গুরুকুল ব্যবস্থাপনা পরিষদ সদস্য আনিসুর রহমান মাহমুদের মৃত্যুতে গভীর শোক

গুরুকুল ব্যবস্থাপনা পরিষদের অন্যতম সম্মানিত সদস্য আনিসুর রহমান মাহমুদ (আনিস মাহমুদ)-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে গুরুকুল শিক্ষা পরিবার। তাঁর প্রয়াণে দেশের উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণী মহলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। গুরুকুল প্রমুখের শোকবার্তা আনিস মাহমুদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গুরুকুল প্রমুখ এবং প্রখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন: “আনিস মাহমুদ কেবল আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অকৃত্রিম পথপ্রদর্শক। তাঁর প্রয়াণে গুরুকুল একটি নির্ভরতার মজবুত স্তম্ভ হারালো। আমরা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।” কর্মময় জীবন ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার আনিসুর রহমান মাহমুদ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন পেশাদার ব্যক্তিত্ব। তাঁর কর্মজীবনের পরিধি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন, বিপণন এবং বিজ্ঞাপন খাতে দেশি ও বিদেশি বহু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কাজ করেছেন। সামাজিক উন্নয়ন ও নীতি প্রণয়ন খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল ঈর্ষণীয়। তিনি জাতীয় পর্যায়ের বেশ কিছু বাণিজ্য ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের সামাজিক যোগাযোগ খাতের আধুনিকায়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। গুরুকুলে অবদান ও উত্তরাধিকার গুরুকুলের আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে আনিস মাহমুদের দূরদর্শী চিন্তা ও দিকনির্দেশনা বিশেষভাবে কাজ করেছে। তাঁর কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্ব গুরুকুলের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে। গুরুকুল পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, তাঁর দেখানো পথ ও আদর্শ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শেষ বিদায় ও প্রার্থনা গুরুকুল পরিবারের সকল সদস্য, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করছে। শোকবার্তায় জানানো হয়, তাঁর মতো একজন নিষ্ঠাবান ও মেধাবী ব্যক্তিত্বের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। প্রশাসন ও জনসংযোগ বিভাগ, গুরুকুল শিক্ষা পরিবার।
গুরুকুলে বিনামূল্যে বেসিক ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসে গুরুকুল ভিডিও অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “ফ্রি বেসিক ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ”। এই আয়োজন ছিল নতুন প্রজন্মকে আলোকচিত্র শিল্পে উদ্বুদ্ধ করা এবং মৌলিক দক্ষতা অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। কর্মশালার উদ্দেশ্য ফটোগ্রাফি আজ কেবল একটি শখ নয়, বরং পেশাদার ক্যারিয়ার গঠনের এক শক্তিশালী মাধ্যম। তরুণদের এই শিল্পে আগ্রহী করে তোলা এবং বেসিক ধারণা দেওয়ার জন্য গুরুকুল এ কর্মশালার আয়োজন করে। সময় ও পরিচালনা কর্মশালাটি শুরু হয় দুপুর ২:৩০ মিনিটে এবং চলে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গুরুকুল ভিডিও অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ট্রেড প্রধান ও দেশের খ্যাতিমান ফটোগ্রাফার আবু সুফিয়ান নিলাভ। তিনি অংশগ্রহণকারীদের— ফটোগ্রাফির মৌলিক কৌশল, আলো ও কম্পোজিশনের ব্যবহার, ক্যামেরা সেটিংসের গুরুত্ব, এবং সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অংশগ্রহণকারীদের ফটোগ্রাফিতে উৎসাহিত করেন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে পরামর্শ দেন। অংশগ্রহণ ও শুভেচ্ছা ওয়ার্কশপের শুরুতে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে সকল অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন সহকারী পরিচালক তানভীর মেহেদী।কুষ্টিয়া ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ৪৬ জন ফটোগ্রাফার এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। এই ফ্রি বেসিক ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ অংশগ্রহণকারীদের জন্য শুধু আলোকচিত্রের বুনিয়াদি শিক্ষা নয়, বরং একটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল। গুরুকুলের এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে ফটোগ্রাফিকে কেবল একটি শিল্প নয়, বরং পেশাদার দক্ষতায় রূপান্তরিত করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
ঐতিহ্যের জয়গান ও শেকড়ের টানে: কুষ্টিয়া গুরুকুলে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৫
জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আবাহনে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক-এ উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪২৫। আনন্দ, উল্লাস আর বাঙালিয়ানা ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে গুরুকুল ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছিল এক টুকরো লাল-সবুজের বাংলাদেশে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নববর্ষের এই উৎসব এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপ নেয়। প্রভাতী সুর ও শুভ সূচনা ভোরের নতুন সূর্য উঁকি দিতেই গুরুকুল প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত ও এসো হে বৈশাখ গানের সুরে। নতুন বছরের শান্তিময় আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈশাখী আয়োজনের সূচনা করা হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রঙিন পাঞ্জাবি ও শাড়িতে সজ্জিত হয়ে ক্যাম্পাসে সমবেত হন। রাজপথে মঙ্গল শোভাযাত্রা সকাল ৮টায় কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ: হাতে আঁকা রঙিন আলপনা, বিশাল আকৃতির মুখোশ, এবং লোকজ প্রতীক নিয়ে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি কুষ্টিয়া শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। যাত্রাপথ: দেশীয় বাদ্যের তালে তালে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে গুরুকুল মীর মশাররফ হোসেন ক্যাম্পাসে এসে সমাপ্ত হয়, যা ছিল উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসব ও সাংস্কৃতিক আসর শোভাযাত্রা পরবর্তী অংশে মীর মশাররফ হোসেন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী সব আয়োজন: গ্রামীণ খেলাধুলা: হাড়িভাঙা, মোরগ লড়াইসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলায় মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল বৈচিত্র্যময় বৈশাখী সঙ্গীত আসর, কবিতা আবৃত্তি এবং দলীয় নৃত্য। সবার অংশগ্রহণ: গুরুকুলের মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০০-রও বেশি শিক্ষার্থী এবং সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রেরণা অনুষ্ঠানে গুরুকুল প্রমুখ, দেশবরেণ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদ-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত সবার মাঝে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করাই গুরুকুলের শিক্ষার মূল ভিত্তি।
বীরত্বের ৪৭ বছর: কুষ্টিয়া গুরুকুলে বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান স্বাধীনতা দিবস ২০১৮ উদ্যাপন
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আত্মত্যাগের মহিমায় কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক-এর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রোভার স্কাউটসহ সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ ও জেলা স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। বীরত্বের ৪৭ বছর: কুষ্টিয়া গুরুকুলে বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান স্বাধীনতা দিবস ২০১৮ উদ্যাপন জেলা প্রশাসনের বর্ণাঢ্য আয়োজনে গুরুকুল স্বাধীনতা দিবসের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনীর (ডিসপ্লে) আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জনাব জহির রায়হান এবং পুলিশ সুপার এস. এম. মেহেদী হাসান। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বীর শহীদদের সালাম জানানো হয়। মাঠে দুই শতাধিক সদস্যের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে জেলা স্টেডিয়ামের এই কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিভিন্ন ইউনিট থেকে প্রায় দুই শতাধিক সদস্য অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অংশগ্রহণ করেন। গুরুকুলের অংশগ্রহনকারী ইউনিটগুলো হলো: গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ গুরুকুল গার্ল-ইন রোভার গুরুকুল যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট তরুণ এই সদস্যরা সমবেতভাবে স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তি সংগ্রাম ও বিজয়ের বিভিন্ন চিত্র ডিসপ্লের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন, যা উপস্থিত দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি দিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচিতে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে চলাকালীন গ্যালারিতে তাঁদের সরব উপস্থিতি ও উৎসাহ প্রদান অনুষ্ঠানটিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। গুরুকুল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। চেতনার জয়গান ও অঙ্গীকার ৪৭তম মহান স্বাধীনতা দিবসের এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য প্রচেষ্টা। গুরুকুল পরিবারের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে শপথ গ্রহণ করেন যে, তাঁরা কেবল কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হবেন না, বরং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। কুষ্টিয়া গুরুকুলের এই বর্ণিল আয়োজন ছিল মূলত গর্ব, কৃতজ্ঞতা ও প্রেরণার এক মিলনমেলা।
গুরুকুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন
ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া গুরুকুলের লালন সাঁই ক্যাম্পাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। কেক কেটে সূচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে গুরুকুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটে অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আলোচনা সভা এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন— বঙ্গবন্ধু শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন জাতির মুক্তির প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বঙ্গবন্ধুর শিশুপ্রেম ও শিশুদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়, যা আজকের জাতীয় শিশু দিবসকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আলোচনা শেষে গুরুকুল কালচারাল ক্লাবের সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবেশন করেন— ২টি দেশাত্মবোধক গান ১টি নৃত্য এসব পরিবেশনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, সংগ্রাম ও দেশপ্রেমকে তুলে ধরা হয়। উপস্থিতি অনুষ্ঠানে গুরুকুলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল সেকশনের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও অংশগ্রহণ করে গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ এবং গুরুকুল কালচারাল ক্লাবের সদস্যরা। ফটো ক্যাপশন গুরুকুলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শিক্ষকদের একাংশ গুরুকুলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে রোভার স্কাউট সদস্যদের একাংশ গুরুকুলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে কালচারাল ক্লাবের সদস্যদের একাংশ কুষ্টিয়া গুরুকুলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন হয়ে উঠেছিল এক অনন্য স্মরণীয় আয়োজন। আলোচনা, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম থেকে প্রেরণা নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
কুষ্টিয়া গুরুকুলে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
প্রখ্যাত লেখক, বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল-এর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়া গুরুকুলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। এসময় তাঁরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। কর্মসূচির স্থান ও সময় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসের সামনে। সময়: বিকেল ৩টা। এতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। বক্তাদের বক্তব্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— মুহাইমিনুর রহমান জিম (শিক্ষার্থী, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) অর্নব মাহমুদ (শিক্ষার্থী, কম্পিউটার বিভাগ) ইয়াসিন আরাফাত তুষার (শিক্ষার্থী, ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ) এম. এ. মাসুম (বিভাগীয় প্রধান, আরএস বিভাগ) রাসনা শারমিন (ইন্সট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান, ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ) রুহুল আমিন (ইনচার্জ, ফাইন্যান্স) তানভির মেহেদী (সহকারী পরিচালক) শামীম রানা (ইনচার্জ, লিগ্যাল ও অ্যাডমিন) বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানান এবং বলেন: “ইসলামের নামে ড. জাফর ইকবালের উপর হামলা আসলে আমাদের ধর্মের উপরই আক্রমণ। এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে বিশ্বাস করা লক্ষ কোটি মুসলিমকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কলঙ্কিত করছে। কিছু অমানুষের কারণে সমগ্র মুসলিম সমাজকে জঙ্গিবাদের তকমা বহন করতে হচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য।” তাঁরা আরও বলেন— জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদদাতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ইসলামকে ঢাল বানিয়ে যারা সন্ত্রাস ছড়ায়, তারা আসলে ধর্মের শত্রু। শান্তিপ্রিয় মুসলিম সমাজের দায়িত্ব হলো এই উগ্রবাদীদের প্রতিহত করা। ধর্ম ও মানবতার মর্যাদা রক্ষাই আজকের যুগের প্রকৃত জিহাদ। কুষ্টিয়া গুরুকুলের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এককথায় স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সমাজ ও সাধারণ মানুষ জঙ্গিবাদকে কখনোই প্রশ্রয় দেবে না। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সকল ৬ষ্ঠ পর্বের অভিভাবক সমাবেশ ২০১৮ অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়া গুরুকুলের লালন সাঁই ক্যাম্পাসের হল রুমে অনুষ্ঠিত হলো ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬ষ্ঠ পর্বের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সমাবেশ–২০১৮। ইলেকট্রিক্যাল, টেক্সটাইল, জিডিপিএম, সিভিল, কম্পিউটার ও মেক্যানিক্যাল টেকনোলজির মোট ১৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬২ জনের অভিভাবক সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এ আয়োজনে। ফলাফল ও তথ্য প্রদান সমাবেশে প্রতিটি অভিভাবকের হাতে শিক্ষার্থীদের— ফলাফল শীট, ক্লাসে উপস্থিতির হার, এবং অন্যান্য একাডেমিক তথ্যসমূহ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়। গুরুকুলের ভিশন ও কার্যক্রম ট্রেড প্রধানরা তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন— গুরুকুল প্রমুখ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর প্রতিষ্ঠিত গুরুকুল বর্তমানে দেশে ৭টি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৩টি মেডিকেল বিভাগ এবং সারাদেশে ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। এখানে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ, কর্মঠ, রুচিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্মে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। বিদেশেও বহু শিক্ষার্থী সফলভাবে কাজ করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। প্রতিটি ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন গাইড শিক্ষক নিয়োজিত আছেন। কো-কারিকুলার কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যোগ্য করে গড়ে তুলতে গুরুকুলে রয়েছে সমৃদ্ধ কো-কারিকুলার কাঠামো। নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীরা যুক্ত থাকে— গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ গুরুকুল সঙ্গীত বিভাগ গুরুকুল নাট্য বিভাগ গুরুকুল নৃত্য বিভাগ গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব গুরুকুল স্পোর্টস ক্লাব গুরুকুল যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট গুরুকুল ম্যাথ ক্লাব গুরুকুল কম্পিউটার ক্লাব গুরুকুল ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, দলগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। অভিভাবকদের বক্তব্য অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে তাদের মতামত ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। উপস্থিত ছিলেন— টেক্সটাইল ট্রেডের অভিভাবকরা: মৃদুল শাহা, বিজয় প্রামানিক, নাজিম উদ্দিন, রেজাউল হক, মাসুদ হোসেন, শান্তা পারভিন প্রমুখ। ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের অভিভাবকরা: আনজিরা বেগম, রহিতুন খাতুন, সুজাউদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক, সজল আহমেদ, ফজলুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, নওয়াব আলী প্রমুখ। সিভিল ট্রেডের অভিভাবকরা: মানিক হোসেন, উৎপল বিশ্বাস, তাসলিমা খাতুন, সিরাজুল ইসলাম, আকাশ আহমেদ প্রমুখ। মেক্যানিক্যাল ট্রেডের অভিভাবকরা: ফয়সাল আহমেদ, শফী উদ্দিন, নূরজাহান খাতুন, সম্রাট আলী, শাহানাজ ফেরদৌসি প্রমুখ। কম্পিউটার ট্রেডের অভিভাবকরা: আনিসুর রহমান, নূরুন্নাহার, ইউসুফ আহমেদ, লিটন হোসেন প্রমুখ। প্রশ্নোত্তর পর্ব অভিভাবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন— রাসনা শারমিন (ট্রেড প্রধান, ইলেকট্রিক্যাল) হাবিবুর রহমান (ট্রেড প্রধান, টেক্সটাইল ও জিডিপিএম) সিরাজুম মনিরা (ট্রেড প্রধান, সিভিল) রাকিবুল ইসলাম (ট্রেড প্রধান, কম্পিউটার) তামান্না আফরোজ (ট্রেড প্রধান, মেক্যানিক্যাল) শামীম রানা (একাডেমিক ইনচার্জ, গুরুকুল) এই অভিভাবক সমাবেশ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে দায়িত্ব, অঙ্গীকার ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। গুরুকুলের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিকভাবে নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা।
রোভার স্কাউট এর প্রতিষ্ঠাতা বিপির জন্মদিন ও স্কাউটিং এর শতবার্ষিকী পালন

বিশ্ব স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল (বিপি)-এর জন্মদিন ও বিশ্ব স্কাউটিংয়ের গৌরবময় পথচলার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা রোভার স্কাউট ও গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্কাউটিংয়ের আদর্শ ও সেবার মন্ত্র নতুনভাবে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিপির জন্মদিন ও স্কাউটিংয়ের তাৎপর্য স্কাউটিংয়ের জনক রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ ব্যাডেন পাওয়েল (বিপি) ১৮৫৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর হাত ধরেই ১৯০৭ সালে ব্রাউন সি দ্বীপে ২০ জন কিশোর নিয়ে শুরু হয়েছিল স্কাউটিং, যা আজ বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রোভার স্কাউটিং হলো স্কাউট আন্দোলনের উচ্চতর শাখা, যেখানে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ‘সেবা’র (Service) মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়। বর্ণাঢ্য র্যালি ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস থেকে একটি সুবিশাল র্যালির মাধ্যমে। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ চত্বরে পৌঁছালে সেখানে জেলা রোভারের অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে এক মহামিলন মেলায় পরিণত হয়। শত শত রোভার সদস্যের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও স্কাউট স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কুষ্টিয়ার রাজপথ। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। আলোচনা সভা ও কেক কাটা র্যালি পরবর্তী আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তারা স্কাউটিংয়ের ইতিহাস ও বর্তমান বিশ্বে এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কুষ্টিয়া জেলা রোভার স্কাউটের সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক একেএম সামসুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন: “বিপি আমাদের শিখিয়েছেন ‘সদাই প্রস্তুত’ থাকতে। রোভার স্কাউটিং কেবল একটি আন্দোলন নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। একজন রোভার সবসময় নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে এবং নিঃস্বার্থভাবে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে।” গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি এস.এম. শামীম রানা বলেন, স্কাউটিংয়ের শতবর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও নেতিবাচকতা থেকে দূরে রেখে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। সম্মানিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন: এম. এ. মাসুম, সম্পাদক, গুরুকুল রোভার স্কাউট। রাসনা শারমিন, ইউনিট লিডার, গুরুকুল গার্ল-ইন রোভার। মাসুদুর রহমান, ইউনিট লিডার, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ। ড. নূরুন্নাহার, ইউনিট লিডার, গার্ল-ইন রোভার। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কুষ্টিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রোভার সদস্যরা এই উৎসবে সংহতি প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ কুয়াতুল ইসলাম আলিয়া মাদ্রাসা কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রোভারিংয়ের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নবীন রোভাররা বিপির জন্মদিন ও স্কাউটিংয়ের শতবর্ষ পূর্তিতে নতুন করে ‘বিপি শপথ’ স্মরণ করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগেও স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে চারিত্রিক গঠন ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন অত্যন্ত জরুরি। এই কর্মসূচি কুষ্টিয়ার তরুণদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির এক অনন্য ক্ষেত্র হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। আরও দেখুন: কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে গুরুকুল রোভার স্কাউটের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ
গুরুকুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৮ পালন । গুরুকুল বাংলাদেশ

বাংলা ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে কুষ্টিয়া, ঢাকা, রাজবাড়ি ও কুমারখালীসহ দেশের সকল গুরুকুল ক্যাম্পাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৮। প্রভাতফেরি ও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি কুষ্টিয়া গুরুকুল আয়োজিত কর্মসূচিতে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল বিভাগের প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। ভোরবেলা সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রভাতফেরি বের হয়। শোভাযাত্রাটি কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক অতিক্রম করে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। একুশের মূল প্রতিপাদ্য গুরুকুল প্রমুখ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর প্রতিষ্ঠিত গুরুকুল সবসময় বাংলা ভাষার ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়।এইবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়:“আমরা দাপ্তরিক সব কাজ বাংলায় করি – আপনি?” এই স্লোগানকে সামনে রেখে গুরুকুল নার্সিং ও প্যাথলজি ট্রেড প্রধান মিশাকাতুর রহমান এবং একাডেমিক ইনচার্জ শামীম রানার নেতৃত্বে উদযাপন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— ইনচার্জ ফাইন্যান্স রুহুল আমিন ইনচার্জ কমার্শিয়াল রফিকুল ইসলাম সিনিয়র ট্রেড প্রধান রাসনা শারমিন এম. এ. মাসুম, হাবিবুর রহমান, তামান্না আফরোজ উদযাপন কমিটির সদস্য ও কম্পিউটার ট্রেড প্রধান রাকিবুল ইসলাম টেক্সটাইল জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হোসাইন বিন হাফিজ ইলেকট্রনিক্স জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর সোহাগ আহমেদ সিভিল জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর জান্নাতুল তাসনিম শোভা এছাড়া গুরুকুলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সকলে মিলিত হয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। গুরুকুলের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, একুশ শুধু স্মরণ নয় বরং এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক—সবার অংশগ্রহণে দিনটি পরিণত হয় শ্রদ্ধা, ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক অনন্য উদযাপনে।
গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল বিভাগ সমূহের বিদায় অনুষ্ঠান ২০১৮

গৌরবময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল বিভাগ সমূহের বিদায় অনুষ্ঠান-২০১৮। এদিন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে ৮৯২ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবে। দিনের সূচনা: সকালে কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আনন্দ শোভাযাত্রা। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি পৌঁছে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় আলোচনা সভা ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অতিথি ও বক্তৃতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল প্রমুখ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক এবং চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেশের সুপরিচিত অভিনেত্রী তানভীন সুইটি, তারিন জাহান, নওশীন নাহারীন মৌ, আদনান ফারুক হিল্লোল, মাজনুন মিজান, আমান রেজা, প্রণীল জাহিদ, সুমা, প্রমা, নমিরা, প্রত্যয় খান, কমল চৌধুরী, আরহাম চৌধুরী ও মুনা চৌধুরী। বিশেষ বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান ও বাংলাদেশ টেরিটোরিয়াল ফোর্সেস অফিসার লেফটেন্যান্ট আহসান কবির রানা।সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— কুষ্টিয়া পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম নূরুল ইসলাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া এস.এ ইউ ফ্যাশন লিমিটেডের ফেব্রিক মার্চেন্ডাইজার তৌহিদুজ্জামান আরআর ফাউন্ডেশনের সিইও রাসেল আহমেদ সংবর্ধনা ও সম্মাননা গুরুকুলের টেক্সটাইল, ইলেকট্রিক্যাল, সিভিল, কম্পিউটার, জিডিপিএম ও মেকানিক্যাল বিভাগ থেকে মোট ১০৭ জন শিক্ষার্থীকে মেধা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। গুরুকুল কর্মী কল্যাণ তহবিলের নবনির্বাচিত সভাপতি রাসনা শারমিন ও সাধারণ সম্পাদক এম. এ. মাসুমকে শপথ বাক্য পাঠ করান গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক। “গুরুকুল স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার” নির্বাচিত হন গুরুকুল টেক্সটাইল ট্রেডের ৬ষ্ঠ পর্বের শিক্ষার্থী ও গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের সিনিয়র রোভারমেট আশরাফুল ইসলাম। দেশসেরা রেজাল্টের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন টেক্সটাইল ট্রেডের শেষ পর্বের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিনব্যাপী বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজন দর্শকদের বিমোহিত করে তোলে। মঞ্চ নাটক, নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করে গুরুকুল সংগীত বিভাগ, নৃত্য বিভাগ, নাট্য বিভাগ, রোভার স্কাউট গ্রুপ, গার্ল-ইন রোভার, ডিবেটিং ক্লাব, যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ম্যাথ ক্লাব ও আবৃতি পরিষদ। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অতিথি ও উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়। বিদায় অনুষ্ঠান-২০১৮ ছিল গুরুকুলের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা যেমন ছিল আবেগঘন, তেমনি সাংস্কৃতিক আয়োজন দিনটিকে পরিণত করেছে আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও প্রেরণার এক উৎসবে।