গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যাকে মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ‘পলিম্যাথ’ বা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বলা হয়। তিনি একাধারে চিত্রশিল্পী, স্থপতি, গণিতবিদ, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং উদ্ভাবক। রেনেসাঁ যুগের সেই অমর কারিগর—লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি।

উপস্থিত সুধী,

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ১৪৫২ সালের ১৫ এপ্রিল ইতালির ফ্লোরেন্সের তুস্কানি অঞ্চলের ‘ভিঞ্চি’ নামক এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের চেয়ে কয়েকশ বছর এগিয়ে থাকা এক সব্যসাচী মেধা। লিওনার্দোর প্রতিভা কেবল ক্যানভাসের রঙে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি মানুষের শরীরের ব্যবচ্ছেদ থেকে শুরু করে পাখির ওড়া পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের নকশা পর্যন্ত করেছিলেন। তাঁর সেই বিখ্যাত নোটবুক বা ‘কোডেক্স’গুলো আজও বিজ্ঞানীদের বিস্ময়ের খোরাক।

অনেকে মনে করেন লিওনার্দো কেবল একজন শিল্পী, কিন্তু তাঁর বিজ্ঞানমনস্কতা ছিল অতুলনীয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্পের ভিত্তি হলো গভীর পর্যবেক্ষণ এবং নিখুঁত জ্যামিতিক হিসাব। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ আজও বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ:

  • মোনালিসা: যার রহস্যময় হাসি আজও সারা বিশ্বকে আচ্ছন্ন করে রাখে।
  • দ্য লাস্ট সাপার: যা চিত্রকলার ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন।
  • ভিট্রুভিয়ান ম্যান: যেখানে তিনি মানুষের শরীরের অনুপাত ও জ্যামিতিক সামঞ্জস্য তুলে ধরেছেন।

মজার ব্যাপার হলো, লিওনার্দোর আঁকা চিত্রকর্মের সংখ্যা খুব বেশি নয়, কিন্তু প্রতিটি সৃষ্টিই পূর্ণতা এবং গবেষণার এক একটি মাইলফলক। তাঁর ‘স্ফুমাতো’ (Sfumato) কৌশল চিত্রকলার জগতকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।

প্রিয় সুধী,

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি কেবল একজন শিল্পী বা বিজ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় মনের মানুষ এবং প্রকৃতির একনিষ্ঠ উপাসক। তিনি পরাধীন বা সীমাবদ্ধ চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে মহাবিশ্বের গূঢ় রহস্য উন্মোচনে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। জমিদারি বা রাজকীয় বিলাসিতা তাঁকে কখনোই তাঁর জ্ঞানতৃষ্ণা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন—

‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’।

সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই বিশ্ববিশ্রুত মনীষীর নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন লিওনার্দোর সেই অদম্য কৌতূহল এবং সৃজনশীলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের মেধা ও মননকে বিকশিত করতে পারি।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি তাঁর অবিনশ্বর কর্মের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে।

জয় বাংলা!

জয় গুরুকুল!

আরও দেখুন: