গুরুকুলে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৪

ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া গুরুকুলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪২৪। দিনব্যাপী এই উৎসবমুখর আয়োজনে অংশ নেন গুরুকুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কুষ্টিয়া শহরের অসংখ্য সাধারণ মানুষ। দিনের সূচনা ভোরবেলা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর বর্ষবরণ সঙ্গীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে গুরুকুল প্রাঙ্গণ। মঙ্গল শোভাযাত্রা সকাল ৮টায় প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বৈশাখী পোশাকে, রঙিন ব্যানার, মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী আলপনায় সজ্জিত হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। উৎসব শেষে শোভাযাত্রা গুরুকুল প্রশাসনিক ভবনে এসে মিলিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শোভাযাত্রা শেষে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে শুরু হয় নানাবিধ আয়োজন: গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ফ্যাশন শো নাটিকা বৈশাখী সঙ্গীত আসর প্রতিটি পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অতিথি ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর ও চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদ-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত সবার সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন: গুরুকুলের লিগ্যাল এন্ড এডমিন ইনচার্জ শামীম রানা সেলস অপারেশন ও পাবলিসিটি এন্ড চ্যানেল ডিপার্টমেন্ট প্রধান তানভির মেহেদী এবং উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উমাইয়া মল্লিক অংশগ্রহণ নববর্ষ বরণের এই উৎসবমুখর আয়োজনে গুরুকুলের মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়া গুরুকুলের বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৪ শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছিল ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের এক মিলনমেলা। দিনব্যাপী এ আয়োজনে নববর্ষের আবহে সবাই মেতে ওঠে নতুন দিনের প্রত্যাশা ও আশায়।
গুরুকুলে জাতীয় গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভা

গুরুকুলে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বেলা ২ টায় কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস হল রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে, গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন ও মেডিকেল সেকশনের শিক্ষার্থী, শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন গুরুকুল প্রমুখ, তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে এখনও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, আমাদের স্বাধীনতার দুশমনরা শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে । আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের বাঙালী জাতির ইতিহাস নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণ, অসংখ্য মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে বাংলার মানুষ, ছাত্র শিক্ষক জনতা প্রাণ দিয়ে হলেও সে স্বাধীনতা রক্ষা করবে আলোচনা সভায় গণিত শিক্ষক সাদিয়া ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গুরুকুল লিগ্যাল এন্ড এডমিন শামীম রানা, টেক্সটাইল ট্রেড প্রধান সালাউদ্দিন আহমেদ, ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড প্রধান রাশনা শারমিন, সিভিল ট্রেড প্রধান সৈকত হোসেন, কম্পিউটার ট্রেড প্রধান বিথি খাতুন, মেকানিক্যাল ট্রেড প্রধান তামান্না আফরোজ, জিডিপিএম ট্রেড প্রধান হাসিবুল ইসলাম, ফার্মেসী ট্রেড প্রধান আব্দুল আলীম ও আর এস ট্রেড প্রধান এম এ মাসুম ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক তানিয়া আফরোজ ও শিক্ষার্থী অর্ণব মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক শর্মিলা আক্তার জাতীয় গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভা শেষে গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ-এর আয়োজনে আর্থ আওয়ার -২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে, জনসচেতনতা সৃষ্টিতে, গুরুকুল কুষ্টিয়া লালন সাঁই ক্যাম্পাসের সামনে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর ও গ্রুপ সভাপতি শামীম রানা, সম্পাদক বিথী খাতুন,ইনচার্জ ফাইনান্স খোন্দকার রুহুল আমিন সহ, গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ, গুরুকুল গার্ল ইন রোভার, গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন ও মেডিকেল সেকশনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
যুক্তি আর শ্রদ্ধায় জাতির পিতাকে স্মরণ: গুরুকুলে বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্যাপন

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ১৭ মার্চ (শুক্রবার) বেলা ১১টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল “বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিব” শীর্ষক এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং আনন্দঘন পরিবেশে কেক কাটার মাধ্যমে জন্মোৎসব উদযাপন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা রোভারের সাধারণ সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্বনামধন্য অধ্যাপক এ কে এম সামসুল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে শিশুদের আগামীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন: শামীম রানা, ইনচার্জ (লিগ্যাল অ্যান্ড এডমিন), গুরুকুল। খন্দকার রুহুল আমিন, ইনচার্জ (ফাইন্যান্স), গুরুকুল। সাদিয়া ইসলাম, আহ্বায়ক, বঙ্গবন্ধু জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস কমিটি। যুক্তি-তর্কের লড়াই: “বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিব” দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর ও ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রাশনা শারমিন। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিভাগীয় প্রধান (প্যাথলজি) জনাব মিশকাতুর রহমান, কম্পিউটার বিভাগের প্রধান জনাব বিথী খাতুন এবং আর.এস বিভাগের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর জনাব আফরোজা আক্তার। পুরো বিতর্ক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদ্যাপন কমিটির সদস্য শর্মীলা আক্তার এবং ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত তুষার। অংশগ্রহণকারী ও ফলাফল: পক্ষ দল (মেডিকেল সেকশন): মুক্তা বিশ্বাস, পলি খাতুন ও এজাজ মাহমুদ আসিফ (দলনেতা)। বিপক্ষ দল (ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন): সিদ্ধার্থ শোভন রায়, যুবায়ের হাসনাত অর্পণ ও বিপ্লব হোসেন (দলনেতা)। শাণিত যুক্তি আর তথ্যের লড়াই শেষে বিপক্ষ দল (ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন) বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় অসামান্য বাগ্মিতার জন্য দলনেতা বিপ্লব হোসেন ‘শ্রেষ্ঠ বক্তা’ নির্বাচিত হন। সাংস্কৃতিক ও আনন্দঘন আয়োজন বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে জাতির পিতার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অতিথিবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কেক কাটা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠানের বক্তারা বঙ্গবন্ধুর শৈশব ও কৈশোরের ওপর আলোকপাত করে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়ার পরামর্শ দেন। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্ত হয়। নতুন প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস গুরুকুলের মানবিক ও শিক্ষিত সমাজ গড়ার মিশনেরই একটি অংশ।
যুক্তি-তর্কে ভাষার মর্যাদা: গুরুকুলে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৭ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব (GDC)-এর আয়োজনে কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসে এক প্রাণবন্ত ও যুক্তি-নির্ভর বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলনই মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে”—এমনই এক সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে বিতার্কিকদের বাগযুদ্ধে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। বিচারকমণ্ডলী ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট গবেষক ও বিতার্কিক, দৈনিক কুষ্টিয়া ও কুষ্টিয়া টাইমস্-এর সম্পাদক এবং দি ডেইলি স্টার-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ড. আমানুর আমান। প্রধান আলোচক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রযুক্তিবিদ এবং গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। বিচারক প্যানেলে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ডিবেটিং সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী ইসতিয়াক হোসেন ইমন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন: প্রভাষক আলী হোসেন, বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজ। শামীম রানা, ইনচার্জ (লিগ্যাল অ্যান্ড এডমিন), গুরুকুল। খোন্দকার রুহুল আমিন, ইনচার্জ (ফাইন্যান্স), গুরুকুল। রাশনা শারমিন, মডারেটর, গুরুকুল ডিবেটিং ক্লাব। সালাউদ্দিন কাদের, আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন কমিটি। যুক্তি-তর্কের লড়াই ও ফল ঘোষণা ছায়া সংসদীয় পদ্ধতিতে আয়োজিত এই বিতর্কে ‘পক্ষ’ দল হিসেবে অংশগ্রহণ করে গুরুকুল মেডিকেল সেকশন এবং ‘বিপক্ষ’ দল হিসেবে লড়াই করে গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং দাপ্তরিক ও ব্যবহারিক সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উভয় দল তথ্যসমৃদ্ধ ও শাণিত যুক্তি উপস্থাপন করে। যুক্তি-তর্কের লড়াই শেষে বিচারকদের সূক্ষ্ম মূল্যায়নে গুরুকুল মেডিকেল সেকশন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ল্যাঙ্গুয়েজ ও ম্যাথ ক্লাবের নবদিগন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপ্তি লগ্নে গুরুকুলের একাডেমিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত ক্লাব— ‘গুরুকুল ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’ ও ‘গুরুকুল ম্যাথ ক্লাব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং ড. আমানুর আমান ফিতা কেটে ক্লাব দুটির যাত্রা শুরু করেন। এ সময় ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের সমন্বয়কারী শর্মিলা আক্তার ও শামীমা পারভিন এবং ম্যাথ ক্লাবের সমন্বয়কারী এম এম মাসুম উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভাষা ও গণিতে আরও পারদর্শী হয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। প্রধান অতিথির ভিশন ও মূল্যায়ন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বক্তব্যে বলেন: “ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা নিবেদন হলো মাতৃভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করা। আমাদের এই ডিবেটিং ক্লাব শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী হতে শেখাবে, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব তাদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াবে এবং ম্যাথ ক্লাব তাদের যৌক্তিক চিন্তার ভিত্তি মজবুত করবে।” একুশের চেতনায় উজ্জীবিত এই অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তি আর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপনের এই প্রয়াস শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি মমত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে গুরুকুল রোভার স্কাউটের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসক এবং জেলা রোভারের সভাপতি জনাব জহির রায়হানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ। গতকাল বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। নেতৃত্বের উপস্থিতিতে হার্দিক শুভেচ্ছা গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি শামীম রানা এবং গুরুকুল গার্ল-ইন-রোভারের সম্পাদক মাধবী আইরিনের নেতৃত্বে রোভার ও গার্ল-ইন-রোভারের একটি প্রতিনিধি দল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। এসময় নবাগত জেলা প্রশাসককে কুষ্টিয়ায় তাঁর নতুন কর্মস্থলে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। গুরুকুল প্রমুখের বার্তা ও আমন্ত্রণ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রতিনিধি দলটি গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রমুখ, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা জেলা প্রশাসকের নিকট পৌঁছে দেন। একই সাথে জেলা প্রশাসককে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বিভিন্ন ক্যাম্পাস ও কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণের ইতিবাচক সাড়া জনাব জহির রায়হান অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই দাওয়াত গ্রহণ করেন। তিনি জানান যে, সুবিধাজনক সময়ে তিনি গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের আওতাধীন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন করবেন, যার মধ্যে রয়েছে: ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন: কারিগরি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট: প্রকৌশল ও কারিগরি গবেষণার বিশেষ ক্ষেত্র। মেডিকেল সেকশন: স্পেশালাইজড ম্যাটস (MATS) ও গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট। স্কাউটিং ও সামাজিক উন্নয়নে অঙ্গীকার গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ একটি বহুত্ববাদী ও শৃঙ্খলিত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। নবাগত জেলা প্রশাসকের এই ইতিবাচক সাড়া কুষ্টিয়ার শিক্ষা ও স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় রোভার স্কাউট সদস্যদের সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান এবং গুরুকুলের শিক্ষা কার্যক্রমের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। পরিশেষে, রোভার নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে একটি সমৃদ্ধ ও সমৃদ্ধশালী কুষ্টিয়া গড়ে তোলার লক্ষে গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
গুরুকুল বিজয় দিবস আন্তঃটেকনোলজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০১৬ এর উদ্বোধন

কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী গুরুকুল বিজয় দিবস আন্তঃটেকনোলজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট–২০১৬। শনিবার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ খেলার মাঠে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বদরুদ্দোজা। অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়া শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার নওয়াব আলী সহকারী রেজিস্ট্রার গোলাম আজম বিশ্বাস ক্রীড়া ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. এ. এস. এম. মুসা কবীর কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিশান আলী প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন— “ক্রীড়া আমাদের দেয় সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমেই আমরা একটি সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে পারি। ক্রিকেট আজ বাংলাদেশের গৌরব, যা বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতির মুখ উজ্জ্বল করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার খেলাধুলার উন্নয়নে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছেন। মহান বিজয়ের মাসে গুরুকুলের এই আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকা উচিত।” উদ্বোধনী দিনের খেলাগুলো উদ্বোধনী দিনে মোট তিনটি রোমাঞ্চকর খেলা অনুষ্ঠিত হয়— টেক্সটাইল টেকনোলজি জিডিপিএম টেকনোলজিকে ৫৩ রানে পরাজিত করে। সিভিল টেকনোলজি দুই উইকেটে জয়ী হয় কম্পিউটার টেকনোলজির বিপক্ষে। দিনের শেষ খেলায় ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি মেকানিক্যাল টেকনোলজিকে ২৭ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। বিশেষ আকর্ষণ টুর্নামেন্টের শেষ দিনে গুরুকুল ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন এবং গুরুকুল মেডিকেল সেকশনের মেয়েদের দুটি দল অংশ নেবে। এই অংশগ্রহণকে আয়োজকরা টুর্নামেন্টের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আয়োজক ও সহযোগিতা এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন— টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, সিভিল টেকনোলজি প্রধান সৈকত হোসেন যুগ্ম আহ্বায়ক, আর এস ট্রেড প্রধান আব্দুল্লাহ আল মাসুম সিভিল টেকনোলজি শিক্ষক ইমরান মাহমুদ আরএস ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শর্মিলা আক্তার ও শামীমা পারভিন আরএস কেমিস্ট্রি শিক্ষক কায়েস উদ্দিন প্যাথলজি বিভাগের শিক্ষক মিশকাতুর রহমান টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষক সালাউদ্দিন আহমেদ আহ্বান গুরুকুলের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন— “তিন দিনব্যাপী গুরুকুল বিজয় দিবস আন্তঃটেকনোলজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সকলের জন্য উন্মুক্ত। আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি মাঠে এসে তরুণদের এই প্রাণবন্ত খেলায় অংশ নিতে।”
উগ্রবাদ ও চরমপন্থা রুখতে ছাত্র-শিক্ষক সচেতনতার বিকল্প নেই: কুষ্টিয়া গুরুকুলে সেমিনার অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়া: সমসাময়িক বিশ্ব ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে উগ্রবাদ ও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক-এর পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর (শনিবার) গুরুকুলের লালন সাঁই ক্যাম্পাসের সেমিনার হলে “Countering Radicalization and Extremism: Role of Students & Teachers” শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় ও তাত্ত্বিক অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে প্রধান আলোচক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন: “আমি ইসলামের ইতিহাসের ছাত্র এবং পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে পড়াশোনা করেছি। কোনো ধর্মই সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোরআন ও মুসলিম মনীষীদের সিদ্ধান্তের অপব্যাখ্যা দিয়ে তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করছে। ১৯ শতকে রোপিত এই বিষবৃক্ষের ফল আজ ২০ শতককে ভোগ করতে হচ্ছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, একজন জঙ্গিবাদী শুধু নিজেকেই ধ্বংস করে না, বরং তার পুরো পরিবারকে আজীবনের জন্য অভিশপ্ত জীবন দিয়ে যায়। মূল প্রবন্ধ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রতিকার সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স-এর পরিচালক এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ। তিনি তাঁর প্রবন্ধে বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিবর্তন এবং বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। জঙ্গিবাদ মুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। গুরুকুলের নিয়মিত উদ্যোগ ও সাংগঠনিক অবস্থান সেমিনারে প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন গুরুকুল প্রমুখ, দেশবরেণ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন। গুরুকুল প্রমুখ তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন: “গুরুকুলের প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চরমপন্থার বিষাক্ত থাবা থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ ও মানবিক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে আমরা নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করছি। দক্ষ জনশক্তি গড়ার পাশাপাশি সচেতন নাগরিক গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।” সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শপথ গ্রহণ করেন। বক্তারা একমত হন যে, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার সঠিক প্রয়োগই পারে তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদের হাত থেকে রক্ষা করতে। অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজ, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক। নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া | ৫ নভেম্বর, ২০১৬
গুরুকুলে ‘স্কিল কম্পিটিশন-২০১৬’ সম্পন্ন

শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা যাচাই ও সৃজনশীল উদ্ভাবন প্রদর্শনের লক্ষ্যে গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের আওতায় পরিচালিত কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউটে দিনব্যাপী ‘স্কিল কম্পিটিশন-২০১৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব ব্যাংক এবং কানাডা সরকারের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘স্কিলস এন্ড ট্রেনিং এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (STEP)’-এর ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিযোগিতার প্রতিষ্ঠান পর্যায়টি সম্পন্ন হয়। গুরুকুলে ‘স্কিল কম্পিটিশন-২০১৬’ সম্পন্ন রবিবার সকালে কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। সারাদেশের ১৬২টি স্টেপ (STEP) অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ন্যায় কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা তাদের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে বাস্তবে রূপান্তরের লক্ষ্যে ৭টি বিশেষ উদ্ভাবনী প্রজেক্ট প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত প্রজেক্টসমূহ শিক্ষার্থীদের মেধা ও কারিগরি কুশলতার সমন্বয়ে তৈরি প্রজেক্টগুলোর মধ্যে ছিল: রোবটিক্স প্রযুক্তি: কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের ৭ জন শিক্ষার্থীর সম্মিলিত উদ্ভাবন ‘রোবটিক্স কার’। নগর পরিকল্পনা: সিভিল বিভাগের ৪ জন শিক্ষার্থীর তৈরি ‘যানজট মুক্ত আধুনিক ফ্লাইওভার’ মডেল। ইলেক্ট্রিক্যাল উদ্ভাবন: এই বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থীর ৫টি ভিন্ন ভিন্ন প্রজেক্ট— ডিজিটাল গার্ড, মিনি ম্যাগনেটিক পাওয়ার সাপ্লাই, ওয়েস্ট পাওয়ার প্লান্ট, ওয়াটার লেভেল ইন্ডিকেটর এবং ডোর অ্যালার্ম। বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও অতিথি সমাগম শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল কাজগুলো মূল্যায়নের জন্য বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল ও শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞগণ: ইঞ্জিনিয়ার ইসরাইল হোসেন, চেয়ারম্যান, জিওটেক বিল্ডার্স লিমিটেড। মনিরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এম এন্ড বি প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এছাড়াও বিশেষ পরিদর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টেপ (STEP)-এর সহকারী প্রোগ্রামার মোফাজ্জেল হোসেন। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী তানভির মেহেদি, লিগ্যাল এন্ড এডমিন ইনচার্জ শামীম রানা এবং ইনচার্জ ফাইন্যান্স রুহুল আমিন। প্রতিযোগিতার ফলাফল ও পুরষ্কার বিচারকদের সূক্ষ্ম মূল্যায়নে উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও বাস্তবধর্মী উপযোগিতার ভিত্তিতে সেরা তিনটি প্রজেক্ট নির্বাচিত করা হয়: ১. প্রথম স্থান: কম্পিউটার টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ‘রোবটিক কার’। ২. দ্বিতীয় স্থান: ইলেক্ট্রিক্যাল টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের ‘মিনি ম্যাগনেটিক পাওয়ার সাপ্লাই’। ৩. তৃতীয় স্থান: একই বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘ডিজিটাল গার্ড’। প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরণের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট সর্বদা আধুনিক ও কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। আরও দেখুন: গুরুকুলে বিশেষ বৃত্তির কোটা
গুরুকুল থেকে প্রকাশিত “জয়তু জননেত্রী” বইটির উদ্বোধন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে উৎসর্গ করে প্রকাশিত হলো বিশেষ গ্রন্থ ‘জয়তু জননেত্রী’। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রীপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আয়োজনে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মাননীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান রচিত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুরুকুলের রাজনৈতিক গবেষণা শাখা— ‘পলিটিক্যাল স্টাডিজ, গুরুকুল’ (Political Studies, Gurukul)। মোড়ক উন্মোচন ও উপস্থিতিবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মন্ত্রীপরিষদ বৈঠকের শুরুতে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন তৎকালীন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এসময় মন্ত্রীপরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। গ্রন্থটির বিষয়বস্তু এবং জননেত্রীর জীবন ও কর্মের ওপর এর আলোকপাত উপস্থিত সকলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। প্রকাশনা ও নেপথ্য কারিগর ‘জয়তু জননেত্রী’ গ্রন্থটি গুরুকুলের একটি বিশেষ প্রকাশনা প্রকল্প। এর প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত যত্ন ও সৃজনশীলতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে: রচয়িতা: স্থপতি ইয়াফেস ওসমান (মাননীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী)। প্রকাশক: সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর (প্রমুখ, গুরুকুল)। সমন্বয়ক: তন্ময় আহমেদ। শিল্প নির্দেশনা: সোহেল মোহাম্মদ রানা। গুরুকুলের রাজনৈতিক গবেষণা ও সমাজদর্শন গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ‘পলিটিক্যাল স্টাডিজ’ বিভাগ দেশজ রাজনীতি, উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের সঠিক ইতিহাস ও দর্শন তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। ‘জয়তু জননেত্রী’ গ্রন্থটি সেই প্রচেষ্টারই একটি সফল অংশ। এটি কেবল একটি বই নয়, বরং বাংলাদেশের নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। গুরুকুল পরিবারে আনন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রীদের মাধ্যমে গুরুকুল প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হওয়ায় গুরুকুল পরিবারের পক্ষ থেকে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। গুরুকুলের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর জানান, “দেশ ও জননেত্রীর উন্নয়ন গাথাকে লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে গুরুকুল গর্বিত। আমরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মননশীল ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকাশনা অব্যাহত রাখব।” দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই স্বীকৃতি গুরুকুলের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শারদীয় দুর্গাপূজায় রাজবাড়ী গুরুকুলের ‘ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক সেবাকে মূলমন্ত্র করে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজবাড়ী গুরুকুল এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উৎসব চলাকালীন পূজামণ্ডপে আগত পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাজবাড়ী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থাপন করা হয় বিশেষ ‘ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র’। উৎসবের ভিড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ উৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপ ও মেলা প্রাঙ্গণে বিপুল জনসমাগম ঘটে, যা থেকে ক্লান্তি, আকস্মিক অসুস্থতা বা ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’-এর পক্ষ থেকে ফ্রি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থীকে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। সেবার পরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাজবাড়ী গুরুকুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম কেবল একটি উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সকল ক্যাম্পাসে সেবা: আপাতত কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীসহ গুরুকুলের সকল ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাতীয় অনুষ্ঠান: দেশের সকল জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে গুরুকুল পরিবার নিজ উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে উপস্থিত থাকবে। আয়োজকদের আমন্ত্রণ: যে কোনো বড় ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যেখানে ব্যাপক জনসমাগমের ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে আয়োজকরা আগ্রহ প্রকাশ করলে গুরুকুল টিম সেখানে উপস্থিত হয়ে সেবা প্রদান করবে। নেপথ্যের কারিগর: গুরুকুল হেলথ ক্লাব ও টিম সুফি ফারুক এই সম্পূর্ণ সেবামূলক কার্যক্রমটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেছেন রাজবাড়ী গুরুকুলের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। সংগঠক: পুরো আয়োজনটি পরিচালিত হয় “গুরুকুল হেলথ ক্লাব”-এর মাধ্যমে। অর্থায়ন: এই মানবিক উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সকল অর্থায়ন করেছে “সুফি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন”। স্থানীয় সহযোগিতা: মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় সমন্বয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে #TeamSufiFaruq। গুরুকুলের দর্শন: বহুত্ববাদী ও মানবিক সমাজ গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক কেবল কারিগরি শিক্ষায় নয়, বরং একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাসী। মানুষের বিপদে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের শিক্ষার মূল প্রতিপাদ্য। রাজবাড়ীর এই মহতী উদ্যোগ সেই চেতনারই এক মূর্ত প্রতীক।