উপমহাদেশের সমাজ সংস্কারের পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘গুরুকুল’-এ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল গভীর শ্রদ্ধায় মোড়ানো আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের শিক্ষক লাবণী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং ঐশী রহমানের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. সরওয়ার মুর্শেদ।
![গুরুকুলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী পালিত 2 গুরুকুলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী পালিত [ দ্বিশততম ] Birthday Celebration of Ishwar Chandra Vidyasagar @ Gurukul](https://gurukul.edu.bd/wp-content/uploads/2019/09/Birthday-aa-300x200.jpg)
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সরওয়ার মুর্শেদ বিদ্যাসাগরের জীবন ও দর্শনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ সংস্কারক, বিদ্যানুরাগী, নারী কল্যাণকামী ও এক মহান মানবতাবাদী সত্তা। তাঁর মতো নির্ভীক ও সমাজহিতৈষী মানুষের আদর্শ বর্তমান ঘুণে ধরা সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহসের কারণে চরম দারিদ্র্যকে জয় করে তিনি যেভাবে সমাজের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, তা আজও আমাদের জন্য ধ্রুবতারার মতো কাজ করে।
বিদ্যাসাগরের শিক্ষানুরাগ ও নারী জাগরণের বিষয়টি অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। বক্তারা স্মরণ করেন যে, তিনি ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পথপ্রদর্শক। বিশেষ করে নারী শিক্ষার বিস্তার এবং বিধবা বিবাহ প্রচলনের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের মূলে আঘাত করেছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন সরকার এবং গুরুকুলের সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম। তারা বলেন, বিদ্যাসাগরের ‘দয়ার সাগর’ হয়ে ওঠার পেছনে ছিল মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গুরুকুল কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও ক্ষুদ্র নাটিকার মাধ্যমে বিদ্যাসাগরের সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। পুরো আয়োজনটি যেন একালের প্রজন্মের কাছে বিদ্যাসাগরের মানবিক ও জ্ঞানদীপ্ত চেতনাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি সার্থক প্রচেষ্টায় পরিণত হয়।
