তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও শিল্প-অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কেবল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের শিক্ষার্থীরা। আজ রবিবার কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির বিশাল উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন তারা।

গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠান কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট (KISI)-এর ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রাশনা শারমিন-এর নেতৃত্বে এই শিল্প পরিদর্শনে অংশ নেন ৫ম ও ৭ম পর্বের মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড শিক্ষক ফজলে হাসান রাব্বি এবং ল্যাব সহকারী আসানুর ইসলাম সুজন।
পরিদর্শনকালে বিআরবি কেবলস-এর উর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। শিক্ষার্থীরা কারখানার ভেতরে উন্নত প্রযুক্তির মেশিনারিজ, হাই-ভোল্টেজ কেবল উৎপাদন প্রক্রিয়া, মান নিয়ন্ত্রণ (QC) ল্যাবরেটরি এবং বিপণন ব্যবস্থার খুঁটিনাটি সরাসরি দেখার সুযোগ পান। হাতে-কলমে আধুনিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন ও কেবল ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস দেখে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সমন্বয় ঘটান।
বিআরবি কেবলস-এর কর্মকর্তাগণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। আলোচনাসভায় তারা জানান, বর্তমান শিল্পায়নের যুগে দক্ষ ডিপ্লোমা-ইন-ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে বিআরবি গ্রুপে ক্যারিয়ার গড়ার আগাম আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরিদর্শন শেষে বিআরবি গ্রুপের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিশেষ ‘শুভেচ্ছা স্মারক’ তুলে দেওয়া হয়।
গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এই সুযোগ প্রদানের জন্য বিআরবি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মজিবর রহমান সহ সকল কর্মকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন:
“শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট অপরিহার্য। বিআরবি কেবলসের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।”

শিল্প ও একাডেমিয়ার (Industry-Academia Collaboration) মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনতে গুরুকুলের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদগণ। আনন্দঘন পরিবেশ ও নতুন কিছু শেখার উদ্দীপনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিকেলে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ফিরে আসেন।