‘সেবা’ ও ‘শৃঙ্খলার’ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক গড়ার প্রত্যয়ে কুষ্টিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ-এর দুই দিনব্যাপী বার্ষিক প্রশিক্ষণ, তাঁবুবাস, দীক্ষা ও মহাতাঁবু জলসা। নবীন সহচরদের রোভার স্কাউটিংয়ের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ক্যাম্প ফায়ার ও মহাতাঁবু জলসার আনুষ্ঠানিকতা
অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে গুরুকুল প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে প্রথাগত ঐতিহ্য মেনে বর্ণিল ‘ক্যাম্প ফায়ার’ বা অগ্নি-প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। অন্ধকারের বিনাশ ও আলোর আগমনের প্রতীক হিসেবে এই আগুন জ্বালিয়ে রোভাররা তাদের প্রশিক্ষণের হাতেখড়ি নেন। সমাপনী দিনে গুরুকুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গুরুকুলের উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মাসুম।

অতিথিদের বক্তব্য: সমাজ গঠনে স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা রোভার স্কাউটিংয়ের একঝাঁক অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। কুষ্টিয়া মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও জেলা রোভার কমিশনার মীর মোশাররফ হোসেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জেলা রোভার সম্পাদক এ.কে.এম সামসুল হক এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জুবায়ের হাসান চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন:
“একজন শিক্ষার্থীকে কেবল পুথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একজন প্রকৃত রোভার স্কাউট মাদক, জঙ্গিবাদ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে নিজেকে দূরে রেখে সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। গুরুকুল ৩টি ইউনিটের মাধ্যমে এই সেবা কার্যক্রম যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক সোহাগ আহমেদ। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন রোভার সদস্য কৌশিক আহমেদ।

সাংস্কৃতিক প্রতিভা ও কলাকৌশল প্রদর্শন
দীক্ষা ও প্রশিক্ষণের কঠোর নিয়মাবলির মাঝেও রোভারদের সৃজনশীলতা ফুটে ওঠে ‘মহাতাঁবু জলসা’র মঞ্চে। দুই দিনের কঠোর পরিশ্রমের ক্লান্তি ভুলে রোভার সদস্যরা নাটক, দেশাত্মবোধক নৃত্য, সংগীত এবং স্কাউটিংয়ের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রদর্শনের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এটি কেবল আনন্দ অনুষ্ঠান ছিল না, বরং রোভারদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের একটি অনন্য মাধ্যম ছিল।
প্রশিক্ষণ ও দীক্ষা প্রদান
বার্ষিক এই প্রশিক্ষণে রোভারিংয়ের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন ও কারিগরি দিক পরিচালনা করেন জেলা রোভার সম্পাদক এ.কে.এম সামসুল হক। তাকে সহায়তা করেন সিনিয়র রোভারমেট তন্ময় বিশ্বাস শুভ, রুবেল, অর্ণব, মেহেদী, সেতু, ইমরান, রানা সরকার, সাগর ও ফাহিম।
অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে (শুক্রবার সকালে) এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে গুরুকুলের ৩টি ইউনিটের মোট ৫০ জন নবীন রোভার সহচরকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কাউট ব্যাজ ও স্কার্ফ পরিয়ে দীক্ষা প্রদান করা হয়। দীক্ষা প্রদান করেন উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মাসুম। এর মাধ্যমেই নবীন এই সদস্যরা রোভার আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে দেশ সেবার শপথ গ্রহণ করেন।

দীক্ষা গ্রহণ শেষে নবীন রোভারদের চোখে-মুখে ছিল দেশ গড়ার প্রত্যয়। গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের এই বার্ষিক আয়োজন কুষ্টিয়া অঞ্চলের স্কাউটিং আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।