আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১ম স্থান অধিকারি মোঃ মাহিনুজ্জামান মাহিন -এর লেখা

“ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব” নাম: মোঃ মাহিনুজ্জামান মাহিন স্কুলের নামঃ জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় গাংনী, মেহেরপুর। শ্রেণিঃ দশম রোলঃ ০১ “ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব” ভূমিকাঃ “বাঁচতে হলে যেমন আছে মৌলিক চাহিদা” তেমনি ক্যারিয়ারে সফল হতে প্রয়োজন “সংস্কৃতির ব্যপকতা” সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই আলোকিত মানুষ গড়া সম্ভব। আমাদের শেকড় সংস্কৃতি ছাড়া দেশের ইতিহাস পরিপূর্ণতা দাবি করতে পারে না। তাই অকৃত্রিম ও সকল ইতিহাসের মাতা আবহমান গ্রাম- বাংলার সংস্কৃতিকে জানা প্রয়োজন। প্রত্যেক এর ক্যারিয়ারে জয় পেতে হলে অবশ্যই সংস্কৃতি চর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জীবনবোধ থেকে ক্যারিয়ার ও সংস্কৃতির সংজ্ঞাঃ শালম স্কযার্টজ বলেছেন ” সংস্কৃতি মাঝে একটি সমাজের মানুষের মধ্যে প্রচলিত অর্থ, বিশ্বাস, অনুশীলন, প্রতীক,মান এবং মূল্যবোধের একটি সমৃদ্ধ জটিল “। অন্যকথাই সংস্কৃতি হলো সেই জটিল সামগ্রিকতা যাতে অন্তর্গত আছে জ্ঞান, বিশ্বাস, নৈতিকতা, শিল্প, আইন, রাজনীতি এবং সমাজের একজন সদস্য হিসেবে মানুষের দ্বারা অর্জিত সামর্থ্য শব্দটি এসেছে ” মারাঠা ” থেকে। জীবনোপায় বা ক্যারিয়ার বাংলা শব্দটি ইংরেজি ” Career” নামেই অধিক পরিচিত। জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে গৃহীত এই কোন না কোন পথটিই ঐ ব্যাক্তির জীবনোপায় বা Career (ক্যারিয়ার) বলে। সংস্কৃতির চর্চাঃ একটি দেশের ভবিষ্যৎ হলো সে দেশের তরুণ সমাজ একে নষ্ট করার অপকৌশল হলো উৎসাহিত করে বাস্তবে তা প্রয়োগ করা। সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে পারস্পরিক বিনিময় করার মাধ্যমে নতুন নতুন উপাদান সংগ্রহ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। তরুণরা চঞ্চল, তারা চায় সদা নতুনত্বের সাথেই চলতে। সংস্কৃতি মূলত একটি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। একটা জীবনবোধ বিনির্মানের কৌশল এ সংস্কৃতির দর্পণে তাকালে কোনো সমাজের মানুষের জীবনচরণ স্পষ্ট দেখা যায়। আধুনিক জীবন গঠনে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্বঃ বর্তমান যুগ আধুনিক যুগ, এ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। মানুষের বেঁচে থাকা, তার সমাজচেতনা, বিশ্বাস, ভাবনা, মূল্যবোধ ইত্যাদিসহ তার সামগ্রিক জীবনচেতনা প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতির মধ্য, এর মধ্য দিয়েই ব্যক্তি মানুষ অন্যদের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে। একটি আধুনিক ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ জাতি গঠনে যা নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, সংস্কৃতি শুধু বেঁচে থাকা নয় বরং আধুনিক জীবন গঠনে সাহায্যে করে। মানুষের বাস্তবতা সবসময় সংস্কৃতিযুক্ত ক্যারিয়ার নির্ভরঃ বাংলার নর আর নারী মিলি তবে গড়িয়াছে ক্যারিয়ার সেই সবই হলো বাংলায় আজ সংস্কৃতিতে পরিণত শতবছর আগে রুশ দেশে যে বিপ্লব হয়েছিলো সেটি সাংস্কৃতিকভাবে তুলে ধরা খুবই প্রয়োজনীয়। আমাদের জীবন এখন সংস্কৃতিনির্ভর হয়ে উঠেছে। সংস্কৃতির মধ্যে আমাদের আত্মপরিচয় আছে, জীবনাচার আছে, আচার-ব্যবহার আছে, সংস্কৃতিতে রয়েছে সবকিছু, রয়েছে আমাদের ক্যারিয়ার ও বাস্তবতা। ইতিহাস ও আধুনিকতায় সংস্কৃতিঃ ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে যে ঘটনায় শুধু সংস্কৃতি চর্চা করে মানুষ তার ক্যারিয়ারে সফল হয়েছে। এমনকি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচেছে। ঝড়ে জাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে রবিনশন ক্রুশো সাঁতরে গিয়ে উঠেছিলেন এক নির্জন দ্বীপে। তার কাছে কিছুই ছিল না, কিন্তু ভেতরে ছিল পুঁজিবাদী সংস্কৃতি। নির্জন দ্বীপে ২৩ বছর টিকে থেকেছেন, ফসলের চাষ করেছেন, ছাগলের খামার তৈরি করেছেন, তোতা পাখির সাথে কথা বলেছেন, অপেক্ষা করেছেন। সংস্কৃতির চর্চা না থাকলে সে মারা যেত, আধুনিকতায় এজন্য সংস্কৃতি দরকার। ক্যারিয়ারের সাথে সংস্কৃতি চর্চার সম্পর্কঃ বর্তমান যুগে আমরা যদি ক্যারিয়ারেসফল হতে চাই সংস্কৃতি চর্চার তাহলে বিকল্প নাই। কারণ সংস্কৃতির মাধ্যমে সকল বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে ধীরে ধীরে আমরা সাফল্য অর্জন করি। আমাদের ক্যারিয়ারের সাথে সংস্কৃতি চর্চা এজন্যই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল কৃষিপ্রধান দেশের শতকরা ৭০ জন লোকই ক্ষেতখামারে জীবিকা চালায়। তারা তাদের নিজ নিজ ক্যারিয়ার গঠনে সংস্কৃতি চর্চা করে এবং প্রয়োগ করে তারপর সাফল্য পায়, এদিক দিয়েই ক্যারিয়ারের সাথে সংস্কৃতি চর্চার সম্পর্ক। পারিবারিক জীবন থেকে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া পযর্ন্ত সংস্কৃতিচর্চার প্রভাবঃ সংস্কৃতি চর্চার প্রথম ধাপই হলো পরিবার। পরিবারের কাছ থেকেই মানুষ আনুষ্টানিকভাবে তার মাতৃভাষা ও নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কৃতি চর্চা করলেই কেবল ক্যারিয়ারে সফল হওয়া যাবে। যার প্রভাব পরিবার থেকে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া পযর্ন্ত রয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে স্মার্ট ক্যারিয়ারে সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজনীয়তাঃ “স্মার্ট দেশের স্মার্ট নাগরিক চাই ক্যারিয়ারে সফলতা বাড়ছে গুরুত্ব বাড়ছে চাহিদা তাই প্রয়োজন সংস্কৃতির চর্চা” আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ। স্মার্ট দেশ হয়ে গড়ে উঠতে আমাদের প্রয়োজন মানবসম্পদ। মানবসম্পদ সম্পূর্ণ করতে আবার প্রয়োজন প্রত্যেকের ক্যারিয়ারে সাফল্য। ক্যরিয়ারে সফল হতে হলে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের অবশ্যই শিক্ষাপ্রতিষ্টানে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তবেই স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে ক্যারিয়ারে সফল হতে পারব। ক্যরিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্বঃ একটি দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো সে দেশের আগামী প্রজন্ম। এই প্রক্ষাপটে আমাদের দেশের আগামী প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক মূলধারায় আনা প্রয়োজন। মানবজীবনের প্রত্যেকটি ধাপে সংস্কৃত চর্চা করলেই কেবলমাত্র ক্যারিয়ারে সফল হতে পারব। এজন্য ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃত চর্চার গুরুত্বের প্রতি প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। প্রত্যেক মানবজীবনের ধাপে ক্যারিয়ারে সংস্কৃতির প্রভাবঃ আমাদের মানবজীবনের প্রত্যেক ধাপে ধাপে সংস্কৃতির চর্চা রাখতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন কারিকুলামে এই চর্চার অনেক গুরুত্ব রয়েছে । প্রত্যেকটি বিষয়ে এখন সংস্কৃতি চলে এসেছে। যার ফলে আমরা যদি এর চর্চা করতে পারি তাহলেই কিন্তু ক্যারিয়ারে সফল হতে পারব। বিভিন্ন দেশের মানুষের ক্যারিয়ারকে সফল করতে সংস্কৃতির অবদানঃ উন্নত দেশ জাপান, সিঙ্গাপুর, সুইডেন প্রভৃতি দেশের মানুষদের মতে তারা সংস্কৃতি চর্চা করেছে বলেই আজ তারা সফল। আর যারা এর চর্চা করেনি তারা সাফল্য পাননি। প্রত্যেক উন্নত দেশের মানুষের ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার পেছনে রয়েছে সংস্কৃতি চর্চা তেমনি আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে মাথা উচু করে দাঁড় করাতে সংস্কৃতি চর্চা জরুরি।তাই বলা যায় যে, ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব অনেক। উপসংহারঃ প্রবাদে আছে, “Time and Tide wait for none”অথাৎ “সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না”। আমাদের দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে সময় যেমন যাচ্ছে, তেমনি ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চাও সময় ও স্রোতের মতোই চলে যাচ্ছে। সংস্কৃতিবিহীন ক্যারিয়ার এখন মাঝিবিহীন নৌকার মতো। তাই প্রদত্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। “ক্যারিয়ারে সফল হলে যেখানেই যাবেন সংস্কৃতি চর্চার জন্য স্বীকৃতি পাবেন”।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২৪ উপলক্ষে গুরুকুলের আয়োজনে আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ফলাফল

গত ১৭ মার্চ ২০২৪, মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ আন্তঃস্কুল রচনা প্রতিযোগিতা। এবারের বিষয় ছিল: “ক্যারিয়ারে সফল হতে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব”। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও সাংস্কৃতিক বোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্বনামধন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পুরস্কার ও মূল্যায়ন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, তথ্যনিষ্ঠতা এবং লিখন শৈলী বিচার করে সেরা তিনজনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। বিজয়ীদের মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা যাদের মেধা ও শ্রম এই প্রতিযোগিতাকে সফল করেছে, সেই সকল কৃতি শিক্ষার্থীদের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম নিচে প্রকাশ করা হলো: মিম খাতুন (কুষ্টিয়া হাই স্কুল) বিথী মুন্নি (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) ইশরাত জাহান মাহি (কুষ্টিয়া হাই স্কুল) জান্নাত আরা তন্নি (কুষ্টিয়া হাই স্কুল) কামরুন নাহার বুশরা (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) তাসিন আহাম্মেদ (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) কনক জাহান (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) মাইশা খাতুন (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) সুমাইয়া আক্তার (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) আমেনা শোভা (মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়) ইলমা খাতুন (আমলাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়) কবিতা খাতুন (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) মাহিনুজ্জামান মাহিন (জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়) প্রতিযোগিতা শেষে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন: “বঙ্গবন্ধু শিশুদের ভালোবাসতেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন সাংস্কৃতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক মুক্তি অপূর্ণ। আমরা গুরুকুলের পক্ষ থেকে সেই আদর্শকেই ধারণ করি। আজ যারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, তারাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবন ও ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই।” আয়োজনে: গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক গুরুকুল প্রতি বছরই জাতীয় দিবসসমূহকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এবারের আয়োজনে স্থানীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে #TeamSufiFaruq এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল গুরুকুল সাংস্কৃতিক কমিটি। সকল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীকে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হচ্ছে।