যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং গভীর শ্রদ্ধার সাথে কুষ্টিয়া গুরুকুল শিক্ষা পরিবারে পালিত হয়েছে মহান শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০১৯। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া গুরুকুল হল রুমে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই একাত্তরের সেই সকল সূর্যসন্তানদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
গুরুকুলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০১৯ উদযাপন

উপস্থিত অতিথি ও সভাপতিত্ব
গুরুকুল কালচারাল কমিটির চেয়ারম্যান জনাব শাহীন সরকার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু। অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য: ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও আত্মত্যাগ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার ট্র্যাজেডি তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
“স্বাধীনতা যেকোনো জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নিরস্ত্র বাঙালি একটি সশস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদাররা পরিকল্পিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ মেধা ও সন্তানদের হত্যা করে আমাদের দেশকে পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল। ১৪ ডিসেম্বর সেই কলঙ্কিত ও শোকের দিন।”
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আজকের বাংলাদেশ
বক্তৃতায় তিনি বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি আরও বলেন:
“বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও রক্তধারা ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই তরুণ প্রজন্মকে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের, নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই উন্নয়ন মিশনে সক্রিয় অবদান রাখতে হবে।”
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ব
সভায় বক্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের মহিমা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, স্বাধীন বাংলাদেশে মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশ গড়া এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি শাহীন সরকার শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। গুরুকুল পরিবারের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাতির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে বিশদ ধারণা লাভ করে এবং দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়।
আয়োজনে,
কালচারাল কমিটি ও প্রশাসন,
গুরুকুল কুষ্টিয়া।
আারও দেখুন: