গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

২০১৫ এর আগস্টের কুষ্টিয়া গুরুকুলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

দেশপ্রেম, নিষ্ঠা এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি শিক্ষিত, দক্ষ, কর্মঠ, রুচিশীল ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার নিরন্তর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক। আমরা বিশ্বাস করি, কেবলমাত্র পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং মূল্যবোধসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষাই পারে একটি সমৃদ্ধ জাতি উপহার দিতে। আপনি কি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক? আপনি কি আপনার অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে আগামীর দক্ষ কারিগর তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চান? গুরুকুলের এই অনন্য মিশনে সহযাত্রী হওয়ার জন্য আমরা আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ২০১৫ এর আগস্টের কুষ্টিয়া গুরুকুলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি   পদের নাম: ইন্সট্রাক্টর ও জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর বিভাগ: গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও মেকানিক্যাল আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ আগস্ট, ২০১৫ ১. পদের নাম: ইন্সট্রাক্টর পদের সংখ্যা: ০৩ জন কর্মস্থল: কুষ্টিয়া (শহর) চাকরির ধরণ: পূর্ণকালীন শিক্ষাগত যোগ্যতা: * স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত বা পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি/বিএসসি ডিগ্রি। অথবা, বিএসসি ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেকানিক্যালে ডিপ্লোমা। অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৪ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা। বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩০ বছর। বেতন: সরকারি বেতন কাঠামো ও নিয়ম অনুযায়ী। কাজের বিবরণ ও দায়িত্ব: শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশে ফলাফলভিত্তিক পাঠদান, কোচিং ও মেন্টরিং নিশ্চিত করা। মানসম্মত, কার্যকর এবং আনন্দদায়ক শিক্ষাদান পদ্ধতি বজায় রাখা। শ্রেণিকক্ষে আধুনিক ও উদ্ভাবনী শিক্ষণ কৌশল (Pedagogy) প্রয়োগ করা। প্রতিষ্ঠানের কোর্স সিলেবাস ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার কঠোরভাবে অনুসরণ করা। শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে একাডেমিক সকল দায়িত্ব সম্পন্ন করা। ২. পদের নাম: জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদের সংখ্যা: ০৩ জন কর্মস্থল: কুষ্টিয়া (শহর) চাকরির ধরণ: পূর্ণকালীন শিক্ষাগত যোগ্যতা: * স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত বা পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি/বিএসসি ডিগ্রি। অথবা, মেকানিক্যাল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা। অভিজ্ঞতা: পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই (নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে)। বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩০ বছর। বেতন: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী। কাজের বিবরণ ও দায়িত্ব: সহকারী হিসেবে মানসম্মত পাঠদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদানে সিনিয়র ইন্সট্রাক্টরকে সহযোগিতা করা। শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক ও মানবিক গুণাবলী বিকাশে ভূমিকা রাখা। প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা (উভয় পদের জন্য): এমএস এক্সেল (MS Excel) এবং সাধারণ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে মৌলিক দক্ষতা। ইন্টারনেট রিসার্চ ও ইমেইল কমিউনিকেশনে পারদর্শিতা।   আবেদন প্রক্রিয়া ও নির্দেশনা: আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৩০ আগস্ট, ২০১৫ তারিখের মধ্যে নিম্নলিখিত ঠিকানায় ইমেইলের মাধ্যমে আবেদন করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। ইমেইল ঠিকানা: people@gurukul.edu.bd আবেদনের বিশেষ নিয়মাবলী: ১. ইমেইলের Subject-এ অবশ্যই পদের নাম (যেমন: Application for Instructor-Math) উল্লেখ করতে হবে। ২. ইমেইলের মূল অংশে (Body) আপনার যোগ্যতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও কেন আপনি গুরুকুলের জন্য উপযুক্ত তা সংক্ষেপে লিখুন। ৩. ইমেইল সিগনেচারে আপনার সচল ফোন নম্বর এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক (যেমন: LinkedIn/Facebook) প্রোফাইলের লিঙ্ক যুক্ত করুন। ৪. আপনার পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত (CV) অবশ্যই MS Word অথবা PDF ফরম্যাটে সংযুক্ত করুন। ৫. সাম্প্রতিক তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি .JPG ফরম্যাটে আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে। প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, কুষ্টিয়া। আরও দেখুন: কেন গুরুকুলে কাজ করবেন?

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০১৪ উপলক্ষে ছুটির নোটিশ

শারদীয় দুর্গা পূজা, ছুটির নোটিশ

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহালগ্নে ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর আওতাধীন সকল ক্যাম্পাসে আগামী ০৪ অক্টোবর ২০১৪ (শনিবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দিন প্রতিষ্ঠানের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের জীবনদর্শন গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। গুরুকুল মনে করে, একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা হবে এমন এক মিলনমেলা যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ তাদের স্ব-স্ব বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে সহাবস্থান করবে। শারদীয় দুর্গাপূজার এই ছুটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিরতি নয়, বরং প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসবকে সমান গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার একটি সনিষ্ঠ প্রয়াস। ছুটির বিস্তারিত সময়সূচী প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির তারিখ: ০৪ অক্টোবর ২০১৪ (শনিবার)। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ০৫ অক্টোবর ২০১৪ (রবিবার) থেকে সকল ক্যাম্পাসের ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হবে। নিরাপত্তা ও ভ্রাতৃত্বের নির্দেশনা উৎসবকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে সকল শিক্ষার্থীকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সংযতভাবে উৎসব উদযাপনের জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। গুরুকুল বিশ্বাস করে, উৎসবের আনন্দ যখন বৈষম্যহীনভাবে সকলের মাঝে ভাগ করে নেওয়া হয়, তখনই একটি সহনশীল ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় প্রশাসন বিভাগ জানিয়েছে, “গুরুকুল পরিবার বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যে বিশ্বাস করে। আমাদের ক্যাম্পাসগুলোতে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই আমাদের প্রকৃত শিক্ষার পরিচয়। বিজয়া দশমীর এই পুণ্য তিথিতে আমরা সকল ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মৈত্রী ও সংহতির জয়গান গাই।” গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক পরিবারের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা

গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের নবীন শিক্ষার্থীর বক্তব্য : স্বপ্নের পথে নতুন যাত্রা

কুষ্টিয়া গুরুকুল এর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সমূহের বিদায় অনুষ্ঠান ২০১৬।

গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের মাহেন্দ্রক্ষণে একজন নবীন  শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একটি বক্তব্য পরবর্তি শিক্ষার্থীদের জণ্য আপলোড করে রাখা হলো: গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের নবীন শিক্ষার্থীর বক্তব্য সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন। আজ আমরা যারা নবীন হিসেবে গুরুকুলের এই পবিত্র আঙিনায় পা রেখেছি, আমাদের বরণ করে নেওয়ার যে উষ্ণ ও আন্তরিক আয়োজন আপনারা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। একই সাথে আজ আমাদের সেই বড় ভাই-বোনদের বিদায় অনুষ্ঠান, যারা এই চেনা প্রাঙ্গণে দীর্ঘ সময় পথ চলে আজ বৃহত্তর জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছেন। আপনাদের সবার সামনে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত গর্বিত বোধ করছি। সুধীজন, আমরা যারা আজ নতুন হিসেবে এখানে যুক্ত হলাম, আমাদের সামনে রয়েছে এক অবারিত সুযোগ। গুরুকুল কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি আধুনিক জ্ঞানপীঠ। আমাদের ক্যাম্পাস, অডিটোরিয়াম, ল্যাব ও গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের যে বিশাল ডিজিটাল ভাণ্ডার এবং কারিগরি শিক্ষার সুযোগ রয়েছে, আমাদের লক্ষ্য থাকবে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আমরা হতে চাই আধুনিক, দক্ষ এবং অনুসন্ধিৎসু—যারা কেবল ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়, বরং বিশ্বকে জয় করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে। প্রিয় বিদায়ী বড় ভাই ও বোনেরা, আপনাদের বিদায় বেলায় আমাদের মন কিছুটা ভারাক্রান্ত হলেও, আপনাদের ফেলে যাওয়া স্মৃতি আর সাফল্য আমাদের সাহস জোগাবে। আপনারা যেভাবে এই ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখেছেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আপনাদের সেই ধারাকে আমরা আরও গর্বের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাব। আপনারা কর্মজীবনের যে নতুন পৃথিবীতে পা রাখছেন, সেখানে আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সফল হোক, এই কামনাই করি। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, আপনাদের প্রতি আমাদের বিনীত প্রত্যাশা যে, আপনারা আমাদের কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পৃথিবীর জন্য একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। আমরা গুরুকুলের বাইরে থেকে সবসময়ই শুনে এসেছি যে, এখানে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিতর্ক, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা কিংবা স্কাউটিংয়ের মতো কার্যক্রমগুলোর মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী জীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করে এবং মানসিকভাবে সুগঠিত হয়ে ওঠে। তাই আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনারা যেন নিয়মিতভাবে এই সৃজনশীল কার্যক্রমগুলো পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, যাতে আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি এবং জীবনমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাই। আপনারা আমাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকলে আমরা বিশ্বাস করি, গুরুকুলের প্রতিটি শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনের যেকোনো লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার শক্তি লাভ করবে। শ্রদ্ধেয় উপস্থিতি, বক্তৃতার এই পর্যায়ে আমি আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর স্যার সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। এই প্রতিষ্ঠানে আসার আগে থেকেই স্যারের সম্পর্কে আমরা অনেক শুনেছি। তাঁর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও গঠনমূলক লেখালেখি সম্পর্কে জেনেছি। বিশেষ করে স্যারের ভিডিওগুলো দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাঁর জীবনদর্শন এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য তাঁর দিকনির্দেশনা আমাদের মতো নবীনদের মনে এক গভীর কৌতূহল ও শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করেছে। আমাদের স্বপ্ন ও প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে যে, আগামী দিনগুলোতে আমাদের এই ক্যাম্পাস জীবনে আমরা স্যারের মূল্যবান সান্নিধ্য পাবো এবং তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে সরাসরি শিক্ষা নিয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। উপসংহার: পরিশেষে বলতে চাই, আজ আমাদের স্বপ্নের ডানা মেলার দিন। আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দের হাত ধরে আমরা যেন এই গুরুকুলের আলোকবর্তিকা হয়ে আগামীর বাংলাদেশকে আরও সুন্দর করে গড়তে পারি। আমাদের যাত্রা যেন হয় ন্যায়, সত্য এবং সুন্দরের পথে। ধন্যবাদ জানাই সবাইকে এই চমৎকার আয়োজনের জন্য এবং আমাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য। জয় বাংলা, জয় গুরুকুল, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। আরও দেখুন: গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী শিক্ষার্থীর বক্তব্য: স্মৃতি অম্লান, যাত্রা অনন্ত

গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী শিক্ষার্থীর বক্তব্য: স্মৃতি অম্লান, যাত্রা অনন্ত

নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান ২০২৪

গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের মাহেন্দ্রক্ষণে একজন বিদায়ী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একটি বক্তব্য পরবর্তি শিক্ষার্থীদের জণ্য আপলোড করে রাখা হলো: নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী শিক্ষার্থীর বক্তব্য   সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের দিনটি আমাদের জন্য এক মিশ্র অনুভূতির। একদিকে আমাদের ছোট ভাই-বোনদের বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে আমাদের বিদায়ের করুণ সুর। বিদায় মানেই শেষ নয়, বরং বিদায় হলো এক নতুন দিগন্তের পথে যাত্রার শুরু। তবুও, এই ক্যাম্পাস, এই প্রিয় মুখগুলো আর এই চেনা আঙিনা ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তটি অত্যন্ত ভারী হয়ে উঠেছে। সুধীজন, আজ থেকে কয়েক বছর আগে আমরা যখন ঠিক আপনাদের মতো নবীন হিসেবে এই গুরুকুলের দুয়ারে পা রেখেছিলাম, তখন আমাদের চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন আর মনে ছিল এক অজানা শঙ্কা। কিন্তু গুরুকুল আমাদের কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি পরিবার হিসেবে আগলে রেখেছে। এখানকার শিক্ষকরা আমাদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেননি, বরং শিখিয়েছেন কীভাবে একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়। প্রিয় নবীন বন্ধু ও ছোট ভাই-বোনেরা, আজ আপনাদের যাত্রা শুরু হলো। আপনারা এমন এক প্রতিষ্ঠানে এসেছেন যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি আর নৈতিক শিক্ষার এক অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারকে আপনারা কাজে লাগাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মনে রাখবেন, সময় অত্যন্ত মূল্যবান। প্রতিটি দিনকে কাজে লাগান, কৌতূহলী হোন এবং অজানাকে জানার নেশায় মত্ত থাকুন। আজ আমরা যে জায়গাটি আপনাদের জন্য খালি করে যাচ্ছি, আপনারা আপনাদের মেধা আর সৃজনশীলতা দিয়ে সেই জায়গাটি আরও উজ্জ্বল করে তুলবেন। প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ ও গুরুকুল কর্তৃপক্ষ, আপনাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমাদের ভুলগুলোকে আপনারা পরম মমতায় শুধরে দিয়েছেন। জীবনের কঠিন পিচ্ছিল পথে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয়, সেই দীক্ষা আমরা আপনাদের কাছ থেকেই পেয়েছি। আজ আমরা যেটুকু অর্জন করেছি, তার সিংহভাগই আপনাদের ত্যাগ আর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। আপনাদের শেখানো আদর্শকে আমরা আমাদের হৃদয়ে লালন করব সারাজীবন। সুধীজন, আজ বিদায় বেলায় আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর স্যারের প্রতিটি আদর্শিক শিক্ষা বারবার মনে পড়ছে। তাঁর সান্নিধ্যে আমরা জীবনের যে গূঢ় সত্যগুলো জেনেছি, তা আমাদের আজীবন পথ দেখাবে। স্যার সবসময় আমাদের হৃদয়ের পরিশুদ্ধির কথা বলতেন। তিনি বলতেন— “কাপড়ে নয়, সব অসুন্দর, অসত্য, নীচতা থেকে মনের হিজাব করো।” অর্থাৎ বাইরের আবরণের চেয়ে ভেতরের পবিত্রতা আর নৈতিকতাকে তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতেন। তিনি আমাদের মহান মানুষদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে গিয়ে বলতেন— “বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়।” স্যারের এই কথাগুলো আজ আমাদের চেতনায় প্রদীপের মতো জ্বলছে। তাঁর আরও কত কথা, কত স্মৃতি আজ এই বিদায়ক্ষণে মনের মধ্যে বায়োস্কোপের মতো একে একে সরে যাচ্ছে। বিদায়ের এই ক্ষণে, সাফল্য মানে কেবল একটি ভালো চাকরি বা অনেক অর্থ উপার্জন নয়; সাফল্য মানে হলো নিজের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমাজের অন্ধকার দূর করা। আমরা যখন এই চত্বর থেকে কর্মজীবনের বিশাল পৃথিবীতে পা রাখছি, তখন আমাদের অঙ্গীকার হলো—আমরা যেখানেই যাই না কেন, গুরুকুলের মান সমুন্নত রাখব। আমরা যেন আর্তমানবতার সেবায় এবং দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করতে পারি, সেই আশীর্বাদ প্রার্থী। শেষ করতে ইচ্ছে করছে না, তবুও শেষ করতে হবে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে চাই— “যেতে নাহি দিব, হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।” সময় বয়ে যাবে, আমরা হয়তো ব্যক্তিগত জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ব, কিন্তু গুরুকুলের প্রতিটি ধূলিকণা আর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে অম্লান থাকবে। প্রিয় নবীন বন্ধুদের জন্য রইল অফুরন্ত শুভকামনা আর আমাদের জন্য রইল এক বুক স্মৃতি। ভালো থেকো গুরুকুল, ভালো থাকুন প্রিয় শিক্ষকমণ্ডলী। ধন্যবাদ জানাই সবাইকে এই সুন্দর আয়োজনের জন্য। জয় গুরুকুল, জয় গুরুকুল, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। আরও দেখুন: গুরুকুলের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের নবীন শিক্ষার্থীর বক্তব্য : স্বপ্নের পথে নতুন যাত্রা

ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসর ক্যারিয়ার গাইডলাইন | গুরুকুল ক্যারিয়ার ক্যাটালগ

সাইবার সিকিউরিটি

সাইবার নিরাপত্তার জগতে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’—এই নীতিতে যারা বিশ্বাসী, তাদের জন্য ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসর একটি আদর্শ পেশা। একজন পেনিট্রেশন টেস্টার যেমন সিস্টেমে আক্রমণ করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, একজন ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসরের কাজ হলো তার আগেই সিস্টেমের সমস্ত ছোট-বড় ছিদ্র বা দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা। নিচে এই ক্যারিয়ারের একটি কমপ্লিট গাইডলাইন দেওয়া হলো: ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট কী? ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট হলো একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সার্ভার, নেটওয়ার্ক, অ্যাপ্লিকেশন) স্ক্যান করে নিরাপত্তা জনিত ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা হয়। এই পেশাজীবীরা মূলত VAPT (Vulnerability Assessment and Penetration Testing) প্রক্রিয়ার প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি সম্পন্ন করেন। প্রধান দায়িত্বসমূহ স্ক্যানিং: স্বয়ংক্রিয় টুলস ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করা। রিস্ক অ্যানালাইসিস: কোন দুর্বলতাটি কতটা বিপজ্জনক তা নির্ধারণ করা (CVSS স্কোরের মাধ্যমে)। রিপোর্টিং: আইটি টিমকে জানানো যে কোন ছিদ্রটি আগে বন্ধ করতে হবে এবং কীভাবে। কমপ্লায়েন্স চেক: প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলছে কি না তা নিশ্চিত করা।   প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা এই পেশায় সফল হতে হলে আপনাকে নিচের বিষয়গুলোতে দক্ষ হতে হবে: নেটওয়ার্ক প্রোটোকল: TCP/IP, ICMP, SNMP এবং HTTP প্রোটোকল সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। অপারেটিং সিস্টেম: উইন্ডোজ ও লিনাক্স সিকিউরিটি কনফিগারেশন বুঝতে পারা। ডাটাবেস জ্ঞান: SQL ইনজেকশন বা মিসকনফিগারেশন ধরার ক্ষমতা। ক্লাউড সিকিউরিটি: AWS বা Azure পরিবেশের দুর্বলতা শনাক্তকরণ।   শেখার ধাপ ও রোডম্যাপ ধাপ ১: বেসিক ফাউন্ডেশন প্রথমে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এবং হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানুন। CompTIA A+ এবং Network+ এর জ্ঞান এখানে ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ধাপ ২: সিকিউরিটি টুলস শিখুন ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসরদের প্রধান শক্তি হলো তাদের টুলস। নিচের ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড টুলগুলো আয়ত্ত করুন: Nessus: বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভালনারেবিলিটি স্ক্যানার। OpenVAS: একটি শক্তিশালী ওপেন সোর্স স্ক্যানিং টুল। Nmap: পোর্ট স্ক্যানিং এবং সার্ভিস ডিটেকশনের জন্য অপরিহার্য। Qualys: এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ক্লাউড-বেসড অ্যাসেসমেন্ট টুল। ধাপ ৩: ল্যাব প্র্যাকটিস নিজের কম্পিউটারে ভার্চুয়াল মেশিন ব্যবহার করে বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ ওল্ড ভার্সন সফটওয়্যার ইনস্টল করুন এবং টুলস দিয়ে সেগুলো স্ক্যান করে রিপোর্ট তৈরির প্র্যাকটিস করুন। গ্লোবাল সার্টিফিকেশন ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসর হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে নিচের সার্টিফিকেটগুলো আপনার সিভির মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে: ১. CompTIA Security+: সাইবার সিকিউরিটির প্রাথমিক ধাপ। ২. Certified Vulnerability Assessor (CVA): সরাসরি এই রোলের জন্য ডিজাইন করা। ৩. CompTIA CySA+ (Cybersecurity Analyst): থ্রেট ডিটেকশন ও রেসপন্সের জন্য সেরা। ৪. Nessus Certificate: নির্দিষ্ট টুল ব্যবহারের দক্ষতা প্রমাণ করে। ক্যারিয়ার ও কাজের ক্ষেত্র প্রতিটি বড় প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে বা প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত সিকিউরিটি অডিট প্রয়োজন হয়। আপনার কাজের সুযোগ থাকবে: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। সরকারি আইটি সেল ও ডিফেন্স প্রজেক্টে। সাইবার সিকিউরিটি কনসালটেন্সি ফার্মে। টেক জায়ান্ট (গুগল, আমাজন, মাইক্রোসফট) সমূহে।     বেতন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বাংলাদেশে এন্ট্রি লেভেলে একজন ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসরের মাসিক বেতন ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা হতে পারে। অভিজ্ঞতার সাথে এবং আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট থাকলে এটি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানের অটোমেশন যুগেও মানুষের বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ‘ফলস পজিটিভ’ (ভুল রিপোর্ট) চিহ্নিত করার জন্য এই পেশার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসর হওয়া মানে হলো আপনি একজন ‘ডিজিটাল ডিটেক্টিভ’। আপনার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিই পারে একটি বড় ধরনের হ্যাকিং দুর্ঘটনা থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে। ধৈর্যের সাথে টুলস এবং টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস শিখতে পারলে এই ক্যারিয়ার আপনাকে একটি উজ্জ্বল ও সম্মানজনক ভবিষ্যৎ উপহার দেবে। গুরুকুল পরামর্শ: কেবল টুলস দিয়ে স্ক্যান বাটনে ক্লিক করা শিখবেন না, বরং স্ক্যানার কেন কোনো একটি বিষয়কে দুর্বলতা বলছে, তার পেছনের লজিকটি বোঝার চেষ্টা করুন। এটিই আপনাকে সাধারণ একজন অপারেটর থেকে দক্ষ ‘অ্যাসেসর’ হিসেবে গড়ে তুলবে। আরও দেখুন: এথিক্যাল হ্যাকার ও পেনিট্রেশন টেস্টার ক্যারিয়ার গাইডলাইন । গুরুকুল ক্যারিয়ার ক্যাটালগ

প্রয়াণ দিবসে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়কে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি । ১০ ফেব্রুয়ারি

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

আজ ১০ ফেব্রুয়ারি—বাংলা ইতিহাসচর্চার এক অনন্য পথপ্রদর্শক, সমাজসংস্কারক ও বাঙালি মননের এক উজ্জ্বল দীপ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়–এর প্রয়াণ দিবস। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি সেই মহান মানুষটিকে, যিনি সত্য ও যুক্তির শক্তিতে উপনিবেশিক ইতিহাসের বিকৃত ভাষ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং বাঙালির অতীতকে মর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন জ্ঞানের এক নিরলস সাধক। ইতিহাস তাঁর কাছে ছিল কেবল অতীতের কাহিনি নয়—বরং জাতির আত্মচেতনাকে জাগ্রত করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের রচিত পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনার বিরুদ্ধে তিনি যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ “সিরাজদ্দৌলা” শুধু একটি ইতিহাসগ্রন্থ নয়—এটি বাঙালির আত্মমর্যাদার দলিল। একইভাবে অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর গবেষণা সাহসিকতার সাথে সত্যের পক্ষে কথা বলার এক বিরল দৃষ্টান্ত। বর্তমান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম—এই তথ্য আমাদের কুষ্টিয়ার মানুষদের জন্য এক অসীম গর্বের বিষয়। এই মাটির সন্তান হয়ে তিনি সমগ্র বাংলার ইতিহাসকে আলোকিত করেছেন। তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের শিকড় এই জনপদে প্রোথিত—যা আমাদের জন্য দায়িত্বের বার্তা বহন করে, যেন আমরা তাঁর আদর্শকে বহন করি আগামীর পথে। বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি ও বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যে গবেষণাধারা সূচনা করেছিলেন, তা আজও বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বচর্চার অন্যতম ভিত্তি। তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে বাংলার গৌরবময় অতীত উদ্ধারে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি কেবল ইতিহাসবিদ ছিলেন না—তিনি ছিলেন সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সাধক। সাহিত্য, নাটক, শিল্পকলা, শিক্ষা, নাগরিক উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় ভূমিকা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী সমাজের প্রতিটি স্তরে আলোর পথ দেখান। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে এই আহ্বান জানাই—অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের মতো সাহসী, সত্যনিষ্ঠ ও মানবিক হয়ে উঠতে। ইতিহাসকে জানতে, সত্যকে ভালোবাসতে এবং সংস্কৃতিকে ধারণ করতে। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে এই মহান মনীষীকে—যিনি আমাদের শিখিয়েছেন, জ্ঞানই জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। চিরস্মরণীয়—অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়।

একটি সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল প্রজন্মের কারিগর হোন: আপনার একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ বদলে দিতে পারে একটি জীবন

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিপুল সংখ্যক প্রাণোচ্ছ্বল তরুণ। কিন্তু এই বিশাল জনসম্পদ যখন উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে কর্মসংস্থানহীন থাকে, তখন তা জাতির জন্য বোঝায় পরিণত হয়। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক বিশ্বাস করে, কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষাই পারে এই তরুণদের দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করে একটি অভাবমুক্ত ও মর্যাদাবান সমাজ গড়ে তুলতে। একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, একটি পরিবারের আলোকবর্তিকা আমরা বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি—বাংলাদেশের একজন তরুণের জীবন পরিবর্তনে আপনিও আমাদের অংশীদার হতে পারেন। একজন শিক্ষার্থীকে তার কারিগরি শিক্ষা গ্রহণে পৃষ্ঠপোষকতা করার অর্থ কেবল তার ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ পরিবারের দারিদ্র্য মুক্তি এবং অন্ধকার ভবিষ্যৎকে আলোকিত করার একটি স্থায়ী সমাধান। আপনি যখন একজন শিক্ষার্থীর চার বছরের শিক্ষার ব্যয়ভার গ্রহণের দায়িত্ব নেবেন, তখন কার্যত আপনি একটি পুরো পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার শক্তি জোগাচ্ছেন। দেশি ও প্রবাসী দাতাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান আমরা বাংলাদেশি নাগরিক, দেশপ্রেমিক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং মহানুভব বিদেশি নাগরিকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাই—কোনো একক শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীদের একটি ছোট দলের জন্য আমাদের ট্রাস্ট ফান্ড-এর মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার এই বিনিয়োগ কোনো ত্রাণ নয়, বরং এটি একটি টেকসই বিনিয়োগ যা একটি দক্ষ প্রজন্ম তৈরি করবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: আমাদের অঙ্গীকার আপনার মূল্যবান অনুদানের প্রতিটি পয়সার সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুকুল শিল্প ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া: এই বোর্ড অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে। নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ: তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতিবছর প্রথিতযশা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা নিরীক্ষা (Audit) করা হয়। দাতা বা পৃষ্ঠপোষক চাইলে নিজস্ব নিরীক্ষক নিয়োগ করে বা সরাসরি নিরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ: আমরা সম্মানিত দাতাদের আমাদের ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসার জন্য উৎসাহিত করি, যেন তারা সরাসরি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে অগ্রগতির প্রকৃত চিত্র মূল্যায়ন করতে পারেন। আপনার সাথে আমাদের সংযোগ গুরুকুল নিয়মিতভাবে দাতা বা পৃষ্ঠপোষকদের কাছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল এবং কারিগরি দক্ষতার অগ্রগতির বিস্তারিত রিপোর্ট সরবরাহ করে। আপনার এই সহযোগিতা কেবল একটি দান নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে আপনার পক্ষ থেকে একটি ঐতিহাসিক অবদান। আজই এগিয়ে আসুন, আপনার হাত ধরেই গড়ে উঠুক একজন তরুণের রঙিন ভবিষ্যৎ। অতিরিক্ত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন: অস্ট্রেলিয়া যোগাযোগ: শাহেদ আবুবকর – ই-মেইল: shahed.abubakar@gurukul.edu.bd বাংলাদেশ যোগাযোগ: গুরুকুল প্রমুখ – ই-মেইল: pramukh@gurukul.edu.bd ট্রাস্টি বোর্ড ও প্রশাসন, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক।

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০১৩ উপলক্ষে ছুটির নোটিশ

শারদীয় দুর্গা পূজা, ছুটির নোটিশ

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহালগ্নে ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ‘গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ আগামী ১৪ অক্টোবর ২০১৩ (সোমবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দিন প্রতিষ্ঠানের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের জীবনদর্শন গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। গুরুকুল মনে করে, একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা হবে এমন এক মিলনমেলা যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ তাদের স্ব-স্ব বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে সহাবস্থান করবে। শারদীয় দুর্গাপূজার এই ছুটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিরতি নয়, বরং প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসবকে সমান গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার একটি সনিষ্ঠ প্রয়াস। ছুটির বিস্তারিত সময়সূচী প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির তারিখ: ১৪ অক্টোবর ২০১৩ (সোমবার)। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ১৫ অক্টোবর ২০১৩ (মঙ্গলবার) থেকে ক্যাম্পাসের সকল ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার নির্দেশনা উৎসবকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সকল শিক্ষার্থীকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সংযতভাবে উৎসব উদযাপনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গুরুকুল বিশ্বাস করে, উৎসবের আনন্দ যখন বৈষম্যহীনভাবে সকলের মাঝে ভাগ করে নেওয়া হয়, তখনই একটি সুন্দর ও সহনশীল সমাজ গড়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের প্রশাসন বিভাগ জানিয়েছে, “গুরুকুল পরিবার বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যে বিশ্বাস করে। আমাদের ক্যাম্পাসে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই আমাদের প্রকৃত শিক্ষার পরিচয়। বিজয়া দশমীর এই পুণ্য তিথিতে আমরা সকল ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মৈত্রী ও সংহতির জয়গান গাই।” গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়াবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা

গুরুকুল এর সহযোগিতায় বরিশালে তথ্য প্রযুক্তি কর্মশালা

Workshop on Information Technology in Barisal

আজ বরিশালের রয়্যাল সেন্ট্রাল কলেজ প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং ও ক্যারিয়ার বিষয়ক বিশেষ তথ্য প্রযুক্তি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (BDOSN) এবং গুরুকুল-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মোট ৪৫ জন নির্বাচিত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ সেশনগুলো অত্যন্ত কার্যকর ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। কর্মশালাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন: জনাব সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর: বিশিষ্ট তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রমুখ, গুরুকুল। জনাব নাহিদুল ইসলাম রুমেল: সাধারণ সম্পাদক, খুলনা বিডিওএসএন (BDOSN)। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তায় সক্রিয় ছিলেন ‘প্রযুক্তিতে কুষ্টিয়া’ সংগঠনের নেতা নাদিমুজ্জামান টনু এবং মুহাইমিনুর রহমান পলল। সনদপত্র বিতরণ ও অতিথি মহোদয়গণ কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী সফল শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে দক্ষ জনশক্তি গড়তে ফ্রিল্যান্সিং ও তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন: জনাব মাহফুজুর রহমান: নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। জনাব মুনীর হাসান: কনসালট্যান্ট, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সাধারণ সম্পাদক, বিডিওএসএন। জনাব আরিফুর রহমান: অধ্যক্ষ, রয়্যাল সেন্ট্রাল কলেজ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম. হানিফ। গুরুকুল ও প্লুরালিস্টিক লক্ষ্য এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ প্রজন্মকে গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসের উপযোগী করে গড়ে তোলা। গুরুকুল-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের প্রতিটি প্রান্তে তথ্য প্রযুক্তির আলো পৌঁছে দিতে এবং একটি বৈষম্যহীন ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিডিওএসএন ও এসএএসইজি-র সাথে এই যৌথ প্রয়াস ভবিষতেও অব্যাহত থাকবে।

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০১২ উপলক্ষে ছুটির নোটিশ

শারদীয় দুর্গা পূজা, ছুটির নোটিশ

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপনী লগ্ন ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ‘গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ আগামী ২৪ অক্টোবর ২০১২ (বুধবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দিন প্রতিষ্ঠানের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের জীবনদর্শন গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। গুরুকুল মনে করে, একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা হবে এমন এক মিলনমেলা যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ তাদের স্ব-স্ব বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে সহাবস্থান করবে। শারদীয় দুর্গাপূজার এই ছুটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিরতি নয়, বরং প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসবকে সমান গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার একটি সনিষ্ঠ প্রয়াস। ছুটির বিস্তারিত সময়সূচী প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০১২ (বুধবার)। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ২৫ অক্টোবর ২০১২ (বৃহস্পতিবার) থেকে ক্যাম্পাসের সকল ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার নির্দেশনা উৎসবকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সকল শিক্ষার্থীকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সংযতভাবে উৎসব উদযাপনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গুরুকুল বিশ্বাস করে, উৎসবের আনন্দ যখন বৈষম্যহীনভাবে সকলের মাঝে ভাগ করে নেওয়া হয়, তখনই একটি সুন্দর ও সহনশীল সমাজ গড়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের প্রশাসন বিভাগ জানিয়েছে, “গুরুকুল পরিবার বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যে বিশ্বাস করে। আমাদের ক্যাম্পাসে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই আমাদের প্রকৃত শিক্ষার পরিচয়। বিজয়া দশমীর এই পুণ্য তিথিতে আমরা সকল ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মৈত্রী ও সংহতির জয়গান গাই।” গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়াবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা