ডিপ্লোমা ইন এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজি, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

বাংলাদেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ। শিল্পায়ন, নগরায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবেশ দূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানিদূষণ, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল সমস্যাগুলো সামনে আসছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দরকার পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং গবেষণাভিত্তিক টেকসই পদক্ষেপ। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজি (Diploma in Environmental Technology) একটি যুগোপযোগী কোর্স, যা আগামী প্রজন্মকে পরিবেশ বিষয়ক প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতায় প্রস্তুত করছে।

ডিপ্লোমা ইন এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজি

কোর্সের সময়কাল ও কাঠামো

ডিপ্লোমা ইন এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজি একটি ৪ বছর মেয়াদি কোর্স। এতে ৮টি সেমিস্টার বা পর্বে বিভক্ত করে পাঠ্যক্রম সাজানো হয়েছে।

প্রধান বিষয়সমূহ:

  1. Environmental Science & Ecology – পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা বোঝা।

  2. Water Supply & Wastewater Treatment – পানির শোধন, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার।

  3. Air Pollution & Control Technology – শিল্প ও নগর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ।

  4. Solid Waste Management – কঠিন বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তি।

  5. Environmental Chemistry & Microbiology – দূষণ শনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণ।

  6. Climate Change & Sustainable Development – জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন।

  7. Renewable Energy Technology – সৌর, বায়ু, বায়োগ্যাস ও বিকল্প জ্বালানি।

  8. GIS & Remote Sensing in Environment – পরিবেশ পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি।

 

ভর্তি যোগ্যতা

  • এসএসসি (বিজ্ঞান, ব্যবসা শিক্ষা বা মানবিক) বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.৫০।

  • কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে এই কোর্সে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

 

হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ

পরিবেশ প্রযুক্তি কোর্সে শুধু তাত্ত্বিক পাঠদান নয়, বরং ল্যাব ও ফিল্ড ওয়ার্কের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

  • ওয়াটার টেস্টিং ল্যাব

  • এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং

  • সলিড ওয়েস্ট সেগ্রিগেশন প্র্যাকটিস

  • GIS ল্যাব

  • রিনিউএবল এনার্জি ট্রেনিং

এগুলো শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে।

কর্মক্ষেত্র ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা

ডিপ্লোমা ইন এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজি সম্পন্নকারীদের কর্মক্ষেত্র দিন দিন বাড়ছে।

সরকারি খাত:

  • পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE)

  • পানি উন্নয়ন বোর্ড

  • সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা

  • WASA

  • কৃষি ও বন বিভাগ

 

বেসরকারি খাত:

  • শিল্প প্রতিষ্ঠান (টেক্সটাইল, চামড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস, স্টিল ইন্ডাস্ট্রি ইত্যাদি)

  • এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থা (BRAC, WaterAid, UNDP, ADB ইত্যাদি)

  • কনসালটেন্সি ফার্ম

  • পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্র

 

বিদেশে কর্মসংস্থান:

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক দেশ পরিবেশ প্রকৌশল ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে ডিপ্লোমাধারীরা আন্তর্জাতিক বাজারেও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

উচ্চশিক্ষার সুযোগ

ডিপ্লোমা ইন পরিবেশ প্রযুক্তি শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে BSc in Environmental Science/Engineering অথবা Civil/Water Resources Engineering এ ভর্তি হতে পারে। বিদেশেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

কেন এই কোর্স গুরুত্বপূর্ণ?

  • বাংলাদেশে প্রতিদিন ৭,০০০ টন বর্জ্য তৈরি হয়।

  • রাজধানীতে বায়ুদূষণ বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ে

  • দেশের নদীগুলোর ৭০% দূষিত

  • জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি দেশের মধ্যে একটি।

এসব সংকট মোকাবিলায় দক্ষ পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ তৈরি অপরিহার্য। তাই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এই ডিপ্লোমা কোর্স দেশের জন্য কেবল একটি শিক্ষামূলক উদ্যোগ নয়; বরং জাতীয় উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য এক অপরিহার্য পদক্ষেপ

Logo Gurukul Dodger Blue ডিপ্লোমা ইন এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজি, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

ডিপ্লোমা ইন এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজি কোর্সটি আমাদের সময়ের দাবি। এটি তরুণদের হাতে-কলমে দক্ষতা দিয়ে গড়ে তোলে, যাতে তারা পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এই উদ্যোগের মাধ্যমে গড়ে উঠবে একটি দক্ষ, কর্মঠ ও পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম, যারা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে।