আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো।
আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা
সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,
আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।
আজ ১২ মে, ২০২৬। সমগ্র বিশ্বে আজ অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক নার্স দিবস’। আজকের এই দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি মানবসেবার এক অনন্য প্রতীকের জন্মদিন। ১৮২০ সালের আজকের এই দিনে ইতালির ফ্লোরেন্সে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আধুনিক নার্সিং পরিষেবার অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং বিশ্বের সকল নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই এই দিবসটি পালন করা হয়।
উপস্থিত সুধী,
ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি, আন্তর্জাতিক ধাত্রী পরিষদ (ICN) ১৯৬৫ সাল থেকে এই দিনটি পালন করে আসছে। তবে ১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ মে দিনটিকে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল আমাদের শিখিয়েছেন যে, নার্সিং কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান ব্রত বা সেবা। তিনি ছিলেন ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’, যিনি ক্রিমিয়ার যুদ্ধে প্রদীপ হাতে সেবা দিয়ে মানবতার এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছিলেন।
প্রিয় সুধী,
প্রতি বছর এই দিবসের একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য থাকে যা আমাদের আগামীর পথ দেখায়। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে:
“আমাদের নার্স। আমাদের ভবিষ্যৎ। ক্ষমতায়িত নার্সরাই জীবন বাঁচান” (Our Nurses. Our Future. Empowered Nurses Save Lives)।
এই প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হলেন আমাদের নার্সরা। তাঁদের যদি আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উপযুক্ত পরিবেশে ক্ষমতায়িত করা যায়, তবে তাঁরা আরও নিপুণভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবেন।
সেই দর্শনে দীক্ষিত হয়েই আমরা আজ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মতো মহান ‘আলোকবর্তিকা’র জীবনী চর্চা করি। আমরা বিশ্বাস করি, নার্সদের নিঃস্বার্থ সেবা ও মমত্ববোধ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরাও নিজেদের জীবনকে পরোপকারে নিয়োজিত করতে পারি। একজন নার্স যখন ক্ষমতায়িত হয়ে এবং হাসিমুখে রোগীর সেবা করেন, তখন সেখানে কেবল চিকিৎসা হয় না, বরং মানবতার এক জয়গান গীত হয়।
সেই রেওয়াজে আমরা আজ বিশ্বের সকল নার্স ও ধাত্রীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—সেবা ও ত্যাগের যে আদর্শ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল রেখে গেছেন, তা যেন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনেও প্রতিফলিত হয়।
ধন্যবাদ সবাইকে।
জয় বাংলা!
জয় বঙ্গবন্ধু!
জয় গুরুকুল!
* বক্তৃতাটি ২০২৬ সালের জন্য আপডেট করা হলো।