প্রকৃতির অপার বিস্ময় আর মেঘেদের সাথে মিতালীর টানে গুরুকুল শিক্ষা পরিবার-এর বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে পাহাড়ের রাণী রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আনন্দ যাত্রা শুরু হয়।
প্রতিবেদন: মেঘের উপত্যকায় গুরুকুল—বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০১৯
প্রকৃতির অপার বিস্ময় আর মেঘেদের সাথে মিতালীর টানে গুরুকুল শিক্ষা পরিবার-এর বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে পাহাড়ের রাণী রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আনন্দ যাত্রা শুরু হয়।
ভৌগোলিক অবস্থান ও যাত্রাপথ
রাঙ্গামাটি জেলার সর্ব উত্তরে মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত সাজেক ভ্যালি যেন এক টুকরো স্বর্গ। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত এই উপত্যকায় পৌঁছাতে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ আর সবুজের সমারোহ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য
২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ২ রাত ৩ দিনের এই ভ্রমণে গুরুকুল পরিবার সাজেকের সর্বত্র মেঘ, পাহাড় আর সবুজের দারুণ মিতালী প্রত্যক্ষ করে।
- প্রকৃতির রূপ: সাজেকের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এখানে ২৪ ঘণ্টায় প্রকৃতির তিনটি রূপের দেখা মেলে। কখনো তপ্ত রোদ, হঠাৎ ঝমঝমে বৃষ্টি, আর পরক্ষণেই চারপাশ ঢেকে যায় সাদা মেঘের চাদরে।
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সাজেকের তিনটি হেলিপ্যাড থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের যে অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়, তা সত্যিই অবর্ণনীয়। মেঘের ওপর দিয়ে সূর্যের প্রথম আভা যেন এক অপার্থিব অনুভূতি তৈরি করে।
প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও আদিবাসী জীবন
গুরুকুল বিশ্বাস করে যে, জ্ঞান কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্য ও বৈচিত্র্যের মাঝেও প্রকৃত শিক্ষা নিহিত। সাজেকের আদিবাসীরা অত্যন্ত বন্ধুসুলভ ও অতিথি পরায়ণ। তাঁদের সরল জীবনযাত্রা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনের দর্শনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে গুরুকুল পরিবার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার শিক্ষা লাভ করেছে।
পাহাড়ের বুকে কাটানো এই দিনগুলো গুরুকুলের সকল সদস্যদের মধ্যে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এককথায়, অসাধারণ এই আনন্দ ভ্রমণটি সবার হৃদয়ে একটি চিরস্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকবে।
![বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০১৯ [ সাজেক ভ্যালি ] 1 বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০১৯](https://gurukul.edu.bd/wp-content/uploads/2019/04/DSC06915-300x200.jpg)