গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১৪ই আগস্ট। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি দেশবিভাগোত্তর বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন, আধুনিকতা এবং নিঃসঙ্গতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের আধুনিক কবিতার প্রবাদপ্রতিম পুরুষ—কবি শহীদ কাদরী। উপস্থিত সুধী, শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তিনি সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের অন্যতম প্রভাবশালী কবি। যদিও তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা মাত্র চারটি, কিন্তু বাংলা কবিতায় তাঁর গভীরতা ও প্রভাব অপরিসীম। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো— ‘উত্তরাধিকার’, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ এবং ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’। শহীদ কাদরী ছিলেন মূলত নগর-মনস্কতার কবি। ঢাকা শহরের অলিগলি, নাগরিক যন্ত্রণা আর আধুনিক মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ তাঁর কলমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনেও তাঁর হৃদয়ে বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষা সর্বদা প্রদীপ্ত ছিল। প্রিয় সুধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল অটুট। তাঁর ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ কবিতাটি আমাদের জাতীয় চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে তিনি যুদ্ধ ও সংঘাতের বিপরীতে প্রেমের জয়গান গেয়েছেন: “ভয় নেই / আমি এমন ব্যবস্থা করব / যাতে সেনাবাহিনীর বদলে / চারা গাছগুলো অভিবাদন করবে তোমাকে” তাঁর কবিতার সেই কালজয়ী পঙক্তিগুলো আজও প্রতিটি তরুণের মনে আশার আলো জ্বালায়। তিনি ছিলেন একজন রুচিশীল ও প্রগতিশীল মানুষ, যাঁর জীবনবোধ আমাদের শেখায় কীভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও শিল্পের শুদ্ধতা বজায় রাখতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহান শিল্পীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের কৃষ্টি ও মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় লালন করতে পারি। কবি শহীদ কাদরী তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

নেলসন ম্যান্ডেলা

নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি অদম্য সাহস, ক্ষমা এবং মানবিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। যিনি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য আর বর্ণবাদের অন্ধকার থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মুক্ত করে বিশ্বকে দেখিয়েছেন সহনশীলতার নতুন পথ। তিনি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় নেতা—নেলসন ম্যান্ডেলা। উপস্থিত সুধী, নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার এমভেজো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব নাম ছিল রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের এক অকুতোভয় সব্যসাচী প্রতিভা—যিনি একাধারে আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা এবং শান্তিকামী বিশ্বনাগরিক। আজ তাঁর জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় স্মরণ করা প্রয়োজন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে তাঁকে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবরণ করতে হয়েছিল। কিন্তু জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ তাঁর আদর্শকে আরও উজ্জ্বল করেছিল। ১৯৯০ সালে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি যখন ক্ষমতায় আসীন হলেন, তখন তিনি প্রতিহিংসার পথ বেছে নেননি। বরং ‘সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন’ (Truth and Reconciliation Commission) গঠনের মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের এক সুতোয় গেঁথে গড়ে তুলেছিলেন ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি। ১৯৯৩ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। প্রিয় সুধী, নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে বাংলাদেশের এক বিশেষ আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা হলো বিশ্বকে পরিবর্তন করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। ম্যান্ডেলার অনেক কালজয়ী উক্তি আজও সারা বিশ্বে অনুপ্রেরণা জোগায়: “পৃথিবীর কোনো মানুষই অন্য মানুষকে তার গায়ের রঙের কারণে ঘৃণা করে জন্মায় না। মানুষকে ঘৃণা করা শিখতে হয়, আর যদি তারা ঘৃণা করা শিখতে পারে, তবে তাদের ভালোবাসাও শেখানো সম্ভব।” তিনি কেবল নিজের দেশের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন পৃথিবীর প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, বিজয় মানে কেবল জয়লাভ নয়, বরং প্রতিটি পতনের পর আবার উঠে দাঁড়ানো। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহান নেতার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর আদর্শ সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহাপ্রাণের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারি। নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা, ২১ জুন

নির্মলেন্দু গুণ

কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মদিন উদযাপন করছি, যাঁর কবিতার শব্দে বারুদ আছে, আছে প্রেমের গভীর আকুতি এবং রাজনীতির অমোঘ সত্য। তিনি আমাদের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অবিনাশী কণ্ঠস্বর, গণমানুষের কবি—নির্মলেন্দু গুণ। উপস্থিত সুধী, নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালের ২১ জুন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সুখেন্দুবিকাশ গুণ এবং মায়ের নাম বিনাপাণি গুণ। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি একাধারে কবি, সাংবাদিক এবং একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হওয়ার পরেই তিনি বাংলা সাহিত্যে তাঁর শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। আজ একটি বিশেষ বিষয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন। নির্মলেন্দু গুণ সেই বিরল সাহসীদের একজন, যিনি ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার পর যখন সারা দেশে এক স্তব্ধতা নেমে এসেছিল, তখন বুক ফুলিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কবিতা লিখেছিলেন। তাঁর সেই কালজয়ী কবিতা ‘হুলিয়া’ বা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’—বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তাঁর পঙক্তিগুলো আমাদের জাতীয় চেতনার অংশ হয়ে আছে। প্রিয় সুধী, কবির সৃষ্টিতে প্রেম ও রাজনীতি সমান্তরালভাবে চলে। তিনি কেবল রাজপথের কবি নন, তিনি হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতিরও রূপকার। তাঁর লেখনীতে যেমন উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের বঞ্চনার কথা, তেমনি ফুটে উঠেছে রূপসী বাংলার নিসর্গ। তাঁর জনপ্রিয় কিছু পঙক্তি আজও আমাদের মুখে মুখে ফেরে: “স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো” “আমি যখন মেজাজ হারিয়ে ফেলি, তখন তুমি আকাশ হয়ে যাও” “হাত বাড়িয়ে দাও, আমি তোমার আঙুল ছুঁতে চাই” তিনি তাঁর অসামান্য সাহিত্যকর্মের জন্য ১৯৮২ সালে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ এবং ২০০১ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। ২০১৬ সালে তিনি লাভ করেন ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। কবির জীবন আমাদের শিখিয়েছে আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে কীভাবে শিল্পের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহৎ কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই অকুতোভয় কবির জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাষা, দেশ এবং সংস্কৃতির প্রতি আজীবন অনুগত থাকতে পারি। কবি নির্মলেন্দু গুণ তাঁর কালজয়ী কবিতার মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

বেগম সুফিয়া কামাল-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা, ২০ জুন

বেগম সুফিয়া কামাল-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। বেগম সুফিয়া কামাল-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক মহীয়সী নারীর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি বাঙালির সকল প্রগতিশীল আন্দোলন এবং নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি আমাদের প্রাণের মমতায় আগলে রাখা ‘জননী সাহসিকা’—কবি বেগম সুফিয়া কামাল। উপস্থিত সুধী, সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ আবদুল বারী এবং মায়ের নাম সৈয়দা সাবেরা খাতুন। এমন এক সময়ে তিনি জন্মেছিলেন যখন মুসলিম নারীদের শিক্ষার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত প্রতিকূল। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হন এবং বেগম রোকেয়ার আদর্শকে ধারণ করে সমাজ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন এক অনন্য সব্যসাচী ব্যক্তিত্ব। তিনি কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬১-র রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী প্রতিরোধ আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। যুদ্ধের দিনগুলোতে অবরুদ্ধ ঢাকায় থেকেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করেছেন এবং পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে তোলা আন্দোলনেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৬৯ সালে গঠিত ‘মহিলা পরিষদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী হিসেবে তিনি আমৃত্যু নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করে গেছেন। প্রিয় সুধী, সুফিয়া কামালের কবিতা ও গদ্য আমাদের সাহিত্যভাণ্ডারকে ঋদ্ধ করেছে। তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠেছে প্রকৃতি, দেশপ্রেম এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের কথা। তাঁর কালজয়ী গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘সাঁঝের মায়া’, ‘মায়া কাজল’, ‘মন ও জীবন’ এবং ‘একাত্তরের ডায়েরি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কবির সেই অমোঘ পঙক্তি আজও আমাদের প্রেরণা দেয়: “আমাদের এই দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?” সুফিয়া কামাল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে মাথা নত না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। ১৯৮১ সালে যখন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী পালনে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তিনি সেই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিলেন। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহীয়সী নারীর নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর ত্যাগ ও আদর্শ সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই জননী সাহসিকার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের দেশপ্রেম ও মানবিকতাকে আজীবন অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি। বেগম সুফিয়া কামাল তাঁর কর্ম এবং আদর্শের মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ৭ মে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ পঁচিশে বৈশাখ। আজ আমরা এমন এক জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছেন হিমালয়সম উচ্চতায়। তিনি আমাদের চেতনার দীপশিখা, আমাদের প্রাণের কবি—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। উপস্থিত সুধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (বাংলা পঞ্জিকা মতে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদাসুন্দরী দেবী। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন এক অতলস্পর্শী সব্যসাচী প্রতিভা। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সংগীতস্রষ্টা, চিত্রশিল্পী এবং শিক্ষাবিদ। আজ একটি বিশেষ বিষয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম এশীয় হিসেবে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর এই অর্জন কেবল একজন কবির বিজয় ছিল না, এটি ছিল বাংলা ভাষার বিশ্বজয়ের সূচনালগ্ন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে বৈশ্বিক ভাবনার সাথে দেশীয় সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটাতে হয়। ১৯২১ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্বভারতী’ বিশ্ববিদ্যালয় আজও বিশ্ব সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনস্থল। প্রিয় সুধী, রবীন্দ্রনাথের সাথে আমাদের এই বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও নিবিড়। পাবনার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর আর নওগাঁর পতিসরে কাটানো তাঁর জীবনের সোনালি দিনগুলোতেই তিনি রচনা করেছেন তাঁর শ্রেষ্ঠ অনেক সৃষ্টি। আমাদের জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা” এই মাটির প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধের অমর ফসল। রবীন্দ্রনাথের গানের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। তাঁর সেই কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ আজও বাঙালির আনন্দ-বেদনায় পরম আশ্রয়: “তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম” “ছিলে একা বসি আপন মনে” “বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু বাংলার ফল— পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান” তিনি কেবল সৌন্দর্যের কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক কণ্ঠস্বর। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধি বর্জন করে যে নৈতিক সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা ইতিহাসে বিরল। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার বিশ্বকবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহাপ্রাণের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্বকে আজীবন লালন করতে পারি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

আজ প্রখ্যাত স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ ও অর্থনীতিবিদ ডেভিড হিউমের জন্মদিন । ৭ মে

ডেভিড হিউম

ডেভিড হিউম (David Hume) ছিলেন আঠারো শতকের একজন প্রভাবশালী স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ, গ্রন্থাগারিক এবং প্রাবন্ধিক। তিনি ১৭১১ সালের ২৬ এপ্রিল (পুরানো স্টাইল) বা ৭ মে (নতুন স্টাইল) স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কাটে বারউইকশায়ারের নিনাভলেসে তাঁদের পারিবারিক ভিটায়। ১৭৩৪ সালে তিনি নিজের উপাধি ‘হোম’ (Home) থেকে পরিবর্তন করে ‘হিউম’ (Hume) করেন, যাতে ইংরেজদের পক্ষে এর সঠিক উচ্চারণ করা সহজ হয়। ডেভিড হিউম: অভিজ্ঞতাবাদ ও সংশয়বাদের এক অনন্য আলোকবর্তিকা দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতাবাদ ডেভিড হিউমকে জন লক, ফ্রান্সিস বেকন এবং টমাস হবসের সাথে ব্রিটিশ অভিজ্ঞতাবাদের অন্যতম স্তম্ভ মনে করা হয়। তাঁর প্রথম ও প্রধান কাজ ‘A Treatise of Human Nature’ (১৭৩৯-৪০), যেখানে তিনি মানব প্রকৃতির একটি মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাকৃতিক ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করেন। হিউমের মতে, সমস্ত মানব জ্ঞানের ভিত্তি হলো অভিজ্ঞতা। তিনি যুক্তি দেন যে, ধারণাগুলো অবশ্যই ইন্দ্রিয়জাত অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত হতে হবে। সংশয়বাদ ও কার্যকারণ তত্ত্ব হিউমের দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কার্যকারণ (Causality) সংক্রান্ত সংশয়বাদ। তিনি দাবি করেন যে, আমরা যখন কোনো একটি ঘটনাকে অন্য একটি ঘটনার কারণ হিসেবে দেখি, তা আসলে ঘটনার ‘ধ্রুবক সংযোগ’ (Constant conjunction) থেকে আসা এক ধরণের মানসিক অভ্যাস। তিনি যুক্তি দেন যে, কোনো ঘটনা যে অন্য একটি ঘটনার কারণ হবে, তা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়; বরং এটি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমাদের এক ধরণের বিশ্বাস মাত্র। নৈতিকতা ও ধর্মতত্ত্ব নৈতিকতার ক্ষেত্রে হিউম যুক্তি দেন যে, আমাদের নৈতিক মূল্যায়ন বুদ্ধি বা যুক্তির পরিবর্তে আবেগ ও অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। তাঁর বিখ্যাত উক্তি হলো— “বুদ্ধি হলো আবেগ বা অনুভূতির দাস” (Reason is and ought only to be the slave of the passions)। এছাড়া ঈশ্বরের অস্তিত্বের জন্য প্রদত্ত ‘টেলিলজিক্যাল’ বা উদ্দেশ্যমূলক যুক্তির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ডারউইনবাদের পূর্ববর্তী সময়ের সবচেয়ে জোরালো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা হিসেবে স্বীকৃত। প্রভাব ও উত্তরাধিকার হিউমের দর্শন পরবর্তীকালে ইমানুয়েল কান্টকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। কান্ট স্বীকার করেছিলেন যে, হিউমের কাজই তাঁকে তাঁর “ডগমেটিক স্ল্যাম্বার” বা অন্ধ বিশ্বাস থেকে জাগিয়ে তুলেছিল। হিউম উপযোগবাদ, জ্ঞানতত্ত্ব, বিশ্লেষণধর্মী দর্শন এবং আধুনিক সংজ্ঞানাত্মক বিজ্ঞানের (Cognitive Science) পথপ্রদর্শক হিসেবে আজও স্বীকৃত। ব্যক্তিগত জীবন ও শেষকাল হিউম সারাজীবন অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর জীবনের অনেকটা সময় তিনি লেখালেখি এবং গবেষণার কাজে ব্যয় করেন। তাঁর ভাতিজা ডেভিড হিউম অফ নিনাভলেস পরবর্তীকালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট স্কটিশ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ১৭৭৬ সালের ২৫ আগস্ট এই মহান দার্শনিকের মৃত্যু হয়। তাঁকে এডিনবরার ওল্ড কেল্টন সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই জন্মদিনে ডেভিড হিউমকে স্মরণ করি এবং আধুনিক দর্শনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

সত্যজিৎ রায়-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা । ২ মে

সত্যজিৎ রায়

সত্যজিৎ রায়-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। সত্যজিৎ রায়-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতিকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি কেবল একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, চিত্রকর, সঙ্গীত পরিচালক, ক্যালিগ্রাফার এবং অমর সব চরিত্রের স্রষ্টা। তিনি আমাদের গর্ব—সত্যজিৎ রায়। উপস্থিত সুধী, সত্যজিৎ রায় ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতার বিখ্যাত ‘রায় পরিবারে’ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং পিতা সুকুমার রায়—উভয়েই ছিলেন বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি। ১৯৫৫ সালে ‘পথের পাঁচালী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্রে পা রাখেন এবং প্রথম ছবিতেই আন্তর্জাতিক মহলে হইচই ফেলে দেন। তাঁর হাত ধরেই বিশ্ব চিনেছে অপু, দুর্গা আর নিশ্চিন্তপুরের সেই রেললাইন দেখার গল্প। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন এক কালজয়ী প্রতিভা। তাঁর পরিচালিত ৩২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং ডকুফিল্মগুলো আজও চলচ্চিত্রের পাঠ্যবই হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধু চলচ্চিত্র নয়, বাংলা সাহিত্যে তাঁর অমর সৃষ্টি ‘ফেলুদা’ ও ‘প্রফেসর শঙ্কু’ আমাদের শৈশবকে করেছে রোমাঞ্চকর। এছাড়া তাঁর অনন্য শিল্পবোধ ফুটে উঠেছে বইয়ের প্রচ্ছদ অলঙ্করণ এবং নিজের তৈরি করা ফন্ট ‘রে রোমান’ (Ray Roman)-এর মাধ্যমে। ১৯৯২ সালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘অস্কার’ (একাডেমি অ্যাওয়ার্ড) লাভ করেন আজীবন অবদানের জন্য। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী কিছু সৃষ্টি ও সিরিজের কথা না বললেই নয়: অপু ট্রিলজি: পথের পাঁচালী, অপরাজিত ও অপুর সংসার। ফেলুদা সিরিজ: সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র ও উপন্যাস। হীরক রাজার দেশে: যেখানে তিনি রূপকের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। জলসাঘর ও চারুলতা: যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাণ। প্রিয় সুধী, সত্যজিৎ রায় তাঁর শিল্পচর্চায় সবসময় মাটির কাছাকাছি থেকেছেন, কিন্তু তাঁর চিন্তা ছিল বিশ্বজনীন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে অত্যন্ত পরিমিতিবোধ ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে শিল্পকে সার্থক করে তোলা যায়। তাঁর জীবন ছিল কাজের প্রতি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার এক জীবন্ত পাঠশালা। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহান শিল্পীর নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন সত্যজিৎ রায়ের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের প্রতিভা ও দেশজ সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে সঠিকভাবে উপস্থাপিত করতে পারি। সত্যজিৎ রায় তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে এবং বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরকাল ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

হুমায়ুন আজাদ-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা । ২৮ এপ্রিল

হুমায়ুন আজাদ

হুমায়ুন আজাদ-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। হুমায়ুন আজাদ-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক নির্ভীক ও প্রথাবিরোধী মানুষের জন্মদিন উদযাপন করছি, যিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও চিন্তার জগতে এক প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক এবং এদেশের ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি আমাদের প্রিয় অধ্যাপক—হুমায়ুন আজাদ। উপস্থিত সুধী, হুমায়ুন আজাদ ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল তৎকালীন বিক্রমপুরের (বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা) রাড়িখাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মেধা ও পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনে এবং পরবর্তীতে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে। তিনি কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন যুক্তিবাদী ও আধুনিক মননের এক দীপশিখা। তাঁর ‘বাক্যতত্ত্ব’ বা ‘তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান’ গ্রন্থগুলো বাংলা ভাষাতত্ত্বের জগতে মাইলফলক হয়ে আছে। তবে হুমায়ুন আজাদ সবচেয়ে বেশি আলোচিত তাঁর প্রখর ও সাহসী গদ্যের জন্য। তিনি বিশ্বাস করতেন বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে কোনো আপস নেই। প্রথাধীন সমাজের সংস্কার ভাঙতে তিনি কলম ধরেছিলেন। তাঁর ‘নারী’, ‘প্রবচনগুচ্ছ’, ‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’ এবং ‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’র মতো গ্রন্থগুলো আমাদের নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। তাঁর প্রতিটি শব্দ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক একটি ধারালো অস্ত্র। স্বাধীনতার চেতনা আর অসাম্প্রদায়িকতা ছিল তাঁর প্রতিটি নিশ্বাসে। প্রিয় সুধী, হুমায়ুন আজাদের জীবন ছিল এক সংগ্রামের নাম। সত্য কথা বলার অপরাধে তাঁকে বারবার আক্রান্ত হতে হয়েছে, তবুও তিনি তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর ‘লাল নীল দীপাবলি’ কিংবা ‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না’র মতো কিশোর সাহিত্যগুলো আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি এবং সুন্দরের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে নিজের সত্তাকে জাগ্রত রেখে সব ধরণের অন্ধত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা যায়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই কীর্তিমান লেখকের নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই অকুতোভয় বুদ্ধিজীবীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্ভীক চিন্তা ও সত্যের পথে অবিচল থাকতে পারি। হুমায়ুন আজাদ তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টি ও সাহসী চিন্তার মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

উইলিয়াম শেক্সপিয়র দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা । ২৩ এপ্রিল

উইলিয়াম শেক্সপিয়র

উইলিয়াম শেক্সপিয়র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। উইলিয়াম শেক্সপিয়র দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যাঁকে বলা হয় বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম নাট্যকার এবং ইংরেজি ভাষার সর্বকালের সেরা কবি। তিনি মানব হৃদয়ের গভীরতম আবেগ, দ্বন্দ ও ভালোবাসাকে শব্দের তুলিতে জীবন্ত করেছেন। তিনি আমাদের চিরকালিন অনুপ্রেরণা—উইলিয়াম শেক্সপিয়র। উপস্থিত সুধী, উইলিয়াম শেক্সপিয়রের জীবন অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক। ধারণা করা হয়, ১৫৬৪ সালের ২৩ এপ্রিল ইংল্যান্ডের স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভন (Stratford-upon-Avon) শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আশ্চর্যজনকভাবে ১৬১৬ সালের ঠিক একই তারিখে অর্থাৎ ২৩ এপ্রিলেই তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। এ কারণেই বিশ্বজুড়ে আজকের এই দিনটিকে ‘শেক্সপিয়র দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেতা, নাট্যকার এবং নাট্যশালার অংশীদার। শেক্সপিয়রের সাহিত্যকর্ম বাংলা তথা বিশ্বসাহিত্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তিনি ৩৭টি নাটক এবং ১৫৪টি সনেট রচনা করেছেন। তাঁর সৃষ্টিতে ফুটে উঠেছে মানুষের জীবনের জটিল দর্শন—কখনও তা বিষাদময় ট্র্যাজেডি, কখনও বা নির্মল কমেডি। আধুনিক নাট্যকলার এমন কোনো শাখা নেই যেখানে শেক্সপিয়রের ছোঁয়া লাগেনি। তাঁর সেই কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ আজও মঞ্চে এবং মানুষের মুখে মুখে ফেরে: “হ্যামলেট” (Hamlet) – এর সেই বিখ্যাত উক্তি: “To be, or not to be, that is the question.” “রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট” (Romeo and Juliet) – চিরন্তন প্রেমের এক মহাকাব্য। “ম্যাকবেথ” (Macbeth) এবং “ওথেলো” (Othello) – যেখানে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ঈর্ষার চরম পরিণতি ফুটে উঠেছে। মজার ব্যাপার হলো, আমরা প্রতিদিন অজান্তেই ইংরেজি ভাষার অসংখ্য শব্দ ও বাগধারা ব্যবহার করি যা শেক্সপিয়রের সৃষ্টি। আধুনিক ইংরেজি ভাষার ভাণ্ডারকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা অতুলনীয়। প্রিয় সুধী, উইলিয়াম শেক্সপিয়রের প্রভাব কেবল ইংল্যান্ডে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আমাদের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—সবাই তাঁর সৃষ্টির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে ‘পুরো বিশ্বটাই একটা মঞ্চ’ (All the world’s a stage), যেখানে আমরা সবাই কেবল কুশীলব। তাঁর প্রতিটি নাটক যেন মানুষের চরিত্রের একেকটি দর্পণ। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহামতি নাট্যকারের নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহান শিল্পীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের জীবন ও মনস্তত্ত্বকে আরও গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করি। উইলিয়াম শেক্সপিয়র তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টি ও পঙক্তিগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

কবীর সুমন-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা । ১৬ মার্চ

কবীর সুমন

কবীর সুমন-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবীর সুমন-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক বিস্ময়কর প্রতিভার জন্মদিন উদযাপন করছি, যিনি আধুনিক বাংলা গানের ব্যাকরণ বদলে দিয়েছেন। যিনি নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, প্রেম আর দ্রোহকে গিটারের তারে আর পিয়ানোর রিডে এক নতুন ভাষা দিয়েছেন। তিনি আমাদের প্রিয় গানওয়ালা—কবীর সুমন। উপস্থিত সুধী, কবীর সুমন ১৯৪৯ সালের ১৬ মার্চ ওড়িশার কটকে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সুধীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম বিমলা চট্টোপাধ্যায়। প্রথাগত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি বিশ্বভ্রমণ করেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামী সংবাদ সংস্থায়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বাংলা আধুনিক গান একটি স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ১৯৯২ সালে ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি বাংলা গানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। তিনি একাধারে গায়ক, গীতিকার, সুরকার এবং অসামান্য এক যন্ত্রী। কবীর সুমনের গান মানেই মধ্যবিত্তের না বলা কথা, ফুটপাতের ধুলোবালি কিংবা আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল চালচিত্র। তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে ব্যক্তিগত প্রেমের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে সমষ্টির লড়াই। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ আজও আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী: “তোমাকে চাই, তোমাকে চাই” “হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে” “পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগগা” প্রিয় সুধী, কবীর সুমনের সাথে বাংলাদেশের নাড়ির সম্পর্ক অনস্বীকার্য। এদেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রাম, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সাধারণ মানুষের আবেগ—সব কিছুতেই তাঁর গান ও সংহতি সবসময় ছিল অটল। তিনি কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি একজন চিন্তক এবং মানবাধিকার কর্মীও বটে। তাঁর জীবন আমাদের শিখিয়েছে আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে কীভাবে বারবার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা যায়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই শিল্পীর নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই অকুতোভয় শিল্পীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের শেকড় এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আজীবন ধারণ করতে পারি। কবীর সুমন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে এবং বাংলা গানের ভুবনে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা