে বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিবর্তন এবং বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। জঙ্গিবাদ মুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। গুরুকুলের নিয়মিত উদ্যোগ ও সাংগঠনিক অবস্থান সেমিনারে প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন গুরুকুল প্রমুখ, দেশবরেণ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন। গুরুকুল প্রমুখ তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন: “গুরুকুলের প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চরমপন্থার বিষাক্ত থাবা থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ ও মানবিক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে আমরা নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করছি। দক্ষ জনশক্তি গড়ার পাশাপাশি সচেতন নাগরিক গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।” সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শপথ গ্রহণ করেন। বক্তারা একমত হন যে, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার সঠিক প্রয়োগই পারে তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদের হাত থেকে রক্ষা করতে। অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজ, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক। নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া | ৫ নভেম্বর, ২০১৬
কুষ্টিয়া গুরুকুলের কম্পিউটার টেকনোলজির বিভাগের অভিভাবক সমাবেশ, ২০১৬

কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষে কুষ্টিয়া গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট (২০১৬) গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস-১ এর হল রুমে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে শতাধিক অভিভাবক অংশ নেন, যা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের মধ্যে এক নিবিড় মেলবন্ধন তৈরি করে। সভার সভাপতিত্ব ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চঞ্চল আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ। তাদের মধ্যে ছিলেন: খোন্দকার রুহুল আমিন, ইনচার্জ (ফাইন্যান্স) শামীম রানা, ইনচার্জ (লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিন) রফিকুল ইসলাম, ইনচার্জ (কমার্শিয়াল) মাধবী আইরিন ও আরিফুল ইসলাম, কম্পিউটার ট্রেড শিক্ষকবৃন্দ। শিক্ষার মান ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব সমাবেশে বক্তারা গুরুকুলের মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করেন। তারা জানান, কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশে গুরুকুল বদ্ধপরিকর। বক্তারা উল্লেখ করেন: “শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব এবং রোভার স্কাউটিংয়ের মতো এক্সট্রা কারিকুলাম কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে তারা কর্মক্ষেত্রে এবং সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।” দক্ষ জনশক্তি ও বৈশ্বিক সুযোগ দেশের প্রথিতযশা তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর দর্শন অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল সেকশনসহ সারাদেশে গুরুকুলের অধীনে ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আধুনিক কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের জন্য ‘দক্ষ জনশক্তি’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বক্তারা গর্বের সাথে জানান যে, গুরুকুলের অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বাইরেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দক্ষতার সাথে কাজ করছে। মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্ব সমাবেশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পড়াশোনার পরিবেশ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার এবং টেকনিক্যাল ল্যাবের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ প্রতিটি প্রশ্নের যৌক্তিক ও সন্তোষজনক জবাব দেন। অভিভাবকদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ ডায়েরিবদ্ধ করা হয় যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা যায়। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ উল্লেখ্য যে, এই সমাবেশটি ছিল গুরুকুলের সপ্তাহব্যাপী অভিভাবক সমাবেশ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন। এর আগে শনিবার প্রথম দিনে গার্মেন্টস ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং টেকনোলজির অভিভাবক সমাবেশ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। অভিভাবক সমাবেশের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। দিনশেষে এক চমৎকার হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।
কুষ্টিয়া গুরুকুলের মেডিকেল বিভাগসমূহে নবীন বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের কুষ্টিয়াস্থ মেডিকেল বিভাগসমূহে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান গতকাল বেলা ১১টায় শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ সাসেগ কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস-২ এ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মেডিকেল সেকশনের একাডেমিক ইনচার্জ মন্টু বাইন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাসেগ-গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের পরিচালক (প্রশাসন) মনির হাসান। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান সমন্বয়কারী তানভীর মেহেদি, লিগ্যাল ও মিডিয়া সমন্বয়কারী শামীম রানা, কমার্শিয়াল বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্টার দীপক কুমার মন্ডল, এবং ফাইনান্স ইনচার্জ খন্দকার রুহুল আমিন। বক্তাদের বক্তব্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর-এর হাতে গড়া সাসেগ-গুরুকুল শিক্ষা পরিবার ইতোমধ্যেই ঢাকা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এতদঞ্চলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। তারা আরও জানান, ২০২০ সালের মধ্যে সাসেগ-গুরুকুল শিক্ষা পরিবার সারা বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে কারিগরি শিক্ষা আরও বিস্তৃত হয় এবং দেশের দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি পায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠার নতুন উদ্যোগ ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী, খোকসা, রংপুর ও মাগুরা জেলায় নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। নবীন বরণের আয়োজন অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরবর্তীতে সাসেগ-গুরুকুল কালচারাল ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন মেডিকেল সেকশনের শিক্ষক ও সাসেগ-গুরুকুল কালচারাল ক্লাবের সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস। সহযোগিতায় ছিলেন শিক্ষক আলমগীর হোসেন, আব্দুল আলিম এবং ফজলে হাসান রাব্বি।