তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা ও নৈতিক চরিত্র গঠনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে কুষ্টিয়া গুরুকুল শিক্ষা পরিবারে টেক্সটাইল বিভাগের ‘অভিভাবক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস হল রুমে আয়োজিত এই সমাবেশে শতাধিক অভিভাবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

টেক্সটাইল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সালাউদ্দিন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের ইনচার্জ (লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিন) শামীম রানা। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও ভবিষ্যৎ গাইডলাইন নিয়ে আলোচনা করতে উপস্থিত ছিলেন টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ:
হাবিবুর রহমান
হাসিবুল ইসলাম
খাইরুল ইসলাম
মিজানুর রহমান
শর্মীলা আক্তার
সমাবেশে বক্তারা গুরুকুলের মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের সুযোগগুলো তুলে ধরেন। অভিভাবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বক্তারা বলেন:
“শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং কালচারাল ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, রোভার স্কাউট এবং ক্রীড়া ক্লাবের মতো এক্সট্রা কারিকুলাম কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের এমনভাবে তৈরি করা যাতে তারা কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেকে সমাজে একজন সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।”
দেশের প্রথিতযশা তথ্য প্রযুক্তিবিদ এবং গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর ভিশন নিয়ে আলোচনায় বক্তারা জানান, বর্তমানে সারাদেশে গুরুকুলের ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল সেকশনসহ) আধুনিক কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশীয় শ্রমবাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে বিদেশেও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে তাদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সপ্তাহব্যাপী অভিভাবক সমাবেশ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির প্রথম দিন হিসেবে বৃহস্পতিবার অত্যন্ত সফলভাবে টেক্সটাইল বিভাগ এবং গার্মেন্টস ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং টেকনোলজির অভিভাবক সমাবেশ সম্পন্ন হলো।

মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এই সমাবেশটি শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে এক চমৎকার সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। অভিভাবকরা গুরুকুলের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, নিয়মিত এ ধরণের আয়োজন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে অত্যন্ত সহায়ক হবে।
আরও দেখুন: