গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

কবি পূর্ণেন্দুশেখর পত্রীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি এই বিশেষ বক্তৃতাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য তুলে ধরা হলো।

সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

আজ আমরা এমন এক বিরল বহুমুখী প্রতিভার জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি একাধারে কবি, প্রচ্ছদশিল্পী, চিত্রপরিচালক, গবেষক এবং প্রাবন্ধিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের আকাশে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার সৃজনশীলতার আলো আজ অবধি আমাদের পথ দেখায়। তিনি আমাদের সকলের প্রিয় কবি—পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী।

উপস্থিত সুধী,

পূর্ণেন্দুশেখর পত্রীর জন্ম ১৯৩১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শ্যামপুরের নাকোল গ্রামে। তাঁর পিতা পুলিনবিহারী পত্রী এবং মাতা নির্মলা দেবী। আজ তাঁর প্রয়াণের বহু বছর পরেও তিনি আমাদের মাঝে অম্লান তাঁর অবিনাশী সৃষ্টির মাধ্যমে।

পূর্ণেন্দু পত্রী ছিলেন একাধারে সুনিপুণ প্রচ্ছদশিল্পী এবং সংবেদনশীল কবি। তাঁর ‘কথোপকথন’ কাব্যগ্রন্থটি বাংলা কবিতার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। ঘরোয়া চলন, অথচ গভীর ব্যঞ্জনা ছিল তাঁর কবিতার প্রধান শক্তি। প্রচ্ছদশিল্পে তিনি যে আধুনিকতা এবং নান্দনিকতার ছোঁয়া দিয়েছিলেন, তা আজও এ প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণার উৎস।

প্রিয় সুধী,

কেবল কলম বা তুলি নয়, ক্যামেরার লেন্সেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। চলচ্চিত্রকার হিসেবে তাঁর ‘স্ত্রীর পত্র’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে) চলচ্চিত্রটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল। শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি হিসেবে এটি ২০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া তাঁর পরিচালিত ‘স্বপ্ন নিয়ে’, ‘মালঞ্চ’ এবং ‘ছেঁড়া তমসুক’ বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

কলকাতা নিয়ে তাঁর গবেষণা ও ঐতিহাসিক কাজগুলো আমাদের শেকড় চেনার পথে সহায়ক। তাঁর ‘বাঁকিমযুগ’ বিষয়ক গবেষণা এবং শিশুসাহিত্যিক হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ছদ্মনাম ‘সমুদ্রগুপ্ত’ হিসেবেও সাহিত্যচর্চা করেছেন।

আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন—

‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’।

সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই সব্যসাচী শিল্পীর জীবন থেকে সৃজনশীলতা ও শেকড় সন্ধানের শিক্ষা গ্রহণ করি।

কবি পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে।

জয় বাংলা!

জয় গুরুকুল!

আরও দেখুন: