গুরুকুল ট্রাস্ট ফান্ডের উপবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান ২০১১

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুরে অবস্থিত কুষ্টিয়া গুরুকুল-এর পদ্মা ক্যাম্পাসে ২০১১ সালের গুরুকুল ট্রাস্ট ফান্ড ও সাসেগ ট্রাস্ট ফান্ড এর উপবৃত্তি প্রদান ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কুষ্টিয়া গুরুকুল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মু. ফজলুর রহমান। অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ফান্ড দুটির আওতায় ২০১১ সালের জন্য ৯টি নতুন ট্রাস্ট ফান্ড ঘোষণা করেন গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক এর প্রতিষ্টাতা প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। নতুন ঘোষিত ট্রাস্ট ফান্ডগুলোর নাম:১. ফকির লালন শাহ২. মীর মোশাররফ হোসেন৩. কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার৪. ড. প্রফেসর হুমায়ুন আজাদ৫. মুহাম্মদ আবুবকর৬. সুফি মুহাম্মদ আইনুদ্দিন৭. হাজী মোকাদ্দেস হোসেন৮. গাজী হাবিবুর রহমান৯. দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ কুষ্টিয়া গুরুকুল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মু. ফজলুর রহমান। তিনি বলেন “বর্তমান বিশ্বে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। গুরুকুলের উদ্যোগ তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।”। বিশেষ অতিথীর বক্তব্যে এফবিএবি কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি জনাব আক্কাস আলী মঞ্জু বলেন “ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রশিক্ষিত কারিগরি জনশক্তি অপরিহার্য। গুরুকুলের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।” এছাড়া কুষ্টিয়া গুরুকুলের কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউটের সহযোগী পরিচালক জনাব মো. ইয়াসিন আলী বলেন “আমাদের শিক্ষার্থীরা তত্ত্ব ও practically সমৃদ্ধ হয়ে বেরোচ্ছে। এটি জাতীয় উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।”। কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের পাওয়ার টেকনোলজির চিফ ইন্সট্রাক্টর জনাব মো. লিয়াকত আলী বলেন “কুষ্টিয়া পলিটেকনিকের অভিজ্ঞতায় বলছি—কারিগরি শিক্ষার প্রসারই শিল্পায়নের প্রধান চাবিকাঠি।” কুষ্টিয়া গুরুকুলের কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউটের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য জনাব মনির হাসান বলেন “গুরুকুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের জীবনে গুণগত পরিবর্তন আনছে। এই ধারা অব্যাহত থাকুক।” সভাপতির বক্তব্যে সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে গুরুকুল ইতিমধ্যেই কয়েকটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাজ চলমান। এখান থেকে স্বল্প খরচে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ে কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।” অনুষ্ঠানে গুরুকুলের কৃতি ছাত্র–ছাত্রী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কুষ্টিয়ার জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ ব্যান্ড শো অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাসেগ-এর সমন্বয়কারী তানভীর মেহেদী এবং অ্যাডমিন অফিসার আনোয়ার কবির বকুল। আরও দেখুন: বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রীর হাতে গুরুকুল ক্যাম্পাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রীর হাতে গুরুকুল ক্যাম্পাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল কুষ্টিয়ার গুরুকুল শিক্ষা পরিবার। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর এলাকায় অবস্থিত গুরুকুলের নবনির্মিত আধুনিক ক্যাম্পাসের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান গুরুকুলের শিক্ষা কার্যক্রম এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটির অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন: “প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কেবল দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথকে ত্বরান্বিত করে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা সময়ের দাবি। গুরুকুল এ ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।” উদ্বোধনকৃত এই বিশাল ক্যাম্পাসটি মূলত গুরুকুলের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ইন্সটিটিউট’-এর শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। এখানে আধুনিক অবকাঠামো এবং বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিসিপ্লিনে পাঠদান করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে – ডিপ্লোমা ইন সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, পাওয়ার, কম্পিউটার ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। ফিতা কেটে উদ্বোধন শেষে মাননীয় মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানের অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, সিভিল ল্যাব এবং ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন। এসময় গুরুকুল প্রমুখ এবং প্রখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর মাননীয় মন্ত্রীকে ল্যাবরেটরিগুলোর সক্ষমতা এবং গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করেন। মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদ, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ এবং কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। গুরুকুল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই নতুন ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল একটি ভবন নয়, বরং এটি একটি গবেষণাকেন্দ্র এবং দক্ষতা উন্নয়নের ‘হাব’ হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিসম্পন্ন ও অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনা শেষে তাদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলাই এই ক্যাম্পাসের মূল লক্ষ্য। মাননীয় মন্ত্রীর এই সফর এবং নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন কুষ্টিয়ার কারিগরি শিক্ষার ইতিহাসে একটি বিশেষ দিকচিহ্ন হয়ে থাকবে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে গুরুকুল শিক্ষা পরিবার দেশের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার অঙ্গীকারকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। আরও দেখুন: গুরুকুল ট্রাস্ট ফান্ডের উপবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান ২০১১