পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো।
পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা
সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,
আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
আজ ২৫ অক্টোবর। আজ আমরা বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, আধুনিক চিত্রকলার জাদুকর পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি। তিনি এমন একজন শিল্পী ছিলেন যিনি ক্যানভাসে সুন্দরের প্রচলিত সংজ্ঞাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিয়েছিলেন।
উপস্থিত সুধী,
পাবলো পিকাসো ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর স্পেনের মালাগা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম ছিল অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘ, তবে বিশ্ব তাঁকে এক নামেই চেনে—পিকাসো। তাঁর বাবা হোসে রুইজ ব্লাস্কো নিজেও একজন চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক ছিলেন। শৈশব থেকেই পিকাসোর প্রতিভা ছিল বিস্ময়কর। বলা হয়ে থাকে, কথা বলা শেখার আগেই তিনি ছবি আঁকতে শিখেছিলেন।
পিকাসোর শিল্পজীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তিনি কেবল চিত্রশিল্পী ছিলেন না; তিনি একাধারে ভাস্কর, ছাপচিত্র শিল্পী, মৃৎশিল্পী এবং মঞ্চ নকশাকার। শিল্পকলার ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর উদ্ভাবিত ‘কিউবিজম’ বা ঘনকবাদ আন্দোলনের জন্য। তাঁর আঁকা ছবিগুলোকে বিভিন্ন কালখণ্ডে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে ‘ব্লু পিরিয়ড’ (Blue Period) এবং ‘রোজ পিরিয়ড’ (Rose Period) অত্যন্ত বিখ্যাত। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির মধ্যে ১৯৩৭ সালে আঁকা ‘গুয়ের্নিকা’ (Guernica) চিত্রকর্মটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শিল্প-প্রতিবাদ হিসেবে স্বীকৃত।
প্রিয় সুধী,
পিকাসো তাঁর দীর্ঘ ৯১ বছরের জীবনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, “প্রতিটি শিশুই একজন শিল্পী, সমস্যা হলো বড় হওয়ার পরও কীভাবে শিল্পী থাকা যায় তা নিয়ে।” তাঁর কাজ আমাদের শেখায় প্রথাগত নিয়ম ভেঙে কীভাবে সৃজনশীলতার নতুন দুয়ার উন্মোচন করা যায়। তিনি ছিলেন আধুনিকতার প্রতীক, যিনি শিল্পের মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনীতি ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরেছেন।
আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন—
‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’।
সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে এই মহান শিল্পীকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন পিকাসোর অদম্য সৃজনশীলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে বৈচিত্র্যময় ও অর্থবহ করে তুলতে পারি।
পাবলো পিকাসো তাঁর অমর তুলির টানে বিশ্বের শিল্পমনা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
জয় বাংলা!
জয় গুরুকুল!
আরও দেখুন: