বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী নক্ষত্র, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের প্রয়াণে গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে দেশের অন্যতম শিক্ষা নেটওয়ার্ক গুরুকুল। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে গুরুকুলের দেশব্যাপী সকল ক্যাম্পাসে একযোগে এই শোক কর্মসূচি পালন করা হয়। সাহিত্যের এই মহান কারিগরের চলে যাওয়াকে দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক মিনিটের নীরবতা ও শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা
সৈয়দ শামসুল হকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গুরুকুলের সকল ট্রেড ও সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা গুরুকুলের প্রতিটি ক্যাম্পাসে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় লেখকের সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শনকে স্মরণের মাধ্যমে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
পরিচালনা পরিষদের শোক প্রস্তাব ও প্রমুখের বার্তা
লেখকের প্রয়াণে গুরুকুলের পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এক শোক বার্তায় বলেন:
“সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক অতন্দ্র প্রহরী। কবিতা, নাটক, গল্প, উপন্যাস কিংবা অনুবাদ—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তাঁর বিচরণ ছিল বিস্ময়কর। তাঁর ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ কিংবা ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ আমাদের জাতীয় চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি কেবল একজন লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সাংস্কৃতিক বাতিঘর। গুরুকুল পরিবার তাঁর এই প্রস্থানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।”
বহুত্ববাদী ও সাংস্কৃতিক চেতনা
গুরুকুল শিক্ষা পরিবার সবসময়ই একটি প্লুরালিস্ট সোসাইটি বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে বিশ্বাসী, যেখানে কৃষ্টি, কালচার ও সাহিত্যের ধারক-বাহকদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা হয়। সৈয়দ শামসুল হকের মতো একজন অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল লেখকের জীবন ও কর্ম শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুরুকুল বদ্ধপরিকর। ক্যাম্পাসের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখকের বর্ণাঢ্য সাহিত্যজীবন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন, যাতে নতুন প্রজন্ম এই মহান লেখকের আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে পারে।
জাতীয় সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা
সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের এক অমূল্য জাতীয় সম্পদ। তাঁর প্রয়াণে দেশব্যাপী শোকের যে ছায়া নেমে এসেছে, তাতে গুরুকুলের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠানটি কেবল পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং জাতীয় মেধা ও মননের প্রতি দায়বদ্ধ।
আজকের এই শোক প্রস্তাব ও নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে গুরুকুল পরিবার এই প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্য ও চেতনা বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে।