যান্ত্রিক জীবনের কর্মব্যস্ততা ও পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কুষ্টিয়া গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বার্ষিক শিক্ষা সফর-২০১৯ অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সাগরকন্যা’ খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই সফরে গুরুকুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মিলে এক বিশাল মিলনমেলা বসেছিল।

ভ্রমণসূচি ও যাত্রা
গত ১২ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া থেকে শিক্ষা সফরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী এই সফরে গুরুকুলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল শাখার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আনন্দ নিশ্চিত করতে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উৎসাহী অভিভাবকবৃন্দ।
সূর্যোদয়ের স্নিগ্ধতায় দিনের শুরু
সফরের প্রথম দিন ভোরে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়ের মনোমুগ্ধকর ও বিরল দৃশ্য উপভোগের মাধ্যমে ভ্রমণের মূল কর্মসূচি শুরু হয়। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে লাল সূর্যের উদয় হওয়ার দৃশ্যটি শিক্ষার্থীদের মাঝে এক অনন্য শিহরণ সৃষ্টি করে। এরপর দিনব্যাপী শিক্ষার্থীরা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।
দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন: প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা কুয়াকাটা ও এর আশেপাশের মোট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত: দীর্ঘ বালুকাবেলায় সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে মিতালি।
- রাখাইন পল্লি: আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও হস্তশিল্পের সাথে পরিচিত হওয়া।
- ঝাউবন ও ফাতরার বন: গহীন অরণ্য ও সমুদ্রের মিতালি উপভোগ।
- শুঁটকি পল্লি ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপ: বাস্তুসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির বাস্তব অভিজ্ঞতা।
বাস্তব জ্ঞান ও দলগত সংহতি
শিক্ষা সফর কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ভ্রমণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রকৃতির বিচিত্র রূপ সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান লাভ করে। দলগতভাবে ভ্রমণ করায় তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
অনুভূতি ও সমাপনী
ভ্রমণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানায়, এ ধরণের আয়োজন পড়াশোনার ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্দীপনা জোগায়। গুরুকুল কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের আন্তরিক উপস্থিতি পুরো সফরটিকে নিরাপদ ও স্মরণীয় করে তোলে। ১৪ ফেব্রুয়ারি একরাশ মধুর স্মৃতি নিয়ে শিক্ষা সফর শেষে গুরুকুল পরিবার কুষ্টিয়ায় প্রত্যাবর্তন করে।
আরও দেখুন: