AI যে চাকরিগুলো ছিনিয়ে নিতে পারবে না?

আজ যারা আগামীর কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের অন্তত আগামী তিন থেকে চার দশক কর্মক্ষেত্রে নিজের প্রাসঙ্গিকতা (Relevance) টিকিয়ে রাখতে হবে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি শিল্প বিপ্লবই যেমন অগণিত নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি বিলুপ্ত করেছে অসংখ্য প্রচলিত পেশা। তবে এবারের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI। শ্রমজীবী মানুষ ইতিপূর্বে কখনোই বুদ্ধিবৃত্তিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে এত বড় প্রতিযোগিতার মুখে পড়েনি। তাই বর্তমান সময়ের ক্যারিয়ার প্রত্যাশীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে। এমন সব পেশায় নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে, যেখানে AI কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারবে না; বরং বড়জোর একজন দক্ষ সহকারীর ভূমিকা পালন করবে। আমাদের আজকের আলোচনা সেইসব অপ্রতিদ্বন্দ্বী পেশাগুলো নিয়ে। এ আই যুগেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী: যে পেশাগুলো হারাবে না মানুষের ছোঁয়া চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ তরুণ প্রজন্মের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই কি তবে আমাদের কর্মসংস্থান দখল করে নেবে? প্রযুক্তি বিশারদদের মতে, এ আই হয়তো কাজের ধরণ বদলে দেবে, কিন্তু মানুষের এমন কিছু সহজাত ক্ষমতা আছে যা কোনো অ্যালগরিদম দিয়ে প্রতিস্থাপন করা অসম্ভব। গুরুকুল ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য আমরা আজ আলোচনা করব সেই বিশেষ ক্ষেত্রগুলো নিয়ে, যেখানে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকবে। ০১. সহানুভূতি এবং মানসিক স্বাস্থ্য (Empathy & Mental Health) এ আই বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু সে মানুষের দুঃখ অনুভব করতে পারে না। একজন সাইকোলজিস্ট, থেরাপিস্ট বা কাউন্সেলর যখন কোনো বিষণ্ণ মানুষের সামনে বসেন, তখন কেবল কথা দিয়ে নয়—চোখের ভাষা, স্পর্শ এবং সহমর্মিতার মাধ্যমে যে নিরাময় তৈরি হয়, তা কোনো রোবট বা চ্যাটবট করতে পারবে না। মানুষের জটিল আবেগ ও অনুভূতির মারপ্যাঁচে ‘হিউম্যান টাচ’ বা মানবিক স্পর্শের কোনো বিকল্প নেই। যেমন: ১. মনোবিজ্ঞানী (Psychologist) – মানুষের মনের গহীনের জটিল ক্ষতগুলো সহমর্মিতার সাথে শুনে বৈজ্ঞানিক ও মানবিক সমাধান দেওয়া। ২. নার্স (Nurse) – অসুস্থ রোগীর সেবা করার সময় স্নেহের স্পর্শ ও সাহস জুগিয়ে দ্রুত সুস্থতায় সহায়তা করা। ৩. মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist) – শুধু ওষুধ নয়, বরং রোগীর মানসিক অবস্থা বুঝে উপযুক্ত চিকিৎসা ও ভরসা প্রদান করা। ৪. ফিজিওথেরাপিস্ট (Physiotherapist) – শারীরিক যন্ত্রণার সময় ধৈর্য ধরে ব্যায়াম করানো এবং রোগীর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করা। ৫. মেন্টাল থেরাপিস্ট (Mental Therapist) – বিষণ্ণতা বা উদ্বেগে থাকা মানুষের চোখের ভাষা বুঝে তাদের আবেগকে সঠিক দিশা দেওয়া। ৬. কেয়ার গিভার (Caregiver) – বয়স্ক বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের একাকীত্ব দূর করে তাদের পারিবারিক ও আবেগীয় উষ্ণতা দেওয়া। ৭. ফিজিক্যাল ট্রেইনার (Physical Trainer) – শরীরচর্চার সময় ক্লান্তি বা হতাশা এলে উৎসাহ দিয়ে লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করা। ৮. প্যালিয়েটিভ কেয়ার নার্স (Palliative Care Nurse) – মুমূর্ষু রোগীর শেষ সময়ে তাদের হাত ধরে পাশে থেকে মানসিক শান্তি নিশ্চিত করা। ৯. চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট (Child Specialist) – শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় তাদের অবুঝ আচরণকে ভালোবাসা ও ধৈর্যের সাথে গাইড করা। ১০. রিলেশনশিপ কাউন্সেলর (Relationship Counselor) – দুই মানুষের মধ্যকার মান-অভিমান ও ইগোর লড়াইগুলো মানবিক অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে মীমাংসা করা। ০২. কৌশলগত নেতৃত্ব এবং সংকট ব্যবস্থাপনা (Strategic Leadership) একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও বা নীতি-নির্ধারক যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন কেবল ডেটা বা তথ্য দেখেন না; তিনি প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি, কর্মীদের নৈতিক মনোবল এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মাথায় রাখেন। সংকটের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে কূটনৈতিক সমাধান বের করা বা নৈতিক দ্বন্দ্বে সঠিক পথ বেছে নেওয়া একমাত্র মানুষের পক্ষেই সম্ভব। এ আই পরামর্শ দিতে পারে, কিন্তু দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারে না। যেমন: ১. প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) – ডেটা বিশ্লেষণের উর্ধ্বে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া। ২. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ (Disaster Manager) – আকস্মিক সংকটে তাৎক্ষণিক উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নেতৃত্ব দেওয়া। ৩. কূটনীতিক (Diplomat) – দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলী আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। ৪. হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টর (HR Director) – প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যকার আবেগীয় দ্বন্দ্ব মিটিয়ে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ও নৈতিক মনোবল বজায় রাখা। ৫. জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ (PR Specialist) – কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনাম সংকটে পড়লে কৌশলী বার্তার মাধ্যমে জনমত গঠন ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। ৬. সামাজিক নেতা বা জন প্রতিনিধি (Public Leader) – জনগণের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা বুঝে তাদের সঠিক দিশা দেওয়া এবং সংকটে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া। ৭. এথিক্স অফিসার (Ethics Officer) – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তির ব্যবহারে নৈতিক মানদণ্ড রক্ষা করে সঠিক ও মানবিক পথ বেছে নেওয়া। ৮. পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ (Change Manager) – বড় কোনো পরিবর্তনের সময় কর্মীদের ভয় ও দ্বিধা দূর করে তাদের নতুনত্বের সাথে খাপ খাওয়ানো। ৯. আর্বিট্রেটর বা সালিশকারী (Arbitrator) – জটিল কোনো ব্যবসায়িক বা আইনি বিবাদে নিরপেক্ষ থেকে উভয় পক্ষের জন্য সম্মানজনক সমাধান বের করা। ১০. ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার (Investment Banker) – বাজারের অস্থিরতায় কেবল গ্রাফ না দেখে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি ও মানবিক প্রেক্ষাপট বিচার করে বিনিয়োগ করা। ০৩. উচ্চতর সৃজনশীলতা ও মৌলিক উদ্ভাবন (Creative Innovation) এ আই বিদ্যমান তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ছবি আঁকে বা লেখা লেখে, যা মূলত এক ধরণের ‘রিকমবিনেশন’। কিন্তু একদম নতুন কোনো দর্শন বা বৈপ্লবিক কোনো শৈল্পিক ধারণা যা আগে কখনো ছিল না—তা মানুষের মস্তিস্ক থেকেই আসে। সৃজনশীল পরিচালক, মৌলিক লেখক এবং উদ্ভাবনী গবেষকদের জায়গা এ আই কোনোদিন নিতে পারবে না, কারণ এ আই-এর মধ্যে ‘স্বজ্ঞা’ বা Intuition নেই। যেমন: ১. সৃজনশীল পরিচালক (Creative Director) – কোনো ব্র্যান্ড বা প্রকল্পের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এবং অপ্রচলিত কোনো দৃশ্যকল্প বা থিম তৈরি করা। ২. মৌলিক লেখক ও কবি (Author/Poet) – ব্যক্তিগত জীবনদর্শন ও অনুভূতির মিশেলে এমন সাহিত্য রচনা করা যা আগে কখনো সৃষ্টি হয়নি। ৩. উদ্ভাবনী গবেষক (Innovative Researcher) – প্রচলিত তথ্যের বাইরে গিয়ে নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা প্রযুক্তির মৌলিক ধারণা আবিষ্কার করা। ৪. শৈল্পিক নকশাকার (Artistic Designer) – শুধু বর্তমান ট্রেন্ড নয়, বরং ভবিষ্যতের নতুন কোনো ফ্যাশন বা আর্কিটেকচারাল স্টাইল উদ্ভাবন করা। ৫. দার্শনিক (Philosopher) – মানবজীবন ও মহাবিশ্ব নিয়ে নতুন কোনো চিন্তাধারা বা নৈতিক কাঠামো তৈরি করা যা সমাজকে পথ দেখায়। ৬. সংগীতকার (Composer) – হৃদয়ের গভীর থেকে আসা সম্পূর্ণ নতুন কোনো সুর বা তাল সৃষ্টি করা যা মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলে। ৭. চিত্রশিল্পী (Fine Artist) – বিমূর্ত চিন্তা ও রঙের খেলায় এমন কোনো চিত্রপট তৈরি করা যা নির্দিষ্ট কোনো ডেটাসেটের ওপর নির্ভরশীল নয়। ৮. উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা (Innovative Entrepreneur) – সমাজে বিদ্যমান কোনো সমস্যার এমন কোনো সমাধান বা ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করা যা আগে কেউ ভাবেনি। ৯. স্ক্রিপ্ট রাইটার (Screenwriter) – মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব ও সমাজের সূক্ষ্ম অসংগতিগুলো নিয়ে মৌলিক ও প্রভাব বিস্তারকারী সিনেমার গল্প লেখা। ১০. গবেষণা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ (R&D Specialist) – নিত্যনতুন উপাদানের সংমিশ্রণে এমন কোনো পণ্য বা ঔষধ তৈরি করা যা মানুষের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। ০৪.
বিশ্বজুড়ে নার্স সংকট: স্বাস্থ্যসেবায় এক ক্রমবর্ধমান সংকট

বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে নার্স সংকট। ধীরে ধীরে কর্মী সংখ্যা বাড়লেও বিশ্বব্যাপী এখনো লক্ষাধিক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত নার্স পাচ্ছে না। এর ফলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। আজ আমরা নার্স সংকটের পরিসর, কারণ, আঞ্চলিক বৈষম্য, এর প্রভাব এবং সম্ভাব্য চিত্র নিয়ে আলোচনা করবো। বৈশ্বিক চিত্র: বৃদ্ধি ও ঘাটতি একসাথে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২৫ সালের মে মাসে State of the World’s Nursing 2025 প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বিশ্বে নার্সের সংখ্যা ছিল ২৭.৯ মিলিয়ন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯.৮ মিলিয়ন। ২০২০ সালে এই ঘাটতি ছিল ৬.২ মিলিয়ন। ২০২৩ সালে ৫.৮ মিলিয়ন নার্সের ঘাটতি ছিল। অর্থাৎ কিছুটা কমেছে। ধরা হচ্ছে, পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে ২০৩০ সালে ঘাটতি নেমে আসতে পারে ৪.১ মিলিয়নে। তবে নার্সের চাহিদা বাড়তেই থাকবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিশ্বে ১০ থেকে ১৩ মিলিয়ন নার্স ও ধাত্রীর পদ ফাঁকা থাকতে পারে। কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত? আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য উচ্চ-আয়ের দেশগুলো বিশ্বের মাত্র ১৭% জনসংখ্যা উচ্চ-আয়ের দেশে বাস করলেও তারা বিশ্বব্যাপী নার্সদের প্রায় ৪৬% চাকরি দেয়। জার্মানি, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ঘাটতি মেটাতে বিদেশি নার্সের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার কিছু দেশে নার্সের ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেখানকার নার্সরা উন্নত বেতন ও সুযোগের কারণে ধনী দেশে চলে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিছু বিশেষজ্ঞ একে স্বাস্থ্যখাতে নতুন ধরনের “ঔপনিবেশিকতা” হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। সংকটের প্রধান কারণগুলো ⚠️ অবসর ও কর্মী হ্রাস আগামী ১০ বছরে বিশ্বব্যাপী ১৭% নার্স অবসরে যাবেন, ফলে কেবল বর্তমান সংখ্যাই ধরে রাখতে ৪.৭ মিলিয়ন নতুন নার্স নিয়োগ প্রয়োজন হবে। করোনা মহামারি এই হার আরও বাড়িয়েছে। ক্লান্তি ও কর্মপরিবেশের দুরবস্থা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চাপ, পর্যাপ্ত জনবল না থাকা এবং প্রত্যাশার চেয়ে কম বেতনের কারণে বিশ্বজুড়ে ৪০% নার্স পেশাগত ক্লান্তি ও ৪৩% মানসিক অবসাদে ভুগছেন। প্রশিক্ষণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা অনেক দেশেই পর্যাপ্ত নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ সুবিধা, ভালো বেতন ও কর্মপরিবেশের অভাব রয়েছে। এর ফলে পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন নার্স তৈরি করা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মাইগ্রেশন (Brain Drain) উন্নত দেশগুলো নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নার্স নিয়োগ করে। আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অভিজ্ঞ নার্স চলে যাওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। আঞ্চলিক প্রবণতা ও উদাহরণ যুক্তরাজ্য ও জার্মানি যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার নার্সের পদ শূন্য থাকায় ২০২০–২০২৪ সালের মধ্যে ৩২,০০০-এর বেশি বিদেশি প্রশিক্ষিত নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জার্মানি ২০২৫ সালের মধ্যে ১,৫০,০০০ নার্সের ঘাটতি পূরণের জন্য বিদেশ থেকে নিয়োগ দিচ্ছে। আফ্রিকা ও নিম্ন আয়ের দেশগুলো গাম্বিয়া, ক্যামেরুন ও ঘানায় অল্প বেতনের (< $100/মাস) কারণে নার্সরা দেশ ছাড়ছেন। শুধু ঘানাতেই স্বাস্থ্যকর্মীদের ৪২% দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। উত্তর আমেরিকা ও কানাডা কানাডায় ২০১৭ সাল থেকে নার্সের শূন্যপদ ২০০% বেড়ে ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েছে ২৮,০০০-এরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রেও একই প্রবণতা বিদ্যমান। মানবিক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রভাব রোগীর যত্নে প্রভাব অপর্যাপ্ত নার্সিং স্টাফের কারণে হাসপাতালে নিরাপদ সেবা বিঘ্নিত হয়। রোগী-নার্স অনুপাত কমে গেলে ভুল চিকিৎসা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। অর্থনৈতিক ক্ষতি একজন নার্সকে প্রশিক্ষণ দিতে দেশের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ লাগে। তাই সেবা না দিয়ে বিদেশে চলে গেলে প্রতি নার্সে প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার হুমকি অসাম্যপূর্ণ নার্স বণ্টনের কারণে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG 3) পূরণে বড় বাধা তৈরি হচ্ছে। করণীয় ও নীতি প্রস্তাবনা ১. শিক্ষা ও ধরে রাখায় বিনিয়োগনতুন নার্স তৈরি করতে বেশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর মান উন্নত করতে হবে। নার্সদের বেতন বাড়াতে হবে এবং পদোন্নতি বা বিশেষ প্রশিক্ষণের মতো ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ দিতে হবে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নার্সরা দীর্ঘদিন পেশায় থাকতে আগ্রহী হয়। ২. নৈতিক নিয়োগ নীতিউন্নত দেশগুলোকে নার্স নিয়োগের সময় WHO-র নৈতিক নিয়োগ নীতি মেনে চলতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া এমন হতে হবে যাতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কোনো ক্ষতি না হয়। সম্ভব হলে উন্নত দেশগুলো নিয়োগের পাশাপাশি উৎস দেশগুলোর নার্স তৈরির প্রকল্পে সহযোগিতা করবে। ৩. টাস্ক শিফটিং (Task Shifting)হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কিছু নিয়মিত কাজ, যেমন রোগীর প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ, ওষুধ সাজানো বা ফলো-আপ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী কর্মীদের দিয়ে করানো যেতে পারে। এতে নার্সরা জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বেশি সময় দিতে পারবেন এবং রোগীর যত্নের মান বাড়বে। ৪. আন্তর্জাতিক সহায়তা ও অর্থায়ননার্স সংকটে থাকা দেশগুলোকে বৈদেশিক সহায়তা বাড়াতে হবে। উন্নত দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহে বিনিয়োগ করতে হবে। এতে এসব দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হবে এবং নার্স সংকট কমবে। কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নার্সিং এখন বিশ্বের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন পেশা। বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী ও মহামারির প্রভাবে এই পেশার চাকরির সুযোগ আরও বাড়ছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রশিক্ষণ, নৈতিক নিয়োগ ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নার্স সংকট শুধু কর্মী ঘাটতির সমস্যা নয়—এটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট। বর্তমানে বিশ্বে ৫.৮ মিলিয়ন নার্স কম রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই ঘাটতি ১০ মিলিয়নের বেশি হতে পারে। তাই শিক্ষা, নৈতিক নিয়োগ, ধরে রাখার কৌশল ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বিনিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি। তথ্যসূত্র State of the World’s Nursing 2025 Report. Geneva: WHO; May 12 2025 Health Policy Watch. “Critical Global Shortage of Nurses Undermines Universal Healthcare.” May 2025 – healthpolicy-watch.news Nurses International. “Global Nursing Shortage by 2030.” May 2023 – nursesinternational.org International Council of Nurses. ICN report: Nursing shortage is a global health emergency. Mar 2023 – icn.ch Financial Times. “Health Worker Shortage Effects.” 2024 – ft.com The Guardian. “Recruitment of nurses from global south branded ‘new form of colonialism’.” Mar 2024 The Guardian. “UK cuts health aid while hiring nurses” Jan 2025 McKinsey & Company. Nursing in 2023 – mckinsey.com
ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে আজকের আয়োজন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্র কৌশল বলতে মেশিন বা কলকব্জা ও এর যন্ত্রাংশের নকশা প্রস্তুত, উৎপাদন, মেরামত, রক্ষাণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন সর্ম্পকৃত বিষয়কে বুঝায়। এটি যান্ত্রিক ডিভাইস এবং সিস্টেম তৈরি এবং উন্নত করতে পদার্থবিদ্যা, গণিত, বস্তুগত বিজ্ঞান এবং প্রকৌশলের নীতিগুলিকে একত্রিত করে। যান্ত্রিক প্রকৌশল আধুনিক সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা প্রযুক্তি এবং শিল্পে উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছে। ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং যান্ত্রিক প্রকৌশলের মূল দিক সমূহ: মেকানিক্স: শক্তির অধ্যয়ন এবং পদার্থের উপর তাদের প্রভাব। এর মধ্যে রয়েছে স্ট্যাটিক্স, গতিবিদ্যা, এবং পদার্থের মেকানিক্স (বিভিন্ন লোডের মধ্যে কীভাবে উপকরণগুলি বিকৃত হয়)। তাপগতিবিদ্যা: শক্তি, তাপ এবং তাদের রূপান্তরের বিজ্ঞান। যান্ত্রিক প্রকৌশলীরা শক্তি রূপান্তর, গরম, শীতলকরণ এবং হিমায়নের জন্য সিস্টেম ডিজাইন করতে তাপগতিবিদ্যা ব্যবহার করে। ফ্লুইড মেকানিক্স: তরল (তরল এবং গ্যাস) কীভাবে প্রবাহিত হয় এবং কীভাবে তারা তাদের চারপাশের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের উপর শক্তির প্রভাব অন্তর্ভুক্ত। তাপ স্থানান্তর: কীভাবে তাপ পদার্থের মধ্য দিয়ে এবং বিভিন্ন পরিবেশের মধ্যে চলে তার অধ্যয়ন। থার্মাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ডিজাইন করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপাদান বিজ্ঞান: পদার্থের বৈশিষ্ট্য এবং আচরণ বোঝা। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের জন্য উপযুক্ত উপকরণ নির্বাচন করা এবং নতুন উপকরণ ডিজাইন করা। কন্ট্রোল সিস্টেম: কিভাবে গতিশীল সিস্টেমের আচরণকে ম্যানিপুলেট করা যায় তার অধ্যয়ন। এর মধ্যে এমন সিস্টেম ডিজাইন করা জড়িত যা ঝামেলা সত্ত্বেও কাঙ্খিত আউটপুট বজায় রাখে। ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংঃ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা হল একটি বিশেষ শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম যা শিক্ষার্থীদের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে মৌলিক জ্ঞান এবং ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। সাধারণত চার বছর বিস্তৃত এই প্রোগ্রামটি মেকানিক্স, থার্মোডাইনামিক্স, ফ্লুইড মেকানিক্স, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এবং কম্পিউটার-এডেড ডিজাইন (CAD) এর মতো প্রয়োজনীয় বিষয়গুলিকে কভার করে। শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষাগারের কাজে নিযুক্ত থাকে, যা তাদের বাস্তব-বিশ্বের যান্ত্রিক সমস্যাগুলির তাত্ত্বিক ধারণাগুলি বুঝতে এবং প্রয়োগ করতে সহায়তা করে। ম্যানুফ্যাকচারিং, স্বয়ংচালিত, মহাকাশ এবং শক্তির মতো শিল্পে বিভিন্ন এন্ট্রি-লেভেল পদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতার সাথে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার জন্য পাঠ্যক্রমটি তৈরি করা হয়েছে। ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কেন পড়বেন? বর্তমান সময়ে সকল ক্ষেত্রে আধুকি যন্ত্রপাতির ব্যপক ব্যবহার বেড়েছে। আর এই সকল যন্ত্রপাতি প্রস্তুত, ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন যন্ত্রকৌশলে দক্ষ জনবল। আর যন্ত্রকৌশলে দক্ষ জনবল তৈরী করতে ডিপ্লোমা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যেখানে মেশিন, সেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ডিপ্লোমা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের পদবীঃ ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর নিম্নলিখিত পদে চাকরী হয়ে থাকে- উপ সহকারী প্রকৌশলী প্রডাকশন ইনচার্জ প্রডাকশন সুপারভাইজার মেইটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার প্লান্ট ইঞ্জিনিয়ার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব বা কাজঃ ১। নকশা ও উন্নয়নঃ খসড়া এবং নকশা: CAD সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে যান্ত্রিক উপাদান এবং সিস্টেমের জন্য বিস্তারিত প্রযুক্তিগত অঙ্কন এবং নকশা তৈরি করুন। প্রোটোটাইপ ডেভেলপমেন্ট: প্রোটোটাইপগুলির কার্যকারিতা এবং কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে তাদের বিকাশ এবং পরীক্ষায় সহায়তা করুন। ২। রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কারঃ সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ: সর্বোত্তম কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে যান্ত্রিক সিস্টেম এবং যন্ত্রপাতিগুলিতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করুন। সমস্যা সমাধান: যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামের যান্ত্রিক সমস্যাগুলি নির্ণয় এবং মেরামত করা, ডাউনটাইম কম করা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করা। ৩। মান নিয়ন্ত্রণঃ পরিদর্শন: যান্ত্রিক উপাদান এবং সিস্টেমগুলি নির্দিষ্ট মান এবং সহনশীলতা পূরণ করে তা নিশ্চিত করার জন্য পরিদর্শন পরিচালনা করুন। পরীক্ষা: যান্ত্রিক সিস্টেমে তাদের কর্মক্ষমতা এবং নিরাপত্তা ও গুণমানের মানদণ্ডের আনুগত্য যাচাই করতে পরীক্ষা করুন। ৪। উৎপাদন সমর্থনঃ উৎপাদন সহায়তা: উত্পাদনের সরঞ্জামগুলির সেটআপ এবং পরিচালনায় সহায়তা করুন, নিশ্চিত করুন যে উত্পাদন প্রক্রিয়াগুলি সুচারুভাবে চলছে৷ প্রক্রিয়া উন্নতি: উৎপাদন প্রক্রিয়ার উন্নতি এবং দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়নের সুযোগ চিহ্নিত করুন। ৫। প্রকল্প ব্যবস্থাপনাঃ প্রকল্প সহায়তা: প্রজেক্ট ডকুমেন্টেশন, সময়সূচী এবং অগ্রগতি রিপোর্ট প্রস্তুত করে প্রকৌশল প্রকল্পগুলিকে সমর্থন করুন। সমন্বয়: প্রকল্পের সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করতে অন্যান্য প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ এবং বিভাগের সাথে সমন্বয় করুন। ৬। প্রযুক্তিগত ডকুমেন্টেশনঃ ডকুমেন্টেশন: প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন, রক্ষণাবেক্ষণ লগ এবং মেরামতের রিপোর্ট সহ বিস্তারিত রেকর্ড প্রস্তুত এবং বজায় রাখুন। ম্যানুয়াল এবং গাইড: যান্ত্রিক সিস্টেম এবং সরঞ্জামের জন্য ব্যবহারকারীর ম্যানুয়াল এবং রক্ষণাবেক্ষণ গাইড তৈরি করুন। ৭। নিরাপত্তা এবং সম্মতিঃ নিরাপত্তা মান: নিশ্চিত করুন যে সমস্ত কাজ নিরাপত্তা প্রবিধান এবং শিল্প মান মেনে সঞ্চালিত হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সম্মতি: প্রাসঙ্গিক প্রবিধান এবং মানগুলির সাথে আপডেট থাকুন, নিশ্চিত করুন যে সমস্ত যান্ত্রিক সিস্টেম এবং প্রক্রিয়াগুলি সেগুলি মেনে চলে৷ ৮। গ্রাহক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাঃ গ্রাহক সমর্থন: গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করুন, তাদের প্রশ্নের সমাধান করুন এবং যান্ত্রিক পণ্য এবং সিস্টেম সম্পর্কিত সমস্যাগুলি সমাধান করুন৷ প্রশিক্ষণ: যান্ত্রিক সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ট্রেন অপারেটর এবং অন্যান্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান। ৯। পেশাগত উন্নয়ন: যান্ত্রিক প্রকৌশল এবং সম্পর্কিত প্রযুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতিগুলির সমপর্যায়ে থাকার জন্য অবিচ্ছিন্ন শিক্ষা এবং পেশাদার বিকাশে জড়িত থাকা। ডিপ্লোমা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কর্মক্ষেত্রঃ সরকারি সংস্থাঃ দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা হিসাবে সরকারি চাকরি। স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন বিভাগ (এলজিআরডি) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আমর্ড ফোর্স স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ (এইচইডি) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) সড়ক ও জনপথ বিভাগ (আরএইচডি) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বাংলাদেশ রেলওয়ে গণপূর্ত বিভাগ (PWD) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (PWDB) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) বাংলাদেশ পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (BPDC) পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (PGCB) বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ঢাকা ওয়াসা সিটি করপোরেশন সেনাবাহিনী বিভিন্ন বন্দর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষক সরকারি কেনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষক বেসরকারি সংস্থাঃ দেশ বিদেশের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম, কন্সট্রাকশন ফার্ম এবং কনসালটেন্সি ফার্ম এবং যন্ত্র ও কলকব্জা প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন্ন পদে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিয়ে থাকে। যেমন- ওয়ালটন, বাজাজ, নিটল মটরস, রানার, রহিমআফরোজ, হ্যামকো গ্রুপ ইত্যাদি। বিশ্বায়নের সাথে, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিদেশে প্রচুর কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোথায় পড়বেন? দেশের প্রায় সকল সরকারি ও বেসরকারি পলেটেকনিকে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির সুযোগ রয়েছে। কুষ্টিয়াতে দেশসেরা বেসরকারি ইন্সটিটিউট গুরুকুল-এ ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুকুলে কেন পড়বেন? বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী মাল্টিমিডিয়া শ্রেণী কক্ষ যুগোপযোগী আধুনিক ব্যবহারিক ল্যাবরেটরি বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে ইর্ন্টার্ণি ও কর্মসংস্থানের চুক্তি দেশি বিদেশী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোলাবোরেশন একাডেমিক শিক্ষা পাশাপাশি রোভাট স্কাউটিং, ডিবেটিং, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা নিয়মিত অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির যোগ্যতাঃ এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় পাসকৃতরা ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হতে পারেন। নূন্যতম জিপিএ ২.০০। এ ক্ষেত্রে বয়স এবং এসএসসি পাসের বছরের কোন সীমাবদ্ধতা নেই। গুরুকুলে ভর্তির জন্য যোগাযোগঃ ৫/১, জেহের আলী সড়ক, কালিশংকরপুর, কুষ্টিয়া। মোবাইলঃ ০১৭০১-২২৯৬২১, ০১৭০১-২২৯৬২২ উচ্চ শিক্ষা সুযোগঃ বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট সহ বাংলাদেশের অধিকাংশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি বিএসসি ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

প্রকৌশল বিদ্যার প্রাচীনতম এবং সমৃদ্ধ শাখাগুলোর মধ্যে অন্যতম হল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন-রাস্তা, সেতু, স্কুল-কলেজ, হাসাপাতাল, বিমানবন্দর, টানেল, পানি পরিশোধন সিস্টেম নির্মানের জন্য অবস্থান জরিপ, পরিকল্পনা, নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়াদি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অন্তর্ভুক্ত। সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর পরিসরও বাড়ছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অনেকগুলো শাখা রয়েছে। যেমন- স্ট্রাকচারাল, জিওটেক, হাইড্রলিক, এনভায়রনমেনটাল, ট্রান্সপোর্টসন ইত্যাদি। ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংঃ ডিপ্লোমা ইন সিভিল টেকনোলজিতে বিভিন্ন অবকাঠামোর পরিকল্পনা, ডিজাইন, নির্মাণ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করা হয়। সিভিলের তাত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয় ছাড়াও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, গণিত ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় এবং কম্পিউটার সহায়ক (CAD) ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিজিনিয়ারিং এর পাঠ্যক্রমভূক্ত। ডিপ্লোম ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কেন পড়বেন? একজন ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনিশিয়ান, নির্মাণ সুপারভাইজার, সার্ভেয়ার বা বিভিন্ন সেক্টর যেমন নির্মাণ কোম্পানি, ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম, সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থাগুলিতে উপকরণ পরীক্ষা প্রযুক্তিবিদ হিসাবে কাজ করে থাকেন। বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নগরায়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদেরও চাহিদা বাড়ছে। কর্মক্ষেত্রে একজন ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের পদবি হয়ঃ উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সাইট ইঞ্জিনিয়ার ডিজাইনার ড্রাফটম্যান অটোক্যাড ডিজাইনার/অপারেটর ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব বা কাজঃ ১। ডিজাইন এবং পরিকল্পনা: কাঠামোগত অখণ্ডতা, খরচ এবং পরিবেশগত প্রভাবের মতো বিষয়গুলি বিবেচনা করে নির্মাণ প্রকল্পগুলির জন্য ব্লুপ্রিন্ট এবং পরিকল্পনা তৈরি করা। ২। সাইট তত্ত্বাবধান: পরিকল্পনা এবং স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার মান মেনে চলছে তা নিশ্চিত করার জন্য নির্মাণ সাইটের তদারকি করা। ৩। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা: স্থপতি, ঠিকাদার এবং নির্মাণ প্রকল্পের সাথে জড়িত অন্যান্য পেশাদারদের সাথে সমন্বয় করা যাতে বাজেটের মধ্যে সময়মত সমাপ্তি নিশ্চিত করা যায়। ৪। গুণমান নিয়ন্ত্রণ: উপকরণ, কারিগরি দিক এবং সম্পূর্ণ কাঠামো পরিদর্শন করা গুণগত মান নিশ্চিত করা। ৫। জরিপ করা: সীমানা রেখা, উচ্চতা, এবং টপোগ্রাফিক বৈশিষ্ট্য সহ নির্মাণ প্রকল্পগুলির জন্য ডেটা প্রদানের জন্য ভূমি জরিপ পরিচালনা করা। ৬। ডকুমেন্টেশন: প্রতিবেদন, অঙ্কন এবং চিঠিপত্র সহ প্রকল্পের অগ্রগতির সঠিক রেকর্ড বজায় রাখা। ৭। সমস্যা-সমাধান: নির্মাণের সময় উদ্ভূত সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ যেমন নকশা পরিবর্তন, অপ্রত্যাশিত সাইটের অবস্থা, বা স্থানীয় পরিবেশের সাথে বিরোধের সমাধান করা। ৮। ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন: ক্লায়েন্টদের সাথে তাদের প্রয়োজনীয়তা বোঝার জন্য, প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেট প্রদান করতে এবং তাদের যে কোন উদ্বেগ বা প্রশ্ন থাকতে পারে তা সমাধান করার জন্য যোগাযোগ করা। ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের কর্মক্ষেত্রঃ সরকারী সেক্টরঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন বিভাগ (এলজিআরডি) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ (ইইডি) স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ (এইচইডি) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) সড়ক ও জনপথ বিভাগ (আরএইচডি) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বাংলাদেশ রেলওয়ে গণপূর্ত বিভাগ (PWD) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (PWDB) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) বাংলাদেশ পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (BPDC) পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (PGCB) বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ঢাকা ওয়াসা সিটি করপোরেশন সেনাবাহিনী বিভিন্ন বন্দর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষক সরকারি কেনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষক বেসরকারি সংস্থাঃ দেশ বিদেশের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম, কন্সট্রাকশন ফার্ম এবং কনসালটেন্সি ফার্ম বিভিন্ন পদে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিয়ে থাকে। যেমন- কনকর্ড, নাভানা, শেলটেক, প্রাণ আরএফএল ইত্যাদি। বিশ্বায়নের সাথে, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিদেশে প্রচুর কাজ করার সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলিতে যেখানে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। এছাড়াও উদ্যোক্তা হিসাবে ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা তাদের নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম বা নির্মাণ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, ডিজাইন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, বা নির্মাণ চুক্তির মতো পরিষেবা প্রদান করতে পারেন। ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোথায় পড়বেন? দেশের প্রায় সকল সরকারি ও বেসরকারি পলেটেকনিকে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির সুযোগ রয়েছে। কুষ্টিয়াতে দেশসেরা বেসরকারি ইন্সটিটিউট গুরুকুল-এ ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুকুলে কেন পড়বেন? বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী মাল্টিমিডিয়া শ্রেণী কক্ষ যুগোপযোগী আধুনিক ব্যবহারিক ল্যাবরেটরি বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে ইর্ন্টার্ণি ও কর্মসংস্থানের চুক্তি দেশি বিদেশী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোলাবোরেশন একাডেমিক শিক্ষা পাশাপাশি রোভাট স্কাউটিং, ডিবেটিং, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা নিয়মিত অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির যোগ্যতাঃ এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় পাসকৃতরা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হতে পারেন। নূন্যতম জিপিএ ২.০০। এ ক্ষেত্রে বয়স এবং এসএসসি পাসের বছরের কোন সীমাবদ্ধতা নেই। গুরুকুলে ভর্তির জন্য যোগাযোগঃ ৫/১, জেহের আলী সড়ক, কালিশংকরপুর, কুষ্টিয়া। মোবাইলঃ ০১৭০১-২২৯৬২১, ০১৭০১-২২৯৬২২ উচ্চ শিক্ষা সুযোগঃ বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট সহ বাংলাদেশের অধিকাংশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রায় সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও সরাসরি বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভালো গ্রেড পয়েন্ট সহ পাশ করতে হবে। ডেপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশকৃতদের জন্য সরকারি ডুয়েট সহ দেশের প্র্রায় সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ইউরোপ, অ্যামেরিকা, জাপান, চীন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কলারশিপ সহ বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে।
ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ইলেক্ট্রিক্যাল টেকনোলজি বিদ্যুৎ, ইলেক্ট্রনিক্স ও ইলেক্ট্রম্যাগনেটিজমের জ্ঞান ও প্রয়োগ নিয়ে কাজ করে। আধুনিক সভ্যতার সকল উপকরণই প্রত্যক্ষ বা পরক্ষভাবে বিদ্যুৎ নির্ভর। বড় ধরনের বৈদ্যতিক ব্যববস্থাপনা যেমন- বৈদ্যতিক শক্তি উৎপাদন, পরিবহন, সরবরাহ, বৈদ্যতিক সার্কিট ডিজাইন, এস্টিমেটিং, বৈদ্যতিক যন্ত্রপাতি উৎপাদন, নিয়ন্ত্রণ, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি ইলেক্ট্রিক্যাল টেকনোলজির অন্তভূক্ত। ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংঃ ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হল একটি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রোগ্রাম যেখানে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক অধ্যায়নের পাশাপাশি পরীক্ষাগারে বাস্তব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক সার্কিট, ইলেকট্রনিক্স, পাওয়ার সিস্টেম, কন্ট্রোল সিস্টেম, ইন্সট্রুমেন্টেশন এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজমের মতো বিষয়গুলি ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অন্তভূক্ত। ডিপ্লোম ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কেন পড়বেন? একজন ডিপ্লোমা ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্ন শিল্প যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেলিযোগাযোগ, ইলেকট্রনিক্স, উৎপাদন, নির্মাণ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। আধুনিক শিল্পনির্ভর অর্থনীতিতে যে কয়েকটি পেশাকে সম্ভববনাময় ধরা হয় তার মধ্যে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অন্যতম। কর্মক্ষেত্রে একজন ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের পদবি হয়ঃ উপসহকারী প্রকৌশলী প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সাইট ইঞ্জিনিয়ার জুনিয়ার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এস্টিমেটর ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব বা কাজঃ একজন ডিপ্লোমা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নির্মাণ, উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং টেলিযোগাযোগ সহ বিভিন্ন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট শিল্প এবং কাজের অবস্থানের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সাধারণত, তারা বৈদ্যুতিক সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সমস্যা সমাধানের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকে। একজন ডিপ্লোমা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও দায়িত্ব রয়েছে: ১। নকশা এবং উন্নয়ন সার্কিট ডিজাইন: বৈদ্যুতিক সার্কিট তৈরি এবং পরীক্ষা করা, নিশ্চিত করা যে তারা প্রয়োজনীয় স্পেসিফিকেশন এবং মান পূরণ করে। সিস্টেম ডিজাইন: বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন, যেমন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন, কন্ট্রোল সিস্টেম এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলির জন্য বৈদ্যুতিক সিস্টেমের বিকাশ এবং বাস্তবায়ন। CAD সফ্টওয়্যার ব্যবহার: বিস্তারিত বৈদ্যুতিক স্কিম্যাটিক্স এবং ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে কম্পিউটার-এডেড ডিজাইন (CAD) সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা। ২। ইনস্টলেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণ সরঞ্জাম ইনস্টলেশন: বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং সিস্টেমের ইনস্টলেশন তত্ত্বাবধান করা, নিরাপত্তা মান এবং প্রবিধানের সাথে সম্মতি নিশ্চিত করা। রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামত: সর্বোত্তম কর্মক্ষমতা এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৈদ্যুতিক সিস্টেম এবং সরঞ্জামের সমস্যা সমাধান করা। আপগ্রেড এবং পরিবর্তন: কার্যকারিতা এবং কর্মক্ষমতা উন্নত করার জন্য বিদ্যমান বৈদ্যুতিক সিস্টেমে আপগ্রেড এবং পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়ন করা। ৩। পরীক্ষা এবং পরিদর্শন সিস্টেম টেস্টিং: বৈদ্যুতিক সিস্টেম এবং উপাদানগুলি সঠিকভাবে এবং নিরাপদে কাজ করছে তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা পরিচালনা করা। মান নিয়ন্ত্রণ: নিশ্চিত করা যে সমস্ত বৈদ্যুতিক ইনস্টলেশন এবং সিস্টেমগুলি শিল্পের মান এবং প্রকল্পের বৈশিষ্ট্যগুলি পূরণ করে। ত্রুটি নির্ণয়: বিভিন্ন পরীক্ষার যন্ত্র এবং কৌশল ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিস্টেমে ত্রুটি নির্ণয় করা। ৪। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিকল্পনা: বাজেট, সময়সূচী এবং সম্পদ বরাদ্দ সহ ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পগুলির পরিকল্পনা এবং সমন্বয়ে সহায়তা করা। টিম সমন্বয়: প্রকল্পের লক্ষ্য এবং সময়সীমা পূরণ হয়েছে তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাদারদের সাথে সহযোগিতা করা। ডকুমেন্টেশন: নকশা পরিবর্তন, পরীক্ষার ফলাফল এবং রক্ষণাবেক্ষণ লগ সহ সমস্ত ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্রিয়াকলাপের বিস্তারিত রেকর্ড বজায় রাখা। ৫। স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা সম্মতি: দুর্ঘটনা এবং আঘাত প্রতিরোধের জন্য সমস্ত বৈদ্যুতিক সিস্টেম এবং অনুশীলনগুলি স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা বিধি মেনে চলে তা নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা প্রোটোকল: কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং পদ্ধতিগুলি বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগ করা। প্রশিক্ষণ: কর্মচারী এবং কর্মীদের নিরাপদ হ্যান্ডলিং এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং সিস্টেম পরিচালনার প্রশিক্ষণ প্রদান। ৬। গ্রাহক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রযুক্তিগত সহায়তা: ক্লায়েন্ট, গ্রাহক এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান। গ্রাহক পরিষেবা: বৈদ্যুতিক সিস্টেম এবং পরিষেবা সম্পর্কিত গ্রাহকের প্রশ্ন এবং উদ্বেগের সমাধান করা। ডকুমেন্টেশন এবং রিপোর্টিং: ক্লায়েন্ট এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন, ম্যানুয়াল এবং ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত করা। ৭। উদ্ভাবন এবং ক্রমাগত শিক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন: বৈদ্যুতিক প্রকৌশল প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতির সাথে আপডেট থাকা এবং অনুশীলনে নতুন কৌশল এবং সরঞ্জামগুলিকে একীভূত করা। ক্রমাগত উন্নতি: দক্ষতা এবং জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য কোর্স, কর্মশালা এবং সেমিনারগুলির মাধ্যমে ক্রমাগত পেশাদার বিকাশে জড়িত হওয়া। ডিপ্লোমা ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কর্মক্ষেত্রঃ চাকরির ক্ষেত্রঃ সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতর যেমন-ডেসকো, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, গণপূর্ত অধিদপ্তর ইত্যাদি তে উপ-সহকারি প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রিক্যাল) পদে ২য় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে চাকরির সুযোগ। সকল সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে জুনিয়ার ইন্সট্রাক্টর (ইলেক্ট্রিক্যাল) হিসাবে চাকরির সুযোগ। সকল টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে জুনিয়ার ইন্সট্রাক্টর (ইলেক্ট্রিক্যাল) হিসাবে চাকরির সুযোগ। বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিপনন প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকরির সুযোগ। ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকরির সুযোগ। বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকরির সুযোগ। আত্মকর্মসংস্থানঃ ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদন ও বিপননের ব্যবসা করতে পারবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রনালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পল্লি বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদার হিসাবে কাজ করতে পারবে। ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য সামগ্রি আমদানি ও রফতানি ব্যবসা করতে পারবে। ব্যক্তিগতভাবে সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করতে পারবে। ইলেক্ট্রিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোথায় পড়বেন? দেশের প্রায় সকল সরকারি ও বেসরকারি পলেটেকনিকে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির সুযোগ রয়েছে। কুষ্টিয়াতে দেশসেরা বেসরকারি ইন্সটিটিউট গুরুকুল-এ ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুকুলে কেন পড়বেন? বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী মাল্টিমিডিয়া শ্রেণী কক্ষ যুগোপযোগী আধুনিক ব্যবহারিক ল্যাবরেটরি বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে ইর্ন্টার্ণি ও কর্মসংস্থানের চুক্তি দেশি বিদেশী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোলাবোরেশন একাডেমিক শিক্ষা পাশাপাশি রোভাট স্কাউটিং, ডিবেটিং, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা নিয়মিত অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির যোগ্যতাঃ এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় পাসকৃতরা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হতে পারেন। নূন্যতম জিপিএ ২.০০। এ ক্ষেত্রে বয়স এবং এসএসসি পাসের বছরের কোন সীমাবদ্ধতা নেই। গুরুকুলে ভর্তির জন্য যোগাযোগঃ ৫/১, জেহের আলী সড়ক, কালিশংকরপুর, কুষ্টিয়া। মোবাইলঃ ০১৭০১-২২৯৬২১, ০১৭০১-২২৯৬২২ উচ্চ শিক্ষা সুযোগঃ বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট সহ বাংলাদেশের অধিকাংশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি বিএসসি ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) পড়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রায় সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও সরাসরি বিএসসি ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভালো গ্রেড পয়েন্ট সহ পাশ করতে হবে। ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশকৃতদের জন্য সরকারি ডুয়েট সহ দেশের প্র্রায় সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ইউরোপ, অ্যামেরিকা, জাপান, চীন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কলারশিপ সহ বিএসসি ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে।
গুরুকুলে ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে ২০২৪ উদযাপন

“আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ: অর্থনৈতিক শক্তি এবং সেবার প্রভাব”—এই বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাসে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে ২০২৪’। আধুনিক নার্সিং পরিষেবার অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের ২০৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নার্সিং পেশার গুরুত্ব এবং মানবিক সেবার আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। দিবসের প্রেক্ষাপট ও ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। ১৮৫৩ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় তিনি আহত সৈনিকদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। গভীর রাতে হাতে ল্যাম্প বা প্রদীপ নিয়ে তিনি রোগীদের সেবা করতেন বলে তিনি বিশ্বজুড়ে ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ হিসেবে অমর হয়ে আছেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ সেবাই নার্সিংকে একটি বিজ্ঞানসম্মত ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নার্সিং পেশার বিকাশে নাইটিঙ্গেলের অবদান পেশাদার শিক্ষা: ১৮৬০ সালে লন্ডনে ‘নাইটিঙ্গেল ট্রেনিং স্কুল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি নার্সিং শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। পরিসংখ্যান ও স্যানিটেশন: নাইটিঙ্গেল কেবল একজন সেবিকাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ পরিসংখ্যানবিদ। তিনি তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, চিকিৎসার চেয়ে অপরিচ্ছন্নতা ও সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর হার বেশি। তাঁর এই তত্ত্বই আধুনিক হাসপাতালের স্যানিটেশন ব্যবস্থায় বিপ্লব আনে। গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের বিশেষ আয়োজন দিবসটি উপলক্ষে গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়: র্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ: সকালে ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। বিশেষ শপথ গ্রহণ: নার্সিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার জন্য ঐতিহাসিক ‘নাইটিঙ্গেল প্লেজ’ বা শপথ পাঠ করেন। আলোচনা সভা: সভায় বক্তারা আইসিএন (ICN) কর্তৃক এই দিবসটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ইতিহাস এবং বর্তমান বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে নার্সদের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের দর্শন গুরুকুল বিশ্বাস করে যে, একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজে নার্সদের ভূমিকা অনন্য। ধর্ম, বর্ণ, জাত বা আর্থিক অবস্থার ঊর্ধ্বে উঠে একজন নার্স যেভাবে প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন, তা গুরুকুলের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের স্বপ্নের সাথে একাত্ম। সেবার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মৈত্রী ও সম্প্রীতি বজায় রাখার এই দর্শনই আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “নার্সিং কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি শিল্প ও সাধনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বিপুল সংখ্যক দক্ষ নার্স প্রয়োজন। গুরুকুল সেই দক্ষ ও মানবিক নার্সিং জনবল গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” “নার্সিং একটি শিল্প; এবং এটি যদি শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তবে এর জন্য প্রয়োজন নিবিড় সাধনা এবং প্রস্তুতি—ঠিক যেমনটি প্রয়োজন একজন চিত্রশিল্পী বা ভাস্করের জন্য।” — ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে ২০২৪: বিশেষ গ্যালারি
গুরুকুল নার্সিং ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ফুড ফেয়ার আয়োজন

তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ‘ফুড ফেয়ার’ বা খাদ্য মেলা। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মেলায় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দেশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি আধুনিক রন্ধনশৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা গেছে এই আয়োজনে। মেলার শুভ উদ্বোধন সকালে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের কেবল রান্নার কৌশল শেখায় না, বরং দলগত কাজ (Team Work), নেতৃত্ব এবং উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও স্টলসমূহ মেলায় ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বৈচিত্র্যময় স্টল সাজিয়ে বসে। প্রতিটি স্টলের নামকরণ এবং সাজসজ্জায় ছিল নতুনত্বের ছাপ। মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি করা খাবারের মধ্যে ছিল: ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি: ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা ও নকশি পিঠা। দেশীয় মিষ্টান্ন: হাতে তৈরি পায়েস, ফিরনি ও বিভিন্ন ধরণের নাড়ু। বিকেলের নাস্তা: চটপটি, ফুচকা, ঝালমুড়ি এবং ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস। আধুনিক খাবার: পাস্তা, স্যান্ডউইচ ও বিভিন্ন ধরণের ফ্রুট জুস। উদ্যোক্তা হওয়ার হাতেখড়ি শিক্ষার্থীরা নিজেরাই মেলার বাজেট তৈরি করা থেকে শুরু করে বাজার করা, রান্না এবং বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক চিন্তাধারা এবং ক্রেতা সামলানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। অনেক স্টলেই ‘লাইভ কুকিং’ এর ব্যবস্থা ছিল, যা দর্শনার্থীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মিলনমেলা মেলার আকর্ষণ কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; গুরুকুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। তারা শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি করা খাবারের স্বাদ নেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন। অতিথিরা বলেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরে এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এবং মানসিক প্রশান্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শ্রেষ্ঠ স্টল ও পুরস্কার বিতরণ মেলার শেষে খাবারের গুণগত মান, পরিবেশনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্টল সাজসজ্জার ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি স্টলকে পুরস্কৃত করা হয়। বিচারকদের রায়ে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের এই ফুড ফেয়ার কেবল একটি মেলা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দময় শিক্ষার দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, গুরুকুলের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতিতেও সমান পারদর্শী।
নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে আপক্ষামান তালিকার আবেদন

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট’-সহ সংশ্লিষ্ট নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি’ কোর্সে শূন্য আসনে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যারা ভর্তি পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়েও আসন সংকটের কারণে অপেক্ষমাণ তালিকায় (Waiting List) ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। স্মারক নং: জিএনআই/প্রশা/২০২৪/ভর্তি-০৮ তারিখ: মে ১৩, ২০২৪ (হালনাগাদ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫) বিজ্ঞপ্তির মূল বিষয়বস্তু: বাংলাদেশ নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে যে সকল আসন শূন্য রয়েছে, সেগুলোতে মেধা ও পছন্দের ক্রমানুসারে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও শর্তাবলী: ১. আবেদনকারী: কেবলমাত্র ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ২. মেধা ও অগ্রাধিকার: আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে জাতীয় মেধা তালিকা এবং শিক্ষার্থীর পছন্দের ক্রমানুসারে (Choice List) স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ম্যানুয়ালি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ৩. গুরুকুল নার্সিং আপডেট: গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউটে যে সকল আসন শূন্য রয়েছে, সেখানে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ তালিকার শিক্ষার্থীদের দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেন গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট আপনার প্রথম পছন্দ? গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের আওতাধীন এই ইনস্টিটিউটটি একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত। এখানে শিক্ষার্থীরা পাবেন: আধুনিক ল্যাবরেটরি ও পর্যাপ্ত প্রাকটিক্যাল শিক্ষার ব্যবস্থা। অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক মণ্ডলী। নিরাপদ ও ছাত্রীবান্ধব ক্যাম্পাস পরিবেশ। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসের সুযোগ। জরুরি নির্দেশনা: অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় মূল নথিপত্র (এসএসসি ও এইচএসসি’র মার্কশিট, সনদপত্র এবং প্রবেশপত্র) নিয়ে সরাসরি গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট, কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে অথবা প্রশাসনিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। যোগাযোগ: ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য কল করুন: 01701229621, 01701229622, 01877731344, 01877731345 আদেশক্রমে, প্রশাসন বিভাগ গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস
ডিপ্লোমা ইন ফুড টেকনোলজি

ডিপ্লোমা ইন ফুড টেকনোলজি খাদ্য বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যা খাদ্য নির্বাচন, নতুন ধরনের খাদ্য উৎপাদন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া, দক্ষ উপায় তাদের উৎপাদিত খাদ্যের বিকাশ, প্যাকেজিং এবং প্রসেসিং সিস্টেম উন্নয়ন, পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে নিরাপদ ব্যবহার এবং পথ্য খাদ্য ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে থাকে। খাদ্য প্রকৌশলী বা প্রযুক্তিবিদেরা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, গুণগত মান নির্ণয়, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণসংক্রান্ত তাত্ত্বিক ও বাস্তব-ধর্মী জ্ঞান অর্জন এবং প্রয়োগে কাজ করেন। বিশ্বজুড়ে ফুড ইঞ্জিনিয়াররা সবচেয়ে কম খরচে সর্বোচ্চ পরিমাণ মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন এবং বাণিজ্যিকীকরণে নিরলস অবদান রেখে চলেছেন। ডিপ্লোমা ইন ফুড টেকনোলজি বা ডিপ্লোমা ইন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ফুড ইঞ্জিনিয়াররা কম খরচে অধিক পরিমাণে মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বাণিজ্যিকরণের লক্ষে আনুষঙ্গিক ধারণা প্রদান এবং লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে থাকেন। ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বোঝার জন্য গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ক জ্ঞান প্রয়োজন রয়েছে তবে তার পরিমাণ সীমিত। ফুড ইঞ্জিনিয়ার বা টেকনোলজিস্ট দের দায়িত্ব: কাঁচামালের গুণগত মান যাচাই ফুড প্রসেসিং এর প্রতিটি ধাপে ধাপের খাদ্যমান এর সঠিকতা যাচাই খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ফুড প্রসেসিং এর সময় খাদ্যের পুষ্টিগুণ ঠিক রাখা খাবার মুখরোচক করা বা রাখা নতুন নতুন খাদ্য উৎপাদন করা পচনশীল খাদ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন করা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ফুড ইঞ্জিনিয়ার বা টেকনোলজিস্ট দের ভূমিকা: খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য সংরক্ষণ চিকিৎসা ও রোগীর পথ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন আত্মকর্মসংস্থান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ফুড টেকনোলজিস্ট-ইঞ্জিনিয়ার ক্যারিয়ার: বিশ্বের উন্নত দেশসমূহ ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর অনেক সময় ধরে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আমাদের দেশেও ফুড ইঞ্জিনিয়ার-টেকনোলজিস্ট দের গুরুত্ব বাড়ছে। কারণ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সবার জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা। খাদ্যের নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং-টেকনোলোজির শাখার সৃষ্টি করা হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও দ্রুত গতিতে ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি বাড়ছে একই সাথে বাড়ছে এই শাখায় নতুন কর্মসংস্থান। আবার দেশের বাইরেও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এ যথেষ্ট কর্মসংস্থান রয়েছে এবং তা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। ডিপ্লোমা ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বা ফুড টেকনোলোজি কোথায় পড়বেন? দেশের ৪৯ টি সরকারি পলিটেকনিকের প্রায় সবগুলোতেই রয়েছে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি। এই সকল প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও গুরুকুলের মতো বেসরকারি ইন্সটিটিউটেও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা করা যায়। ডিপ্লোমা ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বা ফুড টেকনোলোজিতে ভর্তির যোগ্যতা: ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমার চার বছর মেয়াদি আট সেমিস্টারের এই কোর্সে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার পর যে কোন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া সম্ভব। ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক বিএসসি লেখাপড়া: বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বা খাদ্য প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক করতে চাইলে অবশ্যই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অথবা ফুড টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে) নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। এরপর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে কৃতকার্য প্রথম সারির ভর্তি-ইচ্ছুকেরা স্নাতক পড়ার সুযোগ পান। বস্তুত গণিত, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ে পারদর্শী শিক্ষার্থীরা ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেয়ারগিভার কোর্স

অনলাইনের পাশাপাশি গুরুকুল ক্যাম্পাসে কেয়ারগিভার কোর্স করানো হয়। এই কোর্সটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত। বছরে দুবার ভর্তি নেয়া হয়। অগ্রিম আসন সংরক্ষণের জন্য আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন। গুরুকুল বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো কেয়ারগিভার পেশাটিকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে কাছ করছে। দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সৃষ্টির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ও সুনাম বৃদ্ধিতে কাজ করছে । আসুন কেয়ারগিভার কোর্সটি সম্পর্কে আরেকটু জেনে নেই। কেয়ারগিভার কোর্স কেয়ারগিভারের কাজ কী? নিচে কেয়ার গিভারের কাজের পরিধি আলোচনা করা হল- সেবাগ্রহীতার হাউজকিপিং, হাউজক্লিনিং, লন্ড্রিসেবা এবং বিভিন্ন স্থানে পরিভ্রমন করানো। সেবাগ্রহীতার পালস, জ্বর, ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার, শ্বাস প্রশ্বাস ও অন্যান্য ভাইটাল সাইন মনিটর, রেকর্ড এবং রিপোর্ট করা। সেবাগ্রহীতার জন্য ক্যালরী হিসাব করে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী বাজার করা, রান্না করা ও পরিবেশন করা। সেবাগ্রহীতার আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবের সাথে সর্বদা যোগাযোগ রাখতে সহায়তা করা। সেবাগ্রহীতাকে হতাশায় শান্তনা দেয়া, চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা এবং অন্যান্য ইমোশনাল সাপোর্ট প্রদান করা। সেবাগ্রহীতাকে সার্বক্ষণিক সহচার্য প্রদান করা এবং তার যাবতীয় আদেশ নির্দেশ পালন করা। সেবাগ্রহীতাকে বিছানা/হুইল চেয়ার/গাড়ীতে উঠানামা করানো। সেবাগ্রহীতাকে ফিজিওথেরাপী প্রদান করা, ফিডিং টিউবে খাওয়ানো, নেবুলাইজ করা, অক্সিজেন দেয়া, ইনসুলিন দেয়া এবং প্রয়োজনে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস প্রদান করা। সেবাগ্রহীতাকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সময়মত ঔষধ ও পথ্যাদি খাওয়ানো। সেবাগ্রহীতাকে খাওয়ানো, গোসল করানো, ড্রেসিং, টয়লেটিং, সাজগোজ ইত্যাদি করানো। শ্বাস নালীতে খাদ্য বা পানীয় ঢুকে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, বার্ন, ইনজুরি এবং অন্যান্য ইমারজেন্সীতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা। শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী সেবাগ্রহীতাকে সার্বক্ষণিক তদারকি ও সহচার্য প্রদান করা। শয্যাগত / অজ্ঞান সেবাগ্রহীতাকে এপাশ ওপাশ করানো এবং ব্যায়াম করানো। ব্যক্তিগত/অফিসিয়াল কাজ যেমন- ব্যাংকিং, লিগ্যাল ইত্যাদি কাজের জন্য সাহায্য করা। জরুরী প্রয়োজনে সেবাগ্রহীতাকে হাসপাতালে অথবা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া। কেয়ার গিভার কোর্স কেন করবেন? কোয়ারগিভার কোর্সটি ভবিষ্যৎ বিবেচনায় একটি সম্ভাবনাময় ও নিরাপদ পেশার কোর্স। এই কোর্সের মাধ্যমে আপনি নিজেকে একজন পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি অনেক গুলো সুযোগ সুবিধা পাবেন। তার কিছু নিচে উল্লেখ করা হল। উচ্চ বেতনের এবং সম্মানজনক পেশা কেয়ার গিভার। কোর্সটি মাত্র ছয় মাস, তাই তারাতারি শেষ করে সরাসরি চাকরিতে ঢোকা যায়। সাধারণত কোর্স চলাকালে পার্ট টাইম চাকুরীর সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম, নার্সিং হোম, প্যারালাইসিস সেন্টার সমূহে চাকরির সুযোগ। সেবা গ্রহীতাদের হোমকেয়ার প্রদানের মাধ্যমে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির সুযোগ রয়েছে। কেয়ার গিভার প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ আছে। যোগ্য কেয়ার গিভারগণের বিভিন্ন কেয়ার গিভারস প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়ােগ প্রাপ্তির সুযোগ আছে। এই কোর্সের সার্টিফিকেট জাপান, কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে স্বীকৃত। কেয়ার গিভার কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা: কমপক্ষে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় পাস কারার পরে ছাত্র/ছাত্রীগণ কেয়ারগিভার কোর্সের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে উল্লেখ্য যে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ, মেডিকেল টেকনোলজি, ডিপ্লোমা নার্সিং, মিডওয়াইফারী, ফাষ্ট এইড প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীদের দক্ষতা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসাবে বিবেচিত হবে। যে কোন শিক্ষাবর্ষে পাশ করার শিক্ষার্থীরা এই কোর্সটি করতে পারবেন। কেয়ারগিভার কোর্সের মেয়াদ, সময়, ফি ও বৃত্তি: আমাদের কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর আওতায় কেয়ার গিভার সার্টিফিকেট কোর্সের মেয়াদ ৬ মাস। অর্থাৎ বছরে দুবার ভর্তি নেয়া হয়। তবে আসন খালি থাকলে বছরের যেকোনো সময় অগ্রিম আসন বুকিং নেয়া হয়। এই কোর্সটির মোট ফি ৬০০০০/- টাকা। তবে গুরুকুলের বৃত্তি পলিটি অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, ক্ষুদ্র-নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছাড়াও নানাবিধ কোটায় সর্বোচ্চ ১০০% বৃত্তির ব্যবস্থা আছে। ভর্তির জন্য যোগাযোগ: আমাদের যেকোন ক্যাম্পাসে এসে সরাসরি আলাপ করতে পারেন অথবা ফোন করুন : 01701229621 01701229622 নম্বরে।