গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

উগ্রবাদ ও চরমপন্থা রুখতে ছাত্র-শিক্ষক সচেতনতার বিকল্প নেই: কুষ্টিয়া গুরুকুলে সেমিনার অনুষ্ঠিত

Seminar : Countering Radicalization and Extremism : Role of Students & Teachers

কুষ্টিয়া: সমসাময়িক বিশ্ব ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে উগ্রবাদ ও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক-এর পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর (শনিবার) গুরুকুলের লালন সাঁই ক্যাম্পাসের সেমিনার হলে “Countering Radicalization and Extremism: Role of Students & Teachers” শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় ও তাত্ত্বিক অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে প্রধান আলোচক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন: “আমি ইসলামের ইতিহাসের ছাত্র এবং পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে পড়াশোনা করেছি। কোনো ধর্মই সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোরআন ও মুসলিম মনীষীদের সিদ্ধান্তের অপব্যাখ্যা দিয়ে তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করছে। ১৯ শতকে রোপিত এই বিষবৃক্ষের ফল আজ ২০ শতককে ভোগ করতে হচ্ছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, একজন জঙ্গিবাদী শুধু নিজেকেই ধ্বংস করে না, বরং তার পুরো পরিবারকে আজীবনের জন্য অভিশপ্ত জীবন দিয়ে যায়। মূল প্রবন্ধ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রতিকার সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স-এর পরিচালক এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ। তিনি তাঁর প্রবন্ধে বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিবর্তন এবং বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। জঙ্গিবাদ মুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। গুরুকুলের নিয়মিত উদ্যোগ ও সাংগঠনিক অবস্থান সেমিনারে প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন গুরুকুল প্রমুখ, দেশবরেণ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন। গুরুকুল প্রমুখ তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন: “গুরুকুলের প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চরমপন্থার বিষাক্ত থাবা থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ ও মানবিক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে আমরা নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করছি। দক্ষ জনশক্তি গড়ার পাশাপাশি সচেতন নাগরিক গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।” সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শপথ গ্রহণ করেন। বক্তারা একমত হন যে, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার সঠিক প্রয়োগই পারে তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদের হাত থেকে রক্ষা করতে। অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজ, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক। নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া | ৫ নভেম্বর, ২০১৬

গুরুকুলে ‘স্কিল কম্পিটিশন-২০১৬’ সম্পন্ন

কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট শিক্ষার্থীদের স্কিল কম্পিটিশন-২০১৬

শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা যাচাই ও সৃজনশীল উদ্ভাবন প্রদর্শনের লক্ষ্যে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের আওতায় পরিচালিত কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউটে দিনব্যাপী ‘স্কিল কম্পিটিশন-২০১৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব ব্যাংক এবং কানাডা সরকারের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘স্কিলস এন্ড ট্রেনিং এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (STEP)’-এর ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিযোগিতার প্রতিষ্ঠান পর্যায়টি সম্পন্ন হয়।   গুরুকুলে ‘স্কিল কম্পিটিশন-২০১৬’ সম্পন্ন   রবিবার সকালে কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। সারাদেশের ১৬২টি স্টেপ (STEP) অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ন্যায় কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা তাদের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে বাস্তবে রূপান্তরের লক্ষ্যে ৭টি বিশেষ উদ্ভাবনী প্রজেক্ট প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত প্রজেক্টসমূহ শিক্ষার্থীদের মেধা ও কারিগরি কুশলতার সমন্বয়ে তৈরি প্রজেক্টগুলোর মধ্যে ছিল: রোবটিক্স প্রযুক্তি: কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের ৭ জন শিক্ষার্থীর সম্মিলিত উদ্ভাবন ‘রোবটিক্স কার’। নগর পরিকল্পনা: সিভিল বিভাগের ৪ জন শিক্ষার্থীর তৈরি ‘যানজট মুক্ত আধুনিক ফ্লাইওভার’ মডেল। ইলেক্ট্রিক্যাল উদ্ভাবন: এই বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থীর ৫টি ভিন্ন ভিন্ন প্রজেক্ট— ডিজিটাল গার্ড, মিনি ম্যাগনেটিক পাওয়ার সাপ্লাই, ওয়েস্ট পাওয়ার প্লান্ট, ওয়াটার লেভেল ইন্ডিকেটর এবং ডোর অ্যালার্ম। বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও অতিথি সমাগম শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল কাজগুলো মূল্যায়নের জন্য বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল ও শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞগণ: ইঞ্জিনিয়ার ইসরাইল হোসেন, চেয়ারম্যান, জিওটেক বিল্ডার্স লিমিটেড। মনিরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এম এন্ড বি প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এছাড়াও বিশেষ পরিদর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টেপ (STEP)-এর সহকারী প্রোগ্রামার মোফাজ্জেল হোসেন। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী তানভির মেহেদি, লিগ্যাল এন্ড এডমিন ইনচার্জ শামীম রানা এবং ইনচার্জ ফাইন্যান্স রুহুল আমিন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ও পুরষ্কার বিচারকদের সূক্ষ্ম মূল্যায়নে উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও বাস্তবধর্মী উপযোগিতার ভিত্তিতে সেরা তিনটি প্রজেক্ট নির্বাচিত করা হয়: ১. প্রথম স্থান: কম্পিউটার টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ‘রোবটিক কার’। ২. দ্বিতীয় স্থান: ইলেক্ট্রিক্যাল টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের ‘মিনি ম্যাগনেটিক পাওয়ার সাপ্লাই’। ৩. তৃতীয় স্থান: একই বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘ডিজিটাল গার্ড’। প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরণের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট সর্বদা আধুনিক ও কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। আরও দেখুন: গুরুকুলে বিশেষ বৃত্তির কোটা

গুরুকুল থেকে প্রকাশিত “জয়তু জননেত্রী” বইটির উদ্বোধন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

গুরুকুল থেকে প্রকাশিত “জয়তু জননেত্রী” বইটির উদ্বোধন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে উৎসর্গ করে প্রকাশিত হলো বিশেষ গ্রন্থ ‘জয়তু জননেত্রী’। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রীপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আয়োজনে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মাননীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান রচিত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুরুকুলের রাজনৈতিক গবেষণা শাখা— ‘পলিটিক্যাল স্টাডিজ, গুরুকুল’ (Political Studies, Gurukul)।     মোড়ক উন্মোচন ও উপস্থিতিবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মন্ত্রীপরিষদ বৈঠকের শুরুতে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন তৎকালীন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এসময় মন্ত্রীপরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। গ্রন্থটির বিষয়বস্তু এবং জননেত্রীর জীবন ও কর্মের ওপর এর আলোকপাত উপস্থিত সকলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। প্রকাশনা ও নেপথ্য কারিগর ‘জয়তু জননেত্রী’ গ্রন্থটি গুরুকুলের একটি বিশেষ প্রকাশনা প্রকল্প। এর প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত যত্ন ও সৃজনশীলতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে: রচয়িতা: স্থপতি ইয়াফেস ওসমান (মাননীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী)। প্রকাশক: সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর (প্রমুখ, গুরুকুল)। সমন্বয়ক: তন্ময় আহমেদ। শিল্প নির্দেশনা: সোহেল মোহাম্মদ রানা।   গুরুকুলের রাজনৈতিক গবেষণা ও সমাজদর্শন গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ‘পলিটিক্যাল স্টাডিজ’ বিভাগ দেশজ রাজনীতি, উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের সঠিক ইতিহাস ও দর্শন তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। ‘জয়তু জননেত্রী’ গ্রন্থটি সেই প্রচেষ্টারই একটি সফল অংশ। এটি কেবল একটি বই নয়, বরং বাংলাদেশের নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। গুরুকুল পরিবারে আনন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রীদের মাধ্যমে গুরুকুল প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হওয়ায় গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। গুরুকুলের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর জানান, “দেশ ও জননেত্রীর উন্নয়ন গাথাকে লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে গুরুকুল গর্বিত। আমরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মননশীল ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকাশনা অব্যাহত রাখব।” দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই স্বীকৃতি গুরুকুলের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শারদীয় দুর্গাপূজায় রাজবাড়ী গুরুকুলের ‘ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র’

পূজায় অভ্যাগতদের জন্য আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, রাজবাড়ী গুরুকুল | Primary Health Centre for Puja Visitors, Rajbari Gurukul

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক সেবাকে মূলমন্ত্র করে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজবাড়ী গুরুকুল এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উৎসব চলাকালীন পূজামণ্ডপে আগত পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাজবাড়ী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থাপন করা হয় বিশেষ ‘ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র’। উৎসবের ভিড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ উৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপ ও মেলা প্রাঙ্গণে বিপুল জনসমাগম ঘটে, যা থেকে ক্লান্তি, আকস্মিক অসুস্থতা বা ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর পক্ষ থেকে ফ্রি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থীকে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। সেবার পরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাজবাড়ী গুরুকুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম কেবল একটি উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সকল ক্যাম্পাসে সেবা: আপাতত কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীসহ গুরুকুলের সকল ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাতীয় অনুষ্ঠান: দেশের সকল জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে গুরুকুল পরিবার নিজ উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে উপস্থিত থাকবে। আয়োজকদের আমন্ত্রণ: যে কোনো বড় ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যেখানে ব্যাপক জনসমাগমের ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে আয়োজকরা আগ্রহ প্রকাশ করলে গুরুকুল টিম সেখানে উপস্থিত হয়ে সেবা প্রদান করবে। নেপথ্যের কারিগর: গুরুকুল হেলথ ক্লাব ও টিম সুফি ফারুক এই সম্পূর্ণ সেবামূলক কার্যক্রমটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেছেন রাজবাড়ী গুরুকুলের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। সংগঠক: পুরো আয়োজনটি পরিচালিত হয় “গুরুকুল হেলথ ক্লাব”-এর মাধ্যমে। অর্থায়ন: এই মানবিক উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সকল অর্থায়ন করেছে “সুফি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন”। স্থানীয় সহযোগিতা: মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় সমন্বয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে #TeamSufiFaruq। গুরুকুলের দর্শন: বহুত্ববাদী ও মানবিক সমাজ গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক কেবল কারিগরি শিক্ষায় নয়, বরং একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাসী। মানুষের বিপদে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের শিক্ষার মূল প্রতিপাদ্য। রাজবাড়ীর এই মহতী উদ্যোগ সেই চেতনারই এক মূর্ত প্রতীক।

শ্রী শ্রী লক্ষী পূজা’র ছুটির নোটিশ ২০১৬

লক্ষ্মী পূজা, ছুটির নোটিশ | Laxmi Puja Holiday Notice

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘শ্রী শ্রী লক্ষ্মী পূজা’ উপলক্ষে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০১৬ (শনিবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে (স্মারক নং: গুরুকুল/প্রশা/২০১৬/০৯৬) এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহুত্ববাদী চেতনা ও গুরুকুলের আদর্শ গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে গভীর বিশ্বাসী। গুরুকুল মনে করে, একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ হবে এমন, যেখানে সকল ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ সমান মর্যাদায় তাদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারবে। লক্ষ্মী পূজার এই ছুটি কেবল একটি কর্মবিরতি নয়, বরং প্রতিটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যকে পরম শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করার একটি সনিষ্ঠ প্রয়াস। এই সম্প্রীতির শিক্ষাই গুরুকুলের শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করে।   ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিশেষ ব্যবস্থা ছুটির কারণে নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্লাস স্থগিত থাকলেও, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভর্তি সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছুটিকালীন সময়েও বিশেষ ব্যবস্থায় গুরুকুলের ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ নির্ধারিত বুথে এসে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। দাপ্তরিক নির্দেশনা ও অনুলিপি বিতরণ নোটিশটি যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে ও ক্যাম্পাসে প্রেরণ করা হয়েছে। আদেশের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে: ১. চেয়ারম্যান ও প্রমুখ-এর দপ্তর। ২. গুরুকুল ও এর আওতাধীন সকল ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ। ৩. সকল কলেজ ও স্কুলের অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপ্যাল)। ৪. প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিভাগের সকল ইনচার্জ ও বিভাগীয় প্রধান। ৫. সকল ক্যাম্পাসের নোটিশ বোর্ড, রেজিস্ট্রার দপ্তর এবং অফিস নথি। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন: “আমরা বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যে বিশ্বাসী। গুরুকুল পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। লক্ষ্মী পূজার এই দিনে আমরা সকলের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করি। একই সাথে, ভর্তি কার্যক্রম চালু রাখার মাধ্যমে আমরা শিক্ষার সুযোগ প্রসারে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকার বজায় রাখছি।” আগামী ১৬ অক্টোবর ২০১৬ (রবিবার) থেকে সকল প্রতিষ্ঠানে যথারীতি সময়সূচী অনুযায়ী ক্লাস ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

শোকাবহ আশুরার ছুটির নোটিশ ২০১৬ : ত্যাগ ও ন্যায়ের আদর্শ স্মরণের আহ্বান

শোকাবহ আশুরা, ছুটির নোটিশ : Ashura Holiday Notice

ইসলামী ইতিহাসের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ দিন ‘পবিত্র আশুরা’ উপলক্ষে ‘গুরুকুল শিক্ষা পরিবার’-এর সকল প্রতিষ্ঠানে আগামী ১২ অক্টোবর ২০১৬ (বুধবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে (স্মারক নং: গুরুকুল/প্রশা/২০১৬/০৯৬) এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ত্যাগের মহিমায় বহুত্ববাদী চেতনা গুরুকুল শিক্ষা পরিবার বিশ্বাস করে, পবিত্র আশুরা কেবল একটি ধর্মীয় দিন নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম এবং ত্যাগের এক চিরন্তন প্রতীক। গুরুকুলের বহুত্ববাদী (Pluralist) সমাজ দর্শনে প্রতিটি ধর্মের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। আশুরার এই শোক ও ত্যাগের শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মাঝে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা যোগাবে বলে কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিশেষ ব্যবস্থা ছুটির কারণে নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছুটিকালীন সময়েও বিশেষ ব্যবস্থায় গুরুকুলের ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ নির্ধারিত বুথে এসে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ভর্তি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। দাপ্তরিক নির্দেশনা ও বিতরণ নোটিশটি যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। আদেশের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে: ১. চেয়ারম্যান ও প্রমুখ-এর দপ্তর। ২. গুরুকুল ও এর আওতাধীন সকল ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ। ৩. সকল কলেজ ও স্কুলের অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপ্যাল)। ৪. প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিভাগের সকল ইনচার্জ ও বিভাগীয় প্রধান। ৫. সকল ক্যাম্পাসের নোটিশ বোর্ড এবং রেজিস্ট্রার দপ্তর। কর্তৃপক্ষের বার্তা প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন, “আশুরার এই দিনটি আমাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। আমরা আশা করি, গুরুকুল পরিবারের সকল সদস্য এই দিনের পবিত্রতা ও গুরুত্ব অনুধাবন করবেন। একই সাথে, ভর্তি কার্যক্রম চালু রাখার মাধ্যমে আমরা শিক্ষার সুযোগ প্রসারে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকার বজায় রাখছি।” আগামী ১৩ অক্টোবর ২০১৬ (বৃহস্পতিবার) থেকে সকল প্রতিষ্ঠানে যথারীতি সময়সূচী অনুযায়ী ক্লাস ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের প্রয়াণে দেশব্যাপী গুরুকুল ক্যাম্পাসে শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন

respect-to-syed-shamsul-haque-| respect-to-syed-shamsul-haque | আজ ২৮-০৯-২০১৬ ইং তারিখ সকাল ১০.০৫ মিনিটে কুষ্টিয়া গুরুকুলের লালন সাঁই ক্যাম্পাসে ইলেকট্রিক্যাল ১ম ও ৫ম পর্বের শিক্ষার্থীরা নিজ ক্লাসে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুতে এক মিনিট করে নীরবতা পালন করেন।

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী নক্ষত্র, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের প্রয়াণে গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে দেশের অন্যতম শিক্ষা নেটওয়ার্ক গুরুকুল। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে গুরুকুলের দেশব্যাপী সকল ক্যাম্পাসে একযোগে এই শোক কর্মসূচি পালন করা হয়। সাহিত্যের এই মহান কারিগরের চলে যাওয়াকে দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   এক মিনিটের নীরবতা ও শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা সৈয়দ শামসুল হকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গুরুকুলের সকল ট্রেড ও সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা গুরুকুলের প্রতিটি ক্যাম্পাসে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় লেখকের সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শনকে স্মরণের মাধ্যমে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। পরিচালনা পরিষদের শোক প্রস্তাব ও প্রমুখের বার্তা লেখকের প্রয়াণে গুরুকুলের পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এক শোক বার্তায় বলেন: “সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক অতন্দ্র প্রহরী। কবিতা, নাটক, গল্প, উপন্যাস কিংবা অনুবাদ—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তাঁর বিচরণ ছিল বিস্ময়কর। তাঁর ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ কিংবা ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ আমাদের জাতীয় চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি কেবল একজন লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সাংস্কৃতিক বাতিঘর। গুরুকুল পরিবার তাঁর এই প্রস্থানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।” বহুত্ববাদী ও সাংস্কৃতিক চেতনা গুরুকুল শিক্ষা পরিবার সবসময়ই একটি প্লুরালিস্ট সোসাইটি বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে বিশ্বাসী, যেখানে কৃষ্টি, কালচার ও সাহিত্যের ধারক-বাহকদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা হয়। সৈয়দ শামসুল হকের মতো একজন অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল লেখকের জীবন ও কর্ম শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুরুকুল বদ্ধপরিকর। ক্যাম্পাসের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখকের বর্ণাঢ্য সাহিত্যজীবন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন, যাতে নতুন প্রজন্ম এই মহান লেখকের আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে পারে। জাতীয় সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের এক অমূল্য জাতীয় সম্পদ। তাঁর প্রয়াণে দেশব্যাপী শোকের যে ছায়া নেমে এসেছে, তাতে গুরুকুলের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠানটি কেবল পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং জাতীয় মেধা ও মননের প্রতি দায়বদ্ধ। আজকের এই শোক প্রস্তাব ও নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে গুরুকুল পরিবার এই প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্য ও চেতনা বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে।

পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটির নোটিশ ২০১৬

ঈদ-উল-আযহা ছুটি, গুরুকুল বাংলাদেশ | Eid-Ul-Azha Mubarak! Gurukul Bangladesh

বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ‘গুরুকুল শিক্ষা পরিবার’-এ দীর্ঘকালীন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১১/০৯/২০১৬ (রবিবার) থেকে ১৭/০৯/২০১৬ (শনিবার) পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পবিত্র ঈদুল আযহা’র ছুটির নোটিশ, ২০১৬ স্মারক নং: গুরুকুল/প্রশা/২০১৬/০৯৫ তারিখ: ০৮/০৯/২০১৬ প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের দর্শন গুরুকুল কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি অনন্য ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। গুরুকুল বিশ্বাস করে, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আযহা আমাদের পারস্পরিক মৈত্রী, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। এই ছুটি আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে ত্যাগের আদর্শ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করার একটি প্রয়াস। ছুটির সময়সূচী ও কার্যক্রম প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির মেয়াদ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম: উল্লেখ্য যে, ছুটির কালিন সময়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ১৮/০৯/২০১৬ (রবিবার) থেকে ক্যাম্পাসের সকল ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হবে। নিরাপত্তা ও শুভেচ্ছা বার্তা উৎসবের এই বিশেষ সময়ে গুরুকুল কর্তৃপক্ষ সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ঈদ উদযাপনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। ত্যাগ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গঠনই আমাদের লক্ষ্য। গুরুকুল কর্তৃপক্ষ আপনার ও আপনার পরিবারের আনন্দময় ছুটি উদযাপন কামনা করে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের প্রশাসন বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা এমন একটি পরিবেশ লালন করি যেখানে প্রতিটি মানুষ তাদের স্ব-স্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্বের সাথে উৎসব পালন করতে পারে। ঈদুল আযহার এই ত্যাগের শিক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।” (স্বাক্ষরিত) সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর প্রমুখ, গুরুকুল অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি প্রেরণ করা হলো: ১. চেয়ারম্যান এর দপ্তর, গুরুকুল। ২. প্রমুখ এর দপ্তর, গুরুকুল। ৩. সকল পরিচালক, গুরুকুল ও গুরুকুলের ইন্সটিটিউট সমূহের। ৪. সকল প্রিন্সিপ্যাল, গুরুকুল এর সকল কলেজ ও স্কুল। ৫. সকল ইনচার্জ, গুরুকুল এর প্রশাসনিক বিভাগ সমূহ। ৬. সকল বিভাগীয় প্রধান, গুরুকুল এর একাডেমিক বিভাগ সমূহ। ৭. সব নোটিশ বোর্ড, সব ক্যাম্পাস। ৮. রেজিস্ট্রার, গুরুকুল। ৯. অফিস নথি, গুরুকুল।

কুষ্টিয়া গুরুকুলে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ উদযাপন

গুরুকুল শিক্ষা পরিবার কুষ্টিয়ার বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ উদযাপন | Bangla New Year 1423 Celebration, Gurukul Kushtia

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ উপলক্ষে দেশসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুকুল শিক্ষা পরিবার আয়োজিত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় উদযাপিত হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। মঙ্গল শোভাযাত্রা ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকালে গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস-১ (কালিশংকরপুর) প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী পোশাকে অংশ নেন। শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হাসপাতাল মোড়স্থ কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস-২-এ গিয়ে শেষ হয়। বৈশাখের রঙে রঙিন এই শোভাযাত্রা শহরে এনে দেয় উৎসবের আবহ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতা শোভাযাত্রা শেষে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। সাসেগ-গুরুকুল কালচারাল ক্লাব পরিবেশন করে গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি এবং নাটিকা। দিনব্যাপী চলা খেলাধুলার মধ্যে ছিল লাঠিখেলা, দড়ি টানা, কাবাডি, ঘুড়ি ওড়ানো ইত্যাদি। বৈশাখী রম্য বিতর্কের বিষয় ছিল “বৈশাখী প্রেমে ক্ষয়, বন্ধুত্বের হোক জয়”।সাসেগ-গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ বিতর্কে পক্ষ দল জয়ী হয়।   অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও কর্মকর্তারা— লিগ্যাল ও মিডিয়া সমন্বয়কারী শামীম রানা মেডিকেল সেকশনের একাডেমিক ইনচার্জ মন্টু বাইন টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস ডিজাইন বিভাগের প্রধান জান্নাতুল নাঈম কম্পিউটার বিভাগের প্রধান চঞ্চল আলী ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের প্রধান রাশনা শারমীন সিভিল বিভাগের প্রধান তৌফিক এলাহি ওয়ারা মেকানিক্যাল বিভাগের প্রধান মামুন হক আরএস বিভাগের প্রধান ওয়াহেদ মতিন রেজিস্ট্রার দীপক কুমার মণ্ডল এইচআর প্রধান রিয়াজ উদ্দিনএছাড়া বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহবায়ক মিরাজ আলী-র সার্বিক তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।   দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসকে পরিণত করে বৈশাখী মেলায়। গুরুকুল শিক্ষা পরিবার বিশ্বাস করে—বাংলা নববর্ষ কেবল উৎসব নয়, বরং এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।

কুষ্টিয়া গুরুকুল এর আয়োজনে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী সভা

Meeting on unity against militancy and terrorism organized by Gurukul, Kushtia ৰ গুরুকুল শিক্ষা পরিবার কুষ্টিয়ার আয়োজনে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সভা

নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া গুরুকুল শিক্ষা পরিবারে টানা ৪৫ দিন ধরে চলমান ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও নাশকতা বিরোধী’ বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের চলমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং উগ্রবাদের করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতেই এই দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।     সারা দেশজুড়ে বহুমুখী কর্মসূচি উল্লেখ্য যে, গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে একযোগে এই সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— বর্ণাঢ্য র‍্যালি, অভিভাবক সমাবেশ, শ্রেণীকক্ষে সরাসরি প্রচার এবং সেমিনার। গত ৪৫ দিন ধরে চলা এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উগ্রবাদ বিরোধী এক শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের বিশেষ সভা আজ শনিবার গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস-১ এর হল রুমে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার আয়োজন ও অংশগ্রহণে ছিল গুরুকুলের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ: কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট স্পেশালাইজড ম্যাটস (MATS) গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট স্পেশালাইজড মেডিকেল ইন্সটিটিউট স্পেশালাইজড আইএইচটি (IHT)   উপস্থিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। তাদের মধ্যে ছিলেন: শামীম রানা, ইনচার্জ (লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিন) রুহুল আমিন, ইনচার্জ (ফাইন্যান্স) জান্নাতুল নাঈম, বিভাগীয় প্রধান (টেক্সটাইল) রাশনা শারমিন, বিভাগীয় প্রধান (ইলেকট্রিক্যাল) চঞ্চল আলী, বিভাগীয় প্রধান (কম্পিউটার)   বক্তাদের আহ্বান ও শপথ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী এই সমাবেশে বক্তারা একটি শান্তিকামী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন: “গুরুকুলের প্রতিটি শিক্ষার্থী আজ এই মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, তারা সকল প্রকার সন্ত্রাস, নাশকতা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে। নিজেদের কেবল একজন সফল পেশাজীবী হিসেবেই নয়, বরং একজন আইনমান্যকারী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী এবং গণতান্ত্রিক ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্রিয় অংশীদার হওয়া।” ব্যাপক অংশগ্রহণ ও সংহতি উক্ত সমাবেশে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিভাবকরা গুরুকুলের এই দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরণের কর্মসূচি সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং তাদের নৈতিক চরিত্র গঠনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।     অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শপথ বাক্য পাঠ করে। গুরুকুলের এই সময়োপযোগী প্রচারণার মাধ্যমে কুষ্টিয়ার শিক্ষাঙ্গনে এক ইতিবাচক ও নিরাপদ পরিবেশের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।   আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা