“শেখ রাসেল দীপ্তিময়, নির্ভীক নির্মল দুর্জয়”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গুরুকুল কুষ্টিয়া (লালন সাঁই ক্যাম্পাস)-এ পালিত হয়েছে ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২৩’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গুরুকুল পরিবারের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

গুরুকুলে শেখ রাসেল দিবস ২০২৩ পালিত
দিবসের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়িতে শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মাত্র ১০ বছর বয়সে ঘাতকদের বুলেটে নির্মমভাবে শহীদ হন এই নিষ্পাপ শিশু। ২০২১ সাল থেকে সরকার ১৮ অক্টোবরকে ‘কপ’ (Category-A) ভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম—যিনি আমাদের শিখিয়ে যান নির্ভীকতা এবং সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখা।
১ম স্থান অধিকারী

২য় স্থান অধিকারী
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সৃজনশীলতা
দিবসটি উপলক্ষে গুরুকুল শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এক বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতি ও তাঁর শৈশবের নানা মুহূর্ত। প্রতিযোগিতার ফলাফল:
প্রথম স্থান: স্বর্ণালী খাতুন (নার্সিং ইনস্টিটিউট, ১ম বর্ষ)।
দ্বিতীয় স্থান: মেঘনা খাতুন (কম্পিউটার বিভাগ, ২য় পর্ব)।
তৃতীয় স্থান: রায়হান উদ্দিন (নার্সিং বিভাগ, ১ম বর্ষ)।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তাঁদের প্রতিভার প্রশংসা করেন প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ।

৩য় স্থান অধিকারী
আলোচনা সভা: জীবন থেকে শিক্ষা
অনুষ্ঠানে শেখ রাসেলের সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং তাঁর মানবিক গুণাবলী নিয়ে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, শেখ রাসেল ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং পশুপাখি ও মানুষের প্রতি অসম্ভব মমত্ববোধ সম্পন্ন একজন শিশু। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।

প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের দর্শন
গুরুকুল বিশ্বাস করে যে, একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনের মূলে রয়েছে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ। শেখ রাসেল দিবস পালনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। রাসেলের সেই নির্মল হাসি যেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে ফুটে ওঠে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য কিছু মুহূর্ত



আরও দেখুন: