গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো।

নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি অদম্য সাহস, ক্ষমা এবং মানবিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। যিনি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য আর বর্ণবাদের অন্ধকার থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মুক্ত করে বিশ্বকে দেখিয়েছেন সহনশীলতার নতুন পথ। তিনি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় নেতা—নেলসন ম্যান্ডেলা।

উপস্থিত সুধী,

নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার এমভেজো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব নাম ছিল রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের এক অকুতোভয় সব্যসাচী প্রতিভা—যিনি একাধারে আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা এবং শান্তিকামী বিশ্বনাগরিক।

আজ তাঁর জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় স্মরণ করা প্রয়োজন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে তাঁকে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবরণ করতে হয়েছিল। কিন্তু জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ তাঁর আদর্শকে আরও উজ্জ্বল করেছিল। ১৯৯০ সালে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি যখন ক্ষমতায় আসীন হলেন, তখন তিনি প্রতিহিংসার পথ বেছে নেননি। বরং ‘সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন’ (Truth and Reconciliation Commission) গঠনের মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের এক সুতোয় গেঁথে গড়ে তুলেছিলেন ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি। ১৯৯৩ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

প্রিয় সুধী,

নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে বাংলাদেশের এক বিশেষ আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা হলো বিশ্বকে পরিবর্তন করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।

ম্যান্ডেলার অনেক কালজয়ী উক্তি আজও সারা বিশ্বে অনুপ্রেরণা জোগায়:

“পৃথিবীর কোনো মানুষই অন্য মানুষকে তার গায়ের রঙের কারণে ঘৃণা করে জন্মায় না। মানুষকে ঘৃণা করা শিখতে হয়, আর যদি তারা ঘৃণা করা শিখতে পারে, তবে তাদের ভালোবাসাও শেখানো সম্ভব।”

তিনি কেবল নিজের দেশের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন পৃথিবীর প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, বিজয় মানে কেবল জয়লাভ নয়, বরং প্রতিটি পতনের পর আবার উঠে দাঁড়ানো।

আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন—

‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’।

সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহান নেতার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর আদর্শ সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহাপ্রাণের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারি।

নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে।

জয় বাংলা!

জয় গুরুকুল!

নেলসন ম্যান্ডেলা
নেলসন ম্যান্ডেলা