গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা শোকের আবহে বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো।

জাতীয় শোক দিবস (বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী) উপলক্ষে বক্তৃতা

সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আজকের এই শোকাতুর দিবসের সশ্রদ্ধ অভিবাদন।

আজ ১৫ আগস্ট। আমাদের জাতীয় শোক দিবস। আজ থেকে ৫১ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই অভিশপ্ত ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আমরা গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেই মহান নেতাকে, যাঁর আঙুলের ইশারায় একটি পরাধীন জাতি পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ।

উপস্থিত সুধী,

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে কেবল একজন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, বরং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা ও স্বপ্নকে। ঘাতকদের বুলেটে সেদিন শাহাদাত বরণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাঁর তিন পুত্র—শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের অনেক সদস্য। এমনকি ঘাতকরা রেহাই দেয়নি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদকেও। দেশের বাইরে থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা—আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা।

বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সারাটি জীবন কেটেছে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে তিনি ছিলেন আমাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা। তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তিনি কেবল বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্ব মানবতার কণ্ঠস্বর। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ঠিকই বলেছিলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।”

প্রিয় সুধী,

বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি মানচিত্র দিয়েছেন, একটি পতাকা দিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল ‘সোনার বাংলা’ গড়ার—যেখানে কোনো ক্ষুধা থাকবে না, দারিদ্র্য থাকবে না, থাকবে না কোনো বৈষম্য। ঘাতকরা তাঁকে সশরীরে আমাদের মাঝ থেকে ছিনিয়ে নিলেও তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে মুছে ফেলতে পারেনি। আজ বাংলাদেশ যখন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, তখনই তাঁর সেই স্বপ্নগুলো পূর্ণতা পাচ্ছে।

আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন—

‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’।

সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই শোকাতুর আয়োজনে বারবার আমাদের জাতির পিতার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস জানি এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন আমাদের কর্মের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সেই কাঙ্ক্ষিত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কারিগর হতে পারি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে।

জয় বাংলা!

জয় বঙ্গবন্ধু!

জয় গুরুকুল!

আরও দেখুন: