কবীর সুমন-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো।
কবীর সুমন-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা
সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,
আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
আজ আমরা এমন এক বিস্ময়কর প্রতিভার জন্মদিন উদযাপন করছি, যিনি আধুনিক বাংলা গানের ব্যাকরণ বদলে দিয়েছেন। যিনি নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, প্রেম আর দ্রোহকে গিটারের তারে আর পিয়ানোর রিডে এক নতুন ভাষা দিয়েছেন। তিনি আমাদের প্রিয় গানওয়ালা—কবীর সুমন।
উপস্থিত সুধী,
কবীর সুমন ১৯৪৯ সালের ১৬ মার্চ ওড়িশার কটকে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সুধীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম বিমলা চট্টোপাধ্যায়। প্রথাগত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি বিশ্বভ্রমণ করেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামী সংবাদ সংস্থায়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বাংলা আধুনিক গান একটি স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ১৯৯২ সালে ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি বাংলা গানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। তিনি একাধারে গায়ক, গীতিকার, সুরকার এবং অসামান্য এক যন্ত্রী।
কবীর সুমনের গান মানেই মধ্যবিত্তের না বলা কথা, ফুটপাতের ধুলোবালি কিংবা আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল চালচিত্র। তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে ব্যক্তিগত প্রেমের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে সমষ্টির লড়াই। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ আজও আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী:
“তোমাকে চাই, তোমাকে চাই”
“হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে”
“পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগগা”
প্রিয় সুধী,
কবীর সুমনের সাথে বাংলাদেশের নাড়ির সম্পর্ক অনস্বীকার্য। এদেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রাম, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সাধারণ মানুষের আবেগ—সব কিছুতেই তাঁর গান ও সংহতি সবসময় ছিল অটল। তিনি কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি একজন চিন্তক এবং মানবাধিকার কর্মীও বটে। তাঁর জীবন আমাদের শিখিয়েছে আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে কীভাবে বারবার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা যায়।
আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন—
‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’।
সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই শিল্পীর নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই অকুতোভয় শিল্পীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের শেকড় এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আজীবন ধারণ করতে পারি।
কবীর সুমন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে এবং বাংলা গানের ভুবনে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
জয় বাংলা!
জয় গুরুকুল!
আরও দেখুন: