গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আত্মত্যাগের মহিমায় কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক-এর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রোভার স্কাউটসহ সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ ও জেলা স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

বীরত্বের ৪৭ বছর: কুষ্টিয়া গুরুকুলে বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান স্বাধীনতা দিবস ২০১৮ উদ্‌যাপন

বীরত্বের ৪৭ বছর: কুষ্টিয়া গুরুকুলে বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান স্বাধীনতা দিবস ২০১৮ উদ্‌যাপন

জেলা প্রশাসনের বর্ণাঢ্য আয়োজনে গুরুকুল

স্বাধীনতা দিবসের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনীর (ডিসপ্লে) আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জনাব জহির রায়হান এবং পুলিশ সুপার এস. এম. মেহেদী হাসান। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বীর শহীদদের সালাম জানানো হয়।

মাঠে দুই শতাধিক সদস্যের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে

জেলা স্টেডিয়ামের এই কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিভিন্ন ইউনিট থেকে প্রায় দুই শতাধিক সদস্য অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অংশগ্রহণ করেন। গুরুকুলের অংশগ্রহনকারী ইউনিটগুলো হলো:

  • গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ
  • গুরুকুল গার্ল-ইন রোভার
  • গুরুকুল যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট

তরুণ এই সদস্যরা সমবেতভাবে স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তি সংগ্রাম ও বিজয়ের বিভিন্ন চিত্র ডিসপ্লের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন, যা উপস্থিত দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে।

শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি

দিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচিতে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে চলাকালীন গ্যালারিতে তাঁদের সরব উপস্থিতি ও উৎসাহ প্রদান অনুষ্ঠানটিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। গুরুকুল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।

বীরত্বের ৪৭ বছর: কুষ্টিয়া গুরুকুলে বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান স্বাধীনতা দিবস ২০১৮ উদ্‌যাপন

চেতনার জয়গান ও অঙ্গীকার

৪৭তম মহান স্বাধীনতা দিবসের এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য প্রচেষ্টা। গুরুকুল পরিবারের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে শপথ গ্রহণ করেন যে, তাঁরা কেবল কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হবেন না, বরং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

কুষ্টিয়া গুরুকুলের এই বর্ণিল আয়োজন ছিল মূলত গর্ব, কৃতজ্ঞতা ও প্রেরণার এক মিলনমেলা।