আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০, কুষ্টিয়া গুরুকুল [ International Mother Language Day 2020, Kushtia Gurukul ]
![আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০, কুষ্টিয়া গুরুকুল [ International Mother Language Day 2020, Kushtia Gurukul ] 1 IMG 0478 আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০, কুষ্টিয়া গুরুকুল [ International Mother Language Day 2020, Kushtia Gurukul ]](https://gurukul.edu.bd/wp-content/uploads/2020/02/IMG_0478-1024x683.jpg)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০ পালিত হয়েছে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাসে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০ উপলক্ষে, গুরুকুল ট্রাস্ট এর কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস এ [কুষ্টিয়া গুরুকুল] , পালিত হল দিব্যাপি কর্মসূচি। ”দাপ্তরিক সব কাজ আমরা বাংলায় করি, আপনি?” এই স্লোগানকে সামনে রেখে, গুরুকুল উদযাপন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, জনাব ইমতিয়াজ খান এর নেতৃত্বে কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে আয়োজিত হয় দীর্ঘ র্যালী। কুষ্টিয়া গুরুকুল এর ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন ও মেডিকেল সেকশনের প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক- কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ নিয়ে র্যালি শুরু হয়। প্রতি বছর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে সর্ব বৃহৎ র্যালি নিয়ে অংশগ্রহণ করে গুরুকুল। গুরুকুলের বৃহৎ র্যালি কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস (কালিশংকরপুর) থেকে শুরু হয়ে, কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে, কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের একাংশ, শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাবৃন্দ প্রতিষ্ঠানে প্রত্যাবর্তন করেন। উক্ত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের সহকারী পরিচালক জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম, গুরুকুল উপাধ্যক্ষ জনাব এম এ মাসুম, এছাড়াও সকল ট্রেড প্রধানসহ গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। আমরা একমাত্র জাতী যারা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিয়েছি। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, আমাদের অগ্রজ – সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহ সহ নাম না জানা অনেকে বাঙ্গালী বীর। অসংখ্য ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগন, জেল হাজত ভোগ করেন, নির্যাতিত হন। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই আন্দোলনের সমর্থনে জেলে অনশন করেন। তাদের সকলের মহান ত্যাগের বিনিময়েই আমাদের বাংলা ভাষার উপরে আমাদের অধিকার অর্জিত হয়েছে। র্যালি ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে, দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাতৃভাষা দিবস নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে, গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর ভিডিও মাধ্যমে বক্তৃতা করেন। সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন “আমরা একমাত্র জাতী যারা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিয়েছি। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, আমাদের অগ্রজ – সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহ সহ নাম না জানা অনেকে বাঙ্গালী বীর। অসংখ্য ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগন, জেল হাজত ভোগ করেন, নির্যাতিত হন। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই আন্দোলনের সমর্থনে জেলে অনশন করেন। তাদের সকলের মহান ত্যাগের বিনিময়েই আমাদের বাংলা ভাষার উপরে আমাদের অধিকার অর্জিত হয়েছে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, আমরা দীর্ঘদিন এই দিনটিকে “শহীদ দিবস” ও “ভাষা দিবস” হিসেবে পালন করে এসেছি। তবে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর, জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো, ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এর পর থেকে এই দিনটি বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন হয়েছে। তখন থেকে আমরা এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করি। তাই এই দিনটি এখন শোকের নয়, বরং উদযাপনের। সারা পৃথিবীর সকল মাতৃভাষার জয়গান গাইবার। আজ সারা বিশ্ব একযোগে সেভাবেই পালন করছে এই দিনটিকে। আজকের দিনটিতে আমরা আমাদের সেই বীর পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, তাদের ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। পাশাপাশি আমরা উদযাপন করি বাংলা ভাষা সহ পৃথিবীর সকল মাতৃভাষা ও সেই ভাষা থেকে উৎসারিত সব ধরনের শিল্প। জয় বাংলা”। সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম দিবসটির তাৎপর্য ও ইতিহাস তুলে ধরে আলোচনা করেন। আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি। উল্লেখ্য যে, কুষ্টিয়া ছাড়াও কুমারখালী গুরুকুল, খোকসা গুরুকুল, রাজবাড়ি গুরুকুল সহ ঢাকা গুরুকুল দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক হতে শিক্ষার্থীদের জন্য বক্তৃতা শেখবার জন্য কিছু ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। নিচে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বক্তৃতার লিংক দেয়া হল : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বক্তৃতা:
গুরুকুল হেলথ ক্লাব -এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
“সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল”—এই মূলমন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে এবং আর্তমানবতার সেবায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও সংবেদনশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করল গুরুকুল হেলথ ক্লাব [Gurukul Health Club]। গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের মেডিকেল সেকশনের শিক্ষার্থীদের পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই এই ক্লাবের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রধান অতিথির বক্তব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্লাবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ মাহাবুবুল ইসলাম। তিনি বলেন, “একজন চিকিৎসাকর্মীর সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানবিকতা। গুরুকুল হেলথ ক্লাব শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ করে দেবে যেখানে তারা ছাত্রজীবন থেকেই মানুষের সেবা করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।” সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর বিশেষ বাণী ও ক্লাবের ‘মিশন’ গুরুকুল প্রমুখ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এই ক্লাবের জন্য তার দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দিয়েছেন। তাঁর পক্ষে এই বিশেষ বার্তা ও ক্লাবের ভিশন পাঠ করে শোনান গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের সহকারী পরিচালক জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম। বার্তায় গুরুকুল হেলথ ক্লাবের মূল মিশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়: “এই ক্লাবটি শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবস্থা থেকেই অভিজ্ঞ স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবে। ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেইন, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তাসহ নানাবিধ সেবামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের যুক্ত রাখাই হবে এই ক্লাবের প্রধান ব্রত; যেন তারা কেবল দক্ষ টেকনিশিয়ান নয়, বরং প্রকৃত মানবসেবক হিসেবে গড়ে ওঠে।” সম্মানিত অতিথিবৃন্দ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ জনাব আবদুল্লাহ আল মাসুম। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন: জনাব দ্বিপশিখা মল্লিক, বিভাগীয় প্রধান (নার্সিং) ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। জনাব আমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মাইক্রোল্যাব) ও অতিথি শিক্ষক। জনাব সুস্মিতা সেন, বিভাগীয় প্রধান (ম্যাটস) ও মডারেটর, গুরুকুল হেলথ ক্লাব। বক্তারা বলেন, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনে প্রবেশের আগেই একজন ‘এম্প্যাথিক’ বা সহমর্মী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তৈরি করবে। সাংস্কৃতিক আয়োজন ও উদযাপন ম্যাটস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক আহমেদ ও আমেনা খাতুন-এর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি এক আনন্দঘন উৎসবে পরিণত হয়। প্রধান অতিথি ডাঃ মাহাবুবুল ইসলাম অতিথিদের নিয়ে শুভ উদ্বোধনের কেক কাটেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যেখানে গান ও কবিতার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও মানবতার জয়গান গাওয়া হয়। গুরুকুল হেলথ ক্লাবের এই যাত্রার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেবার যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে একটি সুস্থ, সবল ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
গুরুকুলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০১৯ উদযাপন
যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং গভীর শ্রদ্ধার সাথে কুষ্টিয়া গুরুকুল শিক্ষা পরিবারে পালিত হয়েছে মহান শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০১৯। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া গুরুকুল হল রুমে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই একাত্তরের সেই সকল সূর্যসন্তানদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গুরুকুলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০১৯ উদযাপন উপস্থিত অতিথি ও সভাপতিত্ব গুরুকুল কালচারাল কমিটির চেয়ারম্যান জনাব শাহীন সরকার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু। অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য: ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও আত্মত্যাগ প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার ট্র্যাজেডি তুলে ধরেন। তিনি বলেন: “স্বাধীনতা যেকোনো জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নিরস্ত্র বাঙালি একটি সশস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদাররা পরিকল্পিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ মেধা ও সন্তানদের হত্যা করে আমাদের দেশকে পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল। ১৪ ডিসেম্বর সেই কলঙ্কিত ও শোকের দিন।” বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আজকের বাংলাদেশ বক্তৃতায় তিনি বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি আরও বলেন: “বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও রক্তধারা ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই তরুণ প্রজন্মকে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের, নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই উন্নয়ন মিশনে সক্রিয় অবদান রাখতে হবে।” মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ব সভায় বক্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের মহিমা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, স্বাধীন বাংলাদেশে মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশ গড়া এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি শাহীন সরকার শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। গুরুকুল পরিবারের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাতির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে বিশদ ধারণা লাভ করে এবং দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়। আয়োজনে, কালচারাল কমিটি ও প্রশাসন, গুরুকুল কুষ্টিয়া। আারও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
গুরুকুল নার্সিং বার্ষিক প্রীতিভোজ ২০১৯ সম্পন্ন

উৎসব, উদ্দীপনা আর সাংস্কৃতিক আবহের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো কুষ্টিয়া গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট-এর বার্ষিক প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০১৯। গতানুগতিক শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৃজনশীলতা ছড়িয়ে দিতে গুরুকুল বাংলাদেশ-এর এই বর্ণিল আয়োজন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে। উদ্বোধনী মুহূর্ত: দেশপ্রেমের সুরে সূচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেশাত্মবোধক গান গেয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন দেশবরেণ্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। দেশপ্রেমের এই সুর শিক্ষার্থীদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী ঐশী রহমান। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের গৌরব বৃদ্ধি করেন: মোঃ জিয়াউল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ এবং চেয়ারম্যান, কয়া ইউনিয়ন পরিষদ। ড. আমানুর আমান, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক। খন্দকার ইকবাল মাহামুদ, চেয়ারম্যান, ক্রীড়া বিভাগ, গুরুকুল। মোঃ শাহিন সরকার, চেয়ারম্যান, সাংস্কৃতিক বিভাগ, গুরুকুল। রাকিবুজ্জামান তানিম, সহকারী পরিচালক, গুরুকুল। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই উৎসবে যোগ দেন। সাংস্কৃতিক ও আনন্দ আয়োজন বার্ষিক এই প্রীতিভোজকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় বৈচিত্র্যময় সব ইভেন্ট। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণগুলো ছিল: ফ্যাশন শো ও র্যাম্প শো: শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় মুগ্ধ হন অতিথিরা। ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা: আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় জনপ্রিয় ‘বালিশ খেলা’। লটারি ড্র: কুপন ড্র এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটিতে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করে। অভিনয় ও সঙ্গীত: অনুষ্ঠানের শেষাংশে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত অসাধারণ অভিনয় প্রদর্শনী এবং দেশাত্মবোধক গান পুরো আয়োজনকে এক জাঁকজমকপূর্ণ রূপ দান করে। গুরুকুল দর্শন ও শিক্ষার পরিবেশ বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট কেবল দক্ষ নার্স তৈরি করে না, বরং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশেও সমান গুরুত্ব দেয়। এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্লান্তি দূর করে তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে সাহায্য করে। আলোকচিত্রে উৎসবের মুহূর্তসমূহ: দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী মুহূর্ত। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় ফ্যাশন শো। সঙ্গীতানুষ্ঠানে শিল্পীদের সুরের মূর্ছনা। মনোজ্ঞ এই আয়োজনটি প্রীতিভোজের মাধ্যমে শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে এক স্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থাকবে। কারিগরি ও নার্সিং শিক্ষার পাশাপাশি সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চায় গুরুকুল বাংলাদেশ যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই অনুষ্ঠানটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জনসংযোগ ও মিডিয়া বিভাগ, গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট (গুরুকুল বাংলাদেশ)।
গুরুকুলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী পালিত

উপমহাদেশের সমাজ সংস্কারের পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘গুরুকুল’-এ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল গভীর শ্রদ্ধায় মোড়ানো আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের শিক্ষক লাবণী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং ঐশী রহমানের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. সরওয়ার মুর্শেদ। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সরওয়ার মুর্শেদ বিদ্যাসাগরের জীবন ও দর্শনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ সংস্কারক, বিদ্যানুরাগী, নারী কল্যাণকামী ও এক মহান মানবতাবাদী সত্তা। তাঁর মতো নির্ভীক ও সমাজহিতৈষী মানুষের আদর্শ বর্তমান ঘুণে ধরা সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহসের কারণে চরম দারিদ্র্যকে জয় করে তিনি যেভাবে সমাজের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, তা আজও আমাদের জন্য ধ্রুবতারার মতো কাজ করে। বিদ্যাসাগরের শিক্ষানুরাগ ও নারী জাগরণের বিষয়টি অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। বক্তারা স্মরণ করেন যে, তিনি ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পথপ্রদর্শক। বিশেষ করে নারী শিক্ষার বিস্তার এবং বিধবা বিবাহ প্রচলনের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের মূলে আঘাত করেছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন সরকার এবং গুরুকুলের সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম। তারা বলেন, বিদ্যাসাগরের ‘দয়ার সাগর’ হয়ে ওঠার পেছনে ছিল মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গুরুকুল কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও ক্ষুদ্র নাটিকার মাধ্যমে বিদ্যাসাগরের সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। পুরো আয়োজনটি যেন একালের প্রজন্মের কাছে বিদ্যাসাগরের মানবিক ও জ্ঞানদীপ্ত চেতনাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি সার্থক প্রচেষ্টায় পরিণত হয়।
কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ক্যাম্পেইনের সমাপণী অনুষ্ঠিত গুরুকুলে

“সবাই হলে সচেতন, ডেঙ্গু রুখতে কতক্ষণ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং গুরুকুল শিক্ষা পরিবার-এর সক্রিয় অংশগ্রহণে মাসব্যাপী পরিচালিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের সফল সমাপ্তি ঘটেছে। শনিবার বিকেল ৩:০০ টায় গুরুকুল অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সমাপনী ঘোষণা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন কুষ্টিয়ার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব আসলাম হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন: “ডেঙ্গু কেবল একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা অপরিহার্য। নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। সচেতন নাগরিক হিসেবে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে ডেঙ্গুমুক্ত কুষ্টিয়া গড়তে।” উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সমাপনী অনুষ্ঠানে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: এ.বি.এম. আরিফুল ইসলাম, এনডিসি, কুষ্টিয়া। ড. আমানুর আমান, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক। রাকিবুজ্জামান তানিম, সহকারী পরিচালক, গুরুকুল। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের একনজরে বিগত এক মাস ধরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এতে গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ সহ কুষ্টিয়ার বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। ক্যাম্পেইনের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ছিল: ১. জনাকীর্ণ এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং। ২. বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা। ৩. সাধারণ মানুষকে জমাটবদ্ধ পানির কুফল ও এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতন করা। গুরুকুলের দর্শন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গুরুকুল বিশ্বাস করে যে, একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে শিক্ষার পাশাপাশি জনসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুরুকুলের শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে সামাজিক দায়িত্ব পালনের শিক্ষা গ্রহণ করেছে, যা তাদের প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ভিডিও রিপোর্ট ও বিশেষ আলোচনা ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানের ভিডিও রিপোর্ট দেখুন এখানে: https://youtu.be/aQUK-tPn__Q ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে গুরুকুল লাইভের বিশেষ আলোচনা দেখুন: https://youtu.be/58-HOjZr8xI অনুষ্টানের ভিডিও রিপোর্ট: ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে দেখুন গুরুকুল লাইভের ডিডিও:
গুরুকুল ইফতার সমাবেশ ২০১৯

কুষ্টিয়ার শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম বিদ্যাপীঠ গুরুকুল-এর ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক রচিত হলো। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার শহরের প্রাণকেন্দ্র ‘আলো কমিউনিটি সেন্টারে’ অত্যন্ত উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হয়। বিশাল ছাত্র সমাবেশ ও উপস্থিতি ইফতার সমাবেশে প্রধান আকর্ষণ ছিল গুরুকুলের শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ। গুরুকুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর উপস্থিতিতে মাহফিলটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৮০০ শিক্ষার্থী এই সমাবেশে অংশ নেন, যা গুরুকুলের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অতিথি বৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সমাবেশে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: ডা. আমিনুল হক রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ। জিয়াউল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ এবং চেয়ারম্যান, কয়া ইউনিয়ন পরিষদ। ড. আমানুর আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা শাখা। ইকবাল মাহমুদ, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, জেলা ক্রীড়া সংস্থা। আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, জেলা শিল্পকলা একাডেমি। শাহিন সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা শিল্পকলা একাডেমি। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্পা মাহমুদ। অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ গুরুকুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্যে গুরুকুলের কর্ণধার সুফি ফারুক মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধি ও সকল শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদ এবং সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশ, জাতি এবং গুরুকুল পরিবারের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে ৮০০-এর অধিক প্রাণোচ্ছল শিক্ষার্থীর সাথে আমন্ত্রিত অতিথিরা একই পাতে ইফতারে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। গুরুকুল নিউজ ডেস্ক
গুরুকুলে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস ২০১৯ উদযাপিত: প্রতিপাদ্য ‘ভালোবাসা’

মানবিক সেবার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে কুষ্টিয়ার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুকুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস ২০১৯’ পালন করা হয়েছে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ভালোবাসা’ (#Love), যা আর্তমানবতার সেবায় স্বেচ্ছাসেবকদের নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। র্যালি ও বর্ণাঢ্য আয়োজন দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে দিনের শুরুতেই গুরুকুল যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্যদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি গুরুকুল ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনের মাধ্যমে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের মূলমন্ত্র সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেন। ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা কর্মসূচিতে বক্তারা রেড ক্রিসেন্ট ও রেড ক্রস আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং শান্তিতে প্রথম নোবেল বিজয়ী হেনরি ডুনান্টের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১৮২৮ সালের ৮ মে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে তাঁর জন্ম। মানবসেবায় তাঁর অনন্য অবদান ও আদর্শকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী তাঁর জন্মদিনটি এই বিশেষ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। মানবিক শিক্ষায় গুরুকুলের দর্শন গুরুকুল কর্তৃপক্ষ জানায়, কেবল একাডেমিক শিক্ষাই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ ও সেবার মানসিকতা তৈরি করা গুরুকুলের অন্যতম লক্ষ্য। যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, গুরুকুলের শিক্ষার্থীরা যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। যুব স্বেচ্ছাসেবকদের অঙ্গীকার র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “হেনরি ডুনান্টের সেবার দর্শনকে বুকে নিয়ে গুরুকুলের যুব স্বেচ্ছাসেবকরা আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবে। ‘ভালোবাসা’ প্রতিপাদ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের প্রতি মমতা ও ভালোবাসাই পারে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে।” অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০১৯ [ সাজেক ভ্যালি ]
![বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০১৯ [ সাজেক ভ্যালি ] 18 গুরুকুল কর্মীদের সাজেক ভ্রমন-Sajeek travel to Gurukul staff](https://gurukul.edu.bd/wp-content/uploads/2019/04/DSC07104-1024x682.jpg)
প্রকৃতির অপার বিস্ময় আর মেঘেদের সাথে মিতালীর টানে গুরুকুল শিক্ষা পরিবার-এর বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে পাহাড়ের রাণী রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আনন্দ যাত্রা শুরু হয়। প্রতিবেদন: মেঘের উপত্যকায় গুরুকুল—বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০১৯ প্রকৃতির অপার বিস্ময় আর মেঘেদের সাথে মিতালীর টানে গুরুকুল শিক্ষা পরিবার-এর বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে পাহাড়ের রাণী রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আনন্দ যাত্রা শুরু হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও যাত্রাপথ রাঙ্গামাটি জেলার সর্ব উত্তরে মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত সাজেক ভ্যালি যেন এক টুকরো স্বর্গ। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত এই উপত্যকায় পৌঁছাতে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ আর সবুজের সমারোহ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ২ রাত ৩ দিনের এই ভ্রমণে গুরুকুল পরিবার সাজেকের সর্বত্র মেঘ, পাহাড় আর সবুজের দারুণ মিতালী প্রত্যক্ষ করে। প্রকৃতির রূপ: সাজেকের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এখানে ২৪ ঘণ্টায় প্রকৃতির তিনটি রূপের দেখা মেলে। কখনো তপ্ত রোদ, হঠাৎ ঝমঝমে বৃষ্টি, আর পরক্ষণেই চারপাশ ঢেকে যায় সাদা মেঘের চাদরে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সাজেকের তিনটি হেলিপ্যাড থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের যে অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়, তা সত্যিই অবর্ণনীয়। মেঘের ওপর দিয়ে সূর্যের প্রথম আভা যেন এক অপার্থিব অনুভূতি তৈরি করে। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও আদিবাসী জীবন গুরুকুল বিশ্বাস করে যে, জ্ঞান কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্য ও বৈচিত্র্যের মাঝেও প্রকৃত শিক্ষা নিহিত। সাজেকের আদিবাসীরা অত্যন্ত বন্ধুসুলভ ও অতিথি পরায়ণ। তাঁদের সরল জীবনযাত্রা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনের দর্শনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে গুরুকুল পরিবার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার শিক্ষা লাভ করেছে। পাহাড়ের বুকে কাটানো এই দিনগুলো গুরুকুলের সকল সদস্যদের মধ্যে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এককথায়, অসাধারণ এই আনন্দ ভ্রমণটি সবার হৃদয়ে একটি চিরস্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকবে।
গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৬

“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা”—এই চিরন্তন আহ্বানকে বুকে ধারণ করে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, শেকড়ের টান ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৬ মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা দিনের শুরু হয় ভোরের স্নিগ্ধতায় বৈশাখী রাগের মূর্ছনায়। সকাল ৮টায় গুরুকুল লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়াস্থ লালন সাঁই ক্যাম্পাস থেকে বের করা হয় বর্ণিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণকালে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা লোকজ মোটিফ, বিভিন্ন মুখোশ এবং অসাম্প্রদায়িক শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড শহরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শোভাযাত্রা শেষে লালন সাঁই ক্যাম্পাসে শুরু হয় মূল উৎসবের আমেজ। ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিশেষ দিকসমূহ: ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ক্রীড়া: হাড়িভাঙা, মোরগ লড়াই ও দড়ি টানাটানির মতো বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ খেলাধুলার মাধ্যমে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সাংস্কৃতিক আসর: নেটওয়ার্কের নিজস্ব শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বৈশাখী গান, লালনগীতি এবং কালজয়ী কবিতা আবৃত্তিতে মুখরিত হয় পুরো ক্যাম্পাস। পান্তা-ইলিশের আসর: বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে পরিবেশন করা হয় পান্তা-ইলিশ ও নানা পদের ভর্তা। প্রমুখের বাণী: বহুত্ববাদ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন অনুষ্ঠানে গুরুকুল লার্নিং নেটওয়ার্কের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বিশেষ বাণীতে নববর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন: “পহেলা বৈশাখ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার নবায়ন। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাসী। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি নিজের শেকড় ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করুক। প্রতি বছর কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দিই যে—আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি।” ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা উল্লেখ্য যে, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে আসছে। এটি এখন এই নেটওয়ার্কের বার্ষিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য ও বিশেষ গুরুত্বের অংশ। মেডিকেল (ম্যাটস ও নার্সিং) এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে যে, এটি কেবল একটি লার্নিং নেটওয়ার্ক নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রও বটে। সমাপনী ও আগামীর প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক কমিটির তদারকিতে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে। অংশগ্রহণকারী ৩ শতাধিক প্রাণের এই স্পন্দন জানান দিচ্ছিল যে, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের জন্য বয়ে আনবে নতুন সম্ভাবনা, দক্ষতা ও অর্জনের নতুন বার্তা।