৭ই মার্চ ‘স্বাধীনতার কবিতা দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো।
৭ই মার্চ: স্বাধীনতার কবিতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা
সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,
আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের রক্তিম শুভেচ্ছা ও বিনম্র শ্রদ্ধা।
আজ এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। আজ থেকে ৩৯ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে এক অবিনাশী মহাকাব্য পাঠ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই কালজয়ী ভাষণকে স্মরণ করে এবং এর শৈল্পিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে গুরুকুল আজ পালন করছে ‘স্বাধীনতার কবিতা দিবস’।
উপস্থিত সুধী,
২০১০ সালে দাঁড়িয়ে যখন আমরা পেছনের দিকে তাকাই, তখন দেখি ৭ই মার্চের ভাষণ কেবল একটি রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনা ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির কয়েক হাজার বছরের বঞ্চনার অবসান আর মুক্তির আকাঙ্ক্ষার এক শ্রেষ্ঠ কাব্য। ১৮ মিনিটের সেই ভাষণে কোনো লিখিত পাণ্ডুলিপি ছিল না, ছিল হৃদয়ের গভীর থেকে আসা স্বতঃস্ফূর্ত শব্দমালা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউজউইক পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে যথাযথভাবেই আখ্যা দিয়েছিল ‘রাজনীতির কবি’ (Poet of Politics) হিসেবে।
বঙ্গবন্ধু যখন তাঁর বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন— “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”, তখন সেটি কেবল একটি ঘোষণা ছিল না, বরং বাঙালির হৃদয়ে স্বাধীনতার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বেলে দেওয়া এক চূড়ান্ত পঙক্তি হয়ে উঠেছিল। এই ভাষণের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বিরতি এবং এর ছন্দময় ভঙ্গি আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে একটি নিরস্ত্র জাতিকে শব্দ ও সাহসের শক্তিতে সশস্ত্র করে তোলা যায়। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এই শ্রেষ্ঠ দলিলটি আজও আমাদের প্রতিটি সংকটে প্রেরণা জোগায়।
প্রিয় সুধী,
যেকোনো জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলো তার সংস্কৃতির সর্বোচ্চ শিখর থেকে জন্ম নেয়। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ আমাদের ইতিহাসের এমন এক সাংস্কৃতিক সম্পদ, যা আমাদের জাতীয় পরিচয়কে সংজ্ঞায়িত করে।
আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এই দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন—
“বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ কেবল রাজনীতির কৌশল নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্বের শ্রেষ্ঠ কবিতা। একজন মানুষ যখন তাঁর নিজের সেই মৌলিক সংস্কৃতি ও ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সময়গুলোকে হৃদয়ে ধারণ করে এবং তা চর্চার মাধ্যমে নিজের জীবনকে গড়ে তোলে, তখনই সে এক পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। আমরা যদি আমাদের এই স্বাধীনতার মহাকাব্যকে ভুলে যাই, তবে আমাদের জাতিসত্তা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই আমরা বাঙালির এই স্বাধীনতার অমর কবিতাটির চর্চা এবং এর চেতনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের জাতীয় জীবনে জীবন্ত রাখতে কাজ করতে চাই।”
সেই দর্শনে দীক্ষিত হয়েই আমরা আজ এই ‘স্বাধীনতার কবিতা দিবস’ পালন করছি। আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর সেই অমোঘ বজ্রবাণী আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য ধ্রুবতারার মতো পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। ২০১০ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা নতুন করে শপথ নিই একটি সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার।
সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে আমাদের জাতির পিতাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন ৭ই মার্চের সেই স্বাধীনতার কবিতার প্রতিটি শব্দকে আমাদের কর্মে ও চেতনায় আজীবন বহন করতে পারি।
বঙ্গবন্ধুর সেই অমর পঙক্তি চিরকাল বাংলার আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হোক।
ধন্যবাদ সবাইকে।
জয় বাংলা!
জয় বঙ্গবন্ধু!
জয় গুরুকুল!
আরও দেখুন: