যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং হৃদয়ের গভীরতম শ্রদ্ধায় কুষ্টিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুকুল শিক্ষা পরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১৬ পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও তাঁর শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করে গুরুকুল পরিবার।
কুষ্টিয়া গুরুকুলে জাতীয় শোক দিবস ২০১৬ পালন

শোক র্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ
সোমবার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস-২ (হাসপাতাল মোড়) থেকে এক বিশাল শোক র্যালি বের করা হয়। কালো ব্যাজ ধারণ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে মজমপুরস্থ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির জনকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা: শিল্পীর তুলিতে ও কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিক্ষার্থীরা কালিশংকরপুরস্থ ক্যাম্পাস-১ এ সমবেত হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে আয়োজন করা হয় দেশাত্মবোধক গান, রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী
প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আন্তর্জাতিক শিশু সংগঠক আশরাফ উদ্দিন নজু (সাবেক সভাপতি, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এবং বর্তমান সভাপতি, কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল)। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন:
“বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই আজকের তরুণ প্রজন্মকে দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই।”
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও বিচারক মণ্ডলী
অনুষ্ঠানে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন:
মনির হাসান, পরিচালক (প্রশাসন)
তানভির মেহেদি, প্রধান সমন্বয়কারী
শামীম রানা, সমন্বয়কারী (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া)
রুহুল আমিন, ইনচার্জ (ফাইন্যান্স)
প্রতিযোগিতার বিচারকের গুরুদায়িত্ব পালন করেন চঞ্চল আলী, রাশনা শারমিন, জান্নাতুল নাঈম, আব্দুল আলীম ও আরিফুল ইসলাম। সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত নিপুণভাবে উপস্থাপনা করেন কম্পিউটার ট্রেড শিক্ষক মাধবী আইরিন।

দিনব্যাপী এই শোকাতুর আয়োজনে গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন, মেডিকেল সেকশন এবং গুরুকুল রোভার স্কাউট দলের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। শোক দিবসের এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের এক নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করে।
আরও দেখুন: