নাট্যজন জামালউদ্দিন হোসেনের জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, মঞ্চ ও টেলিভিশনের অগ্রণী শিল্পী, পরিচালক এবং সংগঠক জামালউদ্দিন হোসেন ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর কানাডার ক্যালগেরির রকভিউ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১০ অক্টোবর। আজ, তাঁর জন্মদিনে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক (GCLN) শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে এক মহান শিল্পসাধককে, যিনি সারাজীবন শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। চট্টগ্রাম কলেজ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল হায়াৎ। কিন্তু প্রকৌশল বিদ্যার সীমা ছাড়িয়ে তাঁর মন টানত নাট্যমঞ্চের আলো-অন্ধকারে, শিল্পের নন্দনতত্ত্বে। ১৯৭৫ সালে তিনি যোগ দেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে, বাংলাদেশের আধুনিক নাট্য আন্দোলনের অন্যতম প্রবর্তক সংগঠনে। পরবর্তী দুই দশকে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি হয়ে ওঠেন নাট্যচর্চার এক উজ্জ্বল মুখ। ১৯৯৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের নাট্যদল নাগরিক নাট্যাঙ্গন এনসেম্বল, যার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আজীবন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বেতার টেলিভিশন শিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক। তার নির্দেশিত অসংখ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘রাজা রাণী’, ‘চাঁদ বনিকের পালা’, ‘আমি নই’, ‘বিবিসাহেব’ ও ‘জুগলবন্দী’। এসব নাটক শুধু দর্শকের হৃদয় জয় করেনি, বরং বাংলাদেশের নাট্যজীবনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। নাট্যকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে তিনি অর্জন করেন বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক। এই সম্মাননা তাঁর দীর্ঘ শিল্পযাত্রার প্রতি জাতির শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৭৫ সালে সহশিল্পী ও অভিনেত্রী রওশন আরা হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দুজনেই নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের শিল্পী ছিলেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁদের যৌথ শিল্পজীবন। তাঁদের একমাত্র সন্তান তাফসিন হোসেন তপু বর্তমানে কানাডার ক্যালগেরির মাউন্ট রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। জামালউদ্দিন হোসেন ছিলেন সেই বিরল শিল্পী, যিনি অভিনয়, নির্দেশনা, সংগঠন এবং নাট্যদর্শনে এক অনন্য ভারসাম্য তৈরি করতে পেরেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নাটক শুধুমাত্র বিনোদন নয়— এটি সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁর প্রতিটি কাজেই প্রতিফলিত হয়েছে এই বিশ্বাস, এই দায়বদ্ধতা। আজ, তাঁর জন্মদিনে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক (GCLN) গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এই মহৎ নাট্যজনকে। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি এবং বিশ্বাস করি, তাঁর কর্ম ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে চিরকাল।
প্রয়াণ দিবসে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়কে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি । ১০ ফেব্রুয়ারি

আজ ১০ ফেব্রুয়ারি—বাংলা ইতিহাসচর্চার এক অনন্য পথপ্রদর্শক, সমাজসংস্কারক ও বাঙালি মননের এক উজ্জ্বল দীপ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়–এর প্রয়াণ দিবস। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি সেই মহান মানুষটিকে, যিনি সত্য ও যুক্তির শক্তিতে উপনিবেশিক ইতিহাসের বিকৃত ভাষ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং বাঙালির অতীতকে মর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন জ্ঞানের এক নিরলস সাধক। ইতিহাস তাঁর কাছে ছিল কেবল অতীতের কাহিনি নয়—বরং জাতির আত্মচেতনাকে জাগ্রত করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের রচিত পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনার বিরুদ্ধে তিনি যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ “সিরাজদ্দৌলা” শুধু একটি ইতিহাসগ্রন্থ নয়—এটি বাঙালির আত্মমর্যাদার দলিল। একইভাবে অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর গবেষণা সাহসিকতার সাথে সত্যের পক্ষে কথা বলার এক বিরল দৃষ্টান্ত। বর্তমান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম—এই তথ্য আমাদের কুষ্টিয়ার মানুষদের জন্য এক অসীম গর্বের বিষয়। এই মাটির সন্তান হয়ে তিনি সমগ্র বাংলার ইতিহাসকে আলোকিত করেছেন। তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের শিকড় এই জনপদে প্রোথিত—যা আমাদের জন্য দায়িত্বের বার্তা বহন করে, যেন আমরা তাঁর আদর্শকে বহন করি আগামীর পথে। বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি ও বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যে গবেষণাধারা সূচনা করেছিলেন, তা আজও বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বচর্চার অন্যতম ভিত্তি। তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে বাংলার গৌরবময় অতীত উদ্ধারে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি কেবল ইতিহাসবিদ ছিলেন না—তিনি ছিলেন সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সাধক। সাহিত্য, নাটক, শিল্পকলা, শিক্ষা, নাগরিক উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় ভূমিকা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী সমাজের প্রতিটি স্তরে আলোর পথ দেখান। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে এই আহ্বান জানাই—অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের মতো সাহসী, সত্যনিষ্ঠ ও মানবিক হয়ে উঠতে। ইতিহাসকে জানতে, সত্যকে ভালোবাসতে এবং সংস্কৃতিকে ধারণ করতে। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে এই মহান মনীষীকে—যিনি আমাদের শিখিয়েছেন, জ্ঞানই জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। চিরস্মরণীয়—অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়কে জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি
আজ ১ মার্চ—বাংলা ইতিহাসচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও সমাজসংস্কারক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়–এর জন্মদিন। এই মহামানবের জন্মদিনে “গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক”-এর পক্ষ থেকে আমরা জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন কেবল একজন ইতিহাসবিদ নন—তিনি ছিলেন একটি যুগের বিবেক। যিনি সত্য ও যুক্তির আলোয় উপনিবেশিক ইতিহাসের বিকৃত ভাষ্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের নির্মিত মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ানের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি গবেষণা, প্রমাণ ও যুক্তির মাধ্যমে বাংলার ইতিহাসকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। তাঁর “সিরাজদ্দৌলা” গ্রন্থ আজও সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসচর্চার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন বর্তমান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে, মামার বাড়িতে। কুষ্টিয়ার মানুষ হিসেবে আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি—এই মহৎ মনীষীর শৈশব ও শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ এই মাটিতেই গড়ে উঠেছিল। এখান থেকেই তাঁর জ্ঞানপিপাসা, সাহিত্যপ্রেম ও ইতিহাসচেতনার বীজ রোপিত হয়। কুষ্টিয়ার সন্তান হিসেবে তাঁর অবদান আমাদের জন্য গর্ব, অনুপ্রেরণা ও দায়িত্বের বার্তা। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বুঝেছিলেন—নিজস্ব ইতিহাস না জানলে জাতি আত্মপরিচয় হারায়। তাই তিনি সাহিত্য ও প্রত্নতত্ত্ব—এই দুই উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বাংলার প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস নতুন করে নির্মাণ করেন। বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি ও বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলেন, যা আজও বাংলা গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র। তিনি শুধু ইতিহাসবিদই নন—তিনি ছিলেন সমাজসংস্কারক, শিক্ষাব্রতী, শিল্পপৃষ্ঠপোষক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রপথিক। রাজশাহী পৌরসভার কমিশনার হিসেবে তিনি নাগরিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা, শিল্প, নাটক, চিত্রকলা ও ক্রীড়াক্ষেত্রেও তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে আধুনিক বাংলা লেখকদের শীর্ষস্থানীয় বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন—এ এক বিরল সম্মান। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হলে সাহস, অধ্যবসায় ও গভীর অধ্যয়ন অপরিহার্য। আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা নতুন প্রজন্মকে আহ্বান জানাই—অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইতিহাস, সাহিত্য ও জ্ঞানের আলোয় নিজেদের গড়ে তুলতে। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক বিশ্বাস করে—এই মহান চিন্তাবিদের আদর্শ আমাদের বাঙালি পরিচয়ের শক্ত ভিত গড়ে তুলবে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়—অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়।
সৈয়দ শামসুল হক-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ২৭ ডিসেম্বর

সৈয়দ শামসুল হক-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। সৈয়দ শামসুল হক-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ২৭ ডিসেম্বর। আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যাঁর কলমের জাদুতে বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি শাখা সমৃদ্ধ হয়েছে। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প কিংবা কাব্যনাট্য—সবখানেই যাঁর অবাধ বিচরণ। তিনি আমাদের সাহিত্যের ‘সব্যসাচী লেখক’—সৈয়দ শামসুল হক। উপস্থিত সুধী, সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং মাতা হালিমা খাতুন। শৈশব থেকেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। তিনি কেবল একজন লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অসামান্য শব্দশিল্পী। সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যকর্মে এদেশের মাটি, মানুষ এবং ইতিহাসের এক নিবিড় প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিশেষ করে তাঁর কাব্যনাট্যগুলো বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘নূরলদীনের সারাজীবন’-এর সেই কালজয়ী পঙক্তি আজও আমাদের রক্তে শিহরণ জাগায়: “জাগো বাহে, কুন্ঠে সবায়ে!” এই একটি পঙক্তির মধ্য দিয়ে তিনি যেন ঘুমন্ত বাঙালি জাতিকে বারবার জেগে ওঠার ডাক দিয়ে গেছেন। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘খেলারাম খেলে যা’ এবং ‘নীল দংশন’-এর মতো কালজয়ী কাজ। তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন, যা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য প্রতিভারই স্বীকৃতি। পরবর্তীতে তিনি একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদকেও ভূষিত হন। প্রিয় সুধী, সৈয়দ শামসুল হক আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শব্দ দিয়ে ছবি আঁকতে হয়। তাঁর ছোটগল্পের বুনন আর উপন্যাসের গভীরতা আমাদের জীবনবোধকে প্রসারিত করে। তিনি আমৃত্যু বিশ্বাস করতেন কলমের শক্তিতে এবং মানুষের মুক্তির মিছিলে। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই সব্যসাচী লেখকের নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন তাঁর নির্ভীক জীবনবোধ ও সাহিত্যের নিরন্তর সাধনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের মেধা ও মননকে বিকশিত করতে পারি। সৈয়দ শামসুল হক তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের আকাশে ধ্রুবতারার মতো চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
মির্জা গালিব-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ২৭ ডিসেম্বর

মির্জা গালিব-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। মির্জা গালিব-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যাঁর নাম উচ্চারণ মাত্রই বিশ্বসাহিত্যের এক গভীর দর্শন ও কাব্যময় জগত আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সূর্যোদয়ের সাক্ষী, উর্দু ও ফারসি ভাষার অমর কবি— মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব। উপস্থিত সুধী, মির্জা গালিব ১৭৯৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভারতের আগ্রায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা ছিলেন মধ্য এশীয় তুর্কি বংশোদ্ভূত। গালিব এমন এক সময়ে কাব্যচর্চা করেছেন যখন মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ঘটছে এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন জেঁকে বসছে। এই যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তিনি জীবনকে যে গভীরতা দিয়ে দেখেছিলেন, তা আজ আড়াইশ বছর পরও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। গালিবের কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল মানুষের অস্তিত্বের সংকট, প্রেম, মৃত্যু এবং আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা। তিনি কেবল কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক। তাঁর ‘দিওয়ান-ই-গালিব’ উর্দু সাহিত্যের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম সংকলন হিসেবে বিবেচিত। তাঁর রচিত চিঠিপত্রগুলোও উর্দু গদ্য সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ, যা সেই সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক প্রামাণ্য দলিল। তাঁর কিছু অমর পঙক্তি আজও সারা বিশ্বের কাব্যপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘোরে: “হাজারো খোয়াইশে অ্যায়সি কে হর খোয়াইশ পে দম নিকলে / বহুত নিকলে মেরে আরমান লেকিন ফির ভি কম নিকলে” (অর্থাৎ: হাজারো এমন আকাঙ্ক্ষা যার প্রতিটির জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা যায়; অনেক আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে ঠিকই, তবু যেন তা পর্যাপ্ত নয়।) প্রিয় সুধী, মির্জা গালিব তাঁর জীবদ্দশায় চরম দারিদ্র্য ও ব্যক্তিগত শোকের মধ্য দিয়ে গেছেন। তাঁর সাতটি সন্তানই শৈশবে মারা যায়। কিন্তু এই দুঃখ তাঁকে ভেঙে ফেলেনি, বরং তাঁর কলমকে করেছে আরও ধারালো এবং সংবেদনশীল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্বাধীনচেতা এবং রসবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর তাঁকে ‘দাবির-উল-মুলক’ এবং ‘নাজিম-উদ-দৌলা’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে এই মহান দার্শনিকের নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সেই সুগভীর কাব্যদর্শন সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন গালিবের মতো প্রতিকূলতার মাঝেও জীবনকে দেখার নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারি এবং নিজেদের জীবনকে শিল্পের আলোয় রাঙাতে পারি। মির্জা গালিব তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সাহিত্যের আকাশে চিরকাল ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
মুনীর চৌধুরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ১৯ নভেম্বর

মুনীর চৌধুরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। মুনীর চৌধুরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১৯ নভেম্বর। আজ আমরা এমন এক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি একাধারে সাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক এবং বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ। তিনি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের আলোকবর্তিকা—শহীদ মুনীর চৌধুরী। উপস্থিত সুধী, মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ১৯ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তুখোড় অধ্যাপক। তিনি কেবল শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান করেননি, বরং বাংলা ভাষাকে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত করার ক্ষেত্রে এক অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। টাইপরাইটারের জন্য তাঁর আবিষ্কৃত ‘মুনীর অপটিমা’ কি-বোর্ড লেআউট আজও আমাদের যান্ত্রিক জীবনে বাংলা ব্যবহারের অন্যতম ভিত্তি হয়ে আছে। মুনীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম আমাদের জাতীয় সম্পদ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রাজবন্দী থাকাকালীন তিনি রচনা করেন তাঁর কালজয়ী নাটক ‘কবর’। জেলে বসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে রচিত এই নাটকটি আজও আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দলিল। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’, ‘চিঠি’, ‘দণ্ডকারণ্য’ এবং অনুবাদ নাটক ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ বাংলা নাট্যসাহিত্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সাহিত্য সমালোচনায় তাঁর ‘তুলামূলক সমালোচনা’ এবং ‘বাংলা গদ্যরীতি’ বই দুটি আজ অবধি গবেষকদের জন্য পথপ্রদর্শক। প্রিয় সুধী, মুনীর চৌধুরী ছিলেন আপাদমস্তক এক অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল মানুষ। একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোতে তিনি দেশের মাটির মায়া ত্যাগ করেননি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার সূর্য উদিত হওয়ার মাত্র দুদিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে আল-বদর বাহিনী তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং বরেণ্য এই বুদ্ধিজীবীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাঁর শূন্যতা আজও অপূরণীয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহান চিন্তকের নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন মুনীর চৌধুরীর সেই নির্ভীক সত্যবাদিতা ও জ্ঞাননিষ্ঠার আদর্শকে আমাদের শিক্ষা জীবনে পাথেয় করতে পারি। মুনীর চৌধুরী তাঁর কর্ম ও অসামান্য সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
সলিল চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

সলিল চৌধুরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। সলিল চৌধুরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১৯ নভেম্বর। আজ আমরা এমন এক কালজয়ী প্রতিভা ও সুরস্রষ্টার জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি ভারতীয় সংগীতের ব্যাকরণ ও বিন্যাসকে এক বৈপ্লবিক আধুনিকতায় ঋদ্ধ করেছেন। তিনি আমাদের প্রিয় সলিলদা—বিখ্যাত সংগীত পরিচালক, সুরকার, গীতিকার এবং গল্পকার সলিল চৌধুরী। উপস্থিত সুধী, সলিল চৌধুরী ১৯২৫ সালের ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার গাজিপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কেটেছে আসামের চা বাগানে, যেখানে বাবার সংগ্রহে থাকা পাশ্চাত্য উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনের সুর তাঁর সংগীত সত্তাকে সমৃদ্ধ করেছিল। জ্যাঠাতো ভাই নিখিল চৌধুরীর ঐক্যবাদন দল ‘মিলন পরিষদ’-এর মাধ্যমে সংগীতের জগতে তাঁর হাতেখড়ি। পরবর্তীতে কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে স্নাতক করার সময় থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে ওঠেন এবং ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আইপিটিএ (IPTA)-এ যোগ দেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি ‘গাঁয়ের বধু’র মতো গান সুর করে বাংলা সংগীতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। তাঁর সৃজনশীলতায় বাংলা গান পেয়েছিল ‘রানার’, ‘বিচারপতি’ এবং ‘অবাক পৃথিবী’র মতো কালজয়ী সব গণসংগীত। সলিল চৌধুরী কেবল বাংলাতেই নয়, হিন্দি, মালয়ালম, তামিল, তেলুগু ও মারাঠীসহ বিভিন্ন ভাষায় ৭৫টিরও বেশি হিন্দি ও ৪০টির বেশি বাংলা চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন। ১৯৫৩ সালে তাঁরই লেখা ছোটগল্প ‘রিকসাওয়ালা’ অবলম্বনে বিমল রায় নির্মাণ করেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘দো ভিঘা জামিন’, যা কান চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে তাঁর কর্মজীবনকে এক বিশ্বজনীন মাত্রা দান করে। প্রিয় সুধী, সলিল চৌধুরীর সংগীতে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং পাশ্চাত্য উচ্চাঙ্গ সংগীতের এক অসামান্য মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়। মোৎজার্টের সিম্ফোনি থেকে শুরু করে শপ্যাঁর কাজ—সবকিছুকেই তিনি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ভারতীয় গানের সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি কেবল সুরকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ যন্ত্রীও; বাঁশি, পিয়ানো ও এসরাজ বাজানোয় তিনি ছিলেন পারদর্শী। ১৯৫৮ সালে ‘মধুমতি’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা সংগীত পরিচালকের পুরস্কার পান এবং ১৯৮৮ সালে লাভ করেন ‘সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার’। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে সলিল চৌধুরীর নাম নিই, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন তাঁর নির্ভীক জীবনবোধ ও শিল্পের প্রতি নিরন্তর সাধনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও উন্নত করতে পারি। সলিল চৌধুরী তাঁর অবিনশ্বর সুর ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিটি সংগীতানুরাগী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
মওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ১১ নভেম্বর

মওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। মওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১১ নভেম্বর। আজ আমরা এমন এক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি একাধারে প্রখর ধীসম্পন্ন রাজনীতিবিদ, অনন্য সুবক্তা, দূরদর্শী শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিক। তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব—মওলানা আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত সুধী, মওলানা আবুল কালাম আজাদ ১৮৮৮ সালের ১১ নভেম্বর সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল মুহিউদ্দিন আহমেদ, তবে তিনি ‘আবুল কালাম’ নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান এবং তাঁর কলম থেকে নির্গত তেজস্বী লেখার কারণে তিনি ‘আজাদ’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন। খুব অল্প বয়সেই তিনি বিভিন্ন ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং তাঁর সম্পাদিত ‘আল হিলাল’ পত্রিকার মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী জনমত গঠনে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখেন। মওলানা আজাদ ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রবল প্রবক্তা ছিলেন এবং দেশভাগের ঘোর বিরোধী ছিলেন। ১৯২৩ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি নির্বাচিত হন। মহাত্মা গান্ধী তাঁকে অভিহিত করেছিলেন ‘প্লাটোর সমান মেধার অধিকারী’ (A man of the calibre of Plato) হিসেবে। প্রিয় সুধী, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মওলানা আজাদের অবদান অনস্বীকার্য। আজকের আধুনিক ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি তাঁরই হাতে গড়া। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। তাঁর নেতৃত্বেই ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ (IIT) এবং ‘ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন’ (UGC) এর মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর জন্মদিনটিকে ভারতে ‘জাতীয় শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯২ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহান জ্ঞানতাপসের নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর ত্যাগ ও শিক্ষার দর্শন সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন মওলানা আজাদের মতো জ্ঞানের সন্ধানে ব্রতী হয়ে একটি আলোকিত ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। মওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর কর্ম ও প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
কবি জয় গোস্বামী-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা । ১০ নভেম্বর

কবি জয় গোস্বামী-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি জয় গোস্বামী-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১০ নভেম্বর। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মদিন উদযাপন করছি, যিনি গত কয়েক দশকে বাংলা কবিতার শরীরে এক অলৌকিক মায়া আর অসাধারণ গদ্যছন্দের কারুকাজ বুনে দিয়েছেন। যিনি ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’ কিংবা ‘উন্মাদিনী’র কবি—আমাদের প্রিয় জয় গোস্বামী। উপস্থিত সুধী, জয় গোস্বামী ১৯৫৪ সালের ১০ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় কেটেছে নদীয়া জেলার রানাঘাটে। তাঁর বাবা মধুসূদন গোস্বামী ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী। খুব অল্প বয়স থেকেই কবি এক বিচিত্র জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর কবিতাকে করেছে ঋদ্ধ ও সংবেদনশীল। সত্তরের দশকে যখন তিনি লিখতে শুরু করেন, তখন থেকেই তাঁর কলম প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। তাঁর কবিতার চিত্রকল্প ও শব্দবিন্যাস পাঠককে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায়। ১৯৯৭ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘যত্রতত্র’ এবং পরবর্তীতে ২০০০ সালে ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’ কাব্যের জন্য তিনি অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার’। এছাড়া তিনি দুইবার ‘আনন্দ পুরস্কার’ সহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাসসমূহ বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ: ‘ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ’ ‘হাঁসখালি থেকে আসা একদল পরীরা’ ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল’ ‘সেই সব শিয়ালরা’ (উপন্যাস) প্রিয় সুধী, জয় গোস্বামী এমন একজন কবি, যিনি আমাদের চারপাশের অতি সাধারণ মুহূর্তগুলোকে অলৌকিক করে তোলেন। তাঁর কবিতায় প্রেম যেমন তীব্র, তেমনি সমাজের অসংগতি আর মানুষের একাকিত্বের হাহাকারও সমানভাবে মূর্ত। তিনি কেবল নিভৃতচারী কবি নন, বরং তাঁর কলম সবসময় মানবতার পক্ষে সোচ্চার। বাংলা কবিতার পাঠকদের কাছে তিনি এক ধ্রুবতারার মতো, যাঁর আলো নতুন প্রজন্মের কবিদের পথ দেখায়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে এই মহৎ কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন কবির সেই সংবেদনশীল দৃষ্টি দিয়ে জীবন ও জগৎকে দেখতে শিখি এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও উন্নত করি। কবি জয় গোস্বামী তাঁর অমর কাব্যকীর্তির মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের ভুবনে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ২৫ অক্টোবর

পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ২৫ অক্টোবর। আজ আমরা বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, আধুনিক চিত্রকলার জাদুকর পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি। তিনি এমন একজন শিল্পী ছিলেন যিনি ক্যানভাসে সুন্দরের প্রচলিত সংজ্ঞাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিয়েছিলেন। উপস্থিত সুধী, পাবলো পিকাসো ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর স্পেনের মালাগা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম ছিল অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘ, তবে বিশ্ব তাঁকে এক নামেই চেনে—পিকাসো। তাঁর বাবা হোসে রুইজ ব্লাস্কো নিজেও একজন চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক ছিলেন। শৈশব থেকেই পিকাসোর প্রতিভা ছিল বিস্ময়কর। বলা হয়ে থাকে, কথা বলা শেখার আগেই তিনি ছবি আঁকতে শিখেছিলেন। পিকাসোর শিল্পজীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তিনি কেবল চিত্রশিল্পী ছিলেন না; তিনি একাধারে ভাস্কর, ছাপচিত্র শিল্পী, মৃৎশিল্পী এবং মঞ্চ নকশাকার। শিল্পকলার ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর উদ্ভাবিত ‘কিউবিজম’ বা ঘনকবাদ আন্দোলনের জন্য। তাঁর আঁকা ছবিগুলোকে বিভিন্ন কালখণ্ডে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে ‘ব্লু পিরিয়ড’ (Blue Period) এবং ‘রোজ পিরিয়ড’ (Rose Period) অত্যন্ত বিখ্যাত। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির মধ্যে ১৯৩৭ সালে আঁকা ‘গুয়ের্নিকা’ (Guernica) চিত্রকর্মটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শিল্প-প্রতিবাদ হিসেবে স্বীকৃত। প্রিয় সুধী, পিকাসো তাঁর দীর্ঘ ৯১ বছরের জীবনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, “প্রতিটি শিশুই একজন শিল্পী, সমস্যা হলো বড় হওয়ার পরও কীভাবে শিল্পী থাকা যায় তা নিয়ে।” তাঁর কাজ আমাদের শেখায় প্রথাগত নিয়ম ভেঙে কীভাবে সৃজনশীলতার নতুন দুয়ার উন্মোচন করা যায়। তিনি ছিলেন আধুনিকতার প্রতীক, যিনি শিল্পের মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনীতি ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরেছেন। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে এই মহান শিল্পীকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন পিকাসোর অদম্য সৃজনশীলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে বৈচিত্র্যময় ও অর্থবহ করে তুলতে পারি। পাবলো পিকাসো তাঁর অমর তুলির টানে বিশ্বের শিল্পমনা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা