গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

গুরুকুল হেলথ ক্লাব -এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

“সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল”—এই মূলমন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে এবং আর্তমানবতার সেবায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও সংবেদনশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করল গুরুকুল হেলথ ক্লাব [Gurukul Health Club]। গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের মেডিকেল সেকশনের শিক্ষার্থীদের পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই এই ক্লাবের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রধান অতিথির বক্তব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্লাবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ মাহাবুবুল ইসলাম। তিনি বলেন, “একজন চিকিৎসাকর্মীর সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানবিকতা। গুরুকুল হেলথ ক্লাব শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ করে দেবে যেখানে তারা ছাত্রজীবন থেকেই মানুষের সেবা করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।” সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর বিশেষ বাণী ও ক্লাবের ‘মিশন’ গুরুকুল প্রমুখ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ  সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এই ক্লাবের জন্য তার দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দিয়েছেন। তাঁর পক্ষে এই বিশেষ বার্তা ও ক্লাবের ভিশন পাঠ করে শোনান গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের সহকারী পরিচালক জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম। বার্তায় গুরুকুল হেলথ ক্লাবের মূল মিশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়: “এই ক্লাবটি শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবস্থা থেকেই অভিজ্ঞ স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবে। ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেইন, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তাসহ নানাবিধ সেবামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের যুক্ত রাখাই হবে এই ক্লাবের প্রধান ব্রত; যেন তারা কেবল দক্ষ টেকনিশিয়ান নয়, বরং প্রকৃত মানবসেবক হিসেবে গড়ে ওঠে।” সম্মানিত অতিথিবৃন্দ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ জনাব আবদুল্লাহ আল মাসুম। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন: জনাব দ্বিপশিখা মল্লিক, বিভাগীয় প্রধান (নার্সিং) ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। জনাব আমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মাইক্রোল্যাব) ও অতিথি শিক্ষক। জনাব সুস্মিতা সেন, বিভাগীয় প্রধান (ম্যাটস) ও মডারেটর, গুরুকুল হেলথ ক্লাব। বক্তারা বলেন, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনে প্রবেশের আগেই একজন ‘এম্প্যাথিক’ বা সহমর্মী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তৈরি করবে। সাংস্কৃতিক আয়োজন ও উদযাপন ম্যাটস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক আহমেদ ও আমেনা খাতুন-এর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি এক আনন্দঘন উৎসবে পরিণত হয়। প্রধান অতিথি ডাঃ মাহাবুবুল ইসলাম অতিথিদের নিয়ে শুভ উদ্বোধনের কেক কাটেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যেখানে গান ও কবিতার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও মানবতার জয়গান গাওয়া হয়। গুরুকুল হেলথ ক্লাবের এই যাত্রার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেবার যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে একটি সুস্থ, সবল ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

শারদীয় দুর্গাপূজায় রাজবাড়ী গুরুকুলের ‘ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র’

পূজায় অভ্যাগতদের জন্য আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, রাজবাড়ী গুরুকুল | Primary Health Centre for Puja Visitors, Rajbari Gurukul

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক সেবাকে মূলমন্ত্র করে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজবাড়ী গুরুকুল এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উৎসব চলাকালীন পূজামণ্ডপে আগত পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাজবাড়ী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থাপন করা হয় বিশেষ ‘ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র’। উৎসবের ভিড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ উৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপ ও মেলা প্রাঙ্গণে বিপুল জনসমাগম ঘটে, যা থেকে ক্লান্তি, আকস্মিক অসুস্থতা বা ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর পক্ষ থেকে ফ্রি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থীকে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। সেবার পরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাজবাড়ী গুরুকুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম কেবল একটি উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সকল ক্যাম্পাসে সেবা: আপাতত কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীসহ গুরুকুলের সকল ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাতীয় অনুষ্ঠান: দেশের সকল জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে গুরুকুল পরিবার নিজ উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে উপস্থিত থাকবে। আয়োজকদের আমন্ত্রণ: যে কোনো বড় ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যেখানে ব্যাপক জনসমাগমের ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে আয়োজকরা আগ্রহ প্রকাশ করলে গুরুকুল টিম সেখানে উপস্থিত হয়ে সেবা প্রদান করবে। নেপথ্যের কারিগর: গুরুকুল হেলথ ক্লাব ও টিম সুফি ফারুক এই সম্পূর্ণ সেবামূলক কার্যক্রমটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেছেন রাজবাড়ী গুরুকুলের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। সংগঠক: পুরো আয়োজনটি পরিচালিত হয় “গুরুকুল হেলথ ক্লাব”-এর মাধ্যমে। অর্থায়ন: এই মানবিক উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সকল অর্থায়ন করেছে “সুফি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন”। স্থানীয় সহযোগিতা: মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় সমন্বয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে #TeamSufiFaruq। গুরুকুলের দর্শন: বহুত্ববাদী ও মানবিক সমাজ গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক কেবল কারিগরি শিক্ষায় নয়, বরং একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাসী। মানুষের বিপদে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের শিক্ষার মূল প্রতিপাদ্য। রাজবাড়ীর এই মহতী উদ্যোগ সেই চেতনারই এক মূর্ত প্রতীক।

কুষ্টিয়া গুরুকুলের ভিন্নধর্মী একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন

গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের অন্য রকম একুশ উদযাপন।

কুষ্টিয়া, ২১ ফেব্রুয়ারি – “আমরা দাপ্তরিক সকল কাজ, এমনকি ইন্টারনেট ইমেইলেও বাংলা ভাষা ব্যবহার করি—আপনি?”এই অনন্য স্লোগানকে সামনে রেখে, দেশসেরা শিক্ষা-গ্রুপ গুরুকুল শিক্ষা পরিবার এবার কুষ্টিয়ায় আয়োজন করেছে এক ভিন্নধর্মী একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কর্মসূচি।       শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকালে, সাসেগ-গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে দিনটির সূচনা করে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর, শিক্ষার্থীরা নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি ও আলোচনা সভা পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে, সকল অংশগ্রহণকারী হাসপাতাল মোড়স্থ কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস-২ এ ফিরে এসে শুরু হয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— আলম আরা জুইঁ, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সভাপতি, কুষ্টিয়া আবৃত্তি পরিষদ ড. বাকীবিল্লাহ বিকুল, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মোঃ নজরুল ইসলাম, কাউন্সিলর, ৬ নং ওয়ার্ড, কুষ্টিয়া পৌরসভা মনির হাসান, পরিচালক (প্রশাসন), গুরুকুল শিক্ষা পরিবার বক্তারা গুরুকুলের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর-এর সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে গুরুকুল শিক্ষা পরিবার দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ইয়াসিন আরাফাত তুষার (ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) এবং রত্না আক্তার (মেডিকেল বিভাগ) শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন। গুরুকুল কম্পিউটার ক্লাব আয়োজিত “কম্পিউটার ও মাতৃভাষা” বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ও মূল স্লোগানকে কেন্দ্র করে উপস্থিত বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। গুরুকুল কালচারাল ক্লাব পরিবেশন করে দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও আবৃত্তি। মাতৃভাষার সর্বস্তরের ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা হয়। গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব আয়োজন করে “সর্বক্ষেত্রে মাতৃভাষার ব্যবহার” শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা। গুরুকুল রোভার স্কাউট পরিবেশন করে মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহারের উপর নাটিকা। পুরস্কার বিতরণ ও সমন্বয়কারীরা আলোচনা সভা শেষে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন— শামীম রানা, সভাপতি, গুরুকুল রোভার স্কাউট মিরাজ আলী, গ্রুপ লিডার জান্নাতুল ফেরদৌস ও ফজলে হাসান রাব্বী, সমন্বয়কারী, কালচারাল ক্লাব চঞ্চল আলী, সমন্বয়কারী, কম্পিউটার ক্লাব আলমগীর হোসেন, সমন্বয়কারী, হেলথ ক্লাব   অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাশনা শারমিন, মডারেটর, গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব ও আহবায়ক, একুশ উদযাপন কমিটি।