তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ‘ফুড ফেয়ার’ বা খাদ্য মেলা। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মেলায় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দেশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি আধুনিক রন্ধনশৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা গেছে এই আয়োজনে।

মেলার শুভ উদ্বোধন
সকালে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের কেবল রান্নার কৌশল শেখায় না, বরং দলগত কাজ (Team Work), নেতৃত্ব এবং উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করে।

শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও স্টলসমূহ
মেলায় ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বৈচিত্র্যময় স্টল সাজিয়ে বসে। প্রতিটি স্টলের নামকরণ এবং সাজসজ্জায় ছিল নতুনত্বের ছাপ। মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি করা খাবারের মধ্যে ছিল:
- ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি: ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা ও নকশি পিঠা।
- দেশীয় মিষ্টান্ন: হাতে তৈরি পায়েস, ফিরনি ও বিভিন্ন ধরণের নাড়ু।
- বিকেলের নাস্তা: চটপটি, ফুচকা, ঝালমুড়ি এবং ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস।
- আধুনিক খাবার: পাস্তা, স্যান্ডউইচ ও বিভিন্ন ধরণের ফ্রুট জুস।

উদ্যোক্তা হওয়ার হাতেখড়ি
শিক্ষার্থীরা নিজেরাই মেলার বাজেট তৈরি করা থেকে শুরু করে বাজার করা, রান্না এবং বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক চিন্তাধারা এবং ক্রেতা সামলানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। অনেক স্টলেই ‘লাইভ কুকিং’ এর ব্যবস্থা ছিল, যা দর্শনার্থীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের মিলনমেলা
মেলার আকর্ষণ কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; গুরুকুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। তারা শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি করা খাবারের স্বাদ নেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন। অতিথিরা বলেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরে এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এবং মানসিক প্রশান্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শ্রেষ্ঠ স্টল ও পুরস্কার বিতরণ
মেলার শেষে খাবারের গুণগত মান, পরিবেশনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্টল সাজসজ্জার ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি স্টলকে পুরস্কৃত করা হয়। বিচারকদের রায়ে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের এই ফুড ফেয়ার কেবল একটি মেলা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দময় শিক্ষার দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, গুরুকুলের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতিতেও সমান পারদর্শী।