“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা”—এই চিরন্তন আহ্বানকে বুকে ধারণ করে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, শেকড়ের টান ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৬

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা
দিনের শুরু হয় ভোরের স্নিগ্ধতায় বৈশাখী রাগের মূর্ছনায়। সকাল ৮টায় গুরুকুল লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়াস্থ লালন সাঁই ক্যাম্পাস থেকে বের করা হয় বর্ণিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণকালে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা লোকজ মোটিফ, বিভিন্ন মুখোশ এবং অসাম্প্রদায়িক শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড শহরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শোভাযাত্রা শেষে লালন সাঁই ক্যাম্পাসে শুরু হয় মূল উৎসবের আমেজ।
ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিশেষ দিকসমূহ:
- ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ক্রীড়া: হাড়িভাঙা, মোরগ লড়াই ও দড়ি টানাটানির মতো বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ খেলাধুলার মাধ্যমে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
- সাংস্কৃতিক আসর: নেটওয়ার্কের নিজস্ব শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বৈশাখী গান, লালনগীতি এবং কালজয়ী কবিতা আবৃত্তিতে মুখরিত হয় পুরো ক্যাম্পাস।
- পান্তা-ইলিশের আসর: বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে পরিবেশন করা হয় পান্তা-ইলিশ ও নানা পদের ভর্তা।

প্রমুখের বাণী: বহুত্ববাদ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
অনুষ্ঠানে গুরুকুল লার্নিং নেটওয়ার্কের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বিশেষ বাণীতে নববর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন:
“পহেলা বৈশাখ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার নবায়ন। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাসী। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি নিজের শেকড় ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করুক। প্রতি বছর কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দিই যে—আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি।”
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
উল্লেখ্য যে, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে আসছে। এটি এখন এই নেটওয়ার্কের বার্ষিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য ও বিশেষ গুরুত্বের অংশ। মেডিকেল (ম্যাটস ও নার্সিং) এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে যে, এটি কেবল একটি লার্নিং নেটওয়ার্ক নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রও বটে।
সমাপনী ও আগামীর প্রত্যাশা
সাংস্কৃতিক কমিটির তদারকিতে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে। অংশগ্রহণকারী ৩ শতাধিক প্রাণের এই স্পন্দন জানান দিচ্ছিল যে, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের জন্য বয়ে আনবে নতুন সম্ভাবনা, দক্ষতা ও অর্জনের নতুন বার্তা।