সৈয়দ শামসুল হক-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো।
সৈয়দ শামসুল হক-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা
সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,
আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
আজ ২৭ ডিসেম্বর। আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যাঁর কলমের জাদুতে বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি শাখা সমৃদ্ধ হয়েছে। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প কিংবা কাব্যনাট্য—সবখানেই যাঁর অবাধ বিচরণ। তিনি আমাদের সাহিত্যের ‘সব্যসাচী লেখক’—সৈয়দ শামসুল হক।
উপস্থিত সুধী,
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং মাতা হালিমা খাতুন। শৈশব থেকেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। তিনি কেবল একজন লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অসামান্য শব্দশিল্পী।
সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যকর্মে এদেশের মাটি, মানুষ এবং ইতিহাসের এক নিবিড় প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিশেষ করে তাঁর কাব্যনাট্যগুলো বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘নূরলদীনের সারাজীবন’-এর সেই কালজয়ী পঙক্তি আজও আমাদের রক্তে শিহরণ জাগায়:
“জাগো বাহে, কুন্ঠে সবায়ে!”
এই একটি পঙক্তির মধ্য দিয়ে তিনি যেন ঘুমন্ত বাঙালি জাতিকে বারবার জেগে ওঠার ডাক দিয়ে গেছেন। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘খেলারাম খেলে যা’ এবং ‘নীল দংশন’-এর মতো কালজয়ী কাজ। তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন, যা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য প্রতিভারই স্বীকৃতি। পরবর্তীতে তিনি একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদকেও ভূষিত হন।
প্রিয় সুধী,
সৈয়দ শামসুল হক আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শব্দ দিয়ে ছবি আঁকতে হয়। তাঁর ছোটগল্পের বুনন আর উপন্যাসের গভীরতা আমাদের জীবনবোধকে প্রসারিত করে। তিনি আমৃত্যু বিশ্বাস করতেন কলমের শক্তিতে এবং মানুষের মুক্তির মিছিলে।
আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন—
‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’।
সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই সব্যসাচী লেখকের নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন তাঁর নির্ভীক জীবনবোধ ও সাহিত্যের নিরন্তর সাধনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের মেধা ও মননকে বিকশিত করতে পারি।
সৈয়দ শামসুল হক তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের আকাশে ধ্রুবতারার মতো চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
জয় বাংলা!
জয় গুরুকুল!
আরও দেখুন: