গুরুকুল পরিবারের রঙিন আয়োজন – গুরুকুল পিঠা উৎসব ২০১৮

ক্যাম্পাস প্রেস রিলিজ: গুরুকুল পরিবারের উদ্যোগে এবং গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল একাডেমিক বিভাগের আয়োজনে বর্ণিল গুরুকুল পিঠা উৎসব ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসের হল রুমে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবের উদ্বোধন ও অতিথি উপস্থিতি পিঠা উৎসবে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও রেজিস্ট্রার ড. ইসমত আরা। তিনি উৎসবের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং গুরুকুল কালচারাল ক্লাবের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পিঠা উৎসবের প্রাণবন্ত পরিবেশ সকাল থেকে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে বিভিন্ন স্বাদের ঐতিহ্যবাহী পিঠার ঘ্রাণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। রকমারি পিঠার স্বাদ ও সৌন্দর্যে সবার মন জয় করে নেয় এ আয়োজন। পিঠা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার পিঠা উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পিঠা তৈরির প্রতিযোগিতা। ভিন্ন স্বাদের ও সৃজনশীল উপস্থাপনার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন— কম্পিউটার ট্রেডের জুনিয়র ইন্সট্রাকটর সোনিয়া মাহমুদ আরএস বিভাগের শিক্ষক সাদিয়া ইসলাম ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড প্রধান রাসনা শারমিন উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা উৎসবে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করেন— গুরুকুল কর্মী কল্যাণ তহবিলের নবনির্বাচিত সভাপতি, ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড প্রধান ইন্সট্রাকটর রাসনা শারমিন সাধারণ সম্পাদক ও আরএস ট্রেড প্রধান এম.এ. মাসুম গুরুকুল সহকারী পরিচালক তানভির মেহেদি ইনচার্জ ফাইনান্স খোন্দকার রুহুল আমিন ইনচার্জ লিগ্যাল এন্ড এডমিন এস.এম. শামীম রানা মেকানিক্যাল ট্রেড প্রধান তামান্না আফরোজ সিভিল ট্রেড প্রধান সিরাজুম মনিরা কম্পিউটার ট্রেড প্রধান শামীম রেজা টেক্সটাইল ট্রেড প্রধান হাবিবুর রহমান প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র ইন্সট্রাকটর সুমনা আক্তার ও শারমিন সুলতানা গুরুকুল নৃত্য বিভাগের শিক্ষক উপমা সঙ্গীত শিক্ষক জহিরুল ইসলাম এডমিশন কাউন্সিলর নাজনিন সুলতানা ও সুমাইয়া তাবাসুম গুরুকুল অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার সুমন আহমেদ এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উৎসবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। সাংস্কৃতিক আমেজে পিঠা উৎসব উৎসবের পাশাপাশি গুরুকুল কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের মুগ্ধ করে। গান, নৃত্য ও কবিতা পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দেন, যা পিঠা উৎসবের আমেজকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
কুষ্টিয়া গুরুকুলের সিভিল টেকনোলজির অভিভাবক সমাবেশ

সিভিল টেকনোলজির অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১ টায় কুষ্টিয়া গুরুকুল, লালন সাঁই ক্যাম্পাসের হল রুমে সিভিল টেকনোলজির বিভাগীয় প্রধান, সিরাজুম মনিরার সভাপতিত্বে অভিভাবক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল একাডেমিক ইনচার্জ শামীম রানা, কম্পিউটার টেকনোলজি গাইড শিক্ষক জনি ইসলাম। সিভিল টেকনোলজির অভিভাবক সমাবেশ সিভিল টেকনোলজির ৩য় ও ৫ম পর্বের ৫৪ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মধ্যে ৪৯ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। অভিভাবকদের মধ্যে ৬ জন অভিভাবক বক্তব্য রাখেন, তারা হচ্ছেন মোস্তফা কামাল, হাসিবুল, আব্দুল হামিদ, মমিনুর রহমান, মোস্তফা কামাল, রহিমা খাতুন। সমাবেশে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের পরীক্ষার রেজাল্ট ও খাতা দেখান হয়। গুরুকুল সিভিল টেকনোলজির অভিভাবক সমাবেশ অভিভাবকগক শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষার মান,প্রতিষ্ঠানিক পরিবেশ, নিয়ম শৃঙ্খলা সার্বিক বিষয়ে নিয়ে প্রশ্ন করেন। অভিভাবকদের প্রশ্নের জবাব দেন উপস্থিত ট্রেড প্রধান,গাইড শিক্ষক ও গুরুকুল একাডেমিক ইনচার্জ।সমাবেশে গুরুকুল এর পক্ষে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন আপনারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন কলেজে এসে, আপনার সন্তানের সংশ্লিষ্ট গাইড শিক্ষকের সাথে কথা বলবেন খোজ নিবেন, আমাদের পরামর্শদিবেন। কি করে আমরা আরো ভাল করতে পারি। বক্তারা আরো বলেন, গুরুকুল শিক্ষা পরিবারে শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়ার পাশাপাশি, স্পোর্টস ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব,ডিবেটিং ক্লাব, রোভার স্কাউট এর মাধ্যমে এক্সট্রা কারিকুলাম শিক্ষা দেওয়া হয় যেন তারা নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। শিক্ষার্থীদের যে কোন সমস্যার অভিভাবকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ সর্বপ্রকার রেজাল্ট বাসায় পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অনুষ্ঠানের বক্তারা জানান দেশ বরেণ্য তথ্য প্রযুক্তিবিদ গুরুকুল পরিবারের প্রমুখ, সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর প্রতিষ্ঠিত পরিবারে ৭ টি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৩ টি মেডিকেল বিভাগ , সহ সারাদেশে ১৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হয় ।এখানকার অনেক শিক্ষার্থী বিদেশেও দক্ষতার সাথে কাজ করার উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে । কারিগরি শিক্ষায় হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেরা দক্ষ হতে পারে,দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে, সে জন্য গুরুকুল পরিবার শিক্ষক , কর্মকর্তাসহ প্রত্যেকজন কর্মী সে লক্ষেই কাজ করছে। আগামী ৭ দিন গুরুকুল পরিবারের বিভিন্ন বিভাগের অভিভাবক সমাবেশ চলবে বলে, গুরুকুল কতৃপক্ষ জানিয়েছে। আগামীকাল গুরুকুল সিভিল টেকনোলজির ১ম ও ৭ম পর্বের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ক্যাম্পাস প্রেস রিলিজ: গুরুকুল পরিবার আয়োজিত গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের অভিভাবক সমাবেশ গতকাল শনিবার কুষ্টিয়ার গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় প্রধান শামীম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল একাডেমিক ইনচার্জ শামীম রানা, কম্পিউটার টেকনোলজির গাইড শিক্ষক মশিউল ইসলাম ও আরজ আলী। অভিভাবকদের অংশগ্রহণ ও মতামত কম্পিউটার টেকনোলজির মোট ১২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৫ জনের অভিভাবক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন অভিভাবক বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন—নাঈম হোসেন, সুমন আশিক, আলাউদ্দিন আহমেদ, আজমল হক, নিলুফা ইয়াসমিন, রুবিয়া খাতুন, সোহেল রানা, রিয়াজ উদ্দিন, হাবিবুর রহমান, রোকনুজ্জামান, আক্তার জামান, জিল্লুর রহমান, আলামিন হোসেন, আব্দুল মালেক, সাদিয়া খানম লাকি, আফরোজা খাতুন, এরশাদ আলী ও বাবু। সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল ও খাতা অভিভাবকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। অভিভাবকেরা রেজাল্ট, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষার মান, প্রতিষ্ঠানিক পরিবেশ এবং শৃঙ্খলাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের উত্তর দেন ট্রেড প্রধান, গাইড শিক্ষক ও একাডেমিক ইনচার্জ। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরামর্শ গুরুকুলের পক্ষ থেকে বক্তারা বলেন, “আপনারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন কলেজে এসে সন্তানের গাইড শিক্ষকের সাথে কথা বলবেন, খোঁজ নেবেন এবং আমাদের পরামর্শ দেবেন কীভাবে আমরা আরও ভালো করতে পারি।” বক্তারা আরও জানান, গুরুকুল শিক্ষা পরিবারে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি স্পোর্টস ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব এবং রোভার স্কাউটের মাধ্যমে এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমে অংশ নেয়, যাতে তারা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। যোগাযোগ ও সেবা নিশ্চিতকরণ শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় সরাসরি অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং পরীক্ষার ফলাফল বাসায় পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন কর্তৃপক্ষ। গুরুকুলের লক্ষ্য ও অর্জন বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশবরেণ্য তথ্য প্রযুক্তিবিদ ও গুরুকুল পরিবারের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা পরিবারে বর্তমানে ৭টি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৩টি মেডিকেল বিভাগসহ সারাদেশে ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে, যাদের অনেকেই বিদেশে দক্ষতার সাথে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করছে। কারিগরি শিক্ষায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলা এবং দেশের উন্নয়নে যুক্ত করার লক্ষ্যেই গুরুকুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মীরা একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী আয়োজন গুরুকুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৮ দিন গুরুকুল পরিবারের বিভিন্ন বিভাগের অভিভাবক সমাবেশ চলবে। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে সিভিল টেকনোলজি বিভাগের অভিভাবক সমাবেশ।
গুরুকুল চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

গুরুকুল চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে গুরুকুলের সকল শিক্ষক ও কর্মীদের পক্ষ থেকে একটি অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কেক কাটা ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়। উক্ত অনুষ্টানে সকল কর্মীর পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে একটি শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করা হয় । বার্তায় লেখা হয়েছে: প্রিয় চেয়ারম্যান ম্যাডাম আজিজা আহমেদ, আপনার জন্মদিনে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে—সমস্ত শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি আপনার নেতৃত্ব, নিবেদন, প্রজ্ঞা ও অবিচল অনুপ্রেরণার কথা, যা আমাদের প্রতিদিনের কাজ ও শিক্ষায় আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। আপনার সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি, দৃঢ় মনোবল ও মানবিক নেতৃত্ব শুধু গুরুকুলকেই নয়, আমাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনার দিকনির্দেশনায় গুরুকুল একটি শক্তিশালী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করছে। আপনি শুধু একজন সফল প্রশাসক নন, বরং একজন অভিভাবকের মতো যিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আপনার কর্মমুখী চিন্তা, নৈতিকতার প্রতি অনুরাগ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অবিরাম প্রচেষ্টা আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। আজকের এই দিনে আমরা আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, মানসিক প্রশান্তি ও আরও সফলতার জন্য প্রার্থনা করছি। আপনার জীবন হোক আনন্দ, ভালোবাসা ও আলোর উজ্জ্বলতায় ভরপুর। আমরা প্রত্যাশা করি, আপনার অম্লান হাসি ও উদ্দীপনা আমাদের সকলকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে বহু বছর ধরে। শুভ জন্মদিন ম্যাডাম —গুরুকুল পরিবারের সকল শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে গুরুকুলে স্কিলস কম্পিটিশন–২০১৭

অক্টোবর ২৭, ২০১৭ : কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে সহায়ক স্কিলস কম্পিটিশন–২০১৭-এর প্রাতিষ্ঠানিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট “কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট” আয়োজনে এবং স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ)-এর সহযোগিতায়। দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস হল রুমে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় গুরুকুলের ৬টি টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। মূল্যায়ন ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ প্রতিযোগিতায় মূল্যায়ন কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— কুষ্টিয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম অনন্যা কুষ্টিয়া সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান কুষ্টিয়া সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট নিখিল চন্দ্র ঘোষ গুরুকুল প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামীম রানা গুরুকুল কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাশনা শারমিন পরিদর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর-এর সহকারী পরিচালক (PIU) জাহিদুল কবির খান। আয়োজক কমিটির বক্তব্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও আরএস ট্রেড প্রধান এম. এম. মাসুম, সদস্য কম্পিউটার ট্রেড প্রধান বিথী খাতুন, টেক্সটাইল ট্রেড প্রধান হাবিবুর রহমান, সিভিল ট্রেড প্রধান সিরাজুম মনিরা, মেকানিক্যাল ট্রেড প্রধান তামান্না আফরোজ, এবং জিডিপিএম ট্রেড প্রধান খাইরুল বাশার। প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিজয়ী প্রজেক্টসমূহ— প্রথম স্থান: কম্পিউটার টেকনোলজির উদ্ভাবিত “স্মার্ট সিটি অ্যান্ড হাউজ” প্রজেক্ট দ্বিতীয় স্থান: ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজির উদ্ভাবিত “ডিজিটাল পাওয়ার হাউজ” প্রজেক্ট তৃতীয় স্থান: জিডিপিএম টেকনোলজির কাপড় ও ফাইবার দ্বারা নির্মিত বিভিন্ন হস্তশিল্প প্রজেক্ট উল্লেখ্য, এই প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী প্রজেক্টগুলো আগামী ১৮ নভেম্বর যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। উপস্থিতি অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, গুণীজন, শিল্প ও কলকারখানার মালিক, প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০১৭ উপলক্ষে ছুটির নোটিশ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপনী দিবস ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ‘গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (মঙ্গলবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দিন প্রতিষ্ঠানের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্লুরালিস্টিক সোসাইটি ও গুরুকুলের অঙ্গীকার গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস কেবল একটি বিদ্যাপীঠ নয়, বরং এটি একটি ‘প্লুরালিস্টিক সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজের আদর্শ বহনকারী প্রতিষ্ঠান। গুরুকুল পরিবার বিশ্বাস করে যে, প্রতিটি ধর্ম ও বর্ণের মানুষের উৎসবই আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকল মত ও পথের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধই গুরুকুলের মূল শক্তি। দুর্গাপূজার এই ছুটি সেই বৈচিত্র্যের প্রতি বিনম্র সম্মান এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার একটি প্রয়াস। ছুটির সময়সূচী ও কার্যক্রম প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (মঙ্গলবার)। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বুধবার) থেকে ক্যাম্পাসের সকল ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হবে। নির্দেশনা ও নিরাপত্তা উৎসবের এই বিশেষ দিনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসবকালীন নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন বিভাগ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে একটি নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে বিজয়া দশমী উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের প্রশাসন বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা এমন একটি শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলেছি যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজ নিজ ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য স্বাধীনভাবে পালনের সুযোগ পায়। এই বহুত্ববাদী সমাজ ব্যবস্থা আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বিজয়া দশমীর এই ক্ষণে আমরা সকল ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মৈত্রীর বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়ার কামনা করি।” গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়াবাসীসহ সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা
গুরুকুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৩ দিনব্যাপী জাতীয় শোক দিবস পালন

কুষ্টিয়া গুরুকুলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচির সূচি জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১২ আগস্ট হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, ১৩ আগস্ট উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা এবং ১৫ আগস্ট কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসের হল রুমে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহিদ সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। আলোচনা সভা আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের প্রধান ও ইন্সট্রাকটর রাশনা শারমিন। এসময় বক্তব্য রাখেন ইনচার্জ (ফাইন্যান্স) খোন্দকার রুহুল আমীন, ইনচার্জ (লিগ্যাল এন্ড এডমিন) শামীম রানা, জাতীয় শোক দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, ইনচার্জ (কমার্শিয়াল) রফিকুল ইসলাম, সিভিল ট্রেড প্রধান উমাইয়া মল্লিক, কম্পিউটার ট্রেড প্রধান বিথী খাতুন, মেকানিক্যাল ট্রেড প্রধান তামান্না আফরোজ, আরএস ট্রেড প্রধান এম এ মাসুম, টেক্সটাইল ট্রেড প্রধান সালাউদ্দিন আহমেদ এবং গুরুকুল ম্যাটস প্রধান শিউলি খাতুন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন টেক্সটাইল তৃতীয় পর্বের বিপ্লব হোসেন ও ইলেকট্রিক্যাল ৫ম পর্বের ইয়াসিন আরাফাত তুষার। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী নাজমুল এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থ শোভন রায়। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণিত শিক্ষক সাদিয়া ইসলাম ও ইংরেজি শিক্ষক শর্মিলা আক্তার। সঙ্গীত পরিবেশন করেন অ্যাকাউন্টিং শিক্ষক সালাউদ্দিন কাদের। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন লিগ্যাল এন্ড এডমিন বিভাগের সহকারী হাফেজ কুদরত উল্লাহ। পুরস্কার বিতরণী আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। হামদ প্রতিযোগিতা: ১ম স্থান: আল হোসাইন (টেক্সটাইল ৫ম পর্ব) ২য় স্থান: মৌসুমী খাতুন (IHT ১ম বর্ষ) নাত প্রতিযোগিতা: ১ম স্থান: বিপ্লব হোসেন (টেক্সটাইল ৩য় পর্ব) ২য় স্থান: সিদ্ধার্থ শোভন রায় (টেক্সটাইল ৫ম পর্ব) ৩য় স্থান: আব্দুস সামাদ ৪র্থ স্থান: ইয়াসিন আরাফাত তুষার (ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড) উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা: ১ম স্থান: নেছার আহমেদ (ইলেকট্রিক্যাল ৩য় পর্ব) ২য় স্থান: সোহাগ হোসেন (সিভিল ১ম পর্ব) ৩য় স্থান: ময়না আক্তার (কম্পিউটার ৩য় পর্ব) রচনা প্রতিযোগিতা (বিষয়: বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আজকের বাংলাদেশ): ১ম স্থান: নেছার আহমেদ (ইলেকট্রিক্যাল ৩য় পর্ব) ২য় স্থান: সোহাগ হোসেন (সিভিল ১ম পর্ব) ৩য় স্থান: ময়না আক্তার (কম্পিউটার ৩য় পর্ব)
আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০১৭ [ International Youth Day 2017 ] শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজ
শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারুণ্য (Youth Building Peace)- শিরোনামে সময়োযোগী ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০১৭ উদযাপিত হচ্ছে। ইতিহাসের মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শান্তিপূর্ণ বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি কী হবে না ঠিক করে দেন ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কারো সাথে শত্রুতা নয়। এই অসাধারণ অঙ্গিকার থেকেই আমরা জাতির জনকের শান্তির প্রতি একনিষ্ঠ আগ্রহের ও অবিচলতার পরিচয় পাই। তরুণ বয়সেও জাতির জনকের রাজনৈতিক আদর্শে সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা, বর্ণবাদবিরোধিতা, বর্ণবাদবিরোধিতা ও শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার পরিচয় পাওয়া যায় যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০১৭ সালের আন্তর্জাতিক যুব দিবসের প্রতিপাদ্যের সাথে আমাদের রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি যা জাতির জনকের দেখানো স্বপ্ন তার সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো দিক নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ বিশ্ব শাস্তি সমুন্নত রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যুব দিবসের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতার একটি বিশেষ দিক হচ্ছে জাতি সংঘের শান্তি কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের শক্তিশালী উপস্থিতি। এ যাবৎকালে জাতিসংঘের শান্তি মিশনগুলোর মধ্যে ৭০টির মধ্যে ৫৪টিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ, বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ১,৪১,৭২৬ জন সেনা সদস্য বিশ্ব শান্তি রক্ষার কাজে জাতিসংঘ মিশনে গিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ব শান্তি রক্ষার কাজে নিয়োজিত জাতিসংঘের মিশনে অবদান রাখার তালিকায় বাংলাদেশ ৪র্থ বৃহত্তম কন্টিনজেন্ট প্রেরণকারী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। যুব দিবস ২০১৭ এর পটভূমি : ৯ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত ২২৫০ নং প্রস্তাবে এটি স্বীকার করে নেয়া হয় যে তারুণ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে ও উত্তরোত্তর তা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই সিদ্ধান্তে আরো বলা হয় যে নিরাপত্তা ও শান্তি রাখতে ও উত্তরোত্তর তা বৃদ্ধি করতে যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয় তার পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে অংশগ্রহণ, সুরক্ষা, নিবারণ, অংশীদারিত্ব ও বিচ্ছিন্নকরণ এবং পুনর্বাসন। এই প্রস্তাবে সকল সদস্য রাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানানো হয় যেন তারুণ্যকে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সাথে আরো জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করা হয় এবং বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে তারণ্যকে শান্তি প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। বিশ্বায়নের এই সময়ে নিরাপত্তা পরিষদের এই সিদ্ধান্তটি একটি মাইলফলক কেননা আমরা দেখছি বস্তুগত উৎকর্ষ সাধন করতে গিয়ে আমরা শাস্তিকে অন্যান্য ধারণার মত গুরুত্ব দেইনি এবং এখানে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ হিসেবে তারুণ্যের অবদানকে স্বীকার করিনি। এই স্বীকৃতি তাই ঐতিহাসিক ২২৫০ নং প্রস্তাবকে উদ্ধৃত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ২০১৬ সালে আরো একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ যেখানে জাতিসংঘের ‘পিস বিল্ডিং’ কাঠামোর পুনর্বিবেচনা প্রসঙ্গে তারুণ্যের ভূমিকাটিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিরাপত্তা পরিষদে নেয়া ২২৮২ নং প্রস্তাবে বলা হয় সংঘাত নিবারণ ও সমাধানে তারুণ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে যা টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সফল পিস বিল্ডিং ও পিস-কিপিং প্রচেষ্টার কেন্দ্রে। এই প্রস্তাবেও সকল সদস্য রাষ্ট্রের কাছে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আবেদন জানানো হয়। শান্তির ধারণাঃ পজিটিভ ও নেগেটিভ পিস : মানব সভ্যতার ইতিহাসে যেসব মানবীয় গুণাবলীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এদের মধ্যে শাস্তি অন্যতম। তবে অন্যান্য মানবসৃষ্ট ধারণার মতই এই ধারণাটিরও একটি সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞায় একমত হওয়া দুস্কর। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে শান্তির ধারণা বিভিন্ন। বোঝাপড়ার বৈচিত্রতার কারণে শাস্তির ধারণাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠী বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে। সাদামাটাভাবে বলতে গেলে শাস্তি হলো অনৈক্য, সহিংসতা ও যুদ্ধের অনুপস্থিতি হিসেবে দেখলে তা খুবই সংকীর্ণ হয়। অ্যালবার্ট আইন্সটাইন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “শাস্তি শুধু যুদ্ধের অনুপস্থিতিই নয় বরং ন্যায়বিচার, আইন, শৃঙ্খলার উপস্থিতি, অল্প কথায় বললে সরকারের অস্তিত্ব থাকাটাই শান্তি”। শুধু যুদ্ধের অনুপস্থিতিতিই শাস্তি নয়, শাস্তির ধারণা আরো বৃহৎ সর্বব্যাপী ও বহুমাত্রিক। প্রসঙ্গত শান্তির ধারণা দুভাবে দেখা হয়, পজিটিভ পিস ও নেগেটিভ পিস। এই শব্দদ্বয়ের ধারণা প্রথমে দেন শাস্তি গবেষণার অন্যতম পুরোধা ইয়োহান গালটুং ১৯৬৪ সালে জার্নাল অব পিস রিসোর্সের প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে। পজিটিভ ও নেগেটিভ পিসের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি ১৯৫০ এর দশকের সময়ে তৈরি হয় যখন শান্তি-গবেষণার বিষয়টি কেন্দ্রীয় মনোযোগ ছিল সরাসরি সহিংসতার দিকে, বা আক্রমণ এবং যুদ্ধের মত ধারণার দিকে বেশি। শাস্তি গবেষণার বিষ্ণুটি তখন উত্তর আমেরিকানদের দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত ছিল। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গালটুং ১৯৬০ এর দশকে শান্তি ও সহিং সতার ধারণাকে বিস্তৃত করেন এবং এদের সাথে পরোক্ষ বা কাঠামোগত সহিংসতার কথা যুক্ত করেন। গালটুং এর এই অবদান তখনকার শান্তির ধারণা বলতে যা বুঝানো হতো তাকে ভিন্নভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করে দেয়। সহিংসতার এই পরিবর্ধিত সংজ্ঞার ফলে মুদ্রার অপর পিঠে আমরা শান্তির পরিবর্ধিত সংজ্ঞা পাই। গালটুং এর মতে নেগেটিভ পিস হলো, “সহিংসতার বা যুদ্ধের অনুপস্থিতি”, এবং পজিটিভ পিস হলো “মানব সমাজের সংহতি”। শান্তি ও সংঘর্ষ গবেষণায় মাহাত্মা গান্ধির অবদানও উল্লেখযোগ্য। গান্ধির মতে সত্য ও স্থায়ী শান্তি তখনই আসবে যখন সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। গান্ধির শান্তি ও অহিংসতার সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে ন্যায় বিচার, উন্নয়ন ও পরিবেশের। ১৯০৯ সালে লেখা গান্ধির থেকে জানা যায় উন্নয়নের আধুনিক মডেলগুলো সহজাতভাবে সহিংস। শান্তির ধারণায় গান্ধির অবদান সবচেয়ে বেশি অহিংস ধারণার উপর বিস্তৃত কাজের কারণে এবং সর্বপ্রথম অহিংস নীতিকে ব্যক্তিকেন্দ্রকতা থেকে সমাজ কেন্দ্রিকতা ও রাজনৈতিক দর্শনে উঠিয়ে নিয়ে আসার জন্য। গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০১৭ মতে পজিটিভ পিসের স্তরসমূহ নিম্নরূপঃ উন্নত মানব সম্পদ গঠন প্রতিবেশির সাথে সুসম্পর্ক অন্যের অধিকারকে সম্মান করা দুর্নীতির মাত্রা কমিয়ে আনা তথ্যের অবাদ প্রবাহ ব্যবসার উন্নত পরিবেশ কার্যকরি সরকারের উপস্থিতি সম্পদের সুষম বণ্টন পজিটিভ পিসের ধারনাটি যুদ্ধ, সংঘাত, অন্যায়ের মূল কারণগুলো দূল করার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত এবং এর সাথে সাথে সচেতনভাবে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার প্রত্যয়ের সাথে সম্পর্কিত যেখানে এই প্রতিশ্রুতিগুলো প্রতিফলিত হয়। পজিটিভ পিস সকল সজিব সত্তার সাথে সংযোগের কথা বলে। শাস্তি তখনই আসবে যখন মানুষ তাদের মধ্যে বিরাজমান সংঘাতকে অহিংস উপায়ে সমাধান করার এবং একসাথে কাজ করে তাদের সম্মিলিত জীবণযাত্রার মান বৃদ্ধি করার পথ তৈরি করবে। এই লক্ষ্যে তারুণ্যের শক্তি সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কেন শান্তি অপরিহার্য : শাস্তি সহজাত, এটি একটি স্বাভাবিক অবস্থাকে প্রকাশ করে, সংঘাত নয়। শাস্তি তাই অপরিহার্য, তবে এটি অর্জন করা দুস্কর। তিনটি কারণে শান্তি অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা যায়। প্রথমত, আমরা জানি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত আজকাল নিজ নিজ সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, এগুলোর সুদূরপ্রসারী ও গভীর প্রভাব অন্য অঞ্চলেও পড়ে। উন্নত বিশ্ব সম্প্রতি যে শরণার্থী সমস্যার সম্মুখীন তার মূলে রয়েছে শরণার্থীদের নিজ ভূমে যুদ্ধ, সহিংস সংঘাত ও অনিরাপত্তা। জাতিসংঘের ইউএন এইচসিআর এর অনুমান মতে ২২.৫ মিলিয়ন মানুষ আজ শরণার্থী যাদের অর্ধেকের বয়স ১৮ বছরের নীচে। শুধু মানবিক নয় যুদ্ধ, সহিংস সংঘাতের আর্থিক ক্ষতিটিও পর্বতসম গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে ১৪.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বায় হয়েছে যুদ্ধের কারণে সামরিক খাতে, যা বিশ্বের মোট জিডিপির ১২.৬ শতাংশ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই আফগানিস্তান, ইরাকের যুদ্ধে ৪.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ যুদ্ধ, সহিংসত সংঘাতে মূলে রয়েছে অসাম্য, অন্যায় ও বঞ্চনা। অক্সফোভের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের আটজন শীর্ষ ধনীর কাছে যতটুকু সম্পদ রয়েছে তা বিশ্বের
বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুষ্টিয়া গুরুকুলের নবীণ বরন ও বিদায় ২০১৭ অনুষ্ঠান

শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোড,আলো ভবনের সামনে থেকে, গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল সেকশনের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহনে, গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক এর নেতৃত্বে নবীণ বরন ও বিদায় অনুষ্ঠানের বর্নিল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে, জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পৌছে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও গুরুকুল সঙ্গীত বিভাগ,নাট্য বিভাগ, নৃত্য বিভাগ ও গুরুকুল রোভার স্কাউট সদস্যদের পরিবেশনায় মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। গুরুকুল নবীন বরন ও বিদায় অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক, ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড প্রধান ইন্সট্রাকটর রাশনা শারমিন এর সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুয়াউয়ে কনজুমার বিজনেস গ্রুপ ইউএই এর হেড অব সার্ভিস পাভেল শাহরিয়ার,বিভাগীয় প্রধান সংস্কৃতিক ও প্রকাশনা বিভাগ ইন্টার ন্যাশনাল টার্কিশ হোপ স্কুল ও সভাপতি বাংলা অলিম্পিয়াড এবং পরামর্শক রেডিও ঢোল ৯৪.০ এফএম এর শাহরিয়ার বিন মখলেস লিন, উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি পরিচালক, এনডিএফবিডির উপদেষ্টা চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা ও কুষ্টিয়া বটতৈল বৈদ্যতিক গ্রীড এর চিফ ইঞ্জিনিয়ার আবু তালেব। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রিজভী মাহামুদ হিরন, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গুরুকুল ইনচার্জ লিগ্যাল এন্ড হেড অব এডমিন শামীম রানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, গুরুকুল নবীন বরন ও বিদায় অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহবায়ক,আরএস ট্রেড প্রধান এমএ মাসুম, অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গুরুকুল টেক্সটাইল ট্রেড প্রধান সালাউদ্দিন আহমেদ,সিভিল ট্রেড প্রধান উমাইয়া মল্লিক,কম্পিউটার ট্রেড প্রধান বিথী খাতুন,মেকানিক্যাল ট্রেড প্রধান তামান্না আফরোজ, জিডিপিএম ট্রেড প্রধান হাসিবুল ইসলাম।গুরুকুল নার্সিং ও প্যাথলজি বিভাগের প্রধান মিশকাতুর রহমান, ফার্মেসী ট্রেড প্রধান আব্দুল আলীম। কমার্শিয়াল বিভাগের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, পাবলিসিটি এন্ড চ্যালেন ডিপার্টমেন্ট প্রধান তানভির মেহেদী, ইনচার্জ কমার্শিয়াল রফিকুল ইসলাম, ইনচার্জ ফাইনান্স খোন্দকার রুহুল আমীন, সহকারি রেজিষ্ট্রার দিপক কুমার মন্ডল, আইসিটি অফিসার রেজাউল ইসলাম। আলোচনা সভা শেষে গুরুকুল প্রমুখ তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এর উপস্থাপনায় জনপ্রিয় তারকা দম্পতি নওশিন-হিল্লেল এর সাথে আড্ডায় মেতে উঠে গুরুকুল শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথি বৃন্দ। নওশিন-হিল্লোল তাদের জীবনের তারকা হওয়ার কথা সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা শেয়ার করেন শিক্ষার্থীদের সাথে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি, সময় উপযোগী করে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। দিনব্যাপী সঙ্গীত, নৃত্য,নাটক,রম্য বিতর্ক সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গুরুকুল সঙ্গীত বিভাগ,নাট্য বিভাগ, নৃত্য বিভাগ ও গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ এর যে সকল সদস্য অংশগ্রহন করে তারা হচ্ছেন,”লাল সবুজের বিজয় নিশান” গানের সাথে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে,মৌতুসী, পূর্নিমা,জীম,আসিফ,মিনহাজ,মেহেদী,তাজমুল ও স্মৃতি। নাট্যকার খায়রুল বাশার স্ক্রিপ্ট সংযোজনে,সায়েদ সরোয়ার এর নির্দেশনায় জৈনক ইমান আলী নটকে অভিনয় করেন, বিপ্লব, আজীম, মেহেদী, বৃষ্টি,পূর্নীমা, সুমি,মীম, সালঅউদ্দিন কাদের, স্মৃতি,আসিফ,আব্দুস সামাদ, মিনহাজ,মৌতুসী,অর্নব, জুয়েল, আসিফ ও তাজমুল। “বিবাহ পরবর্তী প্রেম বেশি মধুর” শীর্ষক রম্য বিতর্কে, পক্ষ দলে অংশগ্রহন করে মৌতুসী, অর্পন, ও বিপ্লব, বিপক্ষ দলে অংশগ্রহন করে পূর্নিমা,মুক্তা ও তুষার। বিতর্কে মডারেটর এর দায়িত্ব পালন করেন,গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব এর মডারেটর রাশনা শারমিন। একক নৃত্য পরিবেশন করে কম্পিউটার ক্লাব এর শিক্ষার্থী সোনিয়া মাহমুদ, গুরুকুল ম্যাটস এর শিক্ষার্থী মৌতুসী, সিভিল ট্রেড এর শিক্ষার্থী জীবন নাহার ও উপমা। যৌথ নৃত্য পরিবেশন করেন শিক্ষক সাদিয়া সন্ধি ও কায়েস উদ্দিন, সোনিয়া ও মেহেদী, মৌতুসী ও পূর্ণিমা। দর্শক পর্ব পরিচালনা করেন মিনহাজুর রহমান। নবীণ বরন ও বিদায় অনুষ্ঠানে একক গান পরিবেশন করেন,মুনতাসিরা প্রীতি, বৃষ্টি, তাজমুল, প্রাপ্তি, মৌসুমী, অনিক। সালাউদ্দিন আহমেদ, হাবিব হোসেন,জাহিদ হাসান ও সালাউদ্দিন কাদের। গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ এর পরিবেশনায়” জঙ্গিবাদের ঠাঁই নাই” শির্ষক নাটিকায় অভিনয় করে, রোভার লিডার আশরাফুল সাজিদ,অর্নব,জীম,ফারহানা,সুমাইয়া,সাঈদ,কিরন,তুষার,অর্নব,সিদ্ধার্থ,রিতু। অনুষ্ঠানটি শৈল্পিক উপস্থাপনা করেন গুরুকুল শিক্ষার্থী সোনিয়া মাহমুদ, আব্দুস সামাদ, মুক্তা বৃষ্টি, সিদ্ধার্থ ও ইয়াসির আরাফাত তুষার।
১১ দিনব্যাপী যাত্রা উৎসবে সহযোগিতায় গুরুকুল
কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে “ফিরে চল মাটির টানে” স্লোগানকে সামনে রেখে ৭ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১১ দিনব্যাপী যাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একসময় গ্রামীণ বাংলার মানুষের বিনোদনের মূল উৎস ছিল যাত্রাপালা। গ্রামের মাটি ও মানুষের বাস্তব জীবনের গল্প এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি যাত্রার মাধ্যমে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হতো। যাত্রা শুধু বিনোদন নয়, এটি ছিল লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী শিল্পমাধ্যম এবং লোকশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বাহন। কিন্তু কালের আবর্তে যাত্রাপালা বিলুপ্তির পথে, যার জায়গা নিয়েছে অপসংস্কৃতি। জেলা শিল্পকলার এই উদ্যোগকে তিনি প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন যাত্রাশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে এবং অশ্লীলতার হাত থেকে রক্ষা করবে। উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান, পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা ও সংগঠক তাপস ব্যানার্জী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীন সরকার, জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, চৌধুরী মুর্শেদ আলম মধু, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেবুন নেসা সবুজ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামস তানিম মুক্তি ও জেলা পরিষদ সদস্য জান্নাতুল মাওয়া রনি। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ১৭ জুলাই রাতে। এতে সহযোগিতা করে গুরুকুল। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জহির রায়হান, গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর, আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান আতা এবং শিল্পকলার সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম। সমাপনীতে গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বাংলাদেশের যাত্রাপালার ঐতিহ্য, বিলুপ্তির কারণ ও পুনর্জাগরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি শিল্পকলা একাডেমিকে আগত শীতে কুমারখালীতে অনুরূপ আয়োজন করার আমন্ত্রণ জানান। জেলা প্রশাসক জহির রায়হান বলেন, “আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সমাজকে কলুষমুক্ত করতে যাত্রাপালার বিকল্প নেই।” পুরো উৎসবজুড়ে ১০ রাতে ১০টি যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হয়। প্রথম দিন মঞ্চস্থ হয় “নাচ ঘরের কান্না”। আয়োজক জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম জানান, অশ্লীল নৃত্য ও অসাধু ব্যবসায়িক চিন্তার কারণে যাত্রা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল রুচিশীল সমাজ। বিলুপ্তপ্রায় এই যাত্রাশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এ আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে, যা জেলা পর্যায়ে সারা বাংলাদেশে এই প্রথম। গুরুকুলের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসব শুধু কুষ্টিয়ার সংস্কৃতিপ্রেমীদের নয়, সমগ্র দেশের লোকশিল্প রক্ষায় একটি মাইলফলক উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।